ছড়া-কবিতা:: বকুলমাসির রোবট - অমিতাভ প্রামাণিক


বকুলমাসির রোবট
অমিতাভ প্রামাণিক

বকুলমাসির বাড়ি ছিল মঙ্গলের এক জঙ্গলে।
ইন্টিরিয়র ডেকরেটর স্বামীটি তার রঙ গোলে।
লকডাউনের বাজারে এক বিকেলে খুব মনখারাপ,
ভাবলাম যাই মাসির বাড়ি। ভেবেই দেখি লোম খাড়া!
মাস্কটা পরে হাতটা ধুয়ে হাতড়ে দেখি পকেটটা
খুচরো পড়ে কয়েকখানা, ধরলাম তাও রকেটটা।
সন্ধের আগেই পৌঁছে গেছি মাসির বাড়ির উত্তরে।
হঠাৎ শুনি গলার আওয়াজ, “কে বানাল ভূত তোরে?
এদিক ওদিক তাকিয়ে খুঁজি, মাসিকে তো দেখছি না!
হঠাৎ দেখি একটা বালক, দেখতে কেমন ফেক চিনা!
চেঁচিয়ে ডাকি, “শুনছ মাসি, সাড়া তো দাও অন্তত,
এইটা কে গো? উত্তর আসে, “কাজের মানুষ, যন্ত্র তো!
তোর মেসোকে গিফট দিয়েছে নেপচুনের এক ডাক্তারে,
আমার কাছে বাংলা শেখে। রাখব না নির্বাক তারে।
নেপচুনেও তো করোনা, তাই ধুচ্ছে ওরা লেপ চুনে,
আর এই ব্যাটা সুযোগ পেলেই চা খেতে যায় নেপচুনে।
সেই গ্রহে তো ঠান্ডা ভীষণ, চলবেই না লেপ ছাড়া,
তিব্বতিরা চালিয়ে নেয়, কাঁপতে থাকে লেপচারা।”
ভাবতে থাকি, এক রোবটেও ধরল শেষে চা-পানটা!
ব্রেকফাস্টে কী খায় ব্যাটা? ব্রেড-অমলেট না পান্তা?
ঘুড়ি উড়ায়? নাচতে পারে? খেলতে পারে ডাংগুলি?
কভার ড্রাইভ মারতে পারে, যেমন মারে গাঙ্গুলি?
হঠাৎ শুনি বলছে ব্যাটা, “এসব তো ভাই তুচ্ছ রে!
তোদের দেশেই চেক-টেক দেয়, এইখানে তো কুঁচ ছোঁড়ে।
তার চেয়ে তুই বক্সিং শেখ, দেখবি অত সস্তা না।
দু-দশটা দিন শিখতে লাগে পরতে তোর ঐ দস্তানা।
ক্রিকেট খেলা বড়োই সোজা, লাগে শুধুই ব্যাট একটা,
বক্সিঙে তোর ডিফেন্স যেমন, তেমনি কঠিন অ্যাটাকটা।”
এসব শুনে রাগছি ভীষণ, বলেই ফেলি ফক্কড়ে,
“অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী, খুন হয় কেউ শখ করে?
ক্রিকেট ইজি? মরা গাছের কাণ্ড গোটা দুই কেটে
পুঁতে দিয়ে বলি, “দাঁড়া, ব্যাট ধরে ঐ উইকেটে।”
রোবট বলে, “আর না বাবা, খেলতে গিয়ে শীতকালে
কয়েকটা বল উড়ে গিয়ে পড়ল সটান চিৎ খালে।
তোর ঐ মাসি শেষকালে এক পাথর ছুঁড়ে মারল রে!
আমিও ঘুরাই ব্যাট, হারলেও যাব চমৎকার লড়ে।
কী আর বলি, ভাববে শুনে করছি ভীষণ নিন্দে সে -
পাথর লেগে ব্যাটটা উড়ে পড়ল গিয়ে চিনদেশে!
মার্স থেকে যে আর্থে গেল, পড়ল ব্যাটের ছাইপাঁশই,
শুনছি এখন মারছে মানুষ ব্যাট থেকে এক ভাইরাসই।”
_____
ছবিঃ সুতীর্থ দাশ

No comments:

Post a comment