গল্পের ম্যাজিক:: ড্যান্ডেলিয়ন রহস্য - টেরি ডিয়ারি; অনুবাদঃ প্রতিম দাস


ড্যান্ডেলিয়ন রহস্য
টেরি ডিয়ারি
অনুবাদঃ প্রতিম দাস

বিষ নিয়ে যে বিশেষজ্ঞরা কাজ করেন তাদেরকে বলা হয় টক্সিকোলজিস্টপুলিস বিভাগে এদের মূল কাজ হল যে মারা গেছে তার পাকস্থলী বা রক্ত থেকে বিষের নমুনা বার করা এবং সেটা কী ধরনের বিষ তা জানানোআধুনিক টক্সিকোলজি এতটাই উন্নত হয়েছে যে অতি সামান্য পরিমাণ বিষও খুঁজে বার করতে অসুবিধা হয় নাএকটি বিষ প্রয়োগে মৃত্যুর ক্ষেত্রে ডিটেকটিভের কাজ  হল, আততায়ী যে বিষ দ্বারা  মৃত্যু ঘটিয়েছে, সেই বিষ সে কোথা থেকে জোগাড় করল এবং কীভাবে ভিকটিমকে খাওয়াল সেটা খুঁজে বার করা
চিরকালই বিষ খাইয়ে কাউকে মেরে ফেলাটা খুব একটা সোজা পদ্ধতি খুনের ক্ষেত্রে। কিন্তু বর্তমান সময়ে  ধরা পড়ে যাওয়ার চান্সটা খুব বেশিডিটেকটিভদের বিশেষভাবে ট্রেনিং দেওয়া হয় হঠাৎ করে কোনো মৃত্যু ঘটলে সেটা বিষের কারণে হয়েছে কিনা দেখার জন্যযে মারা গেছে তার কাছে যে সমস্ত ওষুধ পাওয়া যায় সেগুলো দ্রুত পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা করা হয়বিষ প্রয়োগে মৃত্যু সন্দেহ হলে মৃতর আশেপাশে পড়ে থাকা বা তার বাড়ির কাপ, বোতল, গ্লাস ইত্যাদি বাসনপত্র নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় সবার আগেসে সব পাত্রের ভেতরে যা থাকে সেগুলো পরীক্ষা করা হয়তাছাড়াও আশেপাশে অদ্ভুত জায়গায় অদ্ভুত রকমের কিছু পেলেও সেটাকে তারা পরীক্ষা করে দেখেন। যেমন, কার এন্টিফ্রিজ লিক্যুইড কেন রান্না ঘরে আছে বা আগাছা নির্মূল করার স্প্রে কেন বেডরুমে আছে সেটা তদন্ত করে দেখা হয় সবার আগে। এছাড়াও তাদের দায়িত্ব থাকে চা, কফি বা চিনি রাখার জায়গা সবার আগে পরীক্ষা করে দেখার। সামান্যতম অন্য রকম গন্ধ ওসবের থেকে পাওয়া গেলেই তাকে সবার আগে ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠাতে হয়। ডিটেকটিভদের এটাও বিশেষভাবে বলে দেওয়া হয় তারা যেন কোন কিছুর স্বাদ চেখে দেখার চেষ্টা না করে।
বিষ খাইয়ে কাউকে খুন করাটাকে সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধ বলেই মনে করা হয় খুনের তালিকায় সাধারণত বিষ যে খাওয়ায় আর যাকে খাওয়ানো হয় তাদের মধ্যে একটা কাছাকাছি সম্পর্ক থাকেসেটা স্বামী-স্ত্রী হতে পারে, কোনো আত্মীয় হতে পারে আবার খুব কাছের কোনো বন্ধুও হতে পারেএই সুত্র ধরে  বিষ খাওয়ানোর কেসে অপরাধীকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খুঁজে বার করাটা একটু সহজ হয়ে যায় এবং সহজেই সনাক্তও করা যায় টিউডর ইংল্যান্ড সময়ে এরকম একটি ঘটনা ঘটেছিল। ১৫১৫ সালের সে এক বিখ্যাত ঘটনাযেখানে অ্যালিস আর্ডেন তার স্বামীকে বিষ খাইয়ে মেরেছিলেনএকজন ডাকাত বা চোর নিজেকে বাঁচাতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো অচেনা অজানা মানুষকে খুন করার চেয়ে, খুব কাছের কাউকে বিষ খাইয়ে হত্যা করাটা অতি নিম্নমানের ভাবনা বলেই মানা হত সেই সময়েও। যে কারণে এই ধরনের অপরাধের শাস্তিটাও একটু অন্যরকমের হত জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল মিসেস আর্ডেনকে।
একজন আরবিয়ান কেমিস্ট আর্সেনিক আবিষ্কার করেছিলেন এটার ব্যবহার হত মাছি মারা এবং বিউটি ট্রিটমেন্টস-এর জন্য ফলে খুব সহজেই এটা পাওয়া যেত বাজারে। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্সেনিক মানুষের শরীরে থাকেই আমরা কিছু কিছু এমন খাবার খাই যার ভেতর এর উপস্থিতি থাকে এত অল্প পরিমাণে যে তা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর নয়কিছু মানুষ খুব সামান্য পরিমাণে আর্সেনিক খেয়েও থাকেন, যা নাকি তাদেরকে সুস্থ রাখে৬৫ মিলিগ্রামের বেশি মাত্রায় এই জিনিসটা খেলে সেটা শরীরের পক্ষে খারাপ মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে
অপরাধের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে আততায়ী আর্সেনিকের ব্যবহার করেছে কারণ এর স্বাদ বলতে সেই অর্থে কিছুই নেই এবং যে কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যায়তাছাড়াও যখন এই বিষ খেয়ে কেউ মারা যায় ডাক্তাররা সাধারণত মনে করে পেটের কোনো গণ্ডগোল হয়েছিল অনেক সময় গ্যাস্ট্রিক ফিভার বলেও ভুল করে ফেলেন তারা।
আর্সেনিককে হত্যার অন্যতম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার সবচেয়ে ভুল দিক হল এই যে, যে মারা যায় তার চুল, নখ এবং হাড়ে দীর্ঘদিন ধরে এই বিষের অস্তিত্ব থেকে যায়শরীরের পচনটাও আটকে থাকে অনেক ক্ষেত্রে। আততায়ী এই বিষ খাইয়ে ভেবেছে যে, তারা কোনোভাবেই ধরা পড়বে না, কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে ধরা পড়েছেকবর খুঁড়ে উঠিয়ে আনা হয়েছে মৃতদেহ। পরীক্ষা করে প্রমাণ মিলেছে বিষ প্রয়োগের। ইংল্যান্ডে ১৯২২ সালে ঘটে যাওয়া সে রকমই একটা বিখ্যাত ঘটনার গল্পরূপ এই ‘দ্য নাইণ্টিন ড্যান্ডেলিয়নস’
---------------------------------------

“কুড়ি প্যাকেট আর্সেনিক দিন তো!” একজন ছোটোখাটো গাট্টাগোট্টা মানুষ কথাটা বললেন। দেখেই মনে হচ্ছে লোকটার জন্মই যেন হয়েছে অর্ডার দেওয়ার জন্যমিলিটারিদের মতন টান টান চেহারা, শিরদাঁড়া সোজা ঠিক যেন একটা তেল চুকচুকে বেতের লাঠিমুখের ঝুপো গোঁফ একেবারে বিড়ালের কাঁধের লোমের মতন খাড়া খাড়া হয়ে আছে
“ওটা নিতে হলে আপনাকে এই কাগজটায় সই করে দিতে হবে, মেজর।” কেমিস্ট এডোয়ার্ড মান আর্সেনিক জারটার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে কথাটা বললেন তারপর শুরু করলেন সাদা পাউডারটা মাপা
মেজর গমগমে স্বরে বললেন, “অবশ্যই, অবশ্যই!”
কেমিস্ট নিজের হাতে থাকা মাপযন্ত্রটার দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে ওজনদাঁড়ির প্লেটের উপর পাউডার তুলতে শুরু করলেন“৬৫ মিলিগ্রামের বেশি হলেই কিন্তু একজন মানুষ মেরে ফেলার মতো ক্ষমতা হয়ে যায় এই পাউডারেরসাবধান!” সাদা পাউডারটাকে একটা ছোট্ট কাগজের মধ্যে নিয়ে ভাঁজ করলেন অতি সাবধানে, তারপর আবার দ্বিতীয় প্যাকেট বানানোর জন্য তৈরি হলেন “এই বিষ খাওয়ার দরকার নেই শুধুমাত্র নাক দিয়ে শুঁকলেও আপনি মারা যেতে পারেন।”
“আরে অত চিন্তার কিছু নেই হে,” মেজর আর্মস্ট্রং বললেন“একটা বিশেষ ধরনের বন্দুকের মধ্যে ঢুকিয়ে বিষটাকে ড্যান্ডেলিয়ন গাছের গোড়ায় ঢুকিয়ে দেব শুধুআমি চাই শুধু ড্যান্ডেলিয়ন গাছগুলোই যেন মরে। আশেপাশের একটাও গাছের যেন কিছু না হয়ড্যান্ডেলিয়ন আমার একদম পছন্দ হয় না!” কথাটা বলার সময় আলো পড়ে চিকচিক করতে থাকা সোনালি চশমার পেছনে মেজরের নীল চোখ চকচক করে উঠল
এডোয়ার্ড ইতিমধ্যে দ্বিতীয় প্যাকেটটাও বানিয়ে ফেলেছেন। সঙ্গে চলছে তার বকর বকর “প্রথমে মাথা ঝিমঝিম করবে তার সঙ্গে হবে ডায়রিয়া এটাই হল আর্সেনিক বিষের প্রথম প্রতিক্রিয়াতাই যদি আপনার মনে হয় মাথা ঝিমঝিম করছে, তাহলে আপনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তার দেখিয়ে নেবেন
“আরে, বলছিই তো, এ নিয়ে আপনাকে একদম চিন্তা করতে হবে না!” মেজর একইরকম গমগমে স্বরে হাসতে হাসতে উত্তর দিলেন নজর অবশ্য ওই বিষের প্যাকেট তৈরির দিকেই নিবদ্ধ ছিল
আরও কিছুটা সময় এভাবে কেটে যাওয়ার পর, প্রবীণ কেমিস্ট বললেন, “এই যে হয়ে গেছেকুড়ি প্যাকেট আর্সেনিক
গোঁফে মোচড় দিয়ে বাদামি রঙের প্যাকেটটা হাতে নিয়ে ছোটোখাটো চেহারার মেজর বললেন, “কুড়িটা ড্যান্ডেলিয়ন এবার শেষ।” তারপর রেজিস্ট্রি খাতায় স্বাক্ষর করে দাম মিটিয়ে, “আসি তাহলে,” বলে  দোকান থেকে বেরিয়ে চলে গেলেন 

*                          *                          * 

সেদিন রাতে কন্যা ইউনিস আর জামাতা আর্থার মার্টিনের সঙ্গে ডিনার করার সময় এডোয়ার্ড মান বলে উঠলেন, “মেজর আর্মস্ট্রং বেশ মজার মানুষ, যাই বলিস ইউনিস! ইয়ে, মার্টিন, তোমার অফিসের থেকে একটু এগিয়ে গিয়েই ওনার অফিস, তাই না?”
জামাতা আর্থারের মুখটা সবসময়ই ক্লান্ত ঘোড়ার মতো কেমন যেন থমথমে হয়ে থাকে“হ্যাঁওটা যদি ওখানে না হত তাহলে ভালো হতআমরা মাত্র দু’জন আইনজীবী আছি এই শহরে এত কাজ আছে যে, আমরা দু’জনে করে শেষ করতে পারব না তবুও ওই লোকটা আমাকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করে” তরুণ আইনজীবী এডোয়ার্ডের দিকে সামান্য ঝুঁকে প্রায় ফিসফিস করে বলল, “আপনি জানেন না, মানুষটা সুবিধার নন। সব সময় আমার দিকে নজর রাখেন
বিষ্ময়ে চোখ বড়ো বড়ো করে ইউনিস চিন্তান্বিত মুখে বলল, “আরে! তুমি এই কথাগুলো তো আমাকে আগে কোনোদিন বলনি আর্থার!”
“হ্যাঁ গো, মাঝে মাঝে আমি যখন কাজ করতে করতে মুখ তুলে জানলার দিকে তাকাই, দেখতে পাই উনি ওনার অফিসের জানলা দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন
“তাকিয়ে আছেন!”
“হ্যাঁ সোজা আমার দিকেই তাকিয়ে আছেন
“লোকটার অদ্ভুত রকমের ফ্যাকাশে নীল চোখ তাই না আর্থার?”
ইতিবাচকভাবে মাথা নেড়ে আর্থার বলল, “হ্যাঁ ঠিকই বলেছেনকিন্তু আপনি ওনাকে একজন মজার মানুষ বললেন কেন?” অল্পবয়সি আইনজীবী তার শ্বশুরের কাছে জানতে চাইল
“আর বোলো না, আজ কথা শুনে মনে হল উনি ড্যান্ডেলিয়ন গাছ একদম পছন্দ করেন না। ঘেন্না করেন
ইউনিস কথাটা শুনে বলল, “হ্যাঁ, সেটা হতেই পারে। খুব সুন্দর বিরাট একটা লনওয়ালা বাড়ি আছে ওদের। সেখানে ওই গাছ হোক এটা উনি নাই চাইতে পারেন। সুন্দর বাগান করাটা হয়তো ওনার হবি।”
“হবি!” নাক সিঁটকালেন এডোয়ার্ড, “পাগলামো। গাছ মারতে... যাক গে, এটা বোঝাই যায় যে আইন ব্যাবসা করে লোকটার খুব খারাপ রোজগার হয় না” তারপর আর্থারকে কনুইয়ের একটা খোঁচা মেরে মজা করে বললেন, “তাহলে আর্থার, তুমি যখন অনেক অনেক টাকা রোজগার করবে তখন ইউনিসকে এরকম একটা বাড়ি কিনে দেবে তো নাকি?”
আর্থার তার মাথা নেড়ে বলল, “না আমি অত টাকা কোনোদিনই রোজগার করতে পারব নাঅথচ মজা কী জানেন মেজরের ক্লায়েন্টের সংখ্যা আমার থেকেও কম
এডোয়ার্ড মান অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, “বলছ কী হে! তাহলে সে এত টাকা পায় কোত্থেকে?”
উত্তরটা দিল ইউনিস। “ওর স্ত্রী, মানে ওর মৃত স্ত্রীয়ের টাকা সব। ভদ্রমহিলা গত ফেব্রুয়ারি মাসে মারা গেছেনশোনা যাচ্ছে, মরার কিছু সময় আগেই মেজর নাকি মহিলার উইলটা বদলে দিয়েছিলেন। সোজা কথায় বলা যায় উনি ওই মহিলার সব টাকা আত্মসাৎ করেছেন
কথাটা শুনে তরুণ আইনজীবী বলল, “কী বলছ ইউনিস! এসব সত্যি নাকি?”
“সত্যি নয়তো কী? আমি জানি মেজরের বিবাহিত জীবনের দিনগুলো খুব একটা ভালো ছিল নাভদ্রমহিলা যাকে বলে একেবারে জাঁদরেল টাইপের ছিলেন। নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরাতেন মেজরকেবাড়িতে ধূমপান করতে দিতেন না, মদ্যপানও নাটেনিস ক্লাব থেকে মাঝে মাঝেই জঘন্য চিৎকার চ্যাঁচামেচি করে টেনে নিয়ে আসতেন, সে খবরও আমি পেতাম। ডিনার খেতে দু-মিনিট দেরি হলেই এমন দাপাদাপি শুরু করে দিতেন যে কী বলব।”
কথাগুলো শুনে এডোয়ার্ড মানের মেজরের চোখ দুটোর কথা মনে পড়ল, সোনালি ফ্রেমের চশমার পেছনে থাকা দুটো চকচকে চোখআর্সেনিক পাউডার... একটা মৃতদেহ বা বলা ভালো একটা মহিলার মৃতদেহ কেমন যেন একটা যোগাযোগ খুঁজে পাচ্ছিলেন প্রবীণ কেমিস্টওই মুহূর্তে উনি চেষ্টা করলেন ব্যাপারটাকে নিয়ে বেশি না ভাবারতবে ভাগ্য ভালো যে ঘটনাটা একেবারেই ওনার মন থেকে মুছে গেল না।

*                          *                          *

দু’সপ্তাহ বাদে আর্থার হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়লইউনিস নিজের রুমাল দিয়ে চোখ মুছে তার বাবাকে বলল, “আজকে রাতে ডিনার করার কোনো ইচ্ছেই ওর হচ্ছে না। ডাক্তার আর্থারকে বাই কার্বনেট দিয়েছে যদিও। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে নাসাংঘাতিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেবার কয়েক বমিও করেছে।”
এডোয়ার্ড মেয়ের কাছে জানতে চাইলেন, “আর্থার আজ কী খেয়েছে?”
“সেই সবই খেয়েছে যা আমি খেয়েছি,” সহসাই ইউনিসের চোখ জলে ভরে উঠল, “বাবা, তুমি কী এটাই বলতে চাইছ যে, আমি যা রান্না করেছি সেটা খেয়েই ওর শরীর খারাপ হয়েছে?”
এডোয়ার্ড মেয়েকে এক হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে বললেন, “আরে না না, আমি সেরকম কিছু বলতে চাইছি না আমি জানতে চাইছি ও বাইরে কিছু খায়নি তো? সেটা জিজ্ঞেস করেছিস? চল তো দেখি।”
প্রায় অন্ধকার সিঁড়ি দিয়ে ওরা উঠে এল একটা ছোট্ট বেডরুমে আর্থারের বিছানাটা এলোমেলো হয়ে আছেছটফট করছে যন্ত্রণায়। পাশে মেঝেতে রাখা বমির বাটিটার দিকে তাকালেন এডোয়ার্ড
“ওটা আমি সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছি,” বলল ইউনিস
এই সময় সহসাই তরুণ আইনজীবী চিৎকার করে বলে উঠল, ‘”স্কোন!” [এক ধরনের কম মিষ্টি দেওয়া কেক]
ইউনিস জানতে চাইল, “স্কোন মানে? তুমি কী চাইছ আমি তোমার জন্য এখন স্কোন বানাই?”
“স্কোন... আজকে চা খেতে গিয়েছিলাম... মেজরের ওখানে... একটা মামলা বিষয়ে আলোচনা করার জন্য ডেকেছিলেন... একটা স্কোন নিজে থেকে হাতে তুলে দিয়েছিলেন... অদ্ভুত‍!” আর্থার হাঁপাতে হাঁপাতে বলল
ইউনিস বলল, “বাহ সে তো খুব ভালো কথাজানো বাবা, ও মাঝে মাঝেই এরকম ভুল বকছে!”
এডোয়ার্ড মেয়ের কথায় কান না দিয়ে আর্থারকে জিজ্ঞেস করলেন, “মেজর তোমাকে স্কোন দিয়েছিল খেতে। তাতে আশ্চর্যর কী হল?”
“উনি আমাকে প্লেটটা এগিয়ে দেননি। নিজের হাতে একটা তুলে আমাকে খেতে দিয়েছিলেন।”
কেমিস্ট বললেন, “বুঝতে পেরেছিতার মানে উনি তোমাকে একটা বিশেষ স্কোন খেতে বাধ্য করেন
আর্থার অনেক কষ্টে ইতিবাচকভাবে মাথা নেড়ে তার শ্বশুরের দিকে তাকিয়ে বলল, “আমাকে বিষ...”
ইউনিস কথাটা শুনে ঢোঁক গিলে  বলল, “বাবা, আমাদের ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া উচিত?”
“নানিচে আমার দোকানে কাছে সব কিছুই আছে যা এই মুহূর্তে দরকারতার আগে আমাকে পরীক্ষা করে দেখতে হবেহাসপাতালে যা করবে তার থেকে অনেক আগেই আমি কিছু করতে পারব আশা করছি।” বমির বাটিটা দেখিয়ে বললেন, “ভাগ্যিস ওটা ফেলে দিসনি। ওটা নিয়ে নিচে আয়।”  বলেই কেমিস্ট এডোয়ার্ড মান অতি দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেলেনওর পিছু পিছু নেমে এল ইউনিসনিজের পরীক্ষা করার জায়গার ছোট্ট ঘরটার দরজা খুলে জিনিসপত্র সব কিছু বার করে আনলেনযা যা এই মুহূর্তে দরকার সেই সরঞ্জাম। তারপর বললেন, “ইউনিস তুই বিয়ের আগে আমাকে যেমন সাহায্য করতিস, সেরকমই এখন সাহায্য করতে হবে
“ঠিক আছে বাবাকী করতে হবে বলো?”
“ওই বমির কিছুটা টেস্ট টিউবে উঠিয়ে নে,”  বলতে বলতেই উনি একটা ফ্যাকাসে সোনালি তরলের বোতল এনে রাখলেন টেবিলের ওপর। গ্যাস বার্নারটাকে জ্বালালেনতার উপরে চাপালেন একটা কাচের জার
ইউনিস এই সময় বলল, “আচ্ছা বাবা, তুমি কী ধরনের বিষ সেটা জানার জন্য কত রকম পরীক্ষা করবে? সে তো অনেক সময় লেগে যাবে!”
এডোয়ার্ড মান উত্তর দিলেন, “তুই ঠিকই বলেছিস। তবে আমি মাত্র একটাই পরীক্ষা করবসেটা যদি নেতিবাচক ফলাফল দেয়, তাহলে আমি অ্যাম্বুলেন্স ডেকে আর্থারকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করব এখন কথা বলে সময় নষ্ট না করে টেস্ট টিউব থেকে কিছুটা বমি ওই ফুটতে থাকা তরলের ভেতর ফেলে দে।”
“এটা কী?”
“হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিডকথা না বলে যেটা বলছি সেটা কর আগে। বড্ড বকবক করিস তুই।” উনি কোনোদিন এভাবে মেয়ের সঙ্গে কথা বলেন না। কিন্তু এই মুহূর্তে মেজাজ ঠিক রাখা খুব কঠিন।
ইউনিস দেরি না করে টেস্টটিউবের কিছুটা জিনিস ওই ফুটতে থাকা অ্যাসিডের মধ্যে ঢেলে দিয়ে পিছিয়ে এল ওর বাবা একটা কাচের দণ্ড দিয়ে অ্যাসিডের ভেতর ঢেলে দেওয়া পদার্থটাকে কিছুক্ষণ নাড়লেনতারপর আগুন থেকে সরিয়ে আনলেন বোতলটাকে। একটা পাতলা তামার টুকরো নিয়ে সেটাকে ওই মিশ্রণটার মধ্যে চুবিয়ে দিলেন এবং উঠিয়ে নিয়ে অপেক্ষা করলেন দশ সেকেন্ডদেখা গেল পাতটার উপরে একটা খসখসে ধূসর রঙের প্রলেপ ধরেছে
এডোয়ার্ড মান বললেন, “একে বলে রাইনস [Reinsch] টেসওই যে ধূসর প্রলেপটা উপরে ধরেছে, তাতেই প্রমাণ হচ্ছে যে আর্থার আর্সেনিক খেয়েছে

*                          *                          *

আরামকেদারায় বসে পুলিশ ইনস্পেকটর তাকালেন তার সামনে বসে থাকা তিনজন উৎকণ্ঠা মাখানো মানুষের মুখের দিকেতারপর জানালেন, “হ্যাঁ, মিঃ মান, আপনার কথাই ঠিকআমাদের পরীক্ষা থেকে প্রমাণ হয়েছে যে মিঃ আর্থার মার্টিন আর্সেনিক খেয়ে ফেলেছিলেন। ভাগ্য খুব ভালো যে উনি এখনও বেঁচে আছেন। আপনি দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছে
কথাটা শুনে বাবার হাতটা চেপে ধরে ইউনিস স্বামীর দিকে তাকিয়ে অল্প হাসল এবং জানতে চাইল, “তাহলে এবার আপনি মেজর আমস্ট্রংকে গ্রেফতার করবেন তো?”
ইনস্পেকটর মাথা নেড়ে বললেন, “আমরা একজন সম্মানিত নাগরিককে কোনোরকম প্রমাণ ছাড়া কী করে গ্রেপতার করি বলুন?”
প্রবীণ কেমিস্ট উঠে দাঁড়ালেন, “ওই মানুষটা আমার জামাইকে বিষাক্ত স্কোন খেতে দিয়েছিল...”
“দেখুন, আপনি বলছেন যে, মেজর আর্মস্ট্রং এই মানুষটাকে একটা বিষাক্ত স্কোন খেতে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটা প্রমাণ করবেন কী করে? তাছাড়া এটাই বা কী করে প্রমাণ করবেন যে স্কোনটা বিষাক্ত ছিল?”
একটু হতাশ হয়ে এডোয়ার্ড বললেন, “না, মানে আমি এটা প্রমাণ করতে পারি যে, উনি আমার দোকান থেকেই আর্সেনিক কিনেছিলেন
“দেখুন, এই শহরে বা দেশে প্রচুর প্রচুর দোকান আছে যেখানে আর্সেনিক বিক্রি হয়। সেখান থেকে কত শত মানুষই তো আর্সেনিক কিনেছেন কথাটা শুনে চুপ করে গেলেন মিঃ মান। ইন্সপেক্টর পুনরায় বলতে শুরু করলেন, “তাছাড়াও দেখুন, আমাদের কাছে এরকম কোনো প্রমাণও তো নেই যে, আপনার দোকান থেকে কেনা আর্সেনিক আর মিঃ আর্থারের পেটে যে আর্সেনিক পাওয়া গেছে সেটা এক। তাই না? তাছাড়াও আদালত জানতে চাইবে, এটার পেছনে মোটিভ বা উদ্দেশ্য কী ছিল? কেন শুধু শুধু মেজর আর্মস্ট্রং মিঃ আর্থারকে খুন করতে চাইবেন?”
এই সময় আর্থার বলল, “আমাদের মধ্যে একটা আইনগত বিষয় নিয়ে বিবাদ হচ্ছিলযেখানে তার ক্লায়েন্ট আর আমার ক্লায়েন্ট জড়িতআমি ওনার কথায় রাজি হইনি বলেই...”
“উঁহু, এটাকে খুব বড়ো একটা কিছু বলে আদালতে পেশ করা যাবে নাতাছাড়া আপনাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এরকম একটা ছবিই তো উঠে আসছে। তা না হলে উনি আপনাকে চা খেতে ডাকবেন কেন? আর আপনি যাবেনই বা কেন?”
ইউনিস এই সময় বলল, “তাহলে চকোলেটগুলোর ব্যাপারটা কী?”
“চকোলেট, হুম!” ইনস্পেকটর বলে উঠলেন, “আপনি বলছেন পোস্টের মাধ্যমে আপনারা এক বাক্স চকোলেট পেয়েছিলেন উপহার হিসেবে যিনি পাঠিয়েছেন তিনি তার নাম উল্লেখ করেননিওই চকোলেট আপনারা পছন্দ করেন না বলে, না খেয়ে ওটাকে ডিনার টেবিলে রেখে দিয়েছিলেন বাড়িতে যে সমস্ত অতিথিরা এসেছিল তারা ওই চকোলেট খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েদেখুন, আমরা চকোলেটটা নিয়ে যেতেই পারি পরীক্ষা করার জন্য তাতে যদি আর্সেনিক পাওয়াও যায় তাহলেই বা কী করে প্রমাণ করব যে, সেটা মেজরের কাছ থেকে এসেছিল
মিঃ মান বলে উঠলেন, “তার মানে আপনারা একটা এমন কিছু চান যার সঙ্গে মেজরের অপরাধের সরাসরি সূত্র থাকবে। একটা শক্তপোক্ত সূত্র বা কারণ যার কারণে মেজর কাউকে আর্সেনিক খাওয়াতে পারেনসোজা কথায় একটা মৃত শরীর যার সঙ্গে মেজরের সম্পর্ক আছে এবং সেই শরীরে আর্সেনিক-এর প্রমাণ পাওয়া যাবে তাই তো?”
“একদম ঠিক কথা
“ওকে অফিসার। আমার মনে হচ্ছে আমি আপনাকে বলতে পারব, আপনি কোথায় গেলে একটা এরকম ধরনের শরীর পেতে পারেন!”

*                          *                          *

টেলিফোনের রিসিভারটা হাতে নিয়ে ঠক ঠক করে কাঁপছিল আর্থার। আর্সেনিক খাওয়ার পর যা অবস্থা ছিল তার থেকেও বেশি ফ্যাকাশে হয়ে গেছে ওর মুখ ইউনিস জানতে চাইল, “মেজর আমস্ট্রং আবার ফোন করেছে, তাই না?”
“হ্যাঁ, উনি চাইছেন আমি যেন ওর কাছে চা খেতে যাই!”
ইউনিস ঢোঁক গিলে বলল, “তুমি নিশ্চয়ই সম্মতি দাওনি?”
“উনি বলছেন, একটা মামলা নিয়ে একটু আলোচনা করতে হবেওর বাড়িতে যেন আমি চা খেতে যাই এই নিয়ে তৃতীয়বার উনি আমাকে তার বাড়িতে আমন্ত্রণ জানালেন,” তরুণ আইনজীবীর চোখে আতঙ্কের ছাপ, “আমি আর কত অজুহাত দেব বল তোউনি সব সময় আমার দিকে নজর রেখে চলেছেনযেখানেই আমি যাই কোনো না কোনোভাবে উনি আমাকে ফলো করেনআমার সব সময় ভয় লাগছেআমি যাই খাচ্ছি তাতেই যেন আর্সেনিক মিশে আছে বলে মনে হচ্ছেএই স্নায়ুচাপ আমি আর নিতে পারছি না
কথাটা শেষ হতে না হতেই দোকানের ভেতরে ঢুকলেন মিঃ এডোয়ার্ড মান। ফোনের কাছে বসে থাকা ফ্যাকাশে মেরে যাওয়া আর্থারকে বললেন, “আর খুব বেশি সময় তোমাকে এ নিয়ে কষ্ট সহ্য করতে হবে না আজ রাতেই পুলিশ ওই শরীরটাকে কবরের নিচ থেকে তুলবেআমি নিজে সেখানে থাকব একজন সাক্ষী হিসাবে
ইউনিস জানতে চাইল, “ওটা থেকে কী পাওয়া গেল, তার কথা কখন জানা যাবে?”
“আমার তো মনে হয় যখনই ওরা কফিনটা খুলবে তখনই ওরা যা জানতে চাইছে সেটার ব্যাপারে প্রমাণ পেয়ে যাবে

*                          *                          *

তিনটে লন্ঠন জ্বলছিলসময় রাত। রাত্রিবেলাতেই এই কাজটা করার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ, কারণ তারা চায়নি তাদের এই কাজের খবর শহরের বেশি মানুষ জানতে পারুকইনস্পেকটর মিঃ মানের দিকে তাকিয়ে বললেন, “আসুন পরিচয় করিয়ে দিই। ইনি হলেন পোস্টমর্টেম একজামিনেশন-এর একজন খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ স্যার বার্নার্ড স্পিলসবুরি।”
প্রবীণ কেমিস্ট হ্যান্ডশেক করলেন কিন্তু কিছু বললেন নাতার লক্ষ্য এখন চারজন পুলিশ কর্মীর দিকে। মাটি খুঁড়ে কবর থেকে তুলে আনার জন্য ওরা এসেছেন। এই সময়ে চার্চের ওই এলাকায় কেউ যদি এসে পড়ত তাহলে নিশ্চিতভাবেই ভয় পেয়ে যেতমনে পড়ে যেত আগেকার দিনের গল্পকথার বিষয় কবর চোরের দল রাত্রিবেলায় কবর খুঁড়ে শরীর চুরি করে নিয়ে যেত। সেরকমটাই এই মুহূর্তের পরিবেশ।
অবশেষে কবর খুঁড়ে বার করা হল কফিনটাকে। ইনস্পেকটর কফিনের ওপর থেকে মাটি সরাতেই দেখতে পেলেন নামের ফলকটামিসেস জেন আমস্ট্রংহ্যাঁ এটাই মেজরের স্ত্রী-এর কবর
“আপনার ল্যাবরেটরিতে নিয়ে যাওয়ার আগে একবার খুলে দেখা যাক, কী বলেন স্যার?” ইনস্পেকটর বললেন।
ইতিবাচকভাবে মাথা নাড়লেন বিশেষজ্ঞ।
পুলিশের লোকেরা সাবধানে ঢাকনাটা খুলল এবং লন্ঠনের আলোতে ভালো করে মৃতদেহটা দেখে স্যার বার্নার্ড জানতে চাইলেন, “এটা গত ফেব্রুয়ারির মৃতদেহ?”
ইনস্পেকটর বললেন, “হ্যাঁ, ফেব্রুয়ারি মাসেই মারা গেছেন মিসেস আর্মস্ট্রং।”
“বাববা! তাহলে তো বলতেই হবে শরীরটা খুব সুন্দরভাবে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে খুব সুন্দর মানে অতিমাত্রায় সুন্দর আসলে কী জানেন ইনস্পেকটর, এরকম কিছু তখনই হয় যদি আর্সেনিক থাকে মৃতদেহের শরীরে
বিশেষজ্ঞ প্রবীণ কেমিস্টের দিকে তাকালেন এবং বললেন, “আপনি এবার নিশ্চিন্ত হতে পারেন মিঃ মানপুলিশের তরফ থেকে মেজর আমস্ট্রং-এর বিরুদ্ধে একটা মামলা দায়ের করা হবে আর সেই মামলায় আমি নিজে সাক্ষী দেব।”

*                          *                          *

পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় মিসেস আর্মস্ট্রংয়ের শরীরে আর্সেনিক বিষই ছিল মেজরকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার অপরাধের ভয়ানক দিকটা উন্মোচিত হয় উনি সত্যিই নিজে স্ত্রীর উইল বদলেছিলেন, যাতে সমস্ত সম্পত্তি তার দখলে আসেতার আইন ব্যাবসা মোটেই ভালোভাবে চলছিল নাঅর্থের দরকার ছিলই। চেনা স্থানীয় ডাক্তার রায় দিয়েছিলেন মিসেস আর্মস্ট্রং স্বাভাবিকভাবেই মারা গিয়েছেন। তাকে সমাধিস্থ করা হয় মৃত্যুর কারণ কোনোভাবেই সন্দেহের তালিকায় আসেনিসাহস বেড়ে যায় মেজরের। উনি আবার ওই একই পদ্ধতি ব্যবহার করেন এক ব্যবসায়ীর ওপর, যার কাছ থেকে উনি অর্থ ধার করেছিলেন। তাকে চা খেতে ডাকেন এবং তাকে আর্সেনিক খাইয়ে মেরে ফেলেনব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক মৃত্যুর কারণ হিসেবে  ধরে নেন অ্যাপেন্ডিসাইটিসমেজর এবারেও এই খুনের দায় থেকে বেঁচে যানতারপর নিজের ব্যাবসা বাঁচাতে প্ল্যান করেন আর্থারকে হত্যা করারপ্রথমে বিষাক্ত চকোলেট পাঠান কিন্তু সেটা দিয়ে কোনো কাজ হয়নি তখন ব্যবসায়ীর মতোই ওকে বাড়িতে ডাকেন এবং বিষাক্ত স্কোন খাইয়ে দেন। কিন্তু রাখে হরি মারে কে প্রবাদ সত্যি হয়ে যায় কেমিস্ট মিঃ এডোয়ার্ড  মানের জন্য। ওনার অভিজ্ঞ চোখ ব্যাপারটা বুঝে ফেলে এবং মেজর আমস্ট্রং ধরা পড়ে যান। মেজরের বাগানের ড্যান্ডেলিয়ন গাছগুলো বহাল তবিয়তেই ছিল। ওগুলোতে কেউ বিষ প্রয়োগ করেইনি
--------
[Terry Deary লিখিত Spy Stories বইয়ের The Nineteen Dandelions]
--------
ছবিঃ সুমিত রায়

No comments:

Post a comment