গোলটেবিল:: দুই বাংলার একশো ভূতের গল্প:: আলোচনাঃ সুচরিতা দত্ত


বইঃ দুই বাংলার একশো ভূতের গল্প
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও উজ্জ্বল কুমার দাস সম্পাদিত
প্রথম প্রকাশ: ১৯৯৪ এর বইমেলা
আলোচনাঃ সুচরিতা দত্ত

কী ছোট্ট বন্ধুরা, কেমন আছ? আমাদের নববর্ষ সংখ্যা নিশ্চয়ই তোমাদের ভাল লেগেছে। প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবার ম্যাজিক ল্যাম্পের জিনি হাজির তোমাদের কাছে। এবার অবশ্য জিনি একা নয়। জিনির সঙ্গী তেনারা। তেনারা?
বুঝতে পারলে না? সেই অন্ধকারে যাদের ভয়ে তোমরা মা বাবার হাত ছাড়তেই চাও না। অমাবস্যার রাতে শ্যাওড়া গাছের ডাল ধরে নাকি যাদের ঝুলতে দেখা যায়। সেই তারা, যাদের সব কথাতেই চন্দ্রবিন্দু থাকে।
এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ। আরে ভূত গো ভূত। এতক্ষণে অবশ্যই অন্যান্যদের লেখা বেশ কিছু ভূতের গল্প, ছড়া পড়ে ফেলেছ?
তাহলে এবার ভূতের গল্পের বই নিয়ে আলোচনা করা যাক। তোমাদের মত বয়সে আমারও ভূত সম্পর্কে যেমন ভয়ও ছিল তেমনি ছিল অপার কৌতূহল। ভূতের গল্প পড়তে খুব  ভালবাসতাম। অবশ্য ভালবাসতাম বলছি কেন, এখনও ভালবাসি। বাড়ির লোকেদের বলতে গেলে জ্বালিয়ে মারতাম ভূতের গল্পের বই কিনে দাও বলে। সেই শুনে আমার মেজকাকু কথা দিলেন ভূতের গল্পের বই দেবেন, যাতে একটা দুটো নয় একেবারে একশোটা গল্প থাকবে! কিন্তু তার আগে আমায় পরীক্ষায় ভালো ফল করতে হবে। আমিও একদম এইসা জোর পড়াশোনা শুরু করলাম যে থ্রি থেকে ফোরে উঠতে ক্লাসে সেকেন্ড হলাম। রেজাল্ট আগের ক্লাসের তুলনায় অনেক ভাল হল আর সাথে সাথে মেজকাকুর দেওয়া কথা মত আমার হাতে চলে এল "দুই বাংলার একশো ভূতের গল্প"। ভূত যে এত ধরণের হয় তা কি আর আগে জানতাম! কোন ভূত বেদম ভয় দেখায় তো কারোর কীর্তিকলাপে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়। কেউ মানুষের উপকার করে তো, কেউ কেউ আবার মানুষের কাছে শিখে নিজেরাই চাউমিন বানাতে ওস্তাদ হয়ে ওঠে। কখনও মানুষ গাছের ছায়াকে ভূত ভেবে আঁতকে ওঠে তো কখনও কখনও সত্যি সত্যি তেনারা এসে দেখা দেন। আর লেখক তালিকাও রীতিমতো আকর্ষণীয়। কে নেই সেখানে? সেই বিদ্যাসাগর বঙ্কিমচন্দ্র থেকে শুরু করে সুকুমার রায়, পরিমল গোস্বামী, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, লীলা মজুমদার হয়ে শেখর বসু, মঞ্জিল সেন, প্রলয় সেন, সুকুমার ভট্টাচার্য, অজেয় রায়, হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় কে নেই! আর শুধু কি এপার বাংলা? আছেন ওপার বাংলার মহম্মদ হাপিজুল হক, ফাতেমা আখতার, মহম্মদ ইলিয়াস ও আর অনেকে। বইটার প্রচ্ছদটা খেয়াল করেছ? দেখলেই কেমন একটা ঠান্ডা স্রোত শিরদাঁড়া বেয়ে নামতে থাকে। সেরকমই বইয়ের ভেতরের বেশ কিছু সাদা কালো ইলাস্ট্রেশন হাড় হিম করে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট।
তা এই একশো ভূতের গল্পের বই পেয়ে আমি তো খুশ। সারা বছর জুড়ে পড়ে শেষ হয় না আর সাথে বাড়ির লোকেরাও ভূতের গল্পের বই কিনে দেওয়ার বায়না হাত থেকে মুক্তি পেয়ে হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছিল বেশ কিছুদিন। তোমরাও পড়ে জানিও কেমন লাগল। এখন আসি তাহলে? পরের সংখ্যায় আবার হাজির হব কোনও বইয়ের সন্ধান নিয়ে। ভাল থেকো বন্ধুরা।
________

No comments:

Post a comment