গোলটেবিল:: ছোটদের শারদ সংখ্যার দিকে এক ঝলক (১৪২২)

গোলটেবিল
ছোটদের শারদ সংখ্যার দিকে এক ঝলক (১৪২২) 

চির সবুজ লেখা
ছোটোদের শারদ সংখ্যাগুলোর মধ্যে বেশ ভালো লাগল চির সবুজ লেখা। চারটে উপন্যাস, অজস্র ছোটোগল্প, কবিতা, ছ’টা বড়গল্প এবং বিভিন্ন রকম ফিচার নিয়ে চির সবুজ লেখাকে সাজানো হয়েছে। হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের  ‘জম্ভলা দেবতার পুরোহিত’ এবং দীপান্বিতা রায়ের ‘সামার ক্যাম্প’ এই দুটো উপন্যাস অনবদ্য লেগেছে। তবে ‘সামারক্যাম্প’ উপন্যাসে প্রচুর ছাপার ভুল চোখে পড়ল। বেশ অসুবিধা করেই পড়তে হয়েছে।
‘ফিরে দেখা’ বিভাগে স্থান পেয়েছে সুলেখক সুকুমার দে সরকারের গল্প ‘সমুদ্দুরের কাছিম’। বড় গল্পের মধ্যে রঞ্জন প্রসাদ, জয়া মিত্র, সৈকত মুখোপাধ্যায়, ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়, রুপক সাহা প্রত্যেকেই  খুব ভালো লিখেছেন। তবে সৈকত মুখোপাধ্যায়-এর গল্প ‘কল্পপাঁঠা কোম্পানি’-র তুলনা হবে না কোনও। আর ছোটোগল্পের মধ্যে ভালো লাগল কার্তিক ঘোষ, প্রচেত গুপ্ত, অরুণিমা রায় চৌধুরী, বাণী বসু, তিলোত্তমা মজুমদার, রাজেশ বসু, চৈতালি চট্টোপাধ্যায়, অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী, বিনোদ ঘোষাল এবং আরও অনেকের লেখা।
‘দুনিয়াদারি’ বিভাগে প্রসাদরঞ্জন রায়ের হাত ধরে এথেন্সের পথে পাড়ি দেওয়ার সুযোগও আছে। ‘অন্যরকম ছেলেবেলা’-য় রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের লেখা ভালো লাগল। আছে গাছপালা আর প্রাণীদের কথাও।
কমিকসগুলো প্রত্যেকটাই বেশ চিত্তাকর্ষক। ছোটোদের পত্রিকা কমিকস ছাড়া একেবারেই বেমানান। পত্রিকায় আর একটা দিক সব চেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। অনুবাদ গল্প। চারটে অনুবাদ গল্পের মধ্যে চারটেই সেরা। স্থান পেয়েছে এইচ এইচ মানরো, রিচমল ক্রম্পটন, ইভলিন ওয় এবং হান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন-এর গল্প।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে রত্না মিত্র’র ‘রবীন্দ্রনাথ! ওরে বাবা!’ লেখাটি পাঠককে সমৃদ্ধ করবে। সব মিলিয়ে চির সবুজ লেখা এবারে সমস্ত শারদ সংখ্যাকে টেক্কা দিতে পারবে।
-      সহেলী চট্টোপাধ্যায়


সন্দেশ
বয়সে অনেক বুড়ো হলেও ছোটদের পত্রিকাগুলোই পড়তে বেশি পছন্দ করি। এবার সব চেয়ে ভালো লাগল সন্দেশের শারদ সংখ্যা। (অবশ্য অনেক বেশি শারদ সংখ্যা পড়ার সময় বা সুযোগ কোনওটাই আমার নেই।) সন্দেশ এবার অনেক ভালো লেখা পড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে কোনটা উপন্যাস আর কোনটা বড় গল্প সেটা আলাদা করে বুঝতে পারলাম না। এই বিভাগে সব চেয়ে ভালো লেগেছে দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য-এর লেখা ‘হরলালের ছোবল’। রূপক সাহা, হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত, শিশির বিশ্বাস, গৌর বৈরাগী প্রত্যেকেই খুব ভালো। ছোটগল্পের মধ্যে ভালো লাগল অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী, রাহুল মজুমদার, শিবানী রায়চৌধুরী, সৈকত মুখোপাধ্যায়, দীপান্বিতা রায়, রাজেশ বসু, প্রচেত গুপ্ত, দীপঙ্কর বিশ্বাস প্রমুখের গল্প। ছড়া, প্রবন্ধ, ফিচার, খেলা, স্মৃতিকথা, খেলা, ভ্রমণ, নাটক, প্রকৃতি পড়ুয়ার দফতর, বই চেনো, হাত পাকাবার আসর সব কিছুই আছে। বাড়তি পাওনা সত্যজিৎ রায়ের অমর সৃষ্টি পথের পাঁচালী’র ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে বেশ কিছু তথ্যসমৃদ্ধ লেখা। আর বিজয়া রায় স্মরণে একটি বিশেষ বিভাগও আছে। তবে কার্টুন আর কমিক্সগুলো আর একটু ভালো করা যেত।
-      সুমনা সরকার


কিচিরমিচির (উৎসব সংখ্যা, ২০১৫)
পাগলা দাশু, টুনটুনির কথা, অথবা ঠাকুমার ঝুলির হাত ধরে সেই ছোট্টবেলার কোনও একসময় শুরু হয়েছিল আমাদের স্কুলের বাইরে অন্য বই পড়া। এ মা! শুধু আমাদেরই বা কেন? আমাদের বাবা কাকার এবং তোমাদেরও, তাই না? ছোট্ট বন্ধুরা, কী ভাবছ? সুকুমার রায়, উপেন্দ্র কিশোর রায়, লীলা মজুমদার এঁদের পর আর কেউ তোমাদের জন্য লেখেন নি? মন খারাপ হচ্ছে? এ মা! একদম মন খারাপ করো না। তোমাদের জন্য সেই কবে থেকেই তো প্রত্যেক বছর পুজোয় আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, শুকতারা পুজোসংখ্যা বার করে। কিন্তু জানো কি শুধু এরাই নয়, বিগত কয়েক বছর ধরে তোমাদের জন্য আরও অনেক অনেক রংচঙে পুজোসংখ্যা বেরোয়? এমনই একটি পুজোসংখ্যা কিচির মিচির। নাম শুনলেই মনে হয় একঝাঁক পাখি ডেকে চলছে। এ সংখ্যার রংচঙে প্রচ্ছদ তোমাদের পছন্দ হবেই। এবার প্রচ্ছদ থেকে চলে আসি পাঠসূচিতে। চারটে দুর্দান্ত উপন্যাস, একগুচ্ছ ছড়া, গল্প, ব্লগবকম, কমিক্স, বেড়ানো, বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখা কি নেই! আর কারা কারা লিখেছেন জানো? অনন্যা দাশ, অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী, বিবেক কুণ্ডু, সৌরভ চক্রবর্তী, শিশির বিশ্বাস, বৈশাখী ঠাকুর, জয়দীপ চক্রবর্তী, রম্যানী গোস্বামী, শাশ্বতী চন্দ্র, হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত, দীপান্বিতা রায়, দেবাশিস বসু সহ তোমাদের পছন্দের একঝাঁক লেখক-লেখিকা এছাড়াও শুধুমাত্র তোমাদের জন্যই রয়েছে কচিপাতা, যাতে তোমরা পাঠাতে পার নিজেদের লেখা, আঁকা, স্কুলের ফটো। ও! বলাই তো হয়নি! কিচির মিচির শুধুই পূজাবার্ষিকী নয়। এ কেবলমাত্র তোমাদের জন্যই আস্ত একখানা পাক্ষিক ট্যাবলয়েড! হ্যাঁ, ট্যাবলয়েড। কী ছোট্ট বন্ধুরা, এবার নিজেদের বড় মনে হচ্ছে নাকি? বড়দের মতো তোমাদের নিজস্ব একটা ট্যাবলয়েড দেখে? তাহলে দেরি কিসের? চটপট গ্রাহক হয়ে যাও। গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আনন্দমেলা বা কিশোরভারতীর চেয়ে কোনও অংশে কম আনন্দ পাবে না।
-      সুচরিতা দত্ত


আমপাতা জামপাতা
৯ টি উপন্যাস, ৩৯ গল্প, দুটো নাটক, কমিক্স, ছড়া, কবিতা, দুর্ধর্ষ ইলাসস্ট্রেশান সব মিলিয়ে হুলুস্থুলু ব্যাপার এবারের আমপাতা জামপাতা শারদীয়ায়। প্রায় ৬০০ পাতার জাম্বো সাইজের, কার্ডবোর্ড বাঁধাই এই শারদীয়া পত্রিকা শারদ উৎসবে এক চমকই বলা চলে। উপন্যাস নিয়েই শুরু করা যাক
ছায়া - শৈলেন ঘোষ।। এই পত্রিকার সিংহভাগ উপন্যাসকেই বোধহয় ঠিক উপন্যাসের পর্যায়ে ফেলা যায় না। বড়গল্প বলা চলে বরং। শৈলেন ঘোষের লেখার সাথে আমরা বহুদিন ধরেই পরিচিত। প্রায় এক যুগ। অদ্ভুত একটা মিষ্টি কিন্তু নোনতা স্বাদ থাকে তাঁর লেখায়। ছায়াও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে বোধ করি বয়স জনিত কারণেই লেখনীর ধার একটু কম।
উট চলেছে মুখটি তুলে - পার্থ মুখোপাধ্যায়।। প্রত্যেক বছর ভারতের শত শত শিশু হারিয়ে যায়। অকালে। তারা পাচার হয়ে যায়। নানা দিকে নানা ভাবে। তার একটা দিকের কথা তুলে ধরা হয়েছে এই লেখায়। কী ভাবে বাড়ি থেকে পালানো এক কিশোর পাচার হয়ে যায় দূর দেশে, হয়ে ওঠে ক্যামেল রেসের জকি এই উপন্যাস তারই এক দলিল। তবে ধারাবিবরণীর মত লেখক লিখে গেছেন একের পর এক ঘটনা। এতে লেখার গতি বেড়েছে কিনা আমি জানি না, কিন্তু অনেক জায়গায় বিচ্ছিরি ভাবে তাল কেটেছে। ভাষা আর কাহিনী বিন্যাসে আরেকটু সতর্ক হলে ভালো হত।
পুজোর পরে – শান্তিপ্রিয় বন্দোপাধ্যায়।। সদ্য প্রয়াত এই সাহিত্যিকের লেখায় উঠে এসেছে তার কিশোর বেলার নানান স্মৃতিচারণা। উঠে এসেছে অনেক গল্প। কিছু চুনি, কিছু পান্না।
শেরউড বনের শিঙা – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত।। কাহিনীর প্রেক্ষাপট লন্ডনের এক পুরানো কেল্লা বা গড়। যেখানে থাকেন এক বৃদ্ধ লর্ড, আর কেল্লার স্বতন্ত্র প্রহরী শয়ে শয়ে দাঁড় কাক। ইতিহাস যেখানে থমকে থাকে। সময় থাকে থেমে। এই লর্ডের কাছে কিছু জিনিস গচ্ছিত রেখে গিয়েছিলেন স্বয়ং রবিন হুড! রবিনহুড কি সত্যিই ছিলেন? মিথ নয়? জানতে হলে পড়তে হবে এই রোমাঞ্চকর উপন্যাস। লেখকের টানটান লেখনীর সাথে আমরা সবাই পরিচিত। এই উপন্যাসও তার ব্যতিক্রম নয়। গল্পের ফাঁকে ফাঁকে উঠে এসেছে প্রাচীন লন্ডন, তার ইতিহাস। সাথে অনুপ রায়ের অসাধারণ ইলাস্ট্রেশান। তবে কোনও কোনও জায়গায় ভাষা একটু কঠিন হয়ে পড়েছে। আর দাঁড়কাক প্রায় দেড়শ বছর বাঁচে এই তথ্য যথেষ্ট সন্দেহজনক।
মৃতরাজা জাগো - সৈকত মুখোপাধ্যায়।। এবারের শারদীয়ার আমার পড়া সেরা উপন্যাসগুলোর মধ্যে অন্যত্তম মৃতরাজা জাগো। একদম নিটোল লেখনীতে ফুটে উঠেছে মধ্যপ্রদেশের এক আদিবাসী জাতি নারিয়াদের কথা। তাদের বিশ্বাসের কথা। শত দারিদ্র্যের পরও তাদের বিশ্বাস তাদের রাজা আবার জেগে উঠবে। আবার নারিয়ারা উঠে আসবে উন্নতির শিখরে। চলবে অন্ধকার ছেড়ে আলোর পথে। তবে কি তাদের রাজার দেহ লুকিয়ে আছে? মমি হয়ে!! জানতে হলে পড়তেই হবে অসাধারণ ভাষা আর নিখুঁত শব্দ চয়ন। সাথে অর্ক পৈতন্ডীর দুর্দান্ত দুটি ইলাস্ট্রেশান আলাদা মাত্রা জুগিয়েছে এই উপন্যাসে থুড়ি বড় গল্পে!
অপারেশন টি ওয়ান - শিশির বিশ্বাস।। মূলত অ্যাডভেঞ্চার ধর্মী লেখা। কিশোরদের ভালো লাগবে বলে ধরে নেওয়া যায়। তবে ছেলে ভুলানো ব্যাপার আছে। আর আছে কয়েক জায়গায় বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব। যাঁর 'সোনার পাহাড়',  'আমবাগানে পদ্ম গোখরো'র মত লেখা পড়ে মুগ্ধ হয়ে এসেছি, এটা সেই দুর্জয় লেখনীর মধ্যে পড়ে না। তবে অনুপ রায়ের ইলাস্ট্রেশান যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে।
টুপুরের পুষ্যিরা - শাশ্বতী চন্দ।। এই উপন্যাস নিয়ে যতই বলা যায়, ততোই কম পড়ে। এর রিভিউ লেখা আমার কলমের বাইরে। আমার ঠুনকো শব্দজালে এই উপন্যাসের রিভিউ লিখে এই উপন্যাসকে ছোট করবো না। শুধু বলবো আমপাতা জামপাতার সব থেকে বড় প্রাপ্তি এই উপন্যাস। এই অসাধারণ ভাষা, অসামান্য লেখনী। এত সহজ সরল লেখা আজকাল খুব কম লেখা হয়। লেখিকাকে এই দোহারা বলপয়েন্টের অভিবাদন।
বুমবুম আর জলরাক্ষস - বিবেক কুণ্ডু।। ছোটবেলার সেই রূপকথা। সেই পক্ষিরাজ, জাদুকার্পেট, ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী, সোনার কাঠি, রুপোর কাঠি। তার সাথে যদি মেশে পুরানো কল্পবিজ্ঞান আর একটু রহস্য? তবে যা হয় তা হল বুমবুম ও জলরাক্ষস। বুমবুমের সাথে এবার না হয় ছুটে যাওয়া যাক অমৃতের ছোঁয়া লাগা সেই নীল লতার সন্ধানে! আর কিছু বলে গল্পের মজাটা নষ্ট করব না। শুধু রইলো ভালোলাগার গ্যারান্টি। তবে আমপাতার সেরার সেরা ইলাস্ট্রেশান কিন্তু এই উপন্যাসে মনিশংকর দাসের তুলিতে ভর করে। শিল্পীকে আমার কুর্নিশ।
রহস্যময় - ইমাদুল হক মিলন।। ইচ্ছে করেই এর কথায় শেষে এলাম। মাননীয় সম্পাদক মহাশয় বোধহয় ভেবেছিলেন এই লেখা দিয়েই এপার ওপার দুই বাংলার কাছে পৌঁছে যাবে আমপাতা জামপাতা। তা এই ভাবনায় খাদ নেই। সাধু উদ্যোগ। তাই বলে কি সম্পাদক লেখাটা একবার পড়ে দেখবেন না। ডি ডি গেঞ্জিমার্কা এমন কাজ করার কি যৌক্তিকতা আছে আমার জানা নেই। এমন তৃতীয় মানের, বীভৎস রকমের বাজে লেখা কোনও কিশোর পত্রিকার সম্পাদক অনুমোদন করতে পারেন বলে মনে হয় না। নির্মলেন্দু মণ্ডলের সুন্দর অলংকরণটি এই অখাদ্য লেখার পাল্লায় পড়ে ৩০০% জলে গেছে। আমার আড়াই টাকার রিফিল এই উপন্যাস সম্বন্ধে আর শব্দ বা কালি খরচ করতে নারাজ।
এবার আসা যাক গল্পের কথায়। মোট ৩৯ টা গল্পের প্রত্যেকটার কথা ধরে ধরে লেখার জায়গা এখানে তেমন নেই। তবু কয়েকটার কথা বলে নি। এবার আমার পড়া সমগ্র শারদ পত্রিকার (সংখ্যাটি নেহাত কম নয়) মধ্যে সেরা গল্পটি হল আমপাতার প্রতিপক্ষ - অনন্যা দাস। অসম্ভব সুন্দর আর মিষ্টি একটা গল্প। পড়লে মন একেবারে কানায় কানায় ভরে যায়। দ্বিতীয় যার কথা না বললেই নয় অভিজ্ঞান রায়চৌধুরীর মূর্তি গল্পটা। পুরুলিয়া মৃৎশিল্পীদের প্রেক্ষাপটে লেখা অসামান্য একটি গল্প। সাথে অর্ক বাবুর সুন্দর ইলাস্ট্রেশান। আর আছে অনীশ দেবের ঝরাপাতা, সবুজপাতা। ওনার কলমে  থ্রিলার, হরর ছাড়াও যে এত মন ভালো করা একটা সামাজিক গল্প ফোটে, তার প্রমাণ এই গল্প। সাথে অনুপ রায়ের ইলাস্ট্রেশান তেমন মন কাড়ে না। এছাড়াও আছে বাসুদেব মালাকারের 'কলের গান' দিয়ে পুরানো যুগে ভেসে যাওয়া। দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যের 'চন্দনের গন্ধ'-এ রহস্যের সাথে মন ভালো করে দেওয়া রেসিপি। নাটক দুটির কোনওটিই তেমন সুখপাঠ্য নয়। তবে সাথের অর্ক বাবুর ইলাস্ট্রেশান দুটি অসামান্য। কবিতা, বিজ্ঞান, প্রবন্ধে আছে প্রচুর মণি-মুক্তো। সাথে অবশ্য ইট কাঠও।  কমিক্সে সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর 'কর্নেল ডেও' নতুনত্ব ও প্রভূত প্রশংসার দাবি রাখে। সব মিলিয়ে সংগ্রহে রেখে দেওয়ার মত শারদীয়া। কিশোর পত্রিকা হিসেবে দাম কিঞ্চিৎ বেশি এবং আমার মত যারা টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে শারদীয়া কেনে তাদের জন্য অস্বাস্থ্যকরও বটে। বাঁধাএ আরও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। বেশ কিছু কপিতে মাঝের কিছু পাতা বাদ গেছে!
-      কৌস্তভ সরকার


কিশোর ভারতী
বন্ধুরা, তোমরা তো জানোই দুর্গাপূজা আমাদের প্রাণের উৎসব বাংলার মেয়ে উমা শ্বশুরবাড়ি থেকে এই চার দিনের জন্য আসেন বাপের বাড়িতে আর সেই আনন্দে গরীব বড়লোক জাতধর্ম নির্বিশেষে সবাই মিলে যাই উৎসব প্রাঙ্গণে মা আমাদের সাক্ষাৎ জগজ্জননী মায়ের সেই রূপটিই ফুটে উঠেছে তোমাদের অত্যন্ত পছন্দের পূজাবার্ষিকীকিশোর ভারতী প্রচ্ছদে সাতচল্লিশ বছর ধরে তোমাদের মনোরঞ্জন করে এই বছর এই পূজাবার্ষিকীটি পা দিল আটচল্লিশ বছরে বিষয় বৈচিত্রে এবারও মণিমুক্তোর অভাব নেই অফুরান হাসি মজার অপ্রকাশিত উপন্যাস যেমন আছে, তেমনি অদ্ভুতুড়ে মজা, বিজ্ঞান থ্রিলার, টানটান রহস্য, রুদ্ধশ্বাস কল্পবিজ্ঞান, রহস্য অ্যাডভেঞ্চার, ঐতিহাসিক উপন্যাস, ঐতিহাসিক রহস্যকি নেই! বলে শেষ করা যাবে না প্রফুল্ল রায়েররামভরোসার মোটরগাড়িপড়লে যেমন হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যাবে, তেমনি শিরদাঁড়া টানটান হয়ে যাবে দীপান্বিতা রায়েরনেমপ্লেটআর ঝিমলি মুখার্জি পাণ্ডেরপ্রাতঃস্মরণীয়পড়তে পড়তে যোগ্য সঙ্গতে স্বয়ং ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় হাজির জগুমামা টুকলু-কে নিয়েশিয়ারব্রুক রহস্যউদ্ঘাটনে সৈকত মুখোপাধ্যায়েরমাইডিয়ার মিকিকল্পবিজ্ঞান হলেও মূলত রহস্য অ্যাডভেঞ্চার একই কথা খাটে অভিজ্ঞান রায়চৌধুরীর এবং কয়েক জন-এর ক্ষেত্রেও এই দুটি উপন্যাসই এবারের শারদীয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস তা বলার অপেক্ষা রাখে না এছাড়াও রয়েছে অনীশ দেবের বিজ্ঞান থ্রিলারসংঘর্ষ যদি হয়”, হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের ঐতিহাসিক উপন্যাসএলাপুর ভাস্কর এত সব দারুণ দারুণ উপন্যাসের ফাঁকে যে উপন্যাসটির নাম আমি আলাদা করে উল্লেখ করব তা হল সঞ্জীব চৌধুরীরএকের পর এক নিউমেরোলজি নিয়ে এক পুলিশ অফিসারের আশ্চর্য অনুসন্ধানের কাহিনী বিষয়বস্তুর অভিনবত্বের জন্যই আলাদা করে উল্লেখের দাবি রাখে এতো গেল শুধুই উপন্যাসের কথা এত গুলো উপন্যাসের পর আছে আরও অনেক বড়গল্প, ছোটগল্প, ছড়া-কবিতা, জানাঅজানা, রম্যরচনা, ভ্রমণ, শিকারের কাহিনী আরও কত কিছু হ্যাঁ কমিক্স থাকবে না তাও কি হয়? আছে আছে নন্টেফন্টে, হর্ষবর্ধন সবাই হাজির আর? আর? দেখছ! বলতে ভুলেই গেছি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, বরুণ চন্দ্র, পি. সি. সরকার এক ঝাঁক সেলেব্রিটি কলম ধরেছেন শুধু মাত্র তোমাদের জন্যই তাহলে বুঝতেই পারছ তো কত মণিমাণিক্য ছড়িয়ে আছে কিশোর ভারতীর এবারের পুজো সংখ্যায়!
-      সুচরিতা দত্ত


শুকতারা
দেব সাহিত্য কুটির থেকে প্রকাশিত শুকতারা আমার সবচেয়ে কাছের পুজোসংখ্যা। সেই কোন ছোটোবেলায় বাবা কিনে দিয়েছিলেন। তখন আমি ক্লাস থ্রিতারপর থেকে শুকতারা আমার সব চেয়ে প্রিয় বন্ধু। বাঁটুল, হাঁদা- ভোঁদা, বাহাদুর বেড়াল সেই বয়স থেকেই পড়ে আসছি। এখনও ভালো লাগে পড়তে। জুরান নাথের কমিকস ‘বিচ্চুর জাদুশক্তি’-ও ভালো লাগছে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর গল্প থেকে তৈরি ‘বিপিনবাবুর চশমা’ খুব সুন্দর হয়েছে। উপন্যাস, গল্প, কবিতা বেশির ভাগই ভালো হয়েছে।
-      ঐশ্বর্য চক্রবর্তী

(এই বিভাগ আমাদের সবার। এই বিভাগ সমস্ত বইপ্রেমীর। এখানে প্রকাশিত সমস্ত বইয়ের  সমালোচনা করে পাঠক-পাঠিকারা মেল করেছেন দূর-দুরান্ত থেকে। আমরা বাকস্বাধীনতাকে সম্মান দিয়ে সমস্ত রিভিউ অপরিবর্তিত ভাবে প্রকাশ করছি। এখানকার কোনও মন্তব্যের জন্য ম্যাজিক ল্যাম্প দায়ী নয়। তা সম্পূর্ণভাবে পাঠকের ব্যক্তিগত মতামত। বই পড়ুন ও বই পড়ান। নমস্কার।)

No comments:

Post a comment