বিজ্ঞান:: এই সংখ্যার বিজ্ঞান - বিভাগীয় সম্পাদক


এই সংখ্যার বিজ্ঞান
বিভাগীয় সম্পাদক

প্রচণ্ড গরম পড়ে গেছে, অথচ বৃষ্টির দেখা নেই। স্কুল বন্ধ, কিন্তু বাইরে যাবার উপায় কী! এত গরম বহুকাল পড়ে নি বলে মনে হচ্ছে। ফ্যানের হাওয়াও মনে হচ্ছে অসহ্য।

এর মধ্যেই এসে গেলো ম্যাজিক ল্যাম্পের তৃতীয় সংখ্যা। দেখো দেখি এর লেখাগুলো পড়ে গরমের যন্ত্রণার থেকে অন্তত কিছুটা রেহাই পাওয়া যায় কিনা। আগের দুটো সংখ্যার মতই এবারেও বিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে গোটা পাঁচেক ভিন্ন স্বাদের লেখা। 

অঙ্কের এক মজার বিষয় – সূচক – নিয়ে আগের সংখ্যায় লিখেছিলেন সূর্যনাথ ভট্টাচার্য, তাঁর পরিচয় নতুন করে দেওয়ার কিছু নেই। আগেই লিখেছিলাম সূচক নিয়ে তিনি আবারও লিখবেন। এই সংখ্যায় রয়েছে সূচক বিষয়ে নানা মজার তথ্যের দ্বিতীয় কিস্তি।

উদ্ভিদবিজ্ঞানী সৌম্যকান্তি জানার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করিয়েছি আগের দুটো সংখ্যাতেই। ওল কচুর ফুল আর চার বিদেশী হানাদার উদ্ভিদের বিবরণ দিয়েছেন তিনি আগের দুই ইস্যুতে। তাঁর এ সংখ্যার লেখাটি কিন্তু উদ্ভিদ নিয়ে নয়, বরং এক মজার প্রাণী নিয়ে – মাছ। গ্রামের এঁদো পুকুরের মাছ তিনি ভরেছিলেন তাঁর নিজস্ব অ্যাকোয়ারিয়ামে, পর্যবেক্ষণ করেছিলেন তাদের প্রকৃতিবিজ্ঞানীর অনুসন্ধিৎসু চোখ দিয়ে। সেই পর্যবেক্ষণের ফলাফল তিনি লিপিবদ্ধ করেছেন মরমী কথাসাহিত্যিকের ভাষায়। এ এক অন্য ধরণের রচনা।

অধ্যাপক বিমান নাথের লেখা প্রকাশিত হয়েছিল ম্যাজিক ল্যাম্পের প্রথম সংখ্যায়, বিষয় ছিল টেলিগ্রাফের টরে টক্কা। জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও রবীন্দ্র পুরস্কারপ্রাপ্ত বিমান ব্যাঙ্গালোরের রামন রিসার্চ ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক। তোমরা অনেকেই কিছুকাল আগে আইনস্টাইনের মহাকর্ষ তরঙ্গ নিয়ে আলোচনা নিশ্চয় খবরের কাগজে পড়ে থাকবে। আইনস্টাইন একশো বছর আগে অঙ্ক কষে যা বলে গেছিলেন, কিছু বিজ্ঞানী নাকি তার সপক্ষে প্রমাণ পেয়েছেন, এই মর্মে। এ নিয়ে প্রবল আলোড়ন হয়েছিল বিজ্ঞানের দুনিয়ায়। এই বিষয়ে কিশোরদের জন্যে লেখার উপযুক্ত মানুষ আমাদের দেশে খুব বেশি নেই, তাই বিমানকে ধরে পড়েছিলাম। তোমরাও পড়ে দেখো, ব্যাপারটা কী।

চেন্নাইবাসী প্রকল্প ভট্টাচার্য এক ভীষণ মজাদার মানুষ। শব্দের ওপর তার দখল অবিশ্বাস্য। তার পড়াশুনার বিষয় ছিল অঙ্ক, কিন্তু এখানে সে অঙ্কের নয়, বরং গাছের পাতায় খাদ্য তৈরি আর মানুষের শরীরের ক্ষত নিরাময়ে শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলী এমন সুন্দরভাবে ছোটদের জন্যে লিখে দিয়েছে, যে তোমরা পড়লেই বলবে – ইস, বিজ্ঞান বইগুলো কেন এমন করে লেখা হয় না! প্রকল্প শুধু বিজ্ঞানের নয়, ছড়া, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, উপন্যাস – সবকিছুতেই দক্ষ। ম্যাজিক ল্যাম্পেই তার প্রমাণ তোমরা নিশ্চয় পাচ্ছ।

আমার নিজস্ব চর্চার বিষয় রসায়ন, অথচ আগের দুই সংখ্যায় আমি অঙ্ক আর রাশিবিজ্ঞান নিয়ে কিছু অনধিকার চর্চা করেছি। এই সংখ্যার লেখাটায় রসায়নের খানিকটা ছোঁয়া আছে। হাস্যরসের সম্রাট সুকুমার রায় – যাঁর ডিগ্রি ছিল পদার্থবিদ্যা আর রসায়ন দুটোতেই – আবোল তাবোল বইতে নোটবই নামের ছড়ায় কিছু প্রশ্ন রেখে গেছেন, তার দুটো প্রশ্নের – তেজপাতে তেজ কেন, ঝাল কেন লঙ্কায় – উত্তর খোঁজা হয়েছে এই লেখাটায়।

কেমন লাগলো এবারের বিজ্ঞানের বিভাগ, তা জানাতে ভুলো না কিন্তু। চিঠি দিও ম্যাজিক ল্যাম্পের দপ্তরে।
______

No comments:

Post a comment