Showing posts with label সমুদ্র বসু. Show all posts
Showing posts with label সমুদ্র বসু. Show all posts

প্রবন্ধ:: দুই বোন, দুই শ্বেতকালী - সমুদ্র বসু

দুই বোন, দুই শ্বেতকালী
সমুদ্র বসু

জগৎ জননী মা কালী, পরম শক্তির আধার, তাই তো তাঁকে নানারূপে নানাভাবে মাতৃরূপে উপাসনা করা হয়। বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে, শহর থেকে গ্রাম নানা অঞ্চলে শক্তি আরাধনা তথা মা কালীর পূজা হয়ে আসছে প্রাচীনকাল থেকেই। অঞ্চলভেদে একেক রূপে তাঁর আরাধনা করা হয়ে থাকে। ভক্তের সঙ্গে একাত্ম হয়ে গেছেন তিনি, তাই তো দৈবিক সত্ত্বার বাইরেও, তিনি হয়ে উঠেছেন ঘরের মেয়ে। আবার তিনিই 'মা'। আজ আমরা জানব তেমনই দুই কালীর কথা যাদের রং সাদা আবার যারা দুই বোন কালী নামেও পরিচিত।

------
রাজবল্লভী, রাজবলহাট
, হুগলী

রাজবল্লভী, রাজবলহাট, হুগলী
রাজবলহাটের সবুজ ঘেরা শান্ত পরিবেশে বিরাজ করছেন মা রাজবল্লভী। মন্দির অঙ্গনে ঢোকার আগেই একটা গোড়া বাঁধানো বটগাছ। মন্দির প্রাঙ্গণে অনেকটা জায়গা জুড়ে নাটমন্দির আর উঁচু ভিতের উপরে প্রতিষ্ঠিত অনাড়ম্বর মন্দির। অনন্য সুন্দর দেবীর গাত্রবর্ণ সাদা, তাই রাজবল্লভী মাতা শ্বেতকালী নামেই অধিক পরিচিত। দেবীর মাথায় কারুমণ্ডিত মুকুট। দেবী ত্রিনয়না। হাত দুটি। ডান হাতে ছুরি, সামনের দিকে প্রসারিত বাম হাতে রুধির অর্থাৎ রক্তের পাত্র। স্মিত হাসি ও প্রসন্নতায় ভরা মুখমণ্ডল, ডাগর ডাগর চোখ। পদপ্রান্তে শায়িত কালভৈরবের বুকে দেবীর ডান পা। আর দেবীর বাঁ পা স্পর্শ করে আছে সুদর্শন বিরূপাক্ষের মাথা। দেবীর কণ্ঠ নরমুণ্ডমালা ও কোমরে মনুষ্য হস্তের কোমরবন্ধনী আছে। তবে, তা দৃশ্যমান নয়। কারণ, দেবী ১৪ হাত শাড়ি পরিহিতা।
১১৯২ সালে দিল্লি অধিকার করেন পাঠান সুলতান মহম্মদ ঘোরী। ঠিক সেইসময় ভুরসুট পরগণার রাজা ছিলেন শনিভাঙ্গর। তাঁর মৃত্যুর পর রাজা হলেন চতুরানন। টানা চল্লিশ বছর রাজত্ব করার পর তিনি ভুরসুট সিংহাসনে অভিসিক্ত করলেন তাঁর জামাতাকে। অনুমান, বছর দশেক রাজত্ব করার পর জামাতা রাজা সদানন্দের মনে বৈরাগ্য জন্মাল। একদিন রাজা সদানন্দ তাঁর নিজেরই শিকার করা পশুদের সামনে বিষণ্ণ মনে দাঁড়িয়ে ভাবছেন যে, তিনি এমন-ই নরাধম! ব্রাহ্মণকুলে জন্মগ্রহণ করেও শুধুই রাজরক্ষায় নিজেকে আবদ্ধ রেখেছেন। অস্তগামী সূর্যের আলোয় রাজা হঠাৎই লক্ষ করলেন, রুদ্রাক্ষমালা পরে এক ব্রাহ্মণ ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে আছেন পদ্মাসনে। রাজা কাছে গিয়ে প্রণাম করলেন। তারপর রাজা স্ব-ইচ্ছায় ব্রাহ্মণকে তাঁর নিজের মনের দ্বন্দ্বের কথা জানালেন। ব্রাহ্মণ এরপর রাজাকে শক্তিমন্ত্রে দীক্ষত করেন। ব্রাহ্মণের উপদেশেই রাজা সদানন্দ শিবসাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। ওই সাধনাকালেই দ্বিভুজা মহামায়া, ষোড়শী রমণীমূর্তি রূপে দেখা দেন রাজাকে। মা রাজাকে আদেশ করেন, এই জায়গাতেই যেন তাঁর (মা রাজবল্লভী) মূর্তি প্রতিষ্ঠা ও পুজোর ব্যবস্থা করা হয়। এরপরই সাধক রাজা সদানন্দ বরাভয়দায়িনী, নৃ-মুণ্ডমালিনী, শ্বেতকালিকা দেবী রাজবল্লভী মায়ের প্রতিষ্ঠা করেন রোন নদী ও দামোদর নদের মাঝামাঝি ভূখণ্ডে। জন্ম হল এক নতুন গ্রামের। নাম হল রাজবল্লভহাট। চতুরাননের ৪০ বছর আর সদানন্দের ১০, এই মোট ৫০ বছর ধরলে আনুমানিক (১১৯২+৫০) ১২৪২ সালে রাজবল্লভীর প্রতিষ্ঠা বছর ধরা যেতে পারে। এখন থেকে কমবেশি ৭৭০ বছর আগে শ্বেতকালী তথা মা রাজবল্লভীর প্রথম মন্দির ও বিগ্রহ প্রতিষ্ঠাকাল। পূর্বে নাম ছিল রাজপুর। রাজা সদানন্দ রায় দেবী প্রতিষ্ঠার পর নামকরণ করেন রাজবল্লভীহাট। দেবীর নামানুসারে হল গ্রামের নাম। কালক্রমে সে নাম রূপান্তরিত হয়ে দাঁড়াল রাজবল্লভহাট। এখন পরিচিত হয়েছে রাজবলহাট। এটি দামোদর নদের পূর্ব তীরে। পশ্চিম তীরে ডিহি ভুরসুট গ্রাম।
প্রতি ১২ থেকে ১৪ বছর অন্তর মায়ের নবকলেবর (নতুন মূর্তি) তৈরি হয় গঙ্গাজল আর গঙ্গামাটি দিয়ে। সেই দেবীমূর্তিকে বৈশাখ মাসে শুভ অক্ষয় তৃতীয়ার দিন প্রতিষ্ঠা করা হয়। যে কারণে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন ভোরবেলা মায়ের বিশেষ পুজো অনুষ্ঠিত হয়। এখানে দুর্গাপুজো মহাসমারোহে পালন করা হয়। নবমীর দিন হয় ছাগবলি এবং পুরোনো রীতি মেনে মহিষ বলিও হয়। ওইদিন মায়ের অন্নভোগ হয় না। মাকে ওই দিন ছাতুভোগ নিবেদন করা হয়। এছাড়া চৈত্র সংক্রান্তির দিনও অন্নভোগের পরিবর্তে মাকে নিবেদন করা হয় চিঁড়েভোগ। বছরে এই দু'দিন ছাড়া সারা বছর মাকে অন্নভোগ নিবেদন করা হয় এবং সেই প্রসাদ ভক্তরাও পেয়ে থাকেন। তার জন্য সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে ২৫ টাকার বিনিময়ে কুপন সংগ্রহ করতে হয়। তবে এখানে অনধিক ৭০০ জনের বসে প্রসাদ গ্রহণের ব্যবস্থা আছে। বর্তমান দেবীমন্দিরে গর্ভগৃহের একটি খপ্পর আছে। ছাগ ও মেষবলির পর খণ্ডিতদেহ ফেলা হয় ওই খপ্পরে। কথিত আছে, ওই খপ্পর নির্মিত স্থানটিতে রাজা সদানন্দ রায়ের পঞ্চমুণ্ডির আসন ছিল। রাজা মন্দির নির্মাণের সঙ্গে নাটমন্দির, নহবতখানা, শিবমন্দির ও প্রতিদিন ভোগের জন্য নির্মাণ করলেন রন্ধনশালা। কালের নিয়মে সদানন্দ নির্মিত কোনো কিছুই একসময় আর রইল না। পরবর্তীকালে এগুলি সব নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছেন বিভিন্ন ভক্ত ও স্থানীয় সম্পন্ন গ্রামবাসীরা। তবে যাত্রীদের স্নানের জন্য রাজার খনন করানো বড়ো পুকুরটি আজও আছে মন্দিরের সামনে।
রাজবল্লভী মায়ের মন্দির পরিচালনার জন্য যদিও একটি স্বতন্ত্র কমিটি আছে, কিন্তু মা তাঁর সারা বছরের পুজোর খরচ চালানোর ব্যবস্থা নিজেই করে রেখেছেন। মায়ের নামে একটি বড়ো দিঘি এবং বেশ কয়েকটি পুকুর আছে। আছে বেশ কয়েক বিঘা জমিও। আর মায়ের নামাঙ্কিত জমিতে বেশ কিছু দোকানঘর ভাড়া দেওয়া আছে। এইসব মিলিয়ে বছরে যা আয় হয় তা দিয়েই মায়ের সেবা হয়। এছাড়াও মায়ের অগণিত ভক্তের সক্রিয় সহযোগিতা তো আছেই। বিশেষ করে ওই গ্রামসাসীদের। কারণ এখানে একটা প্রচলিত রীতি আছে যে, যাঁর বাড়িতে বা জমিতে প্রথম যে ফলটা হয় তা রাজবল্লভী মাকে উৎসর্গ করেন। এমনকি নিজের পুকুরের মাছও। বছরের পুজোর ভার পালা করে চলে। যাঁর যখন পালা হয় তখন তিনিই সব ব্যবস্থা করে থাকেন। কিন্তু ওই যে ভোগের জন্য মাথাপিছু ২৫ টাকা করে নেওয়া হয় তার থেকে জনপ্রতি ১ টাকা করে যায় মা রাজবল্লভীর এস্টেটে। প্রতি শনি, রবিবার এবং ছুটির দিনগুলিতে প্রচুর জনসমাগম হয়। মন্দিরের দরজা খোলা হয় সকাল সাতটায়। পুজো শুরু হয় সকাল এগারোটায়। রাজবল্লভী মায়ের সঙ্গে নিত্যপুজো হয় গণেশ, বাসুদেব, লক্ষ্মী, সরস্বতী, ভগবতী ও মা ষষ্ঠীর। নারায়ণসহ অন্যান্য দেবদেবীদের প্রতিদিন নিরামিষ অন্নভোগ হয়। দুপুর দেড়টায় হয় দেবীর ভোগ নিবেদন। ভাত, ডাল, সব রকমের সবজি দিয়ে তরকারি, তেঁতুল দিয়ে মাছের অম্বল এবং পায়েস। এরপর সন্ধ্যারতি হয় সাতটায়। আরতি শেষে মাকে নিবেদন করা হয় লুচি, সন্দেশ ও ছানা। বছরে দু-দিন দুর্গানবমী ও চৈত্র সংক্রান্তিতে অন্নভোগ হয় না। রাজবল্লভী মাকে প্রায় সারাদিনই পুজো দেওয়া যায়। সব শেষে মাকে তামাক সেজে দিয়ে দরজা বন্ধ করা হয়। মায়ের মন্দির খোলা থাকে সকাল ৭টা থেকে টানা রাত ১০টা পর্যন্ত (শীতে রাত ৮টা)।

-----
সিদ্ধেশ্বরী, আঁটপুর, হুগলী

সিদ্ধেশ্বরী, আঁটপুর, হুগলী
স্বামী বিবেকানন্দ ও তাঁর গুরুভাইদের স্মৃতিবিজড়িত গ্রাম আঁটপুর হুগলী জেলার হরিপালের কাছে অবস্থিত৷ ১৭০৮ সালে তৈরি মিত্রদের রাধাগোবিন্দের আটচালা শৈলীর মন্দিরটির টেরাকোটার কাজ অতুলনীয়৷ বাংলার প্রাচীন কাঠ খোদাইয়ের অন্যতম নিদর্শন মেলে কাছের চন্ডীমন্ডপে৷ স্বামীজীর গুরুভাই স্বামী প্রেমানন্দের জন্মস্থান আঁটপুর৷ আঁটপুর মন্দিরময়৷ বহতা নদীর ধারে অবস্থিত আঁটপুর গ্রামটি আটটি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত৷ আটটি গ্রাম তড়া, বোমনগর, কোমরবাজার, ধরমপুর, আনারবাটি, রানিরবাজার, বিলাড়া, লোহাগাছি৷ বর্ধমান রাজা তিলোকচন্দ্র বাহাদুরের দেওয়ান কৃষ্ণরাম মিত্র বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থের ঘাট থেকে গঙ্গাজল, গঙ্গামাটি এনে সেই মাটি পুড়িয়ে তাতে ইট তৈরি করে রাধাগোবিন্দের মন্দির নির্মাণ করেন৷ টেরাকোটার কাজের জন্য তিনি বিষ্ণুপুর থেকে মৃৎশিল্পী আনান৷ মন্দিরটি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু৷ মন্দিরের সম্মুখভাগে ও দুই পাশের দেয়ালে অজস্র টেরাকোটার প্যানেল আছে৷ সামাজিক দৃশ্য থেকে পৌরাণিক দৃশ্য সবই দেখা যায় টেরাকোটার ক্ষুদ্র প্যানেলে৷
এই আঁটপুরেই রয়েছে আরেক প্রাচীন মন্দির - সিদ্ধেশ্বরী শ্বেত কালী মন্দির। আঞ্চলিক জনশ্রুতি অনুযায়ী আঁটপুরের সিদ্ধেশ্বরী শ্বেত কালী ও পার্শ্ববর্তী গ্রাম রাজবলহাটের রাজবল্লভী দুই বোন। গড় ভবানীপুরের রাজা সদানন্দ প্রতিষ্ঠা করেন রাজবলহাটের রাজবল্লভী। সেখানকার রানি তারাদেবীকে এই সিদ্ধেশ্বরী শ্বেত কালী স্বপ্নাদেশ দেন আঁটপুরে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করতে। স্বপ্নের মাধ্যমেই তিনি জানিয়েছিলেন তাঁর রূপের কথা। পূর্ণিমার পূর্ণ চন্দ্রের মতন যেন তাঁর রূপ হয়, এ কথাই তিনি জানান রানিকে। রানি তখন মাতৃ মন্দির প্রতিষ্ঠা ছাড়াও মন্দিরসংলগ্ন ৩৬৫ বিঘা জমিও দান করেন। আগে মায়ের মূর্তি ছিল অষ্টধাতু নির্মিত। বাংলার ১৪০০ সালে প্রাচীন মন্দিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হলে মাতৃভক্ত গ্রামবাসীগণ মন্দিরটি পুনঃনির্মাণ করেন। তারা দেবী মাতৃ মন্দিরের দু’পাশে দুটি শিব মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। বর্তমানে সেই দুটির পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে। ১৪২০ সালের ৮ জ্যৈষ্ঠ মায়ের নতুন মূর্তি স্থাপন করা হয়। চতুর্ভুজা শ্বেত কালী। ডান হাতে অভয় ও বর মুদ্রা আর বাম হাতে খড়্গ ও কাটা মুন্ডু। রাজবল্লভী মায়ের মতনই আমিষ ঘ্যাঁট তরকারি মায়ের প্রধান ভোগ।

এই দুই কালী দুই বোন হোক আর না হোক, এই সব জনশ্রুতি আর ইতিহাস আজ যেন মিলেমিশে সবকিছুকেই বিশ্বাসে পরিণত করেছে।
----------
ফোটো - লেখক

ভ্রমণ:: রাখাল রাজার দরবারে - সমুদ্র বসু


রাখাল রাজার দরবারে
সমুদ্র বসু

‘গোঠের রাখাল বলে দে রে কোথায় বৃন্দাবন
যেথা রাখাল রাজা গোপাল আমার খেলে অনুক্ষণ...’
- কাজী নজরুল ইসলাম

তবে এই রাখাল রাজা কিন্তু বৃন্দাবনের নয়। পূর্ব বর্ধমানের কালনা শহর থেকে আনুমানিক ১৫ কিলোমিটার দূরে বৈদ্যপুরের কাছে গোপালদাসপুর গ্রামে আছে এই রাখাল রাজার মন্দির। শরতের সকাল। ভাদ্র মাস। একদিন উইক এন্ডে নতুন গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম এক লং ড্রাইভে। গন্তব্য রাখাল রাজার দরবার। রাখালদের রাজা? হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন - ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। ভারতবর্ষের কৃষ্ণক্ষেত্রগুলি মূলত মথুরা-বৃন্দাবন-দ্বারকা হলেও পশ্চিমবঙ্গের ভিতরেই যে তাঁর এক নির্জন লীলাভূমি রয়েছে সে খবর হয়তো অনেকেই রাখেন না। আমি গাড়িতে গেলেও ট্রেইন রুটেও যাওয়া সম্ভব। হাওড়া থেকে যেতে হলে হাওড়া-কাটোয়াগামী যে কোনো ট্রেন ধরে নামতে হবে কালনা স্টেশন। কালনা থেকে যে সব বাস বৈঁচি যাচ্ছে সেই সব বাসে উঠে টালার মোড়ে নামতে হবে। তারপর গোপালদাসপুর যাওয়ার জন্য অটো ধরতে হবে। গোপালদাসপুরেই পরিচিত রাখাল রাজার মন্দির। কালনা থেকে বৈদ্যপুরের দূরত্ব মাত্র কুড়ি কিলোমিটার। অথবা হাওড়া বর্ধমান লাইনে বৈঁচি স্টেশনে নেমেও একইভাবে যাওয়া যাবে। যাই হোক, ফিরে আসি আমার সফরে। শরতের আকাশের সাদা পেঁজা পেঁজা মেঘ আর সাদা কাশবনের মধ্যে দিয়ে ছিল আমার যাত্রাপথ। শহরের কোলাহলের বাইরে যখন বৈঁচি হয়ে গাড়ি রাখাল রাজার উদ্দেশে ছুটছে তখন যেন সত্যি যাত্রাপথ দেবতার আবাসস্থলকে সাজিয়ে তুলছে। বৈদ্যপুর থেকে দু’মাইল দূরে গোপালদাসপুর গ্রাম। গ্রামের আগেকার মেঠো রাস্তা এখন পাকা রাস্তা হয়ে গেছে। গ্রামে ঢোকার মুখে একটা বিশাল তোরণ আছে। সেই তোরণে খোদাই করা রাখাল রাজার মন্দির কথাটি। গ্রামের পথ ধরে এগোলে চারদিকে শান্ত নিরিবিলি পরিবেশের মধ্যে রাখাল রাজার মন্দির। এক সময়ে দ্বিপ্রহরের খানিক আগে পৌঁছলাম রাখাল রাজার মন্দিরে।
লাল রঙের এই রাখাল রাজার এই মন্দিরটি বহু প্রাচীন। এই মন্দিরের বিশেষত্ব হচ্ছে যে এখানে রাখাল রাজার মূর্তির পাশে রাধা বা শ্রীকৃষ্ণ দুই পাশে গোপীনাথ ও রঘুনাথকে নিয়ে বিরাজ করছেন। বৈদ্যপুর শহরটি বহু প্রাচীন শহর। প্রথম মনসামঙ্গলে আমরা এই শহরের উল্লেখ পাই। শহরের আনাচে কানাচে আছে বহু প্রাচীন মন্দির ও অট্টালিকা। মন্দিরগুলির গায়ে সুন্দর টেরাকোটার কাজ। মন্দিরের এক পাশে রয়েছে বিশাল বটগাছ। চারদিকে সবুজ গাছগাছালি ও মাঠ যেন রাখাল রাজার খেলার প্রকৃষ্ট জায়গা। গর্ভমন্দিরের সামনে একটি নাটমন্দির আছে। নাটমন্দিরটি কয়েকটি পিলারের উপর দাঁড়িয়ে। নাটমন্দির প্রাঙ্গণ সুন্দর টাইলস দিয়ে বাঁধানো। প্রাঙ্গণে কৃষ্ণের ছোটোবেলাকার নানা ঘটনা - যেমন পুতনা বধ, কালিয়দমন ইত্যাদি ছবিসহকারে বর্ণিত আছে। গর্ভগৃহে তিনটি মূর্তি বিরাজমান। মাঝখানে রয়েছেন স্বয়ং রাখাল রাজা। আকাশ নীল গায়ের রং। বাম হাতে তিনি নাড়ু ধরে রয়েছেন, ডান হাতে রয়েছে পাচন। অপূর্ব সুন্দর দুষ্টু-মিষ্টি বালকের মতোই হাসি হাসি মুখ। দেখেই মন ভরে যাবে। রাখাল রাজার মূর্তির দু’পাশে রয়েছে দুটি সাদা গাভী। রাখাল রাজার দু’পাশে দুটি অপেক্ষাকৃত ছোটো মূর্তি। একটি রঘুনাথের, অপরটি গোপীনাথের। রঘুনাথের মূর্তিটি সবুজ রঙের। গোপীনাথের নীলবর্ণ। রাখাল রাজার ইতিহাস সম্পর্কে নানা জনশ্রুতি রয়েছে। গোপালদাসপুর গ্রামের বেশিরভাগ পরিবারই গোস্বামীদের পরিবার। গোস্বামীরাই পুরুষানুক্রমে রাখাল রাজার সেবা করে আসছেন। এই গোস্বামীদের একজন আদিপুরুষ রামকানু গোস্বামী বর্ধমান জেলার খাতুন্দী (খাটুন্দী) গ্রামে বাস করতেন। উনি ছিলেন গোপীনাথের পরম ভক্ত। জনশ্রুতি আছে যে একবার বর্গি আক্রমণের ভয়ে রামকানু গোস্বামী তাঁর পরিবার ও গোপীনাথকে নিয়ে বৃন্দাবনের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়লেন। পথে জঙ্গল পড়ল। গোপীনাথকে তো ভোগ দিতে হবে। তাই রামকানু গোস্বামী ও তাঁর স্ত্রী জঙ্গলেই ভোগ রান্নার ব্যবস্থা করলেন। ওই সময়ে ওই অঞ্চলের এক রাজা জঙ্গলে মৃগয়া করতে এসেছিলেন। সারাদিন শিকার করে রাজা ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা ক্লান্ত ও ক্ষুধার্ত। হঠাৎ রাজা শুনতে পেলেন জঙ্গলের মধ্যে থেকে কাঁসর ঘন্টার আওয়াজ ভেসে আসছে। কৌতূহলী হয়ে রাজা ও তাঁর লোকজনেরা শব্দের উৎস অনুসরণ করে সেই স্থানে পৌঁছালেন। দেখলেন এক সাধক ও তাঁর স্ত্রী ছোটো হাঁড়ি করে তাঁদের আরাধ্য দেবতা গোপীনাথের জন্য ভোগ রান্না করেছেন। রাজাকে দেখে রামকানু গোস্বামী প্রসাদ গ্রহণের অভ্যর্থনা জানালেন। রাজা বললেন আমরা সংখ্যায় অনেকজন আর প্রসাদ মাত্র ছোট্ট হাঁড়িতে। সবাইকে কি আপনি দিতে পারবেন?
রামকানু গোস্বামী রাজাকে আশ্বস্ত করলেন যে গোপীনাথের দয়ায় কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে না। অগত্যা রাজা ও তাঁর সঙ্গে মৃগয়ায় আসা সমস্ত সদস্যরা আহারে বসলেন। দেখা গেল ওটুকু হাঁড়ির ভোগ শেষ হচ্ছে না। সকলে পেট ভরে খেল। গোপীনাথের মাহাত্ম্য রাজা বুঝতে পারলেন। রামকানু গোস্বামীকে রাজা খুশি হয়ে ওই এলাকার কিছু জমিজমা দিলেন দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে। এই ঘটনার কয়েকদিন পর রামকানু গোস্বামী বৃন্দাবন যাবেন বলে মনস্থ করেছেন। তিনি রাত্রে স্বপ্ন দেখলেন যে স্বয়ং রাখাল রাজা বালকের রূপ ধরে বলছেন, আমাকে দর্শনের জন্য বৃন্দাবন যাওয়ার দরকার নেই। আমি দারু কাঠ হয়ে জঙ্গলের মধ্যে পুষ্করিণীতে ভেসে আসছি। তুই পুষ্করিণীর ধার থেকে ওই কাঠ নিয়ে বাগনাপাড়ায় যা। সেখানে পাঁচ বছরের এক বালক খেলা করছে। তাকে দিয়ে আমার রাখাল রাজা মূর্তি বানিয়ে এই গোপালদাসপুর গ্রামে জঙ্গলের মধ্যে স্থাপন কর। ঘুম ভেঙে গেল রামকানু গোস্বামীর। এ কী স্বপ্ন দেখলেন তিনি! স্বয়ং রাখাল রাজা তাঁকে স্বপ্নে দেখা দিলেন! ভক্তি ও ভাবে আপ্লুত হয়ে গেলেন গোপীনাথের পরম ভক্ত রামকানু গোস্বামী। তারপর স্বপ্ন অনুযায়ী সমস্ত ঘটনা মিলে গেল। রাখাল রাজার মূর্তি স্থাপন হল জঙ্গলের মধ্যে। একপাশে গোপীনাথের মূর্তি রাখা হল। সেই দারু কাঠের তৈরী মূর্তি আজও পূজিত হয়ে আসছে। বর্তমানের মন্দিরটি নতুন করে তৈরি হয়েছে। রাখাল রাজার অন্য পাশে সবুজ গাত্রবর্ণের রঘুনাথের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এই মূর্তিটি বেনারস থেকে গোস্বামীদের কোনো ভায়াত নিয়ে এসেছিলেন। রাখাল রাজার মন্দিরের পাশেই রয়েছে ছোট্ট পুষ্করিণী যেটিকে বলা হচ্ছে যমুনা। এখানেই দারু কাঠ ভেসে এসেছিল বলে কথিত আছে। প্রত্যেকদিন পূজা ও ভোগ হয় এখানে। মাঘী পূর্ণিমার তিন দিন আগে পাঁচ বছরের যে বালক রাখাল রাজার মূর্তি বানিয়েছিল তাঁর বংশধরেরা রাখাল রাজাকে ভাঁড়ার ঘরে নিয়ে গিয়ে দ্বাররুদ্ধ করে তিন দিন ধরে অঙ্গরাগ করেন। তিন দিন পর মাঘী পূর্ণিমার দিন রাখাল রাজাকে আবার মন্দিরে নিয়ে এসে পূজা ভোগ নিবেদন করা হয়। প্রতিদিন সকাল থেকে ভোগ দেওয়া শুরু হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠেই দাঁত মেজে রাখাল রাজা, গোপীনাথ ও রঘুনাথ খান মাখন, মিছরি, ক্ষীরের নাড়ু ও নারকেল নাড়ু। এরপর সকাল সাড়ে নটায় ফলমূল ও মিষ্টি ভোগ দেওয়া হয়। যদি শীতের দিন হয় তাহলে মধ্যাহ্নভোজনের আগে একবার সকাল এগারোটায় খিচুড়ি ভোগ দেওয়া হয়। এই ভোগটাকে বাল্যভোগ বলে। দুপুর বারোটায় রাখালরাজা, রঘুনাথ ও গোপীনাথ মধ্যাহ্নভোজন সারেন। মধ্যাহ্নভোজনে থাকে পাঁচ রকমের ভাজা, দু’রকমের ডাল, তিন-চার রকমের তরকারি, শুক্তো, চচ্চড়ি, পোলাও, চাটনি, পায়েস, ক্ষীর, দই ও মিষ্টি। রাখাল রাজা যে হাতটা বাড়িয়ে আছেন সেই হাতে একটা বড়ো ক্ষীরের নাড়ু দেওয়া হয়।

আগে থেকেই কিনে নিয়ে গেছিলাম রজনীগন্ধা ফুলের মালা, তুলসীপাতা, পাঁচরকম ফল ও মিষ্টি। মন্দিরের অবস্থান এত নির্জন গ্রামে যে সেখানে কোনো দোকানপাট থাকা চিন্তাভাবনার বাইরে। তাই কেউ পুজো দিতে চাইলে আগে থেকে কিনে নিয়ে যাওয়া শ্রেয়। পুজোর পালা গোস্বামী পরিবারে সারা বছর ভাগ করা থাকে। আমার পরিচিত যাঁর পালা ছিল তাঁর সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করে নিয়েছিলাম যাতে একটু ভোগ প্রসাদ পাওয়া যায়। তাঁদের ব্যবহার খুব ভালো। আমার কোনো অসুবিধাই হয়নি। খুব ভালো করে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে পুজো দিলাম। আমার নিয়ে যাওয়া রজনীগন্ধার মালাটা শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহে যেন ঝলমল করছিল। পুজোর পর দেখলাম চমৎকার আরতি। মন্দিরে নেই কোনো ভিড়। তবে শুনলাম সাধারণত খুব ভক্ত সমাগম হয় ছুটির দিনে। গত বছর থেকে করোনার জন্য ভক্ত সমাগম কমেছে। আরতির সময় শ্রীকৃষ্ণের মুখমণ্ডল যেন মনে হচ্ছিল জীবন্ত। আরতির উত্তাপে ও প্রতিফলনে মুখমণ্ডল যেন আরও সজীব হয়ে ভক্তকুলের দিকে চেয়ে ছিল। আরতির ঠিক পর পরই যারা গিয়েছিল সবাইকে ভোগপ্রসাদ খেতে বসতে বলা হল একটি চাতালে। কুপনের দাম মাত্র ৪০ টাকা। ফ্রাইড রাইস, আলুভাজা, ভাত, ডাল, শুক্তো, শাকের চচ্চড়ি, আলু পটলের তরকারি, চাটনি, পায়েস মিলিয়ে অসাধারণ দ্বিপ্রাহরিক আহার পর্ব সারলাম। রান্নার স্বাদ তুলনাহীন। যে যত খুশি চেয়ে খেতে পারে।


মধ্যাহ্নভোজনের পর ঠাকুর বিশ্রামে যান। আবার সন্ধ্যায় তাকে ঘুম থেকে তুলে সন্ধ্যাবাতি দেওয়া হয়। রাত্রে আবার রাখাল রাজা গোপীনাথ ও রঘুনাথকে লুচি ফল মিষ্টি ভোগ দেওয়া হয়। তারপর আবার শয়ন দিয়ে দেওয়া হয় ও মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ভোগের আরেকটি বিশেষত্ব হল যে অঘ্রাণ মাসে রাত ছোটো বলে অঘ্রাণ মাস থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত রাখাল রাজার দুপুরের ভোগের আগে খিচুড়ি ভোগ হয়। ফলমূল মিষ্টান্ন ইত্যাদি দেওয়া হয়। মধ্যাহ্নভোজনের সময় দু’ধরনের চালের ভোগ থাকে। পাঁচ কিলো মতো সেদ্ধ চালের ভোগ হয় রঘুনাথের জন্য। সঙ্গে তরিতরকারি পায়েস মিষ্টি থাকে। রঘুনাথ রান্নাশালে এসে খেয়ে যান। শালগ্রাম শিলা নিয়ে যাওয়া হয় রান্নাঘরে। আর রাখাল রাজার জন্য ও গোপীনাথের জন্য গোবিন্দভোগ চালের পোলাও বানিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। বহু দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ এসে প্রতিদিন খেয়ে যান। ভোগের জন্য আগে থেকে কুপন কাটতে হয়। এছাড়া বড়ো উৎসব যেমন রামনবমী বা জন্মাষ্টমীতে হাজারের ওপর লোক হয়। এখানে চার জন রাঁধুনি আছেন যারা সকাল থেকে রোজ ভোগ রান্না করেন। রাখাল রাজার মন্দিরের সামনে একটা ছোটো মন্দির আছে যেটাকে বলা হচ্ছে দোলমন্দির। রামনবমীর আগের দিন নেড়া পোড়ানো হয়। রামনবমীর দিন দোল মন্দিরে একটা দোলনা বা ঝুলা টাঙানো হয়। রামনবমীর সময় রাখাল রাজা, গোপীনাথ ও রঘুনাথ এই মন্দিরে এসে দোলনায় দোল খান। এই সময়ে সকলে এসে আবির দিয়ে রাখাল রাজা, রঘুনাথ ও গোপীনাথকে ভক্তি নিবেদন করেন। পুরোহিত ভক্তবৃন্দের উদ্দেশে আবির ছড়িয়ে দেন। পাশে খোলা জায়গায় রামনবমীর দিন একটি মেলাও বসে। পাশে আরেকটি মন্দির আছে, যেটি হচ্ছে সাধক রামকানু গোস্বামীর সমাধি মন্দির। জন্মাষ্টমীর দিন দৈনন্দিন ভোগ নিবেদনের পরে রাখাল রাজা শয়নে যান এবং সন্ধ্যাবেলায় জন্মাষ্টমীর পূজা ও নানাবিধ অনুষ্ঠানসূচী সম্পন্ন হবার পর ফল মিষ্টি অন্ন তরিতরকারি দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই ভোগ পুজো শেষ হলে ভক্তবৃন্দদের প্রসাদ দেওয়া হয়। সেদিন মন্দির আলোকসজ্জায় সাজানো হয়। পরদিন নন্দ উৎসব পালিত হয়। (অর্থাৎ বাসুদেব শ্রীকৃষ্ণকে কারাগার থেকে নন্দের বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন জন্মাষ্টমীর দিন। পরদিন গোটা মথুরা বৃন্দাবনে নাচ গানের সঙ্গে এই নন্দ উৎসব পালিত হয়। রাখাল রাজার মন্দিরে জন্মাষ্টমীর পরের দিন নাচ-গান, নানারকম খেলার মধ্যে দিয়ে এই উৎসব পালিত হয়।) একটা নারকেল তেল-সিঁদুর দিয়ে বালকদের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। বালকদের মধ্যে কাড়াকাড়ি হয় কে ওই নারকেলটি নিতে পারবে।
জনশ্রুতি আছে যে রাখাল রাজা সন্ধেবেলায় ওনার গাভী নিয়ে এই জঙ্গলে চরে বেড়ান। যার জন্য সন্ধ্যারতির পরে ওই মন্দিরে বা মন্দির চত্বরে আর কেউ থাকে না। মন্দিরগুলির স্থাপত্য ও ভাস্কর্য দেখে মোহিত হতে হয়। অপূর্ব সুন্দর টেরাকোটার কাজ করা লাল রঙের মন্দিরগুলি ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। রামনবমী ও জন্মাষ্টমী এখানে খুব ধুমধাম করে পালিত হয়। মন্দিরের চারপাশের গাছগাছালি ভরা পরিবেশ অতি মনোরম। সামনে দিয়ে বেহুলা নদী বয়ে যাচ্ছে, যদিও জল খুব কম। তবে বর্ষাকালে এই বেহুলা ফুলে-ফেঁপে ওঠে। গোপালদাসপুরের যমুনা এই নদী। শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে বটগাছের নিচে কিছুক্ষণ সমাধিস্থ হয়ে বসে থাকলে এক অপূর্ব অনুভূতি হয়। মন আকুল করে রাখাল রাজাকে ডাকলে হয়তো কেউ কেউ রাখাল রাজার বাঁশির মূর্ছনাও শুনতে পাবেন। প্রকৃতি প্রেমীরা অবশ্যই একবার গোপালদাসপুরে এসে ঘুরে যেতে পারেন আর ঐতিহ্যের সাক্ষী হতে পারেন। এখানে এলে নিশ্চিত এক অনন্য অনুভূতি হবে ও মন প্রশান্ত হবেই।
দ্বিপ্রাহরিক আহার পর্ব সেরে মন্দির চত্বরে একটু বিশ্রামের পর যখন গাড়ি করে ফিরছি তখন মন হয়ে গেছে শান্ত, স্থির। রোজকার জীবনের মানসিক চাপকে দূরে সরিয়ে রেখে গমগম করে কানে বাজছে ঠাকুরমশাইয়ের মন্ত্রোচ্চারণ – “হে কৃষ্ণ, করুণাসিন্ধু দীনবন্ধু জগৎপতে। গোপেশ গোপীকাকান্ত রাধা কান্ত নমহস্তুতে।।”
----------
ফোটো - লেখক