অপরাজিত:: ভূতের খেলা - রাজীবকুমার সাহা


ভূতের খেলা
রাজীবকুমার সাহা

ভূত-প্রেতের উপস্থিতি কেউ কেউ মানেন আবার কেউ বা মানেন না - এক কথায় উড়িয়ে দেন। তবে উভয়পক্ষেরই কিন্তু ভূত সম্পর্কে আগ্রহ সমান। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতা-মন্ত্রী, অভিনেতা, সঙ্গীতশিল্পী, খেলোয়াড় অনেকেরই গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো অলৌকিক বা ভৌতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ম্যাজিক ল্যাম্পের এই বিশেষ সংখ্যায় কয়েকজন খেলোয়াড়ের রোমহর্ষক ভৌতিক অভিজ্ঞতার ওপর আলোকপাত করা হল।




স্টুয়ার্ট ব্রডঃ ইংল্যান্ডের এই ফাস্ট বোলার নিজের দেশেরই ল্যাংহ্যাম হোটেলে একবার পড়েছিলেন এক মহা বিপদে। ডেইলি মেইল পত্রিকায় তার এক সাক্ষাৎকারে বলা হয়, জলের তীব্র আওয়াজ পেয়ে একরাতে ঘুম ভেঙে যায় তার। কান পেতে শুনতে পান, বাথরুমের সবগুলো জলের ট্যাপ কে যেন একসাথে খুলে দিয়েছে। যদিও লাইট জ্বালাতেই আপনা থেকে বন্ধ হয়ে যায় সে শব্দ। কিন্তু লাইট নেভাতেই আবার সেই শব্দ। বার কয়েক এভাবে চলার পর তিনি রুম ছেড়ে সোজা দৌড় দেনব্রড যে রুমে ছিলেন তার নম্বর ছিল ৩৩৩। আর এই হোটেলের ৩৩৩ নম্বরের ঘরটা হচ্ছে সবচেয়ে অভিশপ্ত।



হ্যারিস সোহেলঃ সাতাশ বর্ষীয় পাকিস্তান ক্রিকেট দলের এই যুবা খিলাড়ির নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের রিজেস ল্যাটিমার হোটেলে এক ভৌতিক পরিবেশে জ্বর এসে গিয়েছিল। রাতেরবেলা নিজের খাটের প্রবল ঝাঁকুনিতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় তার। কিংকর্তব্যবিমূঢ় ভাবটা কাটিয়ে উঠেই একজন কোচিং স্টাফকে ফোন করেন। একটু পরেই কোচ এসে দেখেন আতঙ্কিত সোহেলের ততক্ষণে জ্বর এসে গেছে। সোহেল দাবি করেন যে এটা ভৌতিক কারসাজি ছিল।



শেন ওয়াটসনঃ অস্ট্রেলিয়ান অল রাউন্ডার শেন ওয়াটসনকে ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের লামলে ক্যাসল হোটেলে ভূতের তাড়া খেয়ে নিজের রুম থেকে পালিয়ে ব্রেট লি-এর রুমে দৌড়ে যেতে হয়েছিল। ওয়াটসনকে নাকি টিম বাসের ড্রাইভার ভূতের গল্প শুনিয়েছিলেন। আর সেই থেকেই তার মনে এই ভয়ের উৎপত্তি।



জিমি অ্যাডামসঃ ২০০০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট টিম যখন ইংল্যান্ড সফরে গেল তখন তিনজন ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার প্রচণ্ড ভূতের ভয়ে হোটেল থেকে পালিয়ে অন্যত্র গিয়ে উঠেছিলেন। তাদের মধ্যে অধিনায়ক জিমি অ্যাডামস ছিলেন অন্যতম।




হাবিবুল বাশারঃ একবার ইংল্যান্ড সফরের সময় ডারহামের এক বিখ্যাত হোটেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক হাবিবুল বাশার এক ভয়ংকর ভৌতিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। অভিশপ্ত বলে হোটেলটার এমনিতেই বদনাম ছিল। পারতপক্ষে কেউ একা কোনও রুমে থাকত না। হাবিবুলের সাথে তার স্ত্রী থাকায় আলাদা রুম নিতে হয়েছিল। তো, একরাতে বাচ্চার একঘেয়ে কান্নায় হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় এই দম্পতির। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে একটানা কান্নাটা চলছে তো চলছেই। সাহস করে দরজা খুলে বেরিয়েই হাবিবুল দেখতে পেলেন একটা লাশ পড়ে আছে করিডোরে সাদা চাদর মুড়ি দিয়ে। আতঙ্কে ‘বাবা গো, মা গো’ বলে লাফিয়ে উঠতেই মাশরফি মুর্তজা বেরিয়ে এলেন চাদরের ভেতর থেকে হাসতে হাসতে।




সৌরভ গাঙ্গুলিঃ ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তী অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিও ভূতের খপ্পর থেকে বাদ যাননি। ২০০২ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ন্যাটওয়েস্ট সিরিজ শেষে সেই জার্সি খুলে উল্লাস প্রকটের রাতেই এক অলৌকিক অভিজ্ঞতা হয়েছিল সৌরভের। রাতে কীসের একটানা শব্দে ঘুমের চটকা ভেঙে যেতেই টের পান বাথরুমের জলের ট্যাপ থেকে অঝোরে জল পড়ছে। বিছানা থেকে নামতেই সে শব্দ বন্ধ হয়ে যায়। শুতে গেলেই আবার জলের ট্যাপ আপনা থেকেই খুলে যাচ্ছে। অথচ বিছানা থেকে নামলেই আবার বন্ধতিন তিনবার এই ঘটনার পর আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি তিনি। দৌড়ে সোজা রবীন সিংয়ের রুমে গিয়ে ঢোকেন। হোটেলটা ছিল শেন ওয়াটসনের সেই লামলে ক্যাসল।





মনসুর আলি খান পতৌদিঃ না, ইনি ভূতের কাণ্ড-কারখানা চাক্ষুষ করেননি। তবে শক্ত ভয় দেখিয়েছিলেন একজনকে। ১৯৬২ সালে টাইমস অফ ইন্ডিয়ার ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন মিঃ কে এন প্রভু। তো একবার হয়েছিল কী, পতৌদি পোর্ট অফ স্পেন থেকে কেনা একটা ভয়ংকর দেখতে মুখোশ পরে, আপাদমস্তক বিছানার চাদরে মুড়ে প্রভুর হোটেলে রওনা দিলেন। তাঁর সাথে যোগ দিলেন নারি কনট্রাক্টর, এম এল জয়সিমহা আর টিম ম্যানেজার গুলাম আহমেদ। পতৌদির হোটেলের ঠিক উলটোদিকেই রাস্তার ওপাশে কুইন্স পার্ক হোটেলে ছিলেন প্রভু। রাস্তা পার করার সময় সামনে মস্ত ভূত দেখে কে একজন গাড়ি থামিয়ে পড়িমরি দিল দৌড়। পতৌদি বুঝে গেলেন মেকআপ দারুণ হয়েছে। সটান ঢুকে গেলেন প্রভুর রুমে। প্রভু সম্ভবত তখন ম্যাকবেথ পড়ছিলেন। চোখ উঠিয়েই সামনে মূর্তিমান ভূত দেখে একলাফে পর্দার পেছনে গিয়ে দাঁড়ালেন আর প্রাণপণে কোমর থেকে খসে যাওয়া পায়জামাটা খামচে ধরে রইলেন।



সুনীল গাভাস্কারঃ ইনিও মনসুর আলির পথেই হেঁটেছিলেন। নিউজিল্যান্ড থেকে তিনি দুটো মুখোশ কিনেছিলেন যেগুলোর একটা ছিল ন্যাড়া মাথার আর একটার মাথার দু’পাশে লম্বা লম্বা সাদা চুল। অকল্যান্ডের যে হোটেলে পুরো টিম ছিল সেটার রুমগুলোর ব্যালকনি এতটাই কাছাকাছি ছিল যে একজন অন্যজনের রুমে অনায়াসে যাতায়াত করতে পারতেন। একদিন সন্ধ্যের সময় গাভাস্কার মুখোশ পরে গায়ে কাপড় জড়িয়ে পাশের টিমমেটের ঘরে গিয়ে ঢুকলেন। টিমমেটটি তখন স্নান সেরে এসে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল আঁচড়াচ্ছিলেন। ঘাড় ফিরিয়ে ভূত দেখেই দিলেন ছুট। পরনের একমাত্র তোয়ালেটা খসে পড়ে রইল ঘরেই।



জি-ম্যান চইঃ ডাউনটাউনের ফাইস্টার হোটেলে রাত্রিবাসের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার এই বেসবল খেলোয়াড় রুমে এক আত্মার উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন। হঠাৎ ঘুম ভেঙে অনুভব করেন কী যেন একটা তার বুকে হেঁটে বেড়াচ্ছে। ভয়ে প্রথমে তিনি চোখ খোলেননি। আস্তে আস্তে ওই অচেনা জিনিসটা পিঠ বেয়ে কানের কাছে কী যেন ফিসফিস করে বলে অদৃশ্য হয়ে যায়।



লু উইলিয়ামসঃ ওকলাহোমা শহরের বিখ্যাত স্কিরভিন হিলটন হোটেলে এই লেকারস বাস্কেটবল প্লেয়ার একবার খুব ভয় পেয়ে শেষে ওই হোটেল ছেড়ে দেন। এফি নামের এক পেত্নির এই হোটেলে রাতবিরেতে ঘুরে বেড়ানোর ইতিহাস রয়েছে। এফি নাকি তাঁর সদ্যোজাত শিশুকে কোলে করে জানালা থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন অনেক আগে।
-------------
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ আন্তর্জাল

No comments:

Post a comment