গল্পের ম্যাজিক:: পিশাচ - সহেলী চট্টোপাধ্যায়


পিশাচ
সহেলী চট্টোপাধ্যায়

বাড়িটা দেখে মনে হয় অনেক পুরনো আমলের বাড়ি। একদম হানাবাড়ির মতো দেখতে। বাড়ির কার্নিশ থেকে উঁকি মারছে দুএকটা বটের চারা। ওপরের রেলিং তো কবেই ধসে গেছে। ছাদের ওপর অযত্নে জন্মেছে কিছু নয়নতারা। আমি কিছুদিন হল দিদির বাড়ি এসেছি বেড়াতে। মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে সবেবন্ধুরা অনেকেই অনেকরকম কোর্স করতে ভর্তি হয়ে গেছে। আমি চাই কিছুদিন একটু স্বস্তির সাথে বাঁচি। আমার জেঠতুতো দিদির বাড়ি মনোহরপুরে। শহর থেকে অনেকদূরে। জামাইবাবু লোকাল থানার ইন্সপেক্টর। থানার লাগোয়া কোয়ার্টার। জামাইবাবু এই ছোটো শালাকে বেশ ভালোইবাসেন। মনোহরপুরের সবই ভাল, তবে বড্ড নির্জন।
দিদি বলল, ভাগ্যিস তুই এলি। একা একা হাঁপিয়ে উঠেছিলাম। কথা বলার লোকই পাই না।
তবে দিদি জায়গাটা বেশ সুন্দর। আমাদের কলকাতার মতো অষ্টপ্রহর কানের কাছে চেল্লামেল্লি নেই। আর বিশুদ্ধ অক্সিজেন ভর্তি বাতাসে।
লেখকদের খুব ভালো লাগবে এইরকম ভূতের জায়গা।
দিদি আমাকে লেখক বলে উপহাস করে মাঝে মাঝে, আবার পছন্দও করে। আমি মাঝে মাঝে গল্প লেখার চেষ্টা করি। স্কুল ম্যাগাজিনে আমার একটা ভূতের গল্প বেরিয়েছিল একবার। দিদি পড়ে ভয় পেয়েছিল। অনেকেই খুব প্রশংসা করেছিল গল্পের।
হ্যাঁ দিদি। দুএকটা গল্প লিখব বলে খাতা আর পেন নিয়ে এসেছি। তবে এসেই নজর কেড়েছে উল্টোদিকের ওই ভাঙাচোরা দোতলা বাড়িটা। কেউ থাকে না ওখানে?
আরে বাড়িটা নিয়ে অনেক গল্পকথা আছে। যাদের বাড়ি তারা একজন ভদ্রলোককে ভাড়া দিয়ে বাইরে চলে গেছেন। ভদ্রলোক ভ্যাগাবণ্ড গোছের লোক কিন্তু কারোর সাথেই আলাপ নেই। একদমই মিশুকে নয়। কখন বাড়িতে থাকে আর কখন যে বাইরে বেরোয় কিছুই বোঝা যায় না।
এরপর দিদি রাতের রান্না করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল আর আমি গল্পের বইয়ে মন দিলাম। সাগর দত্তর হরর কাহিনীতে মুখ ডুবিয়ে বসে রইলাম দুঘণ্টা। জীবনে আমার একটাই স্বপ্ন, সাগর দত্তর মতো হরর আর সাসপেন্স লিখব জানিনা কখনও সফল হব কি না! কিন্তু স্বপ্ন দেখতে তো দোষ নেই।
পরের দিন বিকেল বেলা হাঁটতে বেরলাম। পায়ে পায়ে এগিয়ে চললাম ওই হানাবাড়ির দিকে। মনে মনে এই বাড়ির নাম আমি হানাবাড়িই রেখেছি। বাড়ির সদর দরজায় দেখি বিশাল একটা তালা ঝুলছে। আমি অন্য পথ ধরলাম। সামনে একটা বড় দীঘি মতো আছে, সেদিকে পা বাড়ালাম। হঠাৎ মনে হল আমার পেছনে কেউ হেঁটে আসছে। পায়ের শব্দ হচ্ছে। পেছন ফিরে দেখি বাসন্তীমাসি আসছে। দিদির বাড়ি বাসন মাজে, ঘর মোছে। বলল, বিট্টু শোনো।
আমি একটু অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কিছু বলছ?
হ্যাঁ। একটা কথা চুপি চুপি বলছি। বলে গলাটা একদম খাটো করে বলল, ওই ভাঙাবাড়ির সামনে দিয়ে কখনও যাবে না। একটা পিশাচ এসে জুটেছে ওই বাড়িতেওই বাড়িতে কোনও মানুষ ঢুকলে সে আর বেরোতে পারে না।”
এরকম কথা কখনও শুনিনি। তাই বেশ হকচকিয়ে গেলাম। বাসন্তীমাসি আমাকে খুবই ছোটোছেলে ভাবে দেখছি। বেড়াতে আর ভালো লাগল না। বাড়ি চলে এলাম। তবে বেশ একটা রহস্যের গন্ধ পেলাম মাসির কথায়। একটা গল্প লিখে ফেললে মন্দ হয় না। দিদি আর জামাইবাবুকে রাতে খাবার টেবিলে সবকথা বললাম। দুজনেই হেসে গড়িয়ে পড়লেন। জামাইবাবু বললেন, আসলে ওই ভদ্রলোক কারোর সাথে মেশেন না, তাই এরকম গালগল্প চালু হয়েছে ওনাকে নিয়ে। মানুষ এসব গালগল্প শুনতে আর বিশ্বাস করতে ভালবাসে।
দিদিও সায় দিল। বলল, ছেলেরা কখনও ঐ বাড়িতে যায় না। চাঁদা চাইতে যায় না, আম পাড়তে যায় নাএমনকি বল বা ঘুড়ি এসে পড়লেও চাইতে যায় না। বাবামায়েরা এমন ভয় দেখিয়েছে। সব বাসন্তীর মুখেই শুনেছি। একবার নাকি একটা ছেলে সাহস করে ভেতরে ঢুকেছিল তাকে আর পাওয়া যায়নি। ওই লোকটির চোখ নাকি জ্বলে সবসময়।
তুমি আর গল্প বাড়িয়ো না। আমাকে আর একটু ভাত দাও। জামাইবাবু আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

আর একসপ্তাহ পরই এখান থেকে চলে যাবযাকে নিয়ে এত গল্প শুনছি তাকে চাক্ষুষ দেখার খুব ইচ্ছে আছে। রোজই চেষ্টা করি দেখার কিন্তু সফল হই না। রোজ সকাল বিকেলে হাঁটতে বেরোই। একদিন ভদ্রলোকের সাথে দেখা হয়ে গেল। এক বিকেলে আমি ওই বাড়ির দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম হঠাৎ বাড়ির সদর দরজা খুলে গেল। একজন রোগামত ভদ্রলোক দরজা খুলে আমার সামনে এসে দাঁড়ালেন। এত তাড়াতাড়ি ব্যাপারটা ঘটে গেল যে দৌড়ে পালাবার সুযোগ পেলাম না। ভদ্রলোকের পরনে একটা লুঙ্গি আর সাদা ফতুয়া। মাথার চুলগুলো পাতলা হয়ে এসেছে। বয়স পঞ্চাশের নিচেই হবে। চোখের মণি দুটি খুব উজ্বল। যেন জ্বলছে। সরাসরি আমাকেই জিজ্ঞাসা করলেন, ক’দিন ধরেই দেখছি আমার বাড়ির সামনে ঘুরঘুর করছ। লোকে আমার বাড়ির ত্রিসীমানায় আসতে ভয় পায়। তুমি তো খুব সাহসী দেখছি। তা এখানে এসেছ কোথায়?
আমার গলা শুকিয়ে গেছিল কোনরকমে গলায় জোর এনে বললাম, আমি ইন্সপেক্টরবাবুর বাড়ি এসেছি। উনি আমার জামাইবাবু হন। মাধ্যমিক হয়ে গেছে তাই দিদির বাড়ি বেড়াতে এসেছিলাম। এই বাড়িটা খুব পুরনো আর আমার পুরনো বাড়ি দেখতে খুব ভালো লাগে তাই সকাল-সন্ধে চেয়ে থাকতাম।
বেশ বেশ। পুরনো বাড়ি আমারও খুব ভালো লাগে। তাই তো এমন একটা বাড়ি ভাড়া নিয়েছি। আমার লেখার খুব সুবিধা হয় এতে।
আপনি বুঝি লেখক?
সব গল্পই কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হয় নাকি? ভেতরে এসো, একটু চা খেয়ে যাও।
যদিও ভয় ভয় করছিল তবু ভাবলাম, একবার ভেতরটা দেখে আসি। মানুষটার সাথে আলাপ করে আসি আমাকেও তো লেখক হতে হবে। তাই সবরকম অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে হয়। মানুষের সাথে মিশতে হবে।

ভদ্রলোকের পেছন পেছন প্রবেশ করলাম সেই হানাবাড়িতে।  ঘরের ভেতর বেশ ঠাণ্ডা। পুরনো দিনের বাড়িঘর এমনিতেই বেশ ঠাণ্ডা হয়। এই গরমেও ভদ্রলোক সমস্ত জানলা বন্ধ করে রেখেছেন। ইলেকট্রিক বাতি জ্বলছে না, কিন্তু কোথা থেকে একটা মৃদু নরম আলো আসছে আর তাতেই সব কিছু দেখা যাচ্ছে পরিষ্কার। পুরানো আমলের খাট আর একটা টেবিল চেয়ার ছাড়া আসবাবপত্র বিশেষ কিছুই নেই। তবে অনেকগুলো বুকসেলফ আছে। আর সমস্তই বইয়ে ঠাসা। আমি জানলার দিকে চেয়ে আছি দেখে বললেন, “শিক ভাঙা বেশিরভাগ জানলার। তাই বন্ধ রেখেছি। এই একতলাতেই আমি থাকি। একটু বসো, চা আনি।  ভদ্রলোক একটা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়লেন।
বুকসেলফে বইগুলোর দিকে এবার আমার নজর পড়ল। বেশিরভাগ বইই দেখছি ভূতপ্রেত আর পরলোক নিয়ে। বিদেশী লেখকের পাশাপাশি দেশি লেখকদেরও অনেক বই আছে। সাগর দত্তর বেশ কিছু বই আছে। সাগর দত্তর সব বইই আমার পড়া।
কী দেখছ? বইপত্র আমার একটা নেশা বলতে পার। কখন জানি ঘরে প্রবেশ করেছেন ভদ্রলোক, হাতে একটা ট্রে। দুকাপ চা আর বিস্কুট। এত তাড়াতাড়ি কী করে করলেন ভদ্রলোক?
বললাম, আপনি ভূতের বই বেশি ভালবাসেন দেখছি। সাগর দত্তর লেখা কেমন লাগে?
ভদ্রলোক হঠাৎ হো হো করে হেসে উঠলেন। এই কথায় এত হাসার কী আছে বুঝলাম না।
বললেন, এই অধমের নামই সাগর দত্ত।
আমার কাপ থেকে চা চলকে পড়ল ডিশের মধ্যে। বললাম, তার মানে এত গল্প আপনারই লেখা?
চোখের সামনে যেন নিজের গুরুদেবকে দেখছি।
কিন্তু আপনি কেন কোথাও নিজের সাক্ষাৎকার দেন না? কেন নিজের ছবি দেন না কোথাও? ফেসবুকেও আপনি নেই! ফ্যানদের থেকে সসময় দূরে দূরে থাকেন কেন? আজকের দিনে কেউ কি এভাবে থাকতে পারে?
আমার কোনও প্রচার মাধ্যমের দরকার নেই। সম্পাদকরা মুখিয়ে থাকেন আমার একটা লেখা পাওয়ার জন্য।
সে তো হবেই। কত ভালো লেখেন আপনি! কিন্তু আমাদের অর্থাৎ আপনার অনুরাগীদেরও তো জানতে ইচ্ছা করে আপনার সম্পর্কে।
জানবে জানবেসময় হলেই সব জানতে পারবে সবাই। সাগরবাবুর মুখে একটা রহস্যময় হাসি খেলে গেল।
আমার চা জুড়িয়ে জল হয়ে গেছিল। একচুমুকে শেষ করলাম। বললাম, আপনার একটা অটোগ্রাফ পেতে বড়ো ইচ্ছা করছে।
সাগরবাবু আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার চোখদুটো জ্বলজ্বল করে উঠল। বললেন, আমি মানুষের সঙ্গে মিশতে পছন্দ করি না অনেক কারণে। আমার চেহারাটা তেমন ভাল নয় বলে ছোটো ছেলেপুলেরা ভয় পায় অনেকে পিশাচ বলে মনে করে। এই বাড়ি নিয়েই কত গল্প রটিয়েছে!
সাগরবাবুর গলা দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস পড়ে। সত্যি সাগরবাবুকে দেখতে তেমন ভাল নয়। তাই বলে পিশাচ বলে ভাবাটা লোকের বাড়াবাড়ি। বললাম, হ্যান অ্যান্ডারসনকেও দেখতে ভালো ছিল না। অনেকে ঠাট্টা করেছে তাঁকে নিয়ে কিন্তু তাঁর মতো লেখক ক’জন হতে পেরেছে?
সাগর দত্ত কিছু বললেন না। সন্ধে নেমে গেছে। আশেপাশের কিছু বাড়ি থেকে শাঁখের আওয়াজ ভেসে আসছে বললাম, এবার উঠতে হবে আর একদিন আসব সময় করে। কাল বিকেলে আসব? আপনার সময় হবে?
সাগরবাবু স্থির হয়ে চেয়ে আছেন আমার দিকে। হঠাৎ একটা কালো ছায়া যেন ঘরে প্রবেশ করল। বেশ বড়ো আকারের একটা বাদুড়। বাইরে দমকা হাওয়া উঠল। জানলা তো সব বন্ধ তাহলে ঢুকল কোথা দিয়ে? নিশ্চয় ঘুলঘুলি দিয়ে ঢুকেছে। আজ বোধহয় কালবৈশাখী উঠবেকারেন্ট চলে গেল টুক করে। মাথার ওপর পাখা ঘুরছিল শব্দ করে, সেটা বন্ধ হয়ে যেতেই মনে হল সভ্য জগত থেকে অনেক দূরে চলে এসেছি। এতক্ষণ ঘরের মধ্যে যে আলোটা আসছিল সেটাও আর আসছে না। পুরো ঘরটা এক নিকষ অন্ধকারে ডুবে গেছে। হঠাৎ তীক্ষ্ণ একটা চিৎকার কানে এল। বুঝতে পারলাম না কিসের চিৎকার। গলার কাছে কী যেন কুটকুট করছে। বললাম, সাগর বাবু কীসের চিৎকার শোনা যাচ্ছে?
ওটা একটা কুকুরের কান্না,” ফ্যাসফ্যাসে গলায় উত্তর দিলেন।
কুকুরের কান্না মোটেও এরকম নয়। মিথ্যে বললেন কেন উনি? আমি কি এতই বাচ্চা যে কুকুরের কান্না বুঝতে পারব না? যদি বলতেন শকুনের বাচ্চার কান্না তাহলেও বা বিশ্বাস করা যেত।

ঘরের মধ্যে ভীষণ অন্ধকার। একটা ঠাণ্ডা ঝাপটা লাগল আমার গালে। ভীষণ শীতল সেই ঝাপটা। বাদুড়টা এখনও উড়ছে ঘরের মধ্যে। সাগরবাবু আলো জ্বালাচ্ছেন না কেন? ভারি অদ্ভুত লোক তো! কেমন একটা ঘোরের মধ্যে চলে যাচ্ছি আস্তে আস্তে। ঘরের মধ্যে অস্পষ্ট একটা ধোঁয়া এল কোথা থেকে? চোখে জল এসে গেছে। আমার কি দৃষ্টিবিভ্রম হচ্ছে? বলতে যাচ্ছিলাম ঘরের মধ্যে এই সাদা ধোঁয়া কিসের? কিন্তু বলতে পারলাম না। গলা দিয়ে কোনও আওয়াজ বেরুলো না। সেই সাদা অস্পষ্ট ধোঁয়ার দিকে একভাবে তাকিয়ে আছি। মনে হচ্ছে সাদা ধোঁয়াটা যেন অস্পষ্ট একটা ছায়ামূর্তির রুপ নিচ্ছে। এবার সে আমাকে গিলে খাবে। আমার চোখ ঘুমে জড়িয়ে আসছে। আর কিছুই অনুভব করতে পারছি না। সাদা ধোঁয়াটা আমার গলার কাছে চলে এসেছে। আমার ভীষণ শীত করছে। গলার কাছটা খুব জ্বালা করে উঠল।
সম্বিৎ ফিরল সাগরবাবুর ঝাঁকানোর চোটে। কী হল তন্ময়, তুমি ঘুমিয়ে পড়ছ কেন? বাড়ি দিয়ে আসি?
তাকিয়ে দেখি কারেন্ট এসে গেছে। পাখা ঘুরছে মাথার ওপর আর একটা ইলেকট্রিক বাল্ব জ্বলছে। বেশি আলো হচ্ছে না তাতে, তবে একটু একটু দেখা যাচ্ছে। এতক্ষণ আমি এসব কী দেখছিলাম! সব তো ঠিকই আছে। কোথাও কোনও গোলমাল নেই।
না না, আমি একাই যেতে পারব,” হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ার জন্য বেশ লজ্জিত বোধ করি।
না না, পারবে না। খুব ঝড়বৃষ্টি হয়েছে তোমাকে পৌঁছে দিয়ে আসি। তাছাড়া আটটা বেজে গেছে। তোমার দিদি নিশ্চয় খুব চিন্তা করছেন। আমি সঙ্গে না থাকলে তুমি বকা খাবে।
সাগরবাবু হাতে একটা বড়ো টর্চ আর ছাতা নিয়ে আমাকে এগোতে চললেন।
দিদির বাড়ি তো কাছেই। তবু এটুকু আসতেই অনেক কাদা মাড়াতে হল। গাছের ডাল ভেঙে ভেঙে পড়েছে। খুব সাবধানে চলতে হচ্ছে। কখন এত ঝড় হল বুঝতে পারিনি তো!
দিদি সদর দরজায় দাঁড়িয়েছিল উদ্বিগ্ন মুখে। এখনও টুপটাপ করে বৃষ্টি পড়ছে। দিদি আমাকে দেখেই এগিয়ে এল তবে কিছু বলল না কারণ, আমার পেছনে সাগরবাবু ছিলেন। সাগরবাবুই বললেন, কিছু মনে করবেন না। ঝড়বৃষ্টি দেখে ছেলেটিকে ঘরে বসিয়ে রেখেছিলাম।
ভালই করেছেন। যা দস্যি ছেলে! একটু চা খেয়ে যান?
আজ আসি বোন। আর একদিন হবে না হয়!
দিদি আর জোরাজুরি করল না। সাগরবাবু বেরিয়ে গেলেন।
রাতে খেতে বসে জামাইবাবু আর দিদিকে সাগর দত্তর কথা বললামজামাইবাবু বললেন, লোকটার সম্বন্ধে কত বাজে কথাই শুনেছি এতদিন ধরে।
দিদিও সায় দিল, “অথচ কত ভদ্রমানুষ উনি।
জামাইবাবু বললেন, “হবে না কেন? এত বড় একজন লেখক মানুষ। সাগর বাবুর কিছু লেখা আমিও পড়েছি। একদিন গিয়ে আলাপ করে আসব
দিদি বলল, “একদিন নেমন্তন্ন করে এস বিট্টু থাকতে থাকতে

আমি বলার চেষ্টা করলাম, হ্যাঁ খুব ভালো হবে, কিন্তু পারলাম না। গলার কাছটা কেমন যেন ব্যথা ব্যথা করছে। খেয়ে উঠে দাঁত ব্রাশ করতে বেসিনের সামনে গেলাম। আয়নায় দেখলাম নিজের গলার কাছে ছোট্ট দুটো ফুটো একটু একটু রক্তের রেখা দেখা যাচ্ছে এখনও। সেগুলো এখন শুকিয়ে কালচে হয়ে গেছে।
______
ছবি - তন্ময় বিশ্বাস

4 comments: