বিজ্ঞান:: এই সংখ্যার বিজ্ঞান - বিভাগীয় সম্পাদক

এই সংখ্যার বিজ্ঞান
বিভাগীয় সম্পাদক 

নতুন বছর শুরু হল। এসে গেল ম্যাজিক ল্যাম্পের দ্বিতীয় সংখ্যা। প্রথম বারের মতই এবারেও বিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে গোটা পাঁচেক ভিন্ন স্বাদের প্রবন্ধ, লিখেছেন বিভিন্ন পেশার মানুষেরা, যারা নিজেদের কাজের সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিচর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন সমান উদ্যমে।

অঙ্ক দিয়েই শুরু করা যাক। আগের বারের মত এ বারেও অঙ্কের এক মজার বিষয় – সূচক – নিয়ে লিখেছেন সূর্যনাথ ভট্টাচার্য। ভদ্রলোক যাদবপুরের ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, খড়গপুরের এম-টেক, তার সঙ্গে এম-বি-এও, যে ডিগ্রি ওঁর নিজের ভাষায় গোদের ওপর বিষফোঁড়া কেন্দ্রীয় সরকারী সংস্থা সেন্ট্রাল পাওয়ার রিসার্চের বিভাগীয় প্রধান ওঁর বিনোদন হাইস্কুলের অঙ্ক, ইতিহাস, হাসি-ঠাট্টা ইত্যাদি। বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন বিশেষ করে অঙ্কের মজা নিয়ে। এবারের লেখাটা পড়লেই বুঝতে পারবে সূচক কত মজার হতে পারে, সংখ্যার মধ্যে নিহিত প্যাটার্ন টেনে-হিঁচড়ে বের করে উনি পরিবেশন করেছেন এই প্রবন্ধে। এর পরবর্তী অংশ প্রকাশিত হবে আগামী সংখ্যায়।

আমার ছোটবেলার বন্ধু দেবজ্যোতি রাশিবিজ্ঞানের ছাত্র ছিল। সরকারি সিভিল সার্ভিসে কুড়ি বছর দাপটের সঙ্গে চাকরি করে হঠাৎ ভাবল, অনেক হয়েছে! এবার শুধু লেখালিখিই করা যাক। যেমন ভাবা, তেমনি কাজ। এর আগেই বহু বছর ধরে অবশ্য ও জয়ঢাক ও ট্যাম্বুরিন নামে দুটো শিশু-কিশোর সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা করে, এবং বহু পত্রিকায় লেখালিখি করে। এখন চাকরি থেকে স্বেচ্ছা-অবসর নিয়ে লেখালিখি আর সারা দেশ চষে বেড়ানো ওর কাজ। রাশিবিজ্ঞানে প্রবাবিলিটি বা সম্ভাবনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গল্পের মাধ্যমে তার তত্ত্বকে সহজ ভাষায় বুঝিয়েছে দেবজ্যোতি তার প্রবন্ধ সম্ভাবনার অঙ্কে, দেখিয়েছে কীভাবে এর প্রয়োগ হতে পারে আমাদের চেনা-অচেনা এই পৃথিবীর, অতিক্ষুদ্র পরমাণুর অভ্যন্তরের বা অতিবৃহৎ ব্রহ্মান্ডের হাঁড়ির খবর জোগানোর বিভিন্ন ব্যাপারে।

সুন্দরবন অঞ্চলে কাকদ্বীপ ব্লকের এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম সৌম্যকান্তি জানার। প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে প্রকৃতির, বিশেষ করে পারিপার্শ্বিক গাছপালার ওপর ভালোবাসা জন্মে সৌম্যর। উদ্ভিদবিদ্যা নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রীর পর এখন শিক্ষকতা পেশা তার। ছাত্রাবস্থা থেকেই সাংস্কৃতিক বিষয়ে ঝোঁক ও লেখালিখিতে আগ্রহ। পত্রপত্রিকায় নিয়মিত চিঠি লেখা ছিল তার নেশা, বহু বছর আজকাল ও সাপ্তাহিক বর্তমানে শব্দছক প্রণেতা ছিল সৌম্যকান্তি। পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ ও জনবিজ্ঞান আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য সৌম্যকান্তি বহু পত্রিকায় নিয়মিত বিজ্ঞানের প্রবন্ধ লেখেন, এতাবধি প্রকাশিত প্রবন্ধের সংখ্যা আড়াইশোর বেশি। আগের সংখ্যায় সৌম্যকান্তির প্রবন্ধ ছিল গ্রামীণ কন্দ ওলগাছের ফুল নিয়ে। এবারে তার প্রতিপাদ্য – চার বিদেশি হানাদারের কাহিনি। পড়লেই বুঝতে পারবে শুধুমাত্র চেঙ্গিজ খাঁ বা তৈমুরলঙ্গ বা মহম্মদ ঘোরী নয়, আমাদের দেশে হানা দিয়েছে সম্পূর্ণ অন্য ধরণের কিছু হানাদার, জাঁকিয়ে বসে জনজীবন বিপর্যস্ত করে দিয়েছে যেখানে তাদের বাড়বাড়ন্ত সেই সব জায়গায়।

সম্পূর্ণ অন্য ধরণের লেখা এবারে তনুশ্রী চক্রবর্তীর কলমে। তনুশ্রী শিবপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রী ছিল, এখন সেই ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যা কাজে লাগিয়ে বিদেশি তেলের কোম্পানিতে চাকরি করে, তেল তোলে গালফে। তোমরা তো জানোই, মাটির নীচ থেকে তোলা এই ফসিল ফুয়েল কতভাবে বিশ্বের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে। ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে সব জিনিসের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। কথা হচ্ছে, মাটির নীচে, এখানে সমুদ্রের তলায় যে তেল থাকে, তা তোলা হয় কী করে? তার পেছনে লাগে ব্যাপক ইঞ্জিনিয়ারিং, বহু জটিল অঙ্ক কষা, বহু স্ট্রাকচার দাঁড় করানো সমুদ্রের বুকে। ওই ভারি স্ট্রাকচার সমুদ্রের মাঝখানে দাঁড় করানো কি চাট্টিখানি কথা? ধাপে ধাপে কী কী করা হয়, তা অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় বুঝিয়েছে তনুশ্রী ও পিসিমাকে চিঠি দিয়ে, একের পর এক ছবি দিয়ে দিয়ে। আমরা সেই চিঠির এক কপি ছাপিয়ে দিচ্ছি এখানে। এই ধরণের জটিল প্রযুক্তির এই রকম বর্ণনা আর কোথায় পড়তে পেলে আমাদের জানিও। ও হ্যাঁ, বলতে ভুলে গেছি, তনুশ্রী একজন অত্যন্ত দক্ষ ফটোগ্রাফারও বটে। এই শাস্ত্রেও তার ডিগ্রি আছে, তার তোলা ছবি ছাপা হয় নামিদামি ফটোগ্রাফির পত্রিকায়।

আমার নাম তো জানে গাঁয়ের পাঁচজনে। আমি ছাত্র ছিলাম রসায়নের। এখানে অনধিকার চর্চার মত আমিও একটা প্রবাবিলিটির লঘু তত্ত্বের সাহায্যে দেখিয়েছি এক বিশেষ ধরণের ছক্কা কীভাবে তৈরি করা সম্ভব, যা দিয়ে মহাভারতের শকুনির মত বলে বলে যুধিষ্ঠিরের মত প্রতিপক্ষকে হারানো সম্ভব। জিনিসটা শিখে নিলে তোমরাও তাক লাগাতে পারবে তোমার বন্ধুবান্ধবদের।

কেমন লাগল এবারের বিজ্ঞানের আসর, তা জানাতে ভুলো না কিন্তু। চিঠি দিও ম্যাজিক ল্যাম্পের দপ্তরে।
-------------

No comments:

Post a comment