ভ্রমণ:: চিত্র-গল্প:: জাদুকরী এলোরা - শ্রেয়সী চক্রবর্তী

জাদুকরী এলোরা

শ্রেয়সী চক্রবর্তী

শীতের ছুটি, বর্ষার দুপুর, গ্রীষ্মের বিকেল... যে সময়েই তাকাও না কেন এলোরা বা ইলোরা গুহার রূপ সর্বদাই সুন্দর। আমাদের দেশ ভারতবর্ষের মহারাষ্ট্র রাজ্যে বনভূমি ঘেরা চারণাদ্রি পাহাড়ের গায়ে খোদিত মোট চৌত্রিশটি গুহা নিয়ে প্রাচীন এলাপুরা বা বর্তমান এলোরা গুহা চত্বরের অবস্থান।।

১৬ নং গুহার অভ্যন্তর  দৃশ্য

ইতিহাস বলে রাষ্ট্রকূট (ষষ্ঠ থেকে দশম শতাব্দী) রাজবংশের আমলে এইসব গুহা-মন্দির গড়ে উঠেছে। এখানে বৌদ্ধ, হিন্দু এবং জৈন ধর্মের সাধনার সমন্বয় ঘটেছিল, তাই এই তিন রকম গুহাই এখানে দেখতে পাওয়া যায়। ১-১২ নং বৌদ্ধ সাধন গুহা; ১৩-২৯ নং গুহা ব্রাহ্মণ্য হিন্দুধর্মের প্রতিভূ এবং ৩০-৩৪ নং গুহা জৈন ধর্মাবলম্বী তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ গুহাটি হল কৈলাসনাথ মন্দির (গুহা নং ১৬)। একটি মাত্র পাহাড় কেটে এই বিপুলায়তন চোখ ঝলসানো গুহামন্দির বানানো মোটেও মুখের কথা ছিল না। এই কৈলাসনাথ মন্দির বিশ্বের বৃহত্তম মনোলিথিক (মাত্র একটি পাথর কেটে যা বানানো হয়) গুহামন্দির। এছাড়াও এখানকার ১০ নং ‘বিশ্বকর্মা’ গুহার কারুকাজ অসামান্য রমণীয়।।


১৬ নম্বর গুহা - কৈলাসনাথ মন্দির
১৬ নম্বর গুহা প্রবেশ মুখের অংশবিশেষ
২৯ নং গুহা শিব-পার্বতী বিবাহ


এলোরায় আছে এক অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ, সেটির দুইপাশ গুহা ঘেরা, এদেরকে ‘গণেশ-লেণা’ গুহা বলা হয়। বিশাল সব ভাস্কর্যের সঙ্গে ঝরে পড়া সময় ফিসফিসিয়ে কথা বলে এলোরায়

অশ্বখুরাকৃতি হ্রদ
এলোরা মন্দির-চিত্র
কারুকার্যময় খিলান

আমাদের দেশের প্রাচীন এই সম্পদকে ভালোবেসে কান পাতলেই ছোট্ট বন্ধুরা শুনতে পাবে সভ্যতার উন্নত ইতিহাস আর দেশীয় জাতক-পুরাণ কাহিনী। আর যদি হও ফেলুদাভক্ত তাহলে তো খুব শিগ্গিরি পড়ে ফেলতে হবেকৈলাসে কেলেঙ্কারিআর তার পরেই অভিযান এলোরা।।

কৈলাসনাথের বন্ধুরা
গজ-শার্দূল ভিত্তি ভাস্কর্য 
পূর্ণাঙ্গ রামায়ণ

কিভাবে পৌঁছে যাবে এলোরায়ঃ সারা ভারতবর্ষ থেকে ট্রেন আসে ঔরঙ্গাবাদ শহরে বাবা মাকে বলে তাড়াতাড়ি টাইমটেব্ল দেখে উঠে পড় ট্রেনে ঔরঙ্গাবাদ নেমে গাড়িতে ৩৬ কিলোমিটার পথ পেরোলেই চোখের সামনে তার সব ম্যাজিক নিয়ে হাজির হবে সুন্দরী এলোরা।।

রাবণ
সীতাহরণ
বৌদ্ধ গুহা বিশ্বকর্মার অভ্যন্তরে
কৈলাস মন্দির সংলগ্ন এলোরা চত্বর
__________

ছবিঃ লেখক

No comments:

Post a comment