ছড়া-কবিতা:: খরগোশকে নৈশভোজের নিমন্ত্রণ - সঞ্জয় কর্মকার


খরগোশকে নৈশভোজের নিমন্ত্রণ
সঞ্জয় কর্মকার

শেয়াল তো শয়তান আর সুচতুর
বুদ্ধিতে মাথা তার ভরা ভরপুর ‒
খরগোশ এই কথা বহুদিনই শোনে;
শোনে আর কবে থেকে ভাবে মনে মনে ‒
“যাচাই করতে হবে এর সত্যতা
শেয়াল চালাক, নাকি বুদ্ধিটা ভোঁতা?”

তারপর একদিন দেখা দুজনায়
পরস্পরের মাঝে হয় পরিচয়।
তীর্যক দৃষ্টিতে খরগোশ দেখে,
শেয়ালের গুণগুলো পড়ে একে একে ‒
চোখদুটো চকচকে, মুখটা ছুঁচোলো
ঝাঁটার মতন দেখা যায় গোঁফগুলো।
সরু সরু দাঁত আর চটা ওঠা কান,
বোঝা তো যায় না বুদ্ধির পরিমাণ।

অবাক শেয়াল জিজ্ঞেস করে তাকে,
“কেন ভাই ঘুরে ঘুরে দেখছ আমাকে?”
শেয়ালকে খুলে সব বলে খরগোশ,
তাই শুনে শেয়ালের সে কী আপশোশ!
হাহুতাশ করে বলে, “খরগোশ ভাই
এখন ব্যস্ত আছি, এইবেলা যাই।
তুমি নয় মোর গৃহে আজ সন্ধ্যায়
চলে এসো, আলোচনা করে দুজনায়
সব সংশয় করে নেব সমাধান
দুজনায় সাথে হবে নৈশভোজন।”

খরগোশ সেইমতো সেজেগুজে নিয়ে
সন্ধ্যাটি নামতেই গেল তার গৃহে।
জঙ্গল-মাঝে তার গৃহ এক কোণে
কিন্তু শেয়ালভায়া ছিল না সেখানে।
ড্রইং রুমের শোভা বড়ো সুন্দর,
খরগোশ গিয়ে বসে সোফার উপর।
ক্ষণে ক্ষণে দেখে ঘড়ি, কাটে পল গণি
মনে ভাবে, শেয়াল তো আসবে এখনই।
“রান্না কী হল দেখি!” সেই খোঁজ নিতে
উঁকি মারে রান্নাঘরের দ্বারটিতে,
ডাইনিং টেবিলটি পাতা পূবদিকে
চেয়ার একটি পাতা তারই সম্মুখে।
বোন চায়নার প্লেট, চামচ আর কাঁটা
সবকিছু বহু দামি, নয় সাদামাটা
এক গোছা ন্যাপকিন ছুরি গোটা চার ‒
সবকিছু আছে, শুধু নেইকো খাবার!

খরগোশ বুঝে যায়― জোটে না তো রোজ
শেয়ালের ভাগ্যে খরগোশ-ভোজ!
তাই আজ সজ্জিত এ টেবিলখানি
নিমেষে স্পষ্ট হয় সব শয়তানি!
তারপরে সাধ্য কি কেউ তাকে রোখে
একছুটে খরগোশ জঙ্গলে ঢোকে!
----------
ছবি: এ আই (নির্মাণ: তাপস মৌলিক)

No comments:

Post a Comment