মগজাস্ত্র

এই বিভাগে আমরা কিছু প্রশ্ন নিয়ে খেলব , কিছু সঙ্কেত বা ছবি দেখে গল্প চিনব আর কিছু ধাঁধার সমাধান করব। যদি তোমার সব উত্তরই ঠিক হয় তা হলে তুমি সর্বজ্ঞ সিধুজ্যাঠা ১০টি প্রশ্নের মধ্যে যদি ৮টি ঠিক হয় তবে তুমি ফেলু মিত্তির অর্থাৎ ফেলুদার মতো  তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন  আর যদি ৬ টি ঠিক হয় তবে তুমি তপসের মতো চটপটে আর যদি তোমার স্কোর হয় ৫ বা  তার কম তবে তুমি এখনও  শিক্ষানবিশ জটায়ু JJJ

মগজাস্ত্র  

আমাদের উত্তরমালার সঙ্গে মিলিয়ে দেখবে , তবে আগে নিজে চেষ্টা করবে J।
একটা রহস্যসমাধানও তোমাদের করতেহবে।এই সমাধান যে করতে পারবে সে ব্যোমকেশ বক্সী উপাধি লাভ করবে, যে পারবে না সে অজিত।J

আমাদের প্রথম বিভাগ প্রশ্নমালা...চটপট জবাব দাও :JJ
১। ছেলেবেলায় স্বামীজি কে কী নামে ডাকা হত?
২। ভারতের প্যারিস কোন শহর কে বলা হয়?
৩। গত বছর বিশ্বকাপ ফুটবলে  কোন দেশ ফাইনালে গিয়েও হেরে যায় ?
৪।  পরাশর বর্মা চরিত্রটি কার সৃষ্টি ?
৫। ভারতের প্রথম সাধারন নির্বাচন কত সালে হয়?
৬। ফেলুদার বাড়ির পরিচারকের নাম কি?
৭। বাংলা দেশের জাতীয় ফুল কি?
৮। আকবর যে নতুন ধর্ম মত প্রচার করেন তার নাম কি ছিল?
৯। পুরাণ মতে সৃষ্টিকর্তা কোন দেবতা কে বলা হয়?
১০। বাদশাহি আংটি গল্পে আংটি আসলে কোন বাদশাহের ছিল?
১১। হুমায়ুননামা কার লেখা?
১২। ভূমধ্য সাগরের সব চেয়ে বড় দ্বীপ কোনটি ?
১৩। ভারতের সব চেয়ে উঁচু জলপ্রপাতের নাম কী?
১৪। Prince of Builders’ কাকে বলা হয়?
১৫। কর্ণের সারথি কে ছিলেন?
১৬।  স্পাইস গার্ডেন কোথায় অবস্থিত?
১৭। মালয়েশিয়ার জাতীয় খেলা কী?
১৮। কোষের শক্তিঘর কাকে বলা হয়?
১৯। ভূপাল গ্যাস দুর্ঘটনায় কোন বিষাক্ত গ্যাসটি দায়ী?
২০। সাইলেন্ট ভ্যালি কোন রাজ্যে অবস্থিত?

এবার তোমাদের উত্তরগুলো দিয়ে দিই।

১।বিলে                                             ১১। বাবরের মেয়ে গুলবদন বেগম
২। জয়পুর                                          ১২।  সিসিলি
৩। আর্জেন্টিনা                                     ১৩। যোগ জলপ্রপাত
৪। প্রেমেন্দ্র মিত্র                                     ১৪। শাহজাহান কে
৫। ১৯৫২ সালে                                    ১৫। মহারাজ শল্য
৬। শ্রীনাথ                                         ১৬। কেরালা
৭। শালুক                                          ১৭। ব্যাডমিন্টন
৮। দীন –ই –ইলাহী                              ১৮। মাইটোকন্ড্রিয়া
৯। ব্রহ্মা                                           ১৯। মিথাইল আইসোসায়ানেট
১০। বাদশাহ ঔরঙ্গজেব এর।                      ২০। কেরালা  

 _________________________________________________________________________

মগজাস্ত্র  

বন্ধুরা এবার তোমাদের জন্য রয়েছে একটা রহস্য। তোমাদের মধ্যে অনেকেই ডিটেকটিভ গল্প পড়তে ভালোবাসো । অনেকে পড়তে পড়তে কেস সল্ভ করার ও চেষ্টা করে। এই পুরো কাহিনীর মধ্যেই সমাধান লুকিয়ে আছে। যদি তুমি এই রহস্যের কিনারা করতে পারো তবে তুমি ব্যোমকেশ বকসী J আর যদি না পারো তাহলে তুমি অজিত J দেখা যাক তোমরা পারো কিনা! উত্তর আগে দেখবে না কিন্তু । এবার মন দিয়ে কেসটা পড়ো ।
খবরের কাগজে প্রায় দিন ই কোনো না কোনো ক্রাইম এর খবর থাকে। ইদানীং একটা খবর প্রায় ই বেরুচ্ছে। পুলিস রাও বেশ নাজেহাল। দুপুরের দিকে বাড়ির  গিন্নিরা যখন একটু দিবানিদ্রার আয়োজন করছে ঠিক তখনই সদর দরজায় কড়া নড়ে ওঠে ( কলিং বেল বেজে ওঠে )  ভদ্রমহিলা যদি জিজ্ঞাসা করেন , কে?
একটি নারী কণ্ঠ শোনা যায়, ভালো শাড়ি আছে দেখবেন?
ভদ্রমহিলা দরজা খুলে দিলেন। ব্যাস মিষ্টি মেয়েটি ভেতরে ঢুকে মহিলার গলায় ছুরি বা পিস্তল ধরে টাকা পয়সা , গয়না গাটি নিয়ে প্রস্থান করে। পুলিস এই উৎপাতের কোনো কিনারা করতে পারেনি।
এবার আসি চিন্তামণি কুণ্ডুর কথায়। আপনার মক্কেল এই ভদ্রলোক। বয়স্ক মানুষ পক্ষাঘাতে আক্রান্ত। নিজের তিনটে বাড়ি আছে। সব বাড়ি ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। একটা বাড়ির দোতলায় থাকেন নিজের পরিচারক কে নিয়েদুটো বাড়ি ওর বাড়ির সামনে, দোতলায় জানলার ধারে বসে উনি রাস্তা ঘাট , লোকজন , ভাড়াটের দিকে লক্ষ্য রাখেন। তপন সেন আর তার স্ত্রী শান্তা তার সামনের একটা বাড়ির ভারাটে হয়ে আসে। কুণ্ডু মশাই সারাদিন রাত জানলার ধারে বসে বসে লক্ষ্য রাখেন সব কিছু। ওনার একটি বাইনোকুলার ও আছে। তপন আর শান্তা কে কখনও এক সাথে দেখা যায় না। তপন নাইট ডিউটি করে আর শান্তার কাজ দিনে শুরু হয়। একটি মেয়েদের স্কুলে পড়ায় । দুজনে প্রায় সমবয়সী । তপন এর গলার স্বর চেরা চেরা।  আর শান্তার মাথা ভরতি লম্বা চুল , গালে একটা লাল তিল । মাঝে মাঝে সে কুণ্ডু মশাইয়ের সঙ্গে এসে গল্প করে যায় ।  শান্তা বুঝতে পারে যে কুণ্ডু মশাই এর লক্ষ্য সব দিকে। কারন ওনার আর বিনোদনের কোনো মাধ্যম নেই।  উনি চলা ফেরা করতে পারেন না। সকাল সাড়ে নটা বাজলে শান্তা বেড়িয়ে যায় ফেরে চারটের সময়। সন্ধ্যের সময় তপন বেরয় তার ঠিক সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ির ইলেকট্রিক আলো নিভে যায়মোম বাতি  জ্বলে তখন। শান্তা জানায় যে সে বিজলি বাতির আলো সহ্য করতে পারে না। তাই তপন চলে গেলেই আলো নিভিয়ে মোম জ্বালায়। ওদের বাড়িতে কখনও কোনো অতিথি আসে না।
 সময়টা শীতকাল। একদিন মাঝ রাত্রে ঘুম ভেঙ্গে গেল কুণ্ডু মশাইয়ের। জানলার খড়খড়ি ফাঁক করে রাস্তা দেখতে লাগলেন । সেই রাত্রেই চোখের সামনে খুন হতে দেখলেন একজন লোক কে। খুনি আর কেউ নয় , তপন সেন। রাস্তার আলো তপনের মুখে পড়েছিলো, না হলে চিনতে পারতেন না। পুলিসে খবর দিলেন। পুলিস কুণ্ডু মশাই আর শান্তা কে বিরক্ত করতে শুরু করল। শান্তা সেই সময় ঘুমোচ্ছিল। সে কিছুই বলতে পারল না। উধাও হয়ে গেল তপন সেন। মৃত ব্যাক্তির নাম বিধু ভূষন আইচ, পুলিসের কর্মচারী ছিলেন।

রহস্য এই টুকুই। এবার তোমাদের সমাধান করার পালা। কুণ্ডু মশাই কে হেল্প করো, উনি ই তোমাদের মক্কেল। পুলিস ওনাকে হয়রানি করছে।  মন দিয়ে কেস স্টাডি করো। সমাধান লুকিয়ে আছে এর মধ্যেই। সত্যান্বেষী হতে গেলে চাই একটু অনুমান শক্তি । একটু মাথা খাটানো ।

এবার চলো সমাধানের দিকে যাই।
ক্লু নম্বর ১। খবরের কাগজের বিশেষ সংবাদ, মেয়ে ডাকাতের প্রসঙ্গ।
ক্লু নম্বর ২। তপন আর শান্তা সমবয়সী প্লাস দুজনকে এক সাথে কখনই দেখা যায় না। এটাই হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। শান্তা নিজেই ক্রিমিনাল। সকাল  বেলা সে কোনো মেয়ে স্কুলে পড়াতে যেত নাযেত ডাকাতি করতে। ব্যাগে বা ব্রিফকেসে ভরে সেগুলো আনত বিকেল চারটের সময়। বাড়িতে সে একাই থাকত । তপন সেন এর কোনো অস্তিত্ব ছিল না।  নিজেই ছেলে সেজে তপন সেন নাম নিয়ে কুণ্ডু মশাইএর সঙ্গে দেখা করে। গলার স্বর বদলে কথা বলে।  যখন শান্তা হত মাথায় ফলস চুল লাগাত আর গালে একটা লাল তিল এঁকে নিত। নিহত পুলিশ কর্মী শান্তা কে চিনে ফেলায় তাকে মরতে হয়। রোজ সন্ধে হলেই তপন সেজে শান্তা বেরিয়ে পড়ত কারন সে জানত কুণ্ডু মশাই জানলায় বসে সব দিকে লক্ষ্য রাখছেন। নিজের ঘরের ইলেকট্রিকের আলো নিভিয়ে মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখে বেরুত। কুণ্ডু মশাই মনে করতেন তপন বেরুবার পর আলো নিভল বাড়ির কিন্তু তপন বেরুবার আগেই আলো নিভিয়ে দিত। বয়স্ক মানুষের ভুল হতেই পারে বিশেষ করে তাঁর মনে কোনো সন্দেহের উদ্ভব হয়নি, তাই আলো নেভানোর সঠিক সময় তিনি গুলিয়ে ফেলেছিলেন। তপন কিছুক্ষণ পর পেছনের দরজা দিয়ে ফিরে আসত তারপর ঘুমিয়ে পড়তসকাল হলে আবার মেয়ে হয়ে সেজে গুজে বেরিয়ে পড়ত ডাকাতি করতে । নিরীহ মেয়েটি যে স্কুল শিক্ষিকা নয়  বরং একজন অপরাধী তা বোঝা শক্ত ছিলখুন করার পর তাড়াতাড়ি পুলিশ এসে যায় কুণ্ডু মশাইয়ের ফোনের জন্য। ফলে শান্তা আর পালাতে পারে না। আবার মেয়ে সেজে বাড়িতে বসে থাকে দুঃখ দুঃখ মুখ নিয়ে। শান্তা নাম টাও বানানো আসল নাম প্রমীলা । চুল গুলো ছাঁটা । চোখে হিংস্র দৃষ্টি । একজন ক্রিমিনাল।

রহস্যটি নেওয়া হয়েছে শরদিন্দু বন্দোপাধ্যায় এর অদ্বিতীয় গল্প থেকে। যে খানে এই রহস্য সমাধান করেন শ্রী ব্যোমকেশ বক্সী ।
                                                       
(ছবি-তন্ময় বিশ্বাস)

মগজাস্ত্র 

ছবি দেখে গল্প চেনো।

প্রত্যেকটা ছবি খুব মন দিয়ে দেখো এক একটা ছবির পেছনে লুকিয়ে আছে এক একটা গল্প অথবা টান টান কোন অ্যাডভেঞ্চার। দেখো তো চিনে নিতে পারো কিনা?

()

(২)

 

(৩)

(৪)


(৫)

(৬)

(৭)

(৮)


ছবি দেখে গল্প চেনো-উত্তর             

১।  ফুলের দেশে বিভীষিকা ( অনন্যা দাশ )
২। আগ্নেয়গিরির পেটের মধ্যে ( সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় )
৩। নেপোলিয়ানের চিঠি ( সত্যজিৎ রায় )
৪। শজারুর কাঁটা ( শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় )
৫। বাদশাহী আংটি ( সত্যজিৎ রায়)
৬। পাহাড়চূড়ায় আতঙ্ক ( সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় )
৭। রাতের ট্রেনের সঙ্গী ( অভিজ্ঞান রায় চৌধুরি)
৮। কেরালায় কিস্তিমাত ( সুচিত্রা ভট্টাচার্য )
____

মগজাস্ত্র বানাতে যাদের যাদের মগজ লেগেছে তারা হলেন অনন্যা দাশ, সহেলী চট্টোপাধ্যায় এবং তন্ময় বিশ্বাস। 

No comments:

Post a comment