ইতিহাস:: রাজকাহিনী:: সমুদ্রগুপ্তের খাতা - সহেলী চট্টোপাধ্যায়

সমুদ্রগুপ্তের খাতা 

-আজকে জানবো চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য কে নিয়ে কিছু কথা -

সমুদ্রগুপ্ত


আমি গুপ্ত বংশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট, সমুদ্রগুপ্ত। এক সময় শাসন করেছি সমগ্র উত্তর ভারত। দক্ষিণ ভারত জয় করলেও সেখানকার রাজাদের আনুগত্য লাভ করেই সন্তুষ্ট হয়েছিলাম। শাসন জারি করিনি। একজন যোদ্ধা, একজন কবি, একজন সঙ্গীতজ্ঞ।


একজন মানুষ যে নিজে হাতে অনেক যুদ্ধ করেছে, অনেক মানুষ মেরেছে সে কেমন করে কবিতা লিখতে পারে, আর কেমন করেই বা বীণা বাজাতে পারে তা নিয়ে বিস্তর আলোচনার ঝড় বইয়ে দাও তোমরা। আমারও যে অস্বাভাবিক লাগে না তা নয়। আসলে একটা মানুষের দুটো সত্ত্বা থাকতেই পারে। ইচ্ছা করলেও আজ আর ফিরে আসতে পারব না, ঘোড়ার পিঠে চড়ে সমগ্র ভারত দাপিয়ে বেড়াতে পারব না। এক টুকরো অতীত হয়ে বেঁচে আছি তোমাদের ইতিহাস বইয়ের পাতায়।


আজ নিজের খাতার পাতা উল্টে আনতে চলেছি কিছু ঘটনা যা ঘটে গেছে বহুকাল আগে। কিছু জীবন যারা আমার মতই ইতিহাসে পাতায় এখনও বেঁচে রয়েছে। যতদিন ভারতভূমি থাকবে ততদিন তারাও এমনি করেই বেঁচে থাকবে ইতিহাসের পাতায়। আজ বলছি সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য কে নিয়ে কিছু কথা। কিছু জানা কিছু অজানা। সব কিছু কী জেনে ফেলা যায়? তাহলে তো অনুসন্ধান করার ইচ্ছাটুকুও থাকবে না, তাই থাকুক না, কিছুটা জানা কিছুটা অজানা!


সমস্ত ভারত কে সর্ব প্রথম ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। এর আগে কোনও ভারতীয় রাজা তা করে দেখাতে পারেননি। কী করেই বা পারবেন? সমগ্র উত্তর ভারত তখন ছোটো ছোটো রাজ্যে বিভক্ত। এদের মধ্যে ষোলোটি রাজ্য বা মহাজনপদ সবচেয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল। ষোলোটির মধ্যে একটি রাজ্য ছিল দক্ষিন ভারতে। এদের নিজেদের মধ্যে সব সময় বিবাদ লেগেই থাকত। এক সময় মগধ অনান্য সব রাজ্য গুলোকে হারিয়ে সব চেয়ে বেশি ক্ষমতাবান হয়ে ওঠে।


চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যর উত্থানের আগে মগধে ছিল নন্দ রাজাদের শাসন। শেষ নন্দ রাজা ধন নন্দের অত্যাচারে প্রজারা তখন অসহায়। ধননন্দের বিশাল এক সেনা বাহিনী ছিল। বিশাল এই বাহিনীর খরচ চালানোর জন্য খাজনার হার বাড়িয়ে দেওয়া হয়; যা মেটানো দরিদ্র প্রজাদের পক্ষে অসম্ভব ছিল। খাজনা আদায়ের জন্য রাজা কর্মচারীরা অত্যাচার চালাত মানুষের ওপর। সেই সব নিপীড়িত নিরন্ন মানুষের জীবনে পরিত্রাতা হয়ে এসেছিলেন চন্দ্রগুপ্ত।


তাঁর নামের পেছনে ‘মৌর্য’ কেন বসানো হয়েছিল তা নিয়ে আছে বহু মতভেদ, অনেক বিতর্ক। কেউ কেউ বলেন তাঁর মা অথবা মাতামহীর নাম ছিল মুরা। তিনি কোনও এক নন্দ রাজার দাসী ছিলেন। মুরা থেকেই মৌর্য কথাটি এসেছে।


কেউ আবার মনে করেন, মৌর্যরা ছিল আসলে ব্যাধ বা নিষাদ জাতীয় নীচু শ্রেণীর মানুষ। শিকারের সাথে সাথে নানা রকম পশু পাখিও তারা পুষত। বিশেষ করে ময়ূর তারা খুব ভালোবাসত। ময়ূর থেকেও মৌর্য কথাটি আসতে পারে বলে অনেকে মনে করেন। আর একটি মত বলছে, নেপালের পাদদেশে পীপ্পলিবন নামক এলাকার মোরীয় ক্ষত্রিয়কূলের সন্তান ছিলেন তিনি। মোরীয় থেকে মৌর্য কথার উৎপত্তি। তাঁর বাল্য জীবন সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানা যায় না। সবটাই জনশ্রুতি বা কিংবদন্তী। তিনি না ক্ষত্রিয় না শুদ্র তা নিয়ে রয়েছে অনেক বিতর্ক।


কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্র, বিশাখদত্তের মুদ্রারাক্ষস, এবং সোমদেবের কথাসরিৎসাগর, পুরাণ ইত্যাদি গ্রন্থ থেকে তাঁর জীবনী ও শাসন কাল সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া যায়। মেগাস্থিনিসের ইন্ডিকা, স্ট্রাবো, ডিওডোরাস, প্লুটার্ক, জাস্টিন প্রমুখের রচনা থেকেও মৌর্য রাজবংশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। ল্যাটিন ও গ্রীক ঐতিহাসিকদের রচনায় রচনায় তিনি সন্দ্রকোত্তাস এবং অ্যান্ড্রকোত্তাস নামে পরিচিত (Sandrokottos and Androcottus) ।


চন্দ্রগুপ্ত নাকি প্রথম জীবনে রাজা ধননন্দের সৈন্য বিভাগে এক গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। কোনও কারণে তিনি সম্রাটের বিরাগ-ভাজন হন। ধননন্দ তাঁকে হত্যা করার পরিকল্পনা করছেন জানতে পেরে তিনি মগধ ছেড়ে পালিয়ে গেলেন এক রাতের আঁধারে।


গ্রীকবীর আলেকজান্ডার তখন ভারতে। ভারত জয়ের স্বপ্ন নিয়ে তিনি সুদূর গ্রীস থেকে চলে এসেছেন। হিদাস্পিসের যুদ্ধে তিনি পুরু কে পরাজিত করেছেন। চন্দ্রগুপ্ত তাঁর কাছে সাহায্য লাভের আশায় গ্রীক শিবিরে এসে উপস্থিত হলেন। কিন্তু আলেকজান্ডার তাঁকে বন্দি করে হত্যা করার নির্দেশ দিলে তিনি সুকৌশলে শিবির ছেড়ে পালিয়ে যান।


ভাগ্য তাঁর সহায় ছিল তাই অনেক বার নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে তিনি রক্ষা পেয়েছিলেন। এর পর তাঁর সাথে দেখা হয় চাণক্য বা কৌটিল্যের সাথে।


এই প্রসঙ্গে আরও একটি গল্প শোনা যায়। পিতার মৃত্যুর পর তিনি মায়ের সাথে পাটলিপুত্রে (মগধের রাজধানী) আসেন। তখন তিনি নিতান্তই শিশু। শিশুর দেখা শোনা করার জন্য মা তাঁকে এক রাখালের কাছে রাখেন। তিনি নিজে নন্দ রাজপরিবারে কাজ করতেন।


পরে সেই রাখাল; বালক চন্দ্রগুপ্ত কে এক শিকারীর কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই শিকারী তাঁকে রাখালের কাজ দেয়। এক সময় চাণক্য”র সাথে চন্দ্রগুপ্তর দেখা হয়। চাণক্য তাঁর মধ্যে দেখেছিলেন রাজচক্রবর্তী লক্ষণ। এক দুপুরে গাছের তলায় বালক চন্দ্রগুপ্ত ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। ঠিক তাঁর মাথার কাছে ফণা ধরে ছিল একটি সাপ। এটাই হল রাজ চক্রবর্তী লক্ষণ। চাণক্য ঠিক সেই সময় ঐ রাস্তা দিয়েই যাচ্ছিলেন। এই দৃশ্য দেখে তিনি থমকে দাঁড়িয়ে পড়েন। সাপটি কিছুক্ষণ পর আস্তে আস্তে চলে যায়। বালকের সাথে আলাপ করেন চাণক্য। বুঝতে পারলেন যে এই বালকের মধ্যে লুকিয়ে আছে অসামান্য শক্তি আর বিরল প্রতিভা। তবে এই কাহিনীর কোনও ঐতিহাসিক ভিত্তি নেই।


ছোট্ট চন্দ্রগুপ্ত কে সেই শিকারীর কাছ থেকে কিনে নিলেন কৌটিল্য। তক্ষশিলায় তাঁকে নিয়ে আসেন এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি যুদ্ধ বিদ্যায় শিক্ষিত করে তোলেন। উচ্চশিক্ষার জন্য চন্দ্রগুপ্তকে পাটলীপুত্রে পাঠান।


চন্দ্রগুপ্তকে গড়ে তোলার পেছনে চাণক্যেরও কিছু উদ্দেশ্য ছিল। তিনি ছিলেন ক্ষুরধার বুদ্ধি সম্পন্ন এক তেজ্বসী মানুষ। সন্ন্যাসী চাণকের পরিবারে জন্মেছিলেন বলে তাঁর নাম রাখা হয় চাণক্য। তাঁর অপর নাম ছিল কৌটিল্য। বিষ্ণুগুপ্ত নামেও তিনি পরিচিত ছিলেন।


এক সময় তিনি অপমানিত হয়েছিলেন ধননন্দের কাছে। তাঁর শিখা কেটে দেওয়া হয়েছিল যা ছিল ব্রাহ্মণদের কাছে অত্যান্ত অপমানজনক। তাঁরঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছিল নন্দরাজার সেনারা। এই স্পষ্টবাদী মানুষটিকে অনেক যন্ত্রণা দিয়েছিলেন ধননন্দ। চাণক্য তখন থেকেই প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তিনি এই অত্যাচারী রাজাকে মগধ থেকে তাড়াবেন। এই অপমানের যোগ্য জবাব দেবেন। মগধের প্রজাদের রক্ষা করবেন। তাই চন্দ্রগুপ্তের পেছনে ছিল মগধ এর প্রজাদের অকুণ্ঠ সমর্থন। নিজেদের একটা সৈন্য বাহিনী গড়ে তুলতেও বিশেষ অসুবিধা হয় নি। নিপীড়িত কৃষকরাও চন্দ্রগুপ্তের সেনাবাহিনী তে যোগ দিয়েছিল। তাঁদের প্রথম দুটি চেষ্টা সফল হয়নি, তবে তৃতীয় বার তাঁরা সফল হলেন। ‘মিলিন্দ-পঞ্চহো’ নামক গ্রন্থে এই যুদ্ধের বিবরণ আছে। জানা যায় যে, এই যুদ্ধে ১০ হাজার হাতি, ১ লক্ষ অশ্বারোহী ও ৫ হাজার রথ চালক নিহত হয়েছিল। চন্দ্রগুপ্ত পাটলিপুত্র নগর অবরোধ করলে ধননন্দ আত্মসমর্পণ করেন। চন্দ্রগুপ্ত ধননন্দকে প্রাণে মারেননি, শুধু তাঁর রাজত্ব কেড়ে নেন। ধননন্দকে তাঁর দুই রাণি ও সামান্য কিছু আসবাবপত্র সহ রাজ্য ছেড়ে চলে যেতে দিয়েছিলেন। তবে ‘মহাবংশটীকা’ গ্রন্থে আছে যে এই যুদ্ধে ধননন্দ নিহত হন।


মগধের সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত হল মৌর্য বংশ। মগধের সাধারণ মানুষ ও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। চাণক্য হলেন প্রধানমন্ত্রী। চাণক্যর পরামর্শ মেনেই চন্দ্রগুপ্ত রাজকার্য পরিচালনা করতেন। তিনি ৩২৪ থেকে ৩২৩ খ্রীস্ট পূর্বাব্দের মধ্যে সিংহাসনে বসেন। ৩০০ খ্রীস্ট পূর্বাব্দে সিংহাসন ত্যাগ করেন।


তাঁর দ্বিতীয় উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হল বিদেশী গ্রীক দের আক্রমণ থেকে স্বদেশকে রক্ষা করা। আলেকজান্ডারের সেনাপতি ও সিরিয়ার অধীশ্বর সেলুকাস ভারতে গ্রীক সাম্রাজ্য স্থাপনের আশায় ভারত আক্রমণ করেন। এর আগে আলেকজান্ডার ও একই কারণে ভারত আক্রমণ করেছিলেন। পশ্চিম ভারতে কিছু গ্রীক উপনিবেশ তৈরি হয়ে গেছিল। আলেকজান্ডারের মৃত্যুর পর তাঁর বিজিত রাজ্য গুলি ভাগ হয়ে যায় তাঁর সেনাপতিদের মধ্যে। ভারতে গ্রীকদের জয় করা অঞ্চলগুলির ওপর পুনরায় আধিপত্য স্থাপন করতে চেয়েছিলেন সেলুকাস। চন্দ্রগুপ্ত’র সঙ্গে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন সেলুকাস।


তবে এই যুদ্ধ আদৌ হয়েছিল কি না তা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে। সন্ধির শর্তানুযায়ী চন্দ্রগুপ্ত সেলুকাস কে দিলেন ৫০০ হাতি প্রদান করেন। বিনিময়ে কাবুল, কান্দাহার, বেলুচিস্থান ও হীরাট প্রদেশ লাভ করেন সেলুকাসের থেকে। এখানেই শেষ নয়, সেলুকাসের কন্যা হেলেন কে বিবাহ করেন চন্দ্রগুপ্ত। অনেকে অবশ্য মনে করেন বিয়েটা হয়েছিল তাঁর পুত্র বিন্দুসারের সঙ্গে। এই বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপনের মধ্যে দিয়ে বোঝা যায় যে তিনি ব্রাম্ভন ছিলেন না। গ্রীকদের সাথে মৈত্রীর সম্পর্ক স্থাপন করে ভারত থেকে গ্রীক আক্রমণের সম্ভাবনা দূর করেন চিরদিনের জন্য।


সেলুকাস পরে মেগাস্থিনিস নামে এক রাজদূতকে তাঁর সভায় পাঠিয়েছিলেন। মেগাস্থিনিস ভারতে কিছুদিন ছিলেন , ভারত সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা লিখে গেছেন ‘ইন্ডিকা’ নামক বইটিতে।


চন্দ্রগুপ্ত সম্বন্ধে কিছু ঘটনার কথা বলা যাক। যার সত্যতা নিয়েও অনেক মতভেদ রয়ে গেছে। একবার ধননন্দের এক বিশ্বস্ত মন্ত্রী রাক্ষস পরিকল্পনা করেন তাঁকে হত্যা করার। এটা তাঁর রাজত্বের প্রথমদিককার ঘটনা। সম্রাট তখন অসুস্থ ছিলেন। রাক্ষস চন্দ্রগুপ্তের রাজবৈদ্যকে হাত করেন। সম্রাটকে ওষুধের পরিবর্তে বিষ দিতে যাচ্ছিল সেই বৈদ্য। চাণক্য সেই সময় উপস্থিত হয়ে বলেন, “রাজা কারোর দেওয়া পানীয় বা খাদ্য গ্রহণ করতে পারেন না। আপনি যে ওষুধ মহারাজকে দিতে চলেছেন তার কিছু অংশ আগে আপনি নিজে গ্রহণ করুন”। সেই বৈদ্য বাধ্য হয়ে ওষুধের একটু অংশ জিভে ঠেকাল। সঙ্গে সঙ্গে তার মৃত্যু হল। রাক্ষস চন্দ্রগুপ্তকে হত্যা করার বেশ কিছু পরিকল্পনা করলেও তা সফল হয়নি। বিশাখদত্তের লেখা ‘মুদ্রারাক্ষস’ নাটক থেকে এই বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যায়।


চাণক্য আরও একবার চন্দ্রগুপ্তের জীবন রক্ষা করেছিলেন। প্রথমবার নন্দ রাজাদের প্রাসাদে যখন যান তখন তিনি বিপদের সন্মুখীন হন। প্রাসাদের মেঝেয় ছোট্ট একটা ফাটল। ভেতর থেকে আসছে লাল পিঁপড়ের সারি। তাদের মুখে খাদ্যের কণা। চাণক্য বুঝে গেলেন যে প্রাসাদের মেঝের তলায় পাতালে একটি গুপ্ত কক্ষ আছে বাইরে থেকে যা দেখা যায় না। চাণক্যর অনুমান সঠিক ছিল। সেই ঘরটিতে অপেক্ষা করছিল ধন নন্দের কিছু পোষা সৈন্য। চন্দ্রগুপ্ত কে নিয়ে চাণক্য প্রাসাদের বাইরে চলে আসেন, আর নির্দেশ দিলেন প্রাসাদটি কে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলতে।


চন্দ্রগুপ্ত চাণক্যকে গুরুর মতো শ্রদ্ধা করতেন। একবার ভুল বোঝাবুঝি হয় দুজনের মধ্যে। চাণক্য চলে যান চন্দ্রগুপ্তকে ছেড়ে। চন্দ্রগুপ্ত ক্ষমা চেয়ে পুনরায় চাণক্য কে ফিরিয়ে আনেন নিজের সভায়।


চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য শুধু সাম্রাজ্য বিজেতাই ছিলেন না। ছিলেন একজন দক্ষ শাসক। বিশাল এক সৈন্য বাহিনী গড়ে তোলেন। ছদ্মবেশে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বেড়াতেন। প্রজারা ভালো আছে কি না জানার জন্য। তিনি কাউকে বিশ্বাস করতেন না। প্রত্যেক দিন আলাদা ঘরে ঘুমাতেন। নির্দিষ্ট কোনও ঘর রাখেননি নিরাপত্তার জন্য। তাঁর সিংহাসন ত্যাগের পর পুত্র বিন্দুসার ‘অমিত্রাঘাত’ উপাধি নিয়ে সিংহাসনে বসেন। অশোকের পিতা ছিলেন বিন্দুসার। শেষ জীবনে চন্দ্রগুপ্ত জৈন ধর্ম গ্রহণ করেন। মহীশুরের শ্রাবণবেলগোলা নামক স্থানে প্রায়োপবেশনে (মৃত্যু কামনায় যে উপবাস করা হয়) দেহ ত্যাগ করেন।

৩২৪ থেকে ৩২৩ খ্রীস্ট পূর্বাব্দের মধ্যে চন্দ্রগুপ্ত সিংহাসনে বসেন। ২৯৮ থেকে ২৯৫ খ্রীষ্ট পূর্বাব্দের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। উত্তরে পারস্যের সীমানা থেকে দক্ষিণে মহীশুর এবং পূর্বে বাংলা থেকে পশ্চিমে সৌরাষ্ট্র পর্যন্ত এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করে ভারতবাসী কে ঐক্যবদ্ধ করে তোলেন। তিনিই রাজচক্রবর্তী সম্রাটের উপাধি লাভ করেছিলেন (চক্রবর্তী অর্থাৎ অনেকখানি অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত রাজ্যের অধিপতি)।


পরবর্তী অনেক রাজাই তাঁর শাসন ব্যবস্থার কিছু দিক অনুসরণ করেছিলেন। তাঁর ই নাতি সম্রাট অশোক পৃথিবীর সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সম্রাট। তাঁর কথাতেও আসব আমরা।


আমি সমুদ্রগুপ্ত খাতার পাতা এখানেই বন্ধ করছি; আবার ফিরে আসব আরও এক দিন আরও একজন কে নিয়ে। অতীত এর সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে তুলে আনবো কিছু মণি-মুক্তো। থাকবে কিছু নিজের কথাও। ততদিন তোমরা ভালো থেকো আর ইতিহাস কে ভালোবেসো।


সহেলী চট্টোপাধ্যায়

_________
ছবি – ১। তন্ময় বিশ্বাস (অলঙ্করণ) ২। গুগলের সৌজন্যে
[তথ্যসূত্রঃ অধ্যাপক ভট্টাচার্য এবং অধ্যাপক চক্রবর্তী (ভারতের ইতিহাস) অধ্যাপক অতুল চন্দ্র রায় এবং প্রণব কুমার চট্টোপাধ্যায় (ভারতের ইতিহাস ১ খন্ড) এবং প্রচলিত কিছু জনশ্রুতি]

No comments:

Post a comment