হরর ফাইলস:: বৃষ্টির এক রাতে - সোহম দে সরকার


বৃষ্টির এক রাতে
সোহম দে সরকার

ঘটনাটা বুঝতে পারলাম না এমনিতে ভূত প্রেতে বিশ্বাস নেই বহু সন্ধে-রাত শ্মশানে কাটিয়েছি কিন্তু আজকের ঘটনাটা অনেকগুলো প্রশ্ন রেখে দিল
সন্ধ্যে :৩০ থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আমি তখন ট্রেনে। সপ্তাহ দুয়েক পর বাড়ি ফিরছি। শনিবার ট্রেনগুলো বেশ ভিড় হয়। কিন্তু স্ট্রাগল করে ঠিক একখানা সিট বাগিয়ে নিয়েছি জানালার ধারে। হাওয়া খেতে খেতে বেশ যাচ্ছিলাম, কিন্তু কপালে সুখ বেশীক্ষণ সইলো না। শেওড়াফুলি পেরোতেই উত্তাল ঝড় আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বৃষ্টি। বৃষ্টির সাথে পাল্লা দিতে না পেরে জানালার পাল্লা নামিয়ে বসে রয়েছি। দরজা দিয়ে ক্রমাগত জলের ছাঁট আসছে, বেশীরভাগ লোকই বেশ ভিজে গিয়েছে। যেতে যেতে :৫০ নাগাদ ট্রেনটা হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল। বৃষ্টির দাপটে চারপাশে একটা ঝাপসা পর্দা নেমে এসেছে। এমনিতে সব অন্ধকার, কিন্তু মাঝে মাঝে বিদ্যুতের ঝলকানিতে চারপাশটা এইচ.ডি ছবির মতো পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, আবার বাকি সময়টুকু অ্যান্টেনা। তা ট্রেনটা পৌঁছানোর কথা ছিল :৫০ কিন্তু শেষ অব্দি পৌঁছালো :১৭তে। যাই হোক কী আর করা যাবে, ট্রেন থেকে নেমে একছুটে শেডের নীচে। কিন্তু ব্যাগে  হাতড়ে ছাতাটা বের করলাম। কে.সি.পাল মহাশয়ের অশেষ মহিমা, অনেক ক্যাঁচকোঁচ শব্দ করে খুললেন বটে, কিন্তু ব্লেড ভাঙা ফ্যান আর শিক ভাঙা ছাতা কোনও কাজে লাগে না। কিন্তু কী আর করা যায়, নেই ছাতার থেকে ভাঙা ছাতা ভালো। মনকে সান্ত্বনা দিয়ে গ্যারেজের দিকে এগিয়ে গেলাম। দুটো আলুর চপ সাবাড় করে সাইকেলটা বের করলাম। তারপর অসীম দক্ষতায় ঘাড়ে ছাতাটাকে চেপে ধরে বাস, লরি, অটো, টোটো, রিক্সা, সাইকেল, বাইক সব কিছুকে ড্রিবল করতে করতে এগিয়ে গেলাম
বাজার এলাকাটা রাস্তার আলোয় পেরিয়ে পাড়ার মুখে এসে দেখলাম লোডশেডিং। পাড়াটা ঢুকতেই সরু রাস্তার দুপাশে দুটো বিশাল পুকুর আর তারপর থেকে রাস্তার দুপাশে জমি আর দু-একটা করে বাড়ি। পুকুর দুটো পেরিয়ে কিছুটা এগিয়েছি, তারপরেই একটা বাঁক। অন্ধকারের মধ্যে সাবধানে সাইকেল চালাচ্ছি, আর মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, তার মধ্যে রাস্তা হাতড়ে এগিয়ে চলেছি। বাঁকটা ঘুরতেই দেখলাম একটা বাচ্চা ছেলে হেঁটে যাচ্ছে, আমার সাইকেলের কিছুটা আগে আগে। - বছরের বাচ্চা। অন্ধকারে পরিষ্কার বোঝার কোনও জো নেই, মাঝে মাঝে বাজ পড়লে দেখা যাচ্ছে। আমি ভাবলাম পাড়ারই কারও ছেলে হবে। আমি ভাবলাম যে রাত্রে বাড়ির দরজা খোলা পেয়ে বেরিয়ে পড়েছে, যাই গিয়ে দেখি কে, বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি নইলে রাতবিরেতে পুকুরে টুকুরে পড়ে যাবে। সাইকেলটা চালিয়ে হাত দুয়েকের মধ্যে এসেছি তখন একবার বাজ পড়ল। স্পষ্ট দেখলাম যেন একটা অফ-হোয়াইট কালারের হাতকাটা গেঞ্জি আর একই রঙের হাফপ্যান্ট পরে আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কে রে?” ঠিক তখনই আর একবার বিদ্যুৎ চমকাল। আমি অবাক হয়ে দেখলাম আশে পাশে কেউ নেই। দাঁড়িয়ে মোবাইলের ফ্ল্যাশ জালিয়ে খুঁজলাম। নাহ, দুদিকে মাঠ, ফাঁকা। মিথ্যে কথা বলব না কিন্তু ওই অন্ধকারে শুনশান রাস্তায় দাঁড়িয়ে পরিষ্কার বুঝতে পারলাম, শিরদাঁড়া দিয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল
পুনশ্চঃ ভূত থাকা না থাকার তর্কে আর গেলাম না। কিন্তু এটা স্বীকার করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই যে, এক মুহূর্তের জন্য হলেও সাইকেলের হ্যান্ডেল কেঁপে গিয়েছিল। এটা হয়তো সারাজীবন আমার কাছে রহস্য হয়ে থেকে যাবে


______
ছবি - আন্তর্জাল

No comments:

Post a comment