একটু ভাবি:: ‘গডলিনেস’! - শ্রেয়সী চক্রবর্তী


একটু ভাবি
‘গডলিনেস’!
শ্রেয়সী চক্রবর্তী

স্বচ্ছতা শব্দের পর অভিযান শব্দটুকু বসলেই চারদিকে কী এক ঢেউ খেলানো তাড়াহুড়ো, মৃদু ফিসফাস বা তীক্ষ্ণ বাঁকা হাসির চাপা আওয়াজ শুনছি সর্বত্র। অথচ স্বচ্ছতা যে একান্ত জরুরি বেঁচে থাকার একটি অন্যতম ভাবনা... এ বিষয়ে কথা কম মানুষই বলছেন। সমস্ত রকম সরকারি এবং রাজনৈতিক প্রয়াসের বাইরে গিয়ে যদি সব স্তরের মানুষই স্বচ্ছতা নিয়ে একটু অন্তত ভাবতেন তাতে আমাদের চেনা পরিচিত সমাজটার কিম্বা রোজকার প্রতিবেশের খুব ক্ষতি হত না, বরং আজকের দিনের অমলকান্তিরা রোদ্দুর হওয়ার স্বপ্ন আরও একটু সুস্থ ভাবে দেখতে পারত, আরও একটু নির্ভয়ে শান্তিতে। রোদ্দুর অর্থাৎ আলো বড় প্রয়োজন। দেশ, সমাজ, মানব সভ্যতা এইসব বড় কথাকে দূরে ঠেলে অন্তত নিজের মনের উপর আলো ফেলা আজ হয়ে উঠছে একান্ত জরুরি; কেননা যেখানে আলো সেখানেই মালিন্যের স্পর্শ থাকে না। স্বচ্ছ ও শুদ্ধ হয়ে ওঠে চারপাশ। তাই স্বচ্ছতা কেবল বাইরে নয়, সবার প্রথমে আনতে হবে মনে। স্বচ্ছ সুন্দর মন নইলে বাইরের পরিবেশ, বলা কথার মাত্রা, চরিত্রের খাঁজ ও ভাঁজ স্বচ্ছ হবে কী করে? যেখানেই বেড়াতে যাও না কেন আজকাল চোখে পড়বেই নানা রঙের প্লাস্টিকের পাহাড়... বনপথ, সমুদ্র উপকূল, পাহাড়ি ঝোরা, গাঢ় গভীর খাদ... প্রতিটা জায়গায় নিশান ওড়াচ্ছে সদর্প চিপসের প্যাকেট, চকোলেটের মোড়ক কিম্বা প্লাস্টিকের ঠাণ্ডা পানীয় বোতল এবং নীল গোলাপী সাদা হরেক রকম পলিব্যাগ।


না না আমি প্রায়শই খবরের কাগজে দেখতে পাওয়া যায় যে সমস্ত তথ্য এই পলিমার ও পলিথিন সংক্রান্ত - সেই জটিল রাসায়নিক যৌগ, যাদের কোনোমতেই ধ্বংস নেই - সেই পলিথিন কিভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলছে মানুষের ‘সভ্যতা’র ধারক বাহক অভিগত গোলক পৃথিবীকে, যেখানে বায়ু, শব্দ, জল-মাটি-পরিবেশ সব দূষিত বিষাক্ত হয়ে উঠছে - সেইসব দ্বিতীয়বার বলে তোমাদের বোর করব না! শুধু এটুকুই এখানে ম্যাজিক ল্যাম্পের আলোর নিচে বসে বলব, এসো তোমরা পাঠকের দল, সত্যিকারের আলো পড়ুক তোমাদের মনের উপর, তোমরাও তারপর আলো জ্বালো নিজের চেতনায়।


তারপর দলে দলে কিম্বা একা যে পথেই যাও না কেন ঘুরতে, কিম্বা পাড়া প্রতিবেশে, চোখ মেলে দেখো কিভাবে প্রতিদিন নোংরা করছি আমরাই সকলে মিলে আমাদের পৃথিবী, আমাদের বাসস্থান আর একই সঙ্গে আমাদের মনকে। এই আলো মনে একবার জ্বললে চলন্ত গাড়ি থেকে চিপসের প্যাকেট পাহাড়ি জংলী পথে আরও একবার ছুঁড়ে দেওয়ার সময় তুমি বা তোমরা অন্তত একবার ভাববে! পাশে যে অজ্ঞান অন্ধকার মনের সহযাত্রী ছুঁড়ে ফেলতে যাচ্ছেন, চলার পথ নোংরা করতে যাচ্ছেন, তাকে তুমি একবার অন্তত থামাবে। আর এই এক এক করে অনেক পথে অনেক দিকে আলো জ্বলবে অনেক! সেই পাওয়ার আনন্দে পৃথিবী হয়ে উঠবে আরও ঘন নীল এবং পান্না সবুজ, তোমাদের, আমাদের — সকলের চেতনার রঙে। আর আমরা তো বইয়ের পাতায় পড়েছি, ক্লিনলিনেস ইজ নেক্সট টু গডলিনেস! নাহ এই ২০১৭ সালে নতুন করে ধর্ম কিম্বা ঈশ্বরের পায়ে মাথা নোয়াবার দরকার নেই। আসলে ঈশ্বর কি জানো? ঈশ্বর আমাদের মনের সুস্থ আনন্দ। আমার উল্টোদিকে থাকা মানুষ পশুপাখি বা পরিবেশের সঙ্গে অন্যায় না করার শুভবুদ্ধিই ঈশ্বর। অন্যের ভালো সহজে না করতে পারলেও খারাপকে আরো খারাপ না করতে চাওয়াই আমাদের মধ্যে ঈশ্বরের প্রকাশ। তাই নিজের চারপাশে সব দিকে আলো ছড়ানোর মধ্য দিয়েই আমরা পৌঁছতে পারি গডলিনেসের কাছে, যা লেক্সিকনের একটা সারবাঁধা শব্দ মাত্র নয়, আমাদের নিজেদের পার্সোনাল ম্যাজিক ল্যাম্প!!


বলার কথাঃ এখানে ভারতবর্ষের যে ডাকটিকিটের ছবিগুলি দেওয়া হয়েছে, তা তোমাদেরই মত আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছোটদেরই আঁকা। দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়, কী বলো?!
_____

No comments:

Post a comment