
মহাভারতের এক তেজস্বিনী মেয়ের কথা
সুমনা সাহা
সপ্তম পর্ব
নাগলোকে সকাল হল। গঙ্গার
বুক ছুঁয়ে উঠে আসা ভোরের নির্মল বাতাস উপকূলবর্তী গাছের ডালপালার মধ্যে দিয়ে ভেসে
এসে খেলা করছে নাগলোকের মাণিক্যখচিত প্রাসাদের চূড়ায়। বিলাসবহুল সুসজ্জিত কক্ষে
শয্যায় উপবিষ্টা উলুপী। অদ্ভুত এক বিষাদ গ্রাস করেছে তার সমস্ত সত্তা। নিভৃত
শয়নকক্ষে আলুলায়িত কেশ যে নারী চিবুকে হাত রেখে বাতায়ন পানে গভীর চিন্তাক্লিষ্ট
মুখে চেয়ে আছে, সে কোনো
রাজার কন্যা নয়, নাগলোকের রানি নয়, অজস্র প্রজার মাতা নয়, সে এক দুখিনী মা, যে পিতার
অভাব কোনোদিন বুঝতে না দিয়ে যত্ন
করে বড়ো করে তোলা এক কিশোরের
আকুল-হৃদয় জননী। আজ একমাস অতিক্রান্ত, ইরাবান তার পিতার রাজ্যে গিয়েছে। দূত মুখে
সংবাদ এসেছে, সে সেখানে ভালোই আছে। শীঘ্রই যুদ্ধ আরম্ভ হবে, তার পুত্র পাণ্ডব
পক্ষের হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে। বীরমাতা উলুপী কখনও পুত্রের শৌর্য প্রকাশের পথে
বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সেই শিক্ষা তার পিতা কৌরব্য তাকে দেননি। স্বয়ং প্রবৃত্ত হয়ে
সে অর্জুনের প্রণয় প্রার্থনা করেছিল, অর্জুনকে নিঃশর্তে আপন পথে চলে যেতে দেবে,
এমন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল এবং তা সে অদ্যাবধি রক্ষা করে এসেছে। কখনও একবারের
জন্যেও তিনি আর ফিরে আসেননি নাগলোকে, এমনকি সন্তানের মুখদর্শন করতেও ইচ্ছা প্রকাশ
করেননি, তার জন্য উলুপীর মনের গহনে শোক থাকলেও তাকে গভীরে অবদমিত করেই রেখেছে সে।
কিন্তু হস্তিনাপুর থেকে যখন পাণ্ডব পক্ষে যুদ্ধের আহ্বান পত্র নাগলোকে এসে পৌঁছোল, পুত্র পিতৃ সন্দর্শনে
যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করল, এবং পিতার সাহায্যার্থে যুদ্ধে যোগদান করবে বলে জননীর
অনুমতি প্রার্থনা করল, উলুপী তাকে বলতে পারেনি, “যেও না পুত্র! তুমি ছাড়া এই
বিশ্বের কোথাও আমার কোনো
বন্ধন নেই, আমার দেহধারণ করে থাকার একমাত্র আকর্ষণ তুমি, আমার অবর্তমানে এই
নাগলোকের রক্ষাকর্তা হবে তুমি, কী করে তোমাকে সুদূর হস্তিনাপুরে, অচেনা পরিবেশে,
অজানা মানুষের সঙ্গে বাস করতে পাঠিয়ে দেব? তোমার পিতার আরও স্ত্রী আছেন, আরও
পুত্ররা আছে, তারা যুদ্ধ করুক, তুমি নাগলোকের একমাত্র মণি, তোমার দুখিনী জননীর
প্রাণধন, তুমি এখানেই থাকো, মায়ের কাছে।” ক্ষত্রিয় রাজার রক্ত আছে ইরাবানের শরীরে,
যুদ্ধক্ষেত্রে বীরগতি লাভ প্রত্যেক ক্ষত্রিয় রাজার স্বপ্ন। একজন রাজার কন্যা ও
নাগলোকের শাসিকা হয়ে ক্ষুদ্র মাতৃহৃদয়ের দৌর্বল্যকে জয়ী হতে দিতে পারেনি উলুপী। সে
শান্তভাবেই অনুমতি দিয়েছিল। পিতা মৃত্যুশয্যায় বলে গিয়েছিলেন, “এই সংসারে কিছুই
তোমার নিজের নয়। স্বামী, পুত্র, পিতা, মাতা, সঙ্গী কেউই নয়। কেবল যতক্ষণ এই দেহে
শ্বাস চলছে, ওইটুকুই নিজের। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে সেটুকুও নশ্বর দেহের বাইরে
ছুঁড়ে দিয়ে চলে যেতে হয়। কখনও কারও স্বাধীনতা খর্ব করবে না। যেমন করে একদিন মধ্যম পাণ্ডবকে
চলে যেতে দিয়েছ স্বচ্ছন্দে, সেভাবেই কোনোদিন পুত্রকেও স্বাধীনভাবে পথ চলতে দিও। তোমার কর্তব্য কেবল
মা হিসেবে সন্তানের মঙ্গল কামনা করা। প্রত্যেকের জীবনের গতি ভাগ্য দ্বারা
নির্দিষ্ট।” পিতার কথাগুলো উলুপীর অন্তরে আরেকবার ধ্বনিত হল। বাসুকী রাজের মন্দিরে
দিনের প্রথম আরতি আরম্ভ হল। ভৈরব রাগে বীণ
বাজছে। উলুপীর হৃদয় নিংড়ে একটি শ্বাসের সঙ্গে অস্ফুটে উচ্চারিত হল একটি
নাম—‘ইরাবান!’
ইরাবানেরও ঘুম ভেঙে গেছে।
শয্যায় উপবিষ্ট ছিল সে, প্রাসাদ সংলগ্ন উদ্যান পাখির কলকাকলিতে মুখরিত। ছোটোখাটো নানা শব্দ, যা নাগলোকের
অপরিচিত, তাদেরকে পৃথক করবার চেষ্টা করছিল ইরাবান, এমন সময়ে কে যেন তার মর্মমূলে
তীক্ষ্ণ বেদনার মতো আঘাত করল, যেন সুদূর অরণ্যে তার নাম ধরে ডেকে উঠল এক ঘূর্ণি
হাওয়া। তার মায়ের কথা মনে পড়ল। চলে আসবার আগে মায়ের চরণে প্রণত হলে মা তাকে বুকে
জড়িয়ে ধরে মাথায় রেখেছিল আশিস চুম্বন। তখন মায়ের বড়ো বড়ো দুটি চোখ জলে ভরে উঠেছিল। মায়ের
প্রাণের ব্যথা, আশংকা একেবারেই আন্দাজ করতে পারে না, ইরাবান এতটা অবোধ নয়। কিন্তু
অন্তরের গভীরে আরও এক দুর্বোধ্য টান পড়েছিল, যাকে কোনোমতেই অস্বীকার করা যায় না। তাকেই
কি নিয়তি বলা হয়? ইরাবান ভাবল, আজ এই মুহূর্তে কি মাতার স্মরণপথে ইরাবান এসেছে? সে
চোখ বন্ধ করে সমগ্র সত্তা দিয়ে মাকে সান্ত্বনা দিল। মনে হল যেন তার শুদ্ধ অন্তরের
প্রার্থনা মায়ের কাছে নাগলোকে পৌঁছে গেছে। কিছুক্ষণ পরে তার মন শান্ত হয়ে গেল। সে শয্যা
ত্যাগ করে অনুশীলন প্রান্তরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে লাগল। গতকাল তাকে একজন সেবক
জানিয়ে দিয়েছিল, আজ তাকে অনুশীলন প্রান্তরে নিয়ে যাওয়া হবে, সকালে যেন সে তৈরি
থাকে।
যথাসময়ে একজন সেবক তাকে
নিয়ে গেল প্রাসাদের বাইরে অপেক্ষমান একটি তেজি অশ্বের কাছে। একজন অশ্বটির লাগাম ধরে দাঁড়িয়েছিল।
ইরাবানকে দেখে স্মিত হেসে জিজ্ঞেস করল, “তুমিই বুঝি নাগলোক থেকে এসেছ? আমাদের
তৃতীয় পাণ্ডব, কৃষ্ণসখা অর্জুনের পুত্র তুমি?”
ইরাবান নীরবে সম্মতি
জানালে সেই লোকটি বলল, “অশ্বচালনা শিক্ষা করেছ কি?”
ইরাবান এবারও সম্মতি
জানাল। কিন্তু লোকটি বলল, “তুমি নতুন লোক, তার উপর এই অশ্বটি খুব তেজি। তাই আজ আমিই অশ্বচালনা
করব। তুমি উঠে এসো।” এই বলে লোকটি নিজে অশ্বের পিঠে সওয়ার হয়ে ইরাবানের হাত ধরে
তুলে নিল নিজের সামনে। তারপর হাওয়ার বেগে অশ্ব ছুটিয়ে দিল।
অনুশীলন প্রান্তরে পৌঁছে
ইরাবান হতভম্ব হয়ে পড়ল। নিকটস্থ নানা উপজাতির সঙ্গে নাগলোকের বিরোধ লেগেই আছে।
সৈনিকেরা প্রায়ই ছোটো
সেনাদল নিয়ে নানা প্রান্তে ছোটাছুটি করে। ইরাবান যদিও এখনও পর্যন্ত প্রত্যক্ষ কোনো যুদ্ধে যায়নি, কিন্তু
নানা প্রশিক্ষণ সে প্রাপ্ত হয়েছে, নানা যুদ্ধকৌশলও শিখেছে। কিন্তু একসঙ্গে এত সেনা
সে আগে কখনও দেখেনি। বিশাল প্রান্তরের শেষ দেখা যায় না। দুই পক্ষের সেনারা
পরস্পরের সঙ্গে বন্ধুর মতোই কথাবার্তা বলছে। ইরাবান এখানে কাউকেই চেনে না। সেই
লোকটি তাকে নামিয়ে দিয়ে কোথায় অদৃশ্য হল কে জানে! ইরাবানের চোখ খুঁজে চলে সেদিনের সান্ধ্য
মিলন সভায় দেখা হওয়া মুখগুলো। কৃষ্ণ, পিতা অর্জুন, কিংবা জ্যেষ্ঠতাত যুধিষ্ঠির বা তার
অন্যান্য ভাইদের কাউকে যদি দেখতে পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ পরে একজন দীর্ঘদেহী ব্যক্তি
লম্বা একটি হাতির শুঁড়ের মতো চোঙ মুখের কাছে নিয়ে কথা বলল, তার জোরালো শব্দ আকৃষ্ট
করল সবাইকে। ইরাবান চিন্তা করল, এটি কি তবে তূর্য ধ্বনি? লোকটি প্রান্তরে উপস্থিত
সকল যোদ্ধাদের আহ্বান করলেন। সকলেই ধীরে ধীরে এক জায়গায় জড়ো হয়ে পড়ল। এবার স্পষ্ট
দুটি বিভাজন দেখা যাচ্ছে সেনাদলের। মাঝখানে উঁচু বেদির মতো স্থানে বসেছেন— ঐ তো
দ্বারকার রাজা শ্রীকৃষ্ণ। আর তাঁর পাশে উপবিষ্ট পক্ককেশ তিনজন বৃদ্ধ কারা? ওঁরা
নিজেদের মধ্যে কিছু আলোচনা করছেন। লোকটি মাথা নিচু করে তাঁদের নির্দেশ শুনে নিয়ে
সেই চোঙায় মুখ রেখে বলল, “আজ যুদ্ধের নিয়ম স্থির হবে। সকলেই মন দিয়ে শুনবেন এবং এই
নিয়ম কেউ অগ্রাহ্য করবেন না।” এমন সময় একজন স্বাস্থ্যবান বলিষ্ঠ যুবক, ইরাবানের
তুলনায় বয়স কিঞ্চিৎ বেশি, ভিড় ঠেলেঠুলে এসে ঠিক ইরাবানের পাশটিতেই দাঁড়িয়ে পড়ল।
ইরাবান লক্ষ করল, ছেলেটির পরনে
একেবারে সাদামাটা পোশাক, রাজপুত্র তুল্য একেবারেই নয়, কিন্তু তার সমস্ত শরীর থেকে
যেন প্রাণপ্রাচুর্য ফেটে বের হচ্ছে। এদিকে দাঁড়িয়েছে, তার অর্থ, সেও এই পাণ্ডব
শিবিরের লোক। চোঙা মুখে সেই লোকটি বলে চলেছে ̶ পিতামহ ভীষ্ম, অস্ত্রগুরু
দ্রোণাচার্য, কৃপাচার্য, মহারাজ ধৃতরাষ্ট্র, মহারাজ যুধিষ্ঠির, মহারাজ দুর্যোধন
প্রমুখ এবং প্রবীণ যোদ্ধাদের সঙ্গে আলোচনা করে উভয় পক্ষের হিতৈষী, দ্বারকাধিপতি
শ্রীকৃষ্ণকে সাক্ষী রেখে যুদ্ধের নিয়ম স্থির করা হল।
(১) প্রত্যেক দিন
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে। সূর্যাস্তের পরে যুদ্ধ বন্ধ করতে
হবে।
(২) যুদ্ধ কেবল
কুরুক্ষেত্র প্রান্তরেই সীমাবদ্ধ থাকবে। এমনকি প্রতিদিন যুদ্ধ শেষে উভয় পক্ষের
সেনারা প্রত্যেকের প্রতি প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রদর্শন করবে। কেউ কোনোরকম ছলচাতুরি করবে না।
(৩) রথারোহী সেনা কেবল
প্রতিপক্ষের রথারোহী সেনার সঙ্গেই যুদ্ধ করবে। সেভাবেই অশ্বারোহী সেনা অশ্বারোহীর
সঙ্গে, পদাতিক পদাতিক সেনার সঙ্গেই যুদ্ধ করবে। অর্থাৎ হাতির পিঠে সওয়ার কোনো সেনা পদাতিক সেনাকে আঘাত
করতে পারবে না।
(৪) যুদ্ধক্ষেত্রে যুদ্ধ
হবে সমানে সমানে, যার যেমন পদমর্যাদা, সে প্রতিপক্ষের সম পদাধিকারী সেনার সঙ্গে
যুদ্ধ করবে।
(৫) যদি কেউ আত্মসমর্পণ
করে বা প্রাণরক্ষার জন্য আবেদন জানায়, তার প্রতি অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে।
(৬) নিরস্ত্র সৈন্যকে
অস্ত্র দ্বারা আঘাত করা যাবে না।
(৭) যুদ্ধক্ষেত্রে
উভয়পক্ষের সাহায্যকারী কর্মী বা ভৃত্য, যারা সেনাদের জল বা অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ
করার জন্য যাতায়াত করবে, তাদের উপর অস্ত্র প্রয়োগ করা যাবে না।
লোকটি খানিক বিরতি নিল।
এতক্ষণে ইরাবানের দিকে চোখ পড়েছে পাশের যুবকের। সে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কে? কোন
পক্ষে যুদ্ধ করবে?”
ইরাবান নিজের পরিচয় দিয়ে
যুবকের পরিচয় জানতে চাইল। সে বলল, “আমার নাম ঘটোৎকচ। আমি মধ্যম পাণ্ডব ভীমের পুত্র।”
ইরাবান অবাক হয়ে বলল,
“কই, তোমাকে তো সেদিন সান্ধ্য সভায় দেখলাম না?”
ঘটোৎকচ হেসে বলল, “আমি তো
প্রাসাদে থাকি না। হস্তিনাপুরের সীমানায় রাক্ষস আদিবাসীদের গ্রামের বাসিন্দা আমি।
সেখানেই মায়ের সঙ্গে থাকি। প্রাসাদে কি সবার থাকার সৌভাগ্য হয়?”
ইরাবান অবাক হয়ে চেয়ে
রইল। যদিও সে নাগলোকের রাজপুত্র, বৈভব ও প্রাচুর্যের মধ্যে বড়ো হয়েছে, কিন্তু তার মনে
হল এই ছেলেটির সঙ্গে কোথায় যেন তার প্রাণে প্রাণে মিল।
ঘটোৎকচের হাসিটি ভারি
সুন্দর। শান্ত সরোবরের জলের উপর প্রভাতের প্রথম সূর্যকিরণের মতো ঝকঝকে, নির্মল।
হাসির সঙ্গে সঙ্গে তার চোখের ভিতর দিয়ে যেন তার মনের অনেকখানি দেখা যায়। প্রথম
দর্শনেই সে ইরাবানকে নিজের ছোটভাইয়ের মতো আপন করে নিয়েছে। দায়িত্ব সহকারে সে
ইরাবানকে একের পর এক সব বীর যোদ্ধাদের চেনাতে লাগল, “ওই দেখ, যার মাথার মুকুটে
তিনটে লাল পাথর, উনি শল্যরাজ কর্ণ, মহারাজ দুর্যোধনের প্রিয় সখা। আর ওই যে কোণের দিকে চুপচাপ বসে আছেন,
কালো শিরস্ত্রাণ, উনি হলেন শকুনি, মহারানি গান্ধারীর দাদা উনি। কৌরব পক্ষের পরামর্শদাতা। আর ওই
বৃদ্ধ অথচ শিরদাঁড়া সোজা রেখে মাথা উঁচু করে কঠিন মুখে বসে আছেন, উনি হলেন পিতামহ
ভীষ্ম। জানো, উনি অসাধারণ বীর এবং অকৃতদার। গঙ্গাপুত্র তিনি।” ঘটোৎকচ একজন উত্তম
শ্রোতা পেয়ে নিজের জ্ঞান জাহির করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ঘোষক লোকটি আবার বলল,
“দুই পক্ষের যোদ্ধাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বীরদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। যদিও আরও
অনেকে ক্রমে এসে পৌঁছাবেন। কৌরব পক্ষের বিশিষ্ট বীর সেনাদের মধ্যে আছেন দুর্যোধন ও
তার ৯৯ ভাই, ভীষ্ম, দ্রোণাচার্য, কৃপাচার্য, কর্ণ, অশ্বত্থামা, শকুনি, কৃতবর্মা,
কলিঙ্গরাজ শ্রুতায়ুধ, মদ্র নরেশ শল্য, ভূরিশ্রবা, অলম্বুশ, ভগদত্ত, জয়দ্রথ, কম্বোজ
রাজ সুদক্ষিণ, বৃহৎবল প্রমুখ। ওদিকে পাণ্ডব পক্ষে রয়েছেন মহাবাহু ভীম, সব্যসাচী
অর্জুন, যুধিষ্ঠির, নকুল, সহদেব, দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্র, সাত্যকী, উত্তমৌজ, বিরাট,
দ্রুপদ, ধৃষ্টদ্যুম্ন, অভিমন্যু, পাণ্ড্যরাজ, ঘটোৎকচ, শিখণ্ডী, যুযুৎসু,
কুন্তীভোজ, শৈব্য প্রমুখ।”
যোদ্ধারা ছোটো ছোটো দলে ভাগ হয়ে নিজেদের
মধ্যে কথা বলছে। ঘোষক জানালেন, আগামীকাল প্রত্যেকের দায়িত্ব বণ্টন করা হবে এবং
যুদ্ধে সেনাদলের ভিন্ন ভিন্ন ব্যূহ রচনার কৌশল সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
যুদ্ধনীতি ও বিশিষ্ট যোদ্ধাদের নাম ঘোষণার পর আজকের মতো আলোচনা সভা সমাপ্ত। আপাতত যে যার কাজে যেতে
পারেন।
ঘটোৎকচ বলল, “আজ আর
কুচকাওয়াজ হবে না। আমি এখন ঘরে যাব। আমাদের ঘরে যাবে আমার সঙ্গে?”
ঘটোৎকচের আন্তরিক ব্যবহার
ইরাবানের খুব ভালো লেগেছে। সে ভাবল, এখনও
মধ্যাহ্ন আহারের সময় হয়নি। ও বলছে, এই প্রান্তর পার হলেই আদিবাসী গ্রামের সীমান্তে
ওদের ঘর। যেতে বেশিক্ষণ লাগবে না। ঘটোৎকচের মাকে দেখতেও ইচ্ছা করছে তার। ইরাবান
ঘটোৎকচের প্রস্তাবে সায় দিয়ে বলল, “বেশ চলো, তোমাদের ঘরে যাই।”
(ক্রমশ)
----------
ছবি: এ আই (নির্মাণ: তাপস মৌলিক)
No comments:
Post a Comment