বিজ্ঞান:: চার বিদেশি হানাদারের কাহিনি - সৌম্যকান্তি জানা

চার বিদেশি হানাদারের কাহিনি
সৌম্যকান্তি জানা

এসেছে সে চুপিসারে -
ভারতবর্ষের ইতিহাসে সুলতান মামুদ, চেঙ্গিস খান, তৈমুর লং, মহম্মদ ঘোরি, বাবর প্রমুখ ঐতিহাসিক চরিত্রের নাম তোমরা সবাই জানো। নানা সময়ে এঁরা ভারতবর্ষে হানা দিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ আমাদের দেশের সম্পদ লুন্ঠন করে নিজের দেশে নিয়ে যান, আবার কেউ কেউ লুঠ করতে এসে দেশের বিপুল সম্পদ দেখে স্থায়ীভাবে সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। অসির ঝনঝন, অশ্বের হ্রেষা, হস্তীর বৃংহণ আর পদাতিক সৈন্যদের সমবেত রণ-হুংকারের মধ্যে দিয়ে ওই যুযুধান হানাদারেরা সম্মুখ সমরে আমাদের দেশের তদানীন্তন গোবেচারা দুর্বল শাসকদের ল্যাজেগোবরে করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছিলেন। তবে ইংরেজদের কথা আলাদা। বনিকের মানদন্ড রাজদন্ড হয়ে দেখা দিয়েছিল ভারতের ভাগ্যাকাশে। হাতে মারার পাশাপাশি ভাতেও ওঁরা আমাদের মেরেছেন। কম নয়, প্রায় দুশো বছরের চোখরাঙানি তাও একদিন শেষ হয়েছিল দেশের বীর সন্তানদের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে। এ সব আমাদের জানা। কিন্তু ঠিক এই সময় আরও বেশ কিছু বৈদেশিক শত্রু ঢুকে পড়েছিল আমাদের দেশে। ওরা ঢুকেছে আমাদের অজান্তে, চুপিসারেওরা ঢুকেছে সূচ হয়ে, বেরিয়েছে ফালা করে। এই বৈদেশিক শত্রুরা কেউ কিন্তু আমাদের দেশ ছেড়ে পালায়নি। বরং জাঁকিয়ে রাজত্ব বিস্তার করেছে আসমুদ্রহিমাচলআমরা যতদিনে বুঝে উঠলাম যে এরা আমাদের ভয়ানক শত্রু, ততদিনে যা ক্ষতি হবার হয়ে গেছে। সংগ্রাম শুরু হয়েছে ওদের সমূলে ধ্বংস করার। হ্যাঁ সমূলে, কারণ ওরা মানুষ নয় বা অন্য কোনও প্রাণীও নয়। ওরা হানাদার উদ্ভিদ। এসো, আমাদের দেশ তো বটেই, প্রায় গোটা পৃথিবীর মাথাব্যাথার কারণ ভয়ানক চারটি হানাদার উদ্ভিদ নিয়ে একটু নাড়াচাড়া করি।

পাজি পার্থেনিয়াম -


কংগ্রেস ঘাস! ভাবছো, এ আবার কী ঘাস! আসলে এ ঘাস যেভাবে দ্রুত বংশবিস্তার করে প্রায় সব মহাদেশ ছেয়ে ফেলেছে তাতে এই নাম খুব একটা বেমানান নয়। বিশ্বের ভয়ানক সাতটি আগাছার মধ্যে অন্যতম হল এই আগাছা। পার্থেনিয়াম - নামটা তোমাদের অনেকেরই শোনা। এই পার্থেনিয়ামকেই ইংরেজিতে কংগ্রেস গ্র্যাস বলে। এই নামও সার্থক। তবে বিজ্ঞানসম্মত নাম Parthenium hysterophorus অ্যাসটেরিয়েসি পরিবারের সে সদস্য। এর আরও একটা নাম আছে- দুর্ভিক্ষের আগাছা বা ফেমিন উইড। শস্য-ফসলের ক্ষেত এই পাজি পার্থেনিয়ামে ভরে যাচ্ছে, ফলে কমে যাচ্ছে খাদ্যশস্যের উৎপাদন। এর পরিণতি নিশ্চিতভাবেই দুর্ভিক্ষ।

পার্থেনিয়াম লম্বায় হয় প্রায় দেড় মিটার। এরা বর্ষজীবী বীরুৎ উদ্ভিদ। চন্দ্রমল্লিকা পাতার মতো পাতার কিনারা গভীরভাবে খন্ডিত। কান্ড হালকা রোমশ। পুষ্পমঞ্জরীর রঙ সাদা। ওতে অসংখ্য ক্ষুদে ক্ষুদে ফুল থাকে।
পার্থেনিয়ামের বাপের বাড়ি, অর্থাৎ আদি বাসভূমি হল ক্রান্তিয় আমেরিকা। সদ্য স্বাধীন ভারতবর্ষ তখন খাদ্যে স্বনির্ভর ছিল না। ফলে অনাহার, দুর্ভিক্ষ, মহামারি লেগেই ছিল। তাই খাদ্যচাহিদা মেটাতে পঞ্চাশের দশকে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হত। আমেরিকা থেকে আসত PL 480 গম। ১৯৫৬ সালে ওই গমের সাথেই ভারতে সবার অলক্ষ্যে চলে আসে পার্থেনিয়ামের বীজ। ব্যস! পেয়ে গেল অনুকুল পরিবেশ। নিশ্চিন্তে শুরু করে দিল বংশবিস্তার। দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল গোটা দেশে। ভারতের বিপুল পরিমাণ পতিত জমি, চাষের জমি, ট্রেন ও বাস রাস্তার দুপাশ এখন ভরে গেছে পার্থেনিয়ামে। শুধু ভারত নয়, সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকার নানা দেশ আজ পাজি পার্থেনিয়ামের জ্বালায় জেরবার। এক একটা গাছ থেকে উৎপন্ন হয় ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার বীজ। এখন দেশের ২০ লক্ষ হেক্টর জমি ছেয়ে গেছে পার্থেনিয়ামে। পরিস্থিতি ভয়ানক।

এবার জেনে নাও এই পাজি আগাছা থেকে কী কী ক্ষতি হয়। চাষের জমি দখল করে ফসলের উৎপাদনে যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে তা তো আগেই জেনেছো। এছাড়া পার্থেনিয়ামের পরাগরেণু যখন টমাটো, বেগু, বিন ইত্যাদি সবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে তখন এই পরাগরেণুতে উপস্থিত ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাবে সবজি ও ফসলের উৎপাদন কমে যায়। পার্থেনিয়াম গাছের জন্য বদলে যাচ্ছে মাটির ভৌত ও রাসায়নিক চরিত্র।

পার্থেনিয়াম মারাত্মক ক্ষতি করছে মানুষ ও গবাদি পশুর। এই গাছের পরাগরেণুর সংস্পর্শে এসে মানুষের চর্মরোগ ও শ্বাসতন্ত্রের রোগ হচ্ছে। এছাড়া হে ফিভার, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, ত্বকে কালো দাগ, চোখের চারদিকে ফুসকুড়ি ইত্যাদি হচ্ছে যারা এই গাছের সংস্পর্শে আসছে। যেসব গবাদি পশু পার্থেনিয়াম গাছ খাচ্ছে তাদের ডায়েরিয়া, চর্মরোগ, অ্যালোপেসিয়া, ত্বকের রঞ্জক উৎপাদনে ঘাটতি, যকৃৎ ও বৃক্কের রোগ ইত্যাদি হতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া গোরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগলের মাংস ও দুধের গুণাগুণ হ্রাস পাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, গবাদি পশুরা পার্থেনিয়াম খাওয়ায় দুধের স্বাদ হয়ে যাচ্ছে তেতো। পার্থেনিয়ামের এই ভয়াবহতার জন্য দায়ী এর মধ্যে থাকা প্রধাণতঃ তিনটি রাসায়নিক- পার্থেনিন, হাইমেনিন ও অ্যাম্ব্রোসিন।

পার্থেনিয়াম থেকে মুক্তির উপায় কী? অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাটো আর পোড়াও- এই কর্মসূচি নিয়ে পার্থেনিয়াম দূরীকরণ করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু এইভাবে পার্থেনিয়ামকে নির্মূল করা অসম্ভব। তাছাড়া যাঁরা পার্থেনিয়াম গাছ কাটবেন তাঁদের শারীরিক ক্ষতির সম্ভাবনা থাকছে। তাই নানা দেশের বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করছেন যাতে জৈবিক পদ্ধতিতে এই আগাছাকে নির্মূল করা যায়। সবচেয়ে আশার আলো দেখিয়েছে মেক্সিকোর একপ্রকার পোকা Zygogramma bicolorata. এরা পার্থেনিয়ামের পাতা সহ ফুলের কুঁড়িও খেয়ে সাফ করে দেয়। ফলে গাছ মরে যায় এবং বীজ উৎপন্ন হতে পারে না। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে পরে আরও দুপ্রকার পোকা ও একপ্রকার ছত্রাকের খোঁজ পাওয়া গেছে যারা পার্থেনিয়াম ধ্বংস করতে সক্ষম। ভারতে এইসব পোকা বা ছত্রাককে কাজে লাগিয়ে পার্থেনিয়াম নির্মূল করা যায় কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা গবেষণা চালাচ্ছে।

লুটেরা ল্যানটানা -


বাংলায় একটা প্রবাদ আছে - সূচ হয়ে ঢোকে, ফাল হয়ে বেরোয়কথাটা ল্যানটানা-র ক্ষেত্রে খুব খাটে। প্রায় ২০০ বছর আগে এদেশে এর আগমন। অবশ্য একা একা আসেনি, জামাই আদর করে আনা হয়েছিল বাহারি ফুলের গাছ হিসেবে। কিন্তু এই সুন্দরের আড়ালে যে তার ভয়ঙ্কর রূপ ছিল কে জানত? এখন সেই বাহারি উদ্ভিদ লুটেরা উদ্ভিদে পরিণত হয়েছে। লুঠ করে নিয়েছে ভারতের সমস্ত অরণ্য। এমন কোনও অরণ্য আর নেই দেশে যেখানে সে থাবা বসায়নি। বনাঞ্চলের স্বাভাবিক ঘাস ও গুল্মকে সরিয়ে সে অবাঞ্ছিতভাবে নিজের জায়গা করে নিয়েছে। তৃণভোজী অরণ্যচারী প্রাণীরা ল্যানটানা খায় না। ফলে তারা খাদ্যাভাবের শিকার। তাছাড়া শুকনো তো বটেই, কাঁচা ল্যানটানা গাছেও খুব সহজে আগুন লাগে। ফলে এরা দাবানলের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এরা শুধু বনাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, রাস্তা-ঘাট, পতিত জমি, চাষের জমি সর্বত্র জবরদখল করে নিচ্ছে। এ সমস্যা কেবল ভারতের নয়, প্রায় গোটা বিশ্বের। উপকূল, সমতল, মালভূমি, পাহাড় - সর্বত্র এর উপস্থিতি। ১৯৭৪ সালের আগে ল্যানটানাকে দেখা যায়নি যে সব মনুষ্যহীন দ্বীপে, আজ সেখানেও সে হাজির। ডারউইন-খ্যাত গ্যালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জসহ সাইপান ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জেও ল্যানটানাকে দেখা যাচ্ছে। যাঁরা ল্যানটানার রূপে মুগ্ধ হয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন, আজ তাঁরা নেই, কিন্তু তাঁদের পাপের বোঝা বইছে আজকের দুনিয়া।

বাংলায় ল্যানটানাকে বলে কুটুস। বাংলাদেশে অনেকে বলে গুয়েগেন্দা। ভার্বিনেসি গোত্রভুক্ত এই উদ্ভিদের বিজ্ঞানসম্মত নাম Lantana camaraল্যানটানার আদি বাসস্থান মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা। গুল্মজাতীয় এই গাছটি কিন্তু দেখতে মন্দ নয়। পাতার আকার কিছুটা জবা পাতার মতো, তবে রোমশ। পাতায় একরকম তীব্র গন্ধ আছে। যখন ফুল ফোটে দারুণ দেখায় ওদের। তোমরা অনেকেই এই ফুল ও গাছ দেখেছো, কিন্তু হয়তো নাম জানো না। কান্ডের আগায় থোকা থোকা ফুল ফোটে। আর ফুলের রঙও বৈচিত্র্যময়- লাল, হলুদ, সাদা, গোলাপি, কমলা, তামাটে। সময়ের সাথে সাথে রঙের পরিবর্তন হয় বলে একই থোকায় একাধিক রঙের ফুল দেখা যায়। রঙের বৈচিত্র কীটপতঙ্গদের পরাগমিলনে দারুণ আকৃষ্ট করে। সফল পরাগমিলনের জন্য একটা গাছ ১২ হাজার ফল উৎপন্ন করার ক্ষমতা ধরে। পাখিদের খুব প্রিয় খাদ্য হল ল্যানটানা বীজ। মুলতঃ পাখিরাই দেশের মধ্যে ল্যানটানাকে দ্রুত ছড়িয়ে দিয়েছে এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্তে। ল্যানটানা গাছে ফুল ফোটে সারা বছর ধরে। ফুলহীন গাছ দেখতে পাওয়াই দুষ্কর। আর এটাই মন কেড়েছিল দিনেমার অভিযাত্রীদের। তাঁরা আমেরিকা থেকে বুনো ল্যানটানাকে ইউরোপে নিয়ে এসে বাগানে লাগিয়েছিলেন। পরে পরে ইউরোপ থেকে যখন অভিযাত্রীর দল ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নানা দেশে আসতে থাকে তখন সাথে করে নিয়ে আসে ল্যানটানা। কোথাও কোথাও তো আগবাড়িয়ে বোটানিক্যাল গার্ডেনে ল্যানটানার চাষও করা হয়। ১৯২৬ সালেই শ্রীলঙ্কার রয়্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেনে ল্যানটানা ভয়াবহ আগাছা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ভারতে ১৮০৯ সালে সম্ভবতঃ দিনেমার নাবিকদের হাত ধরেই ঢুকেছিল ল্যানটানা। দুশো বছর পর সে এখন দেশের ভূমি-লুটেরা।

আগেই বলেছি, ল্যানটানা দ্রুত বদলে দিচ্ছে অরণ্যের জীববৈচিত্র্য। বড়ো বৃক্ষের তলায় ওরাই এখন হয়ে উঠেছে প্রধান গুল্ম। ফলে মারা পড়ছে জঙ্গলের স্বাভাবিক গুল্ম ও তৃণ। এই গাছ থেকে নিঃসৃত বিষাক্ত উপাদানের প্রভাবে অন্যান্য উদ্ভিদের বীজের অঙ্কুরোদ্গম ও মূলের বৃদ্ধি ব্যহত হয়। এ গাছ গোরু, মহিষ, ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ইত্যাদি তৃণভোজী প্রাণীর খাদ্য নয়। এতে পেন্টাসাইক্লিক ট্রাইটারপিনয়েড নামে একটি বিষাক্ত উপাদান আছে যা গবাদি পশুর পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই উপাদান লিভারের ক্ষতি করে ও আলোক অনুভূতি গ্রহণে সমস্যা সৃষ্টি করে। ভারতে এই আগাছাটি বর্তমানে শাল ও ইউক্যালিপটাসের জঙ্গলে এবং কফি চাষে ব্যাপক সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ল্যানটানার ঝোপ হল মশার নিশ্চিন্ত আশ্রয়। ফলে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, এনকেফালাইটিস, চিকুনগুনিয়ার আতুঁড়ঘর হল ল্যানটানা। আফ্রিকায় ঘুম রোগের বাহক সেটসি মাছিরও আশ্রয়স্থল হল ল্যানটানা।  

বিশ্বের কুখ্যাততম দশটি আগাছার একটি হল ল্যানটানা। এই আগাছাকে দমন করার জন্য তোড়জোড় চলছে বিশ্বজুড়ে। ভারতে ফরেস্ট রিসার্চ ইন্সটিটিউট(দেরাদুন) এমন এক পতঙ্গের সন্ধান চালাচ্ছে যে ল্যানটানাকে খেয়ে শেষ করে দেবে। কিন্তু কোনও গবেষনাই এ পর্যন্ত আশার আলো দেখাতে পারেনি। সুতরাং এখনও ল্যানটানাকে বিনাশ করার জন্য কাস্তে-কাটারি-রামদা কিংবা আগাছানাশক রাসায়নিক ভরসা। কিন্তু এভাবে কটা ল্যানটানাকে ধ্বংস করা সম্ভব? তাছাড়া এই পদ্ধতি খুবই ব্যয়বহুল। তাই লুটেরা ল্যানটানাকে দেশ থেকে নির্মূল করার ভাবনা আজও অধরা থেকে গেছে।

ত্যাঁদোড় তারালতা -


তোমাদের কেউ বলো তারালতা। কেউ বলো অমললতা। আবার কারও কাছে ম্যালেরিয়া পাতা। যদিও তারার সাথে লতানে উদ্ভিদটির কোনও সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া ভার, তবুও হয়তো অ্যাসটেরাসি গোত্রের উদ্ভিদ হওয়ায় নামের একটা মানে খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু কেন অমললতা বা ম্যালেরিয়া পাতা নাম হল তা বলা মুশকিল। ভয়ংকর নাছোড়বান্দা এই আগাছা কি করে অমললতা হয় জানা নেই। আর ম্যালেরিয়া রোগের সাথে কোনও সম্বন্ধ আছে কিনা তা আজও আবিষ্কৃত হয়নি। যাইহোক, ইংরেজিতে নামটা কিন্তু সার্থক- Mile-a-minuteঅত্যন্ত দ্রুত বর্ধনশীল এই লতা। এক দিনে প্রায় ৮০ মিলিমিটার বাড়তে পারে। বিজ্ঞানসম্মত নাম- Mikania micrantha চেকোস্লোভাকিয়ার উদ্ভিদবিজ্ঞানী জোহান ক্রিস্টিয়ান মাইকান-এর নামে এর নামকরণ হয়েছে।
বেশ শক্ত লতানে উদ্ভিদ হল এই তারালতা। গাঢ় সবুজ রঙের হৃৎপিন্ড-আকৃতির পাতা। কান্ড হাল্কা রোমশ। ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে ফুল ও ফল হয়। ছোটো ছোটো ফুলওয়ালা সবুজাভ-সাদা পুষ্পমঞ্জরীতে গাছ ভরে যায়। আর এর বীজ হাওয়াতে ভেসে ছড়িয়ে পড়ে দূরদূরান্তে। ফলে একদিন আগেও যেখানে তারালতার চিহ্নমাত্র ছিল না, সেখানে সে গজিয়ে যায়। তারপর দ্রুতগতিতে শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে ভরিয়ে ফেলে বিস্তীর্ণ এলাকা। এরা মাটির উপর যেমন বেয়ে চলে, তেমনই কোনও অবলম্বন পেলে তাকে জড়িয়ে দ্রুত উপরে উঠে যায়। এক একসময় দেখা যায় একটা আস্ত বৃক্ষ তারালতায় ঢাকা পড়ে গেছে।

উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার উপ-ক্রান্তিয় অঞ্চল হল তারালতার আদি বাসস্থান। এশিয়ায় এর আগমন প্রথম ইন্দোনেশিয়াতে বিগত শতাব্দীর চল্লিশের দশকে। মাটি ঢাকা দেওয়ার জন্য এদের মার্কিন মুলুক থেকে আপ্যায়ন করে আনা হয়েছিল। তারপর তিন দশকের মধ্যেই সমগ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। আর বর্তমানে বিশ্বের ভয়ানক ৩২টি হানাদার আগাছার মধ্যে অন্যতম আগাছা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভারতে এই লতাটিকে আনা হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর। যেহেতু এরা খুব দ্রুত বিস্তীর্ণ এলাকা ঢেকে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে তাই বোমারু বিমানপোতগুলিকে শত্রুপক্ষের দৃষ্টির আড়ালে রাখতে তারালতাকে ব্যবহার করা হয়। প্রথমে এই লতাকে আনা হয়েছিল অসমে। তারপর কেরালায়। পরে চায়ের বাগানে মাটি ঢাকা দেওয়ার কাজেও এই উদ্ভিদটি অসম, পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা, তামিলনাড়ু ইত্যাদি রাজ্যে ব্যবহৃত হতে থাকে। স্বাভাবিকভাবেই কিছুদিনের মধ্যে এরা উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তারপর প্রায় সমগ্র ভারতে। বর্তমানে অসম, কর্নাটক, ও কেরালা হল তীব্র এবং পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ু হল মধ্যম প্রকৃতির তারালতা-আক্রান্ত রাজ্য। ১৯৭০-এর দশক থেকে ভারতে জঘন্য আগাছা হিসেবে তারালতা চিহ্নিত হয়।

তারালতায় কয়েকটি রাসায়নিকের সন্ধান পাওয়া গেছে যেগুলি অন্যান্য উদ্ভিদের পক্ষে ক্ষতিকর। যেমন বিটা-ক্যারিওফাইলিন নামের রাসায়নিকটি মুলো ও বাঁধাকপির বীজের অঙ্কুরোদ্গমে বাধা দেয়। তাছাড়া এরা আশ্রয়দাতা গাছকে (যেমন চা, কলা, রবার ও নারকেল) এমনভাবে জড়িয়ে ধরে ঢেকে ফেলে যে আশ্রয়দাতা গাছের পাতায় আলোর অভাবে সালোকসংশ্লেষ হতে পারে না। এরা নোনা মাটিতেও জন্মানোর ক্ষমতা অর্জন করেছে। ফলে ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের বংশবিস্তারের পক্ষে তারালতা বাধা সৃষ্টি করছে। আর তারালতার ঝোপ হল মশাদের নিশ্চিন্ত আশ্রয়। পাতার রস মশাদের প্রিয় খাদ্য।

কাস্তে দিয়ে কেটে বা হাত দিয়ে টেনে ছিঁড়ে বা উপড়ে তারালতাকে স্থানীয়ভাবে দূর করা গেলেও স্থায়ীভাবে দমন করা সম্ভব নয়। ইদানিং বিস্তৃত এলাকায় আগাছানাশক হিসেবে ২,৪-ডি বা গ্লাইফোসেট বা অ্যাট্রাজিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কাজ কিছুটা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে বেশি। পরিবেশের ক্ষতির সাথে সাথে অন্যান্য শস্য-ফসলের মধ্যে এই আগাছানাশক সঞ্চিত হয়ে মানুষেরও ক্ষতি করছে। আর এর প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। আগাছানাশক প্রয়োগের কিছুদিন পর আরও ভয়ঙ্করভাবে তারালতা চতুর্দিক ছেয়ে ফেলছে। সম্প্রতি Puccinia spegazzinii নামে মরিচা রোগ সৃষ্টিকারী একপ্রকার ছত্রাক তারালতা দমনে বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। তবে ২০০৬ সালে অসমে চা বাগানে এই ছত্রাক ব্যবহার করে সুফল মেলেনি। আর তাই আমাদের দেশে এই ত্যাঁদোড় তারালতাকে কীভাবে বিনাশ করা যাবে তা নিয়ে কৃষিবিজ্ঞানীদের মাথাব্যাথার শেষ নেই।

তবে সাম্প্রতিককালে গ্রামের দিকে দেখা যাচ্ছে ছোটোখাটো কাটা-ছেঁড়ায় তারালতা পাতার রস জীবানুনাশক হিসেবে অনেকে ব্যবহার করছে। কেটে গেলে ক্ষতস্থানে রক্তপাত বন্ধ করতে বেশ কাজ দেয় এই পাতার রস। সত্যিই এর জীবানুনাশক ক্ষমতা থাকার বা রক্তপাত বন্ধ করার কারণ কী তা কিন্তু এখনও পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে গবেষণা প্রয়োজন। আর যাদের পানের বরোজ আছে তারা পানের গাঁট (বান্ডিল) তৈরির কাজে তারালতা ব্যবহার করছে। প্রথমে কলাপাতা দিয়ে মুড়ে তারপর তারালতা জড়িয়ে দড়ি দিয়ে বাঁধা হচ্ছে পানের গাঁট। এতে নাকি পান অনেকদিন টাটকা থাকে। মানুষ নিশ্চয়ই তার অভিজ্ঞতা দিয়ে তারালতাকে এই কাজে লাগিয়েছে। ত্যাঁদোড় তারালতাকে অবশ্য শুধু এইটুকু উপকারের জন্য উপেক্ষা করা উচিত হবে না।   

কুচুটে কচুরিপানা -


কচুরিপানা চেনে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ পৃথিবীর এমন কোনও দেশ নেই যেখানে কচুরিপানা পৌঁছোয়নি। আজ থেকে বহু কোটি বছর আগে ব্রাজিলের আমাজন নদীর অববাহিকা অঞ্চলে কচুরিপানার জন্ম। পরে পরে সে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়লেও অন্যান্য মহাদেশে তার একা একা পৌঁছানোর সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু মানুষ ভুলল তার ফুলের রূপেবেগুনি রঙের বাহারি ফুলের থোকা দেখে রূপমুগ্ধ মানুষ তাকে সযত্নে নিয়ে এসেছে নিজ নিজ দেশে। ঠাঁই দিয়েছে বিশ্বের নামী বোটানিক্যাল গার্ডেনেও। কিন্তু কচুরিপানা যে রামায়ণের স্বর্ণমৃগের মতো রূপের আড়ালে কুচুটে মারীচ হয়ে উঠবে তা যদি মানুষ জানত তবে এর নামই মুখে আনত না। সে আর বোটানিক্যাল গার্ডেনের পুকুরে বা হ্রদে সীমাবদ্ধ নেই। গ্রাম ও শহরের সমস্ত পুকুর-ডোবা, জলাভূমি, খাল-বিল, নদী-হ্রদে পৌঁছে গেছে কচুরিপানাভারতে কচুরিপানার আগমন বেশিদিন আগের ঘটনা নয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯১৪ থেকে ১৯১৬ সালের মধ্যে কেউ এই ভাসমান জলজ উদ্ভিদটিকে দেশে আমদানি করেছিল। উফ, কী ভুল যে করেছিল! মাত্র ৩৪/৩৫ বছর পরেই ১৯৫০ সাল নাগাদ এটি ভারতের ভয়ঙ্কর আগাছা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়। এ থেকেই বোঝা যায় কী ভয়ানক গতিতে কচুরিপানা বংশবিস্তার করে।

কচুরিপানা চেনো না বা দেখোনি এমনটা কেউ থাকতেই পারো না। আর তাই এর বর্ণনা দেওয়াও নিষ্প্রয়োজন। জলে ভেসে থাকার জন্য কচুরিপানার পাতার বৃন্ত ফোলা ও স্পঞ্জের মতো নরম হয়। এর মধ্যে বাতাস ভর্তি থাকে। ফলে কচুরিপানা জলে ভেসে থাকতে পারে। এদের বংশবিস্তার হয় প্রধানতঃ অঙ্গজ পদ্ধতিতে, অর্থাৎ একটা কচুরিপানার কয়েকটা শাখা থেকেই আরও কয়েকটা কচুরিপানার জন্ম হয়। তবে কচুরিপানার বীজ থেকেও বংশবিস্তার হয়। এক একটা কচুরিপানা থেকে কয়েক হাজার বীজ উৎপন্ন হয়, আর সেই বীজগুলো ২৮ বছর পরেও অঙ্কুরিত হতে পারে। দ্রুততম বংশবিস্তার করার ক্ষমতাসম্পন্ন উদ্ভিদের মধ্যে অন্যতম হল কচুরিপানা। কেউ যদি আজকে দেখো কোনও পুকুরের অর্ধেক কচুরিপানায় ভরা, তবে দুসপ্তাহ পরে গিয়ে দেখবে, পুরো পুকুর ভরে গেছে।   

পন্টেডেরিয়াসি গোত্রের এই উদ্ভিদের ইংরেজি নাম ওয়াটার হায়াসিন্থ (Water hyacinth) বিজ্ঞানসম্মত নাম Eichhornia crassipes কচুরিপানা জলে জন্মায় সবাই জানি, তবে জল শুকিয়ে গেলে ভেজা মাটির উপর বহুদিন বেঁচে থাকতে পারে। এক একটা কচুরিপানার উচ্চতা সাধারণতঃ এক ফুটের মধ্যেই থাকে। তবে ক্ষেত্রবিশেষে এক মিটার পর্যন্ত হতে পারে। কচুরিপানা খাদ্য হিসেবে তৃণভোজী প্রাণীদের কাছে গ্রহণীয় নয়, কারণ এতে একরকম ধাতব কেলাস থাকে যা ত্বকের আবরণী কলায় গেঁথে গিয়ে চুলকানির কারণ হয়। এই কেলাস হল ক্যালসিয়াম অক্সালেট দিয়ে তৈরি। এছাড়া এতে হাইড্রোজেন সায়ানাইড, উপক্ষার ও টার্পিনয়েড থাকে।

আজকাল জৈব গ্যাস উৎপাদনের জন্য কচুরিপানা ব্যবহৃত হচ্ছে। তাছাড়া ক্ষতিকর ধাতু সিসা, পারদ ও স্ট্রনশিয়াম-৯০ এবং কিছু ক্ষতিকর জৈব পদার্থকে কচুরিপানার মূল খুব ভালো শোষণ করে নেয়। গবেষনায় দেখা গেছে, কচুরিপানা জল থেকে নাইট্রোজেন ও পটাশিয়াম যথেষ্ট পরিমাণে শোষণ করে। আর তাই বর্জ্য জল প্রক্রিয়াকরণে কচুরিপানা ব্যবহৃত হতেই পারে। কিন্তু এই উপকারের তুলনায় অপকারের পরিমাণ বহুগুণ বেশি। প্রথমতঃ এরা দ্রুত বংশবিস্তার করে পুকুর, ডোবা, খাল-বিল, নদী, হ্রদ-কে ব্যবহারের অযোগ্য করে তোলে। এই কচুরিপানার কারণে কেরালায় ব্যাকওয়াটার আজ সংকটের সম্মুখীন। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের ইছামতী নদীও কচুরিপানায় ভরে গিয়েছে। এর ফলে জলপ্রবাহে সমস্যা হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়তঃ, কচুরিপানা পচে গিয়ে জল হয়ে পড়ছে ব্যবহারের অযোগ্য। এই জলে চাষবাস, মাছ চাষ বা গৃহস্থালীর কাজ করা সম্ভব নয়। তৃতীয়তঃ, কচুরিপানাপূর্ণ জলাশয় হল কিউলেক্স ও এডিস মশার আঁতুড় ঘর। ফলে ডেঙ্গু, এনকেফালাইটিস, চিকুনগুনিয়া ইত্যাদি মশাবাহিত রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এছাড়া কচুরিপানা হল একপ্রকার শামুকের প্রিয় বাসস্থান। এই শামুক সিস্টোসোমিয়াসিস নামক একপ্রকার কৃমিঘটিত রোগ ছড়ায়। চতুর্থতঃ, কচুরিপানাপূর্ণ জলাশয়ের জলে সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারে না বলে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন সহ জলের অন্যান্য উদ্ভিদ জন্মাতে পারে না। আবার জলে অক্সিজেনেরও অভাব হয়। ফলে মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, ঝিনুক, শামুক ইত্যাদি জলজ প্রাণী বাঁচতে পারে না। সামগ্রিকভাবে কচুরিপানার জন্য ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জলের বাস্তুতন্ত্র। পঞ্চমতঃ, কচুরিপানা প্রচুর পরিমাণে জল বাষ্পমোচন করে। ফলে জলাশয়ের জল দ্রুত শুকিয়ে যায়। ষষ্ঠতঃ, কচুরিপানা ক্রমাগত পচে গিয়ে জলাশয়ের তলদেশ ভরাট করে দিতে থাকে। সপ্তমতঃ, নদীতে ভাসমান কচুরিপানা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে টারবাইনের মধ্যে ঢুকে গিয়ে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি করে।

তাহলে এই কুচুটে কচুরিপানাদের নিধনের উপায় কী? হাতে টেনে তুলে এ যদুবংশকে নির্বংশ করা কার্যত অসম্ভব। বর্তমানে কচুরিপানা দমন করার জন্য প্রচলিত তিনটি রাসায়নিক হল ২-৪ ডি, ডাইকোয়াট এবং গ্লাইফোসেট। ২-৪ ডি প্রয়োগের দুসপ্তাহের মধ্যে সব কচুরিপানা মরে যায়। ডাইকোয়াট-ও (তরল ব্রোমাইড লবন) দ্রুত কাজ করে। তবে গ্লাইফোসেট দিয়ে কচুরিপানাকে ধ্বংস করতে প্রায় তিন সপ্তাহ লেগে যায়। রাসায়নিক প্রয়োগে কচুরিপানা দমন করা যেমন ব্যয়বহুল তেমনই পরিবেশের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই বিজ্ঞানীরা জৈব নিয়ন্ত্রনের ব্যাপারেই বেশি উৎসাহ দেখাচ্ছেন। কচুরিপানাকে খাদ্য হিসেবে পছন্দ করে এমন তিনটি পতঙ্গের সন্ধান মিলেছে কিন্তু তারা যে গতিতে কচুরিপানাকে খায় তার চেয়ে দ্রুতগতিতে কচুরিপানা বংশবিস্তার করে। তাই জৈব নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না।  

ছাড়িলে না ছাড়ে
হানাদার বিদেশি আগাছাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে ভারতবাসী। এদের নির্বংশ করার জন্য বিজ্ঞানীরা উদয়াস্ত গবেষণায় ডুবে রয়েছেন। কিন্তু ওরা ছাড়ার পাত্র নয়। মাটি আঁকড়ে পড়ে আছে শুধু নয়, গিলে খাচ্ছে দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ। সব ভুলের প্রায়শ্চিত্ত হয় না। এই বিদেশি আগাছাদের দেশে নিয়ে আসা হয়েছে এমনই এক ভুল। আর তাই আপাততঃ এই হানাদারদের অত্যাচার সহ্য করা আর এদের ধ্বংস করার পরিবেশবান্ধব, সহজ ও সস্তা প্রযুক্তির পথ চেয়ে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই।
-----------

No comments:

Post a comment