বহুরূপী :: পাখি দেখুন পাখি চিনুনঃ তৃতীয় পর্ব – প্রতিম দাস

পাখি দেখুন পাখি চিনুন
প্রতিম দাস

তৃতীয় পর্ব
ভারতীয় প্যাঁচা
আগের পর্বগুলিঃ প্রথম পর্ব, দ্বিতীয় পর্ব

আমাদের দেশে মোট ৩৫ প্রজাতির প্যাঁচা দেখতে পাওয়া যায়। তার থেকে প্রথম সাতটি প্যাঁচা বিষয়ে তথ্য পেশ করলাম।


১। আন্দামান মাস্কড আ (Tyto deroepstorffi)
বার্ন আউল গোষ্ঠীর মাঝারি আকারের প্যাঁচা যাদের দক্ষিণ আন্দামানের দ্বীপপুঞ্জগুলিতে দেখা যায়। একে বার্ন আউল (Tyto Alba)-এর একটি উপপ্রজাতি বলেও কেউ কেউ বিবেচনা করেন।
মুখের সামনের অংশ সাদাটে খয়েরি, সাথে কমলা-বাদামি দাগ দিয়ে ঘেরা। চোখ কালচে-বাদামি এবং ঠোঁটে হলদেটে সাদা। ডানার পালকাবরণ সহ সমগ্র উপরিভাগ গাঢ় বাদামি, সাথে চকলেট-বাদামি রঙের প্যাচ এবং কমলা-বাফ রঙের দাগ  যুক্ত। ডানা ও লেজ অপেক্ষাকৃত ছোটো প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি পালক ও লেজে কয়েকটি সংকীর্ণ গাঢ় দাগ দেখা যায়। বুক সোনালি রুফাস রঙের সঙ্গে কালচে দাগ, যা পেটের দিকে গিয়ে সাদাটে হয়ে যায়। পা কালচে ধূসর-গোলাপি পায়ের গোড়ায় সাদাটে-গৈরিক পালক থাকে। নখ ধূসর রক্তবর্ণ
দৈর্ঘ্য ৩০ - ৩৬ সেমি। পাখার দৈর্ঘ্য ২৫০ - ২৬৪ মিমি। লেজের দৈর্ঘ্য ১১০ - ১১৩ মিমি।
এরা নিশাচর পাখি সারাদিন বিশ্রাম করে গোধূলিবেলায় শিকারের চেষ্টা করে।
এদের ডাক উচ্চমাত্রার, অপেক্ষাকৃত ছোটো, সামান্য চাপা ধরনের খ্যানখেনে ০.৫ ০.৭0 সেকেন্ডেরশ্রিইইট শব্দ।
খাদ্য সাধার বার্ন আউলের অনুরূপ বাসা থেকে ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর হাড় পাওয়া গেছে। আন্দামান মাস্ক আউলের প্রজনন অভ্যাস কার্যত অজানা
উপকূলীয় এলাকায় গাছের কাছাকাছি এবং জনবসতি মধ্যে এদের বাসা বানাতে দেখা যায়।


২। কলারড আলেট
বৃত্তাকার মাথা সহ একটি ছোটো পেঁচাএরা কলারড পিগমি আউল নামে পরিচিত
ফ্যাকাশে বাদামি সাদা ভ্রূ চোখ ফ্যাকাশে লেবু-হলুদ বা সোনালি-হলুদ নীলাভ থেকে সবুজাভ ঠোঁট, গোড়ার দিক গাঢ় রঙের। চিবুক সাদা গলা বড়ো সাদা প্যাচ থাকে। উপরের বুক পাঁশুটে-বাদামি, ফ্যাকাশে বাদামি রঙের ছোটো ছোটো ব্যান্ডের মতো দাগে ভরা থাকে। মাথা-কানের পালকাবরণ এবং ঘাড় নিস্তেজ ধূসর-বাদামি বা লালচে-বাদামি সাদাটে-হরিদ্রাভ বা বিভিন্ন মাত্রার রুফাস ছোটো ছোটো দাগও দেখা যায়। ঘাড়ের নিচ থেকে দুপাশে কালো প্যাচ থাকে যা দূর থেকে নকল চোখের ভ্রান্তি সৃষ্টি করে। শরীরের উপরিভাগ কটা বা ধূসরাভ-বাদামি, সাদাটে-হরিদ্রাভ দাগ থাকে। প্রাইমারিতে লেজ কালচে রুফাস থেকে ধূসরাভ-বাদামি রঙের। সঙ্গে ঘন লালচে-বাদামি সাদাটে দাগ দিয়ে ভর্তি থাকে।
পা পায়ের আঙুল জলপাই-ধূসর ফ্যাকাশে সবুজাভ-হলুদ পায়ের পাতার নিচের অংশেনখ কালচে
আকারঃ দৈর্ঘ্য ১৫ ১৭ সেমি। পাখার দৈর্ঘ্য ৮০ - ১০১ মিমি। লেজের দৈর্ঘ্য ৫৬ - ৭১ মিমি। ওজন ৫২ - ৬৩ গ্রাম। মেয়ে পাখি সাধারণত বেশি ওজনের ও বড়ো মাপের হয়
উপ-উ উ-উপ, উপ-উ উ-উপ পুরুষ পাখির গান একটি চার নোট বিশিষ্ট বাঁশির আওয়াজের মতো কয়েক সেকেন্ডের ফাঁক রেখে পুনরাবৃত্তিতে শোনা যায়। ডাক ছাড়ার সময় এরা মাথাটাকে এপাশে ওপাশে ওপর নিচে নড়ায়।
খাদ্যঃ ছোটো পাখি মূলত খায় সঙ্গে ইঁদুর, টিকটিকি, সিকাডা, ফড়িং, বিটল এবং অন্যান্য বড়ো পোকামাকড় ধরতেও দেখা যায়। এই পাখি প্রায় নিজের ওজনসম্পন্ন পাখিকেও শিকার করে এমনও দেখা গেছে।
প্রজননঃ সাধারণত এপ্রিল মে মাসে, তবে হিমালয় অঞ্চলে প্রজনন মৌসুমে জুন - মার্চ হতেও দেখা যায়। ১০ - ৬০ ফুট উঁচু গাছ নির্বাচন করে যেখানে অন্য পাখির বাসা থাকে। সাধারণত চারটে সাদা গোল ডিম পাড়ে
হিমালয় থেকে শুরু করে উত্তর পাকিস্তান থেকে পূর্ব চিন এবং তাইওয়ান, দক্ষিণ মালয়েশিয়া হয়ে সুমাত্রা বোর্নিও  এদের বিচরণক্ষেত্র।


৩। ব্রাউন উড আউল
বাদামি পালকের কানের পালকহী একটি মাঝারি আকারের পেঁচা মুখের সামনের অংশ হরিদ্রাভ বা রুফাস খয়েরি সঙ্গে একটি সংকীর্ণ কিন্তু স্বতন্ত্র কালো বর্ডার থাকে। চোখের চারপাশে থাকে কালচে আভা। ভ্রূ সাদাটে মাখনরঙা বা ফ্যাকাশে কমলা-বাদামি চোখ গাঢ় বাদামী মাথা কালচে-বাদামি, সঙ্গে রুফাস ছোপ থাকে। ডানার পালকাবরণ হরিদ্রাভ হয়, কালচে কটা-বাদামি ডোরা কাটা লেজ এবং অগ্রভাগে সাদা ফোঁটা থাকে। বাদামি গলায় ও ঘাড়ের মাঝে একটি সংকীর্ণ সাদা অনুভূমিক দাগ থাকে। বুকের উপরের দিক রুফাস রঙেরওপর থেকে নিচ পর্যন্ত কালচে বা গাঢ় বাদামি দাগে ভরা।
আকারঃ দৈর্ঘ্য ৩৪ - ৪৫ সেমি। পাখার দৈর্ঘ্য ২৮৬ - ৪০০ মিমি। লেজের দৈর্ঘ্য ১৫১ - ২৯৯ মিমি। ওজন ৮০০ - ১১০০ গ্রাম। নারী পুরুষদের চেয়ে আকারে বড়ো হয়
ব্রা আউল লাজুক, নিশাচর পাখি দিনের বেলায় ঘন পাতায় ঢাকা উঁচু গাছের ওপর থাকে। কোনও কারণে বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটলে এই পেঁচা নিজেদের কাঠের একটি ডালের মতো স্থির রেখে বসে থাকে। এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে নিঃশব্দে উড়ে চলে যায়। চাঁদনি রাতে বিশেষভাবে এদের আওয়াজ শোনা যায়।
পুরুষ পাখির ডাক একটিমাত্র শব্দ, সঙ্গে সামান্য সময়ের অনুরণিত হুহ হুউউউ এই শব্দগুচ্ছ কয়েক সেকেন্ডের অন্তরের পুনরাবৃত্তিতে শোনাও যায় এছাড়া আরেকটি শব্দগুচ্ছ শোনা যায় হুহ–টু-হুউউউ, যার প্রথম হুহ খুব আস্তে উচ্চারিত হয়।
ইঁদুর জাতীয় ছোটো স্তন্যপায়ী প্রাণী ধরে খায় এছাড়াও ছোটো পাখি সরীসৃপ, মাছ খেতেও দেখা যায়।
প্রজনন মৌসুম দক্ষিণ ভারতে জানুয়ারি - মার্চ কোন একটি গাছের কোটরের ধ্যে বাসা বানিয়ে সাধারণত দুটি ডিম পাড়ে।
উপদ্বীপীয় ভারত, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ বার্মা, দক্ষিণ থাইল্যান্ড, মালয় উপদ্বীপ, সুমাত্রা, বেলিতাং, নিয়াস দ্বীপ, মেন্তাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ, বানিয়াক দ্বীপপুঞ্জ, বোর্নিও এবং পশ্চিমে জাভাতে এদের দেখা মেলে।


৪। কলারড স্কপ্স আউল
দীর্ঘ কালচে বুটিদার পালকযুক্ত কানওয়ালা একটি ছোটো প্যাঁচা। ধূসর-বাদামি এবং রুফাস রঙের এই জাতীয় প্যাঁচা বেশি দেখা যায় পূর্ব নেপাল থেকে পূর্ব আসাম, পূর্ব হিমালয়, দক্ষিণে পূর্ব বাংলায়, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, হাইনান, দক্ষিণ চিন এবং তাইওয়ান এদের বিচরণক্ষেত্র।
মুখের সামনের বৃত্ত নিস্তেজ হরিদ্রাভ চোখ কমলা-বাদামি বা গাঢ় বাদামি ম্লান হলুদ ঠোঁট, আগার অংশ ফ্যাকাশে সবুজাভ দেহের উপরিভাগ হালকা বাদামি, রুফাস রঙের সঙ্গে কালো, বাদামি, ফ্যাকাশে ধূসর-বাদামি রঙে চিত্রবিচিত্র তিলকিত ঘাড়ের নিচের অংশে দুটি ফ্যাকাশে রঙের বেড়ি লক্ষণীয়। নিম্নভাগ ফ্যাকাশে বাদামি, তার ওপর তিরচিহ্নের মতো ছোটো ছোটো দাগ থাকে। পেটের নিচের দিক থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত জলপাই এবং লালচে মাখন রঙের পালকে ঢাকা থাকে। নখ এবং পায়ের আঙুলের পালকের মতো একই রং হয়
দৈর্ঘ্য ২৩ - ২৫ সেমি। পাখার দৈর্ঘ্য ১৫৫ - ১৫৮ মিমি। লেজের দৈর্ঘ্য ৭৫ - ১০২ মিমি। ওজন ১০০ - ১৭০ গ্রাম। মেয়ে পাখি আকারে বড়ো এবং পুরুষদের চেয়ে ওজনে ভারী হয়
নিশাচর পাখি এবং খুব কমই দিনের বেলায় দেখা যায় একটি ঘন পাতাযুক্ত ডালে দিনে নিঃস্পন্দ বসে থাকে।
একটি একক শব্দ বুয়ো ও এদের ডাক। প্রায় ১২ - ২০ সেকেন্ড অন্তর পুনরাবৃত্তিতে চলতে থাকে যা ১৫ মিনিট ধরে চলতে পারে।
প্রধানত বিটল, ফড়িং এবং অন্যান্য পোকামাকড় খায় টিকটিকি, ইঁদুর এবং ছোটো পাখিও ধরতে দেখা গেছে।
প্রজনন মৌসুম ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস। জমি থেকে ২ - ৫ মিটার উচ্চতায় প্রাকৃতিক গহ্বর বা গাছের গুঁড়ি বা মৃত গাছের গুঁড়ির গর্ত খুঁজে নিয়ে বাস বানায়। তিন বা চারটে ডিম পাড়ে।


৫। প্যাল্লিড স্কপ্স আউল (Otus brucei)
একটি ছোটো মাপের প্যাঁচা যাদের মিডল ইস্ট থেকে পশ্চিমের দিক এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেখা যায়। কখন কখন এদের স্ট্রিয়াটেড স্কপ্স আউল নামেও ডাকা হয়।
এই প্যাঁচা ইউরেশিয় স্কপ্স আউলের মতোই দেখতে, কিন্তু এদের পিঠের দিকে স্বতন্ত্র দাগের পরিমাণ বেশি থাকে।
শীতকালে আরব উপদ্বীপ, মিশর এবং পাকিস্তানে এদের দেখা মেলে। এরা গাছ ও ঝোপঝাড় আছে এমন জায়গায় বসবাস করতে পছন্দ করে
প্রাথমিকভাবে এ পতঙ্গভুক পাখি। বিভিন্ন পোকামাকড়, টিকটিকি, মাকড়সা এবং ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী শিকার করতে দেখা যায়। মাঝে মাঝে দিনের বেলাতেও এদের শিকার করতে দেখা যায়। উড়ন্ত অবস্থায় বাদুড় এবং পোকামাকড় শিকার করতে সক্ষম।
কাঠঠোকরার বানানো গর্ত খুঁজে নিয়ে বাসা বানায়এপ্রিল থেকে জুন মাস প্রজনন মৌসুম। ৪ থেকে ৬টি পাড়ে। জন্ম নিতে ২৭ দিন সময় লাগে এবং ৩০ দিনের মধ্যে পালক জমে ওঠে গায়ে।
এদের ডাক নিচু মাত্রার ফাঁপাধরনের ঘুঘুর ডাকের মতো শব্দের একটি সিরিজ
ভারতের গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ এবং রাজস্থানে এদের দেখা পাওয়া গেছে। দক্ষিণে কেরালায় ধানক্ষেতে এই প্রজাতির দেখা পাওয়া গেছে একবার মাত্র।


৬। মাউন্টেন স্কপ্স আউল
ছোটো মাপের ভোঁতা ধরনের পাখনার এবং ছোটো কানের পালকযুক্ত একটি প্যাঁচা-প্রজাতি। এদের স্পটেড স্কপ্স আউল নামেও ডাকা হয়ে থাকে
পাকিস্তান, নেপাল, ভারতের উত্তর ও পূর্ব হিমালয়, সিকিম, বার্মা, দক্ষিণ-পূর্ব চি, তাইওয়ান, দক্ষি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মালয় উপদ্বীপ, সুমাত্রা ও বোর্নিওতে এদের দেখা মেলে।
এই প্যাঁচা বিভিন্ন রঙয়ের দেখা যায়। সম্মুখস্থ বৃত্ত রুফাস-বাদামি, সঙ্গে সুস্পষ্ট লোমের মতো পালক লক্ষণীয়। ফ্যাকাশে অমসৃণ এই পালকগুলির গোড়া এবং ডগা কালচে চোখ সুবর্ণ-হলুদ বা সবুজাভ-হলুদ ঠোঁট ফ্যাকাশে কালচে রঙের, সাদাটে বা মোম-হলুদ কানের পালকাবরণ এবং থুতনি কালচে দাগযুক্তঘাড় সাদাটে বা রুফাস-বাদামি, তার ওপর কালচে গাঢ় বাদামি দাগ টানা, সাথে কালচে ফোঁটা থাকে। কপাল, মাথার ওপরদিক, ছোটো কানের পালক ফ্যাকশে বাফরঙা, ম্লান রুফাস ও কালো থাকে ঘাড়ের নিচে পর্যন্ত
উপরিভাগ কটা খয়েরি বা রুফাস-বাদামি, কালচে লাল। ডানার মধ্যমভাগের পালকাবরণ বাদামি এবং কালো দিয়ে চিত্রিত-বিচিত্রিত লেজে রুফাস-বাদামির ওপর কালচে এবং চেস্টনাট বাদামি দাগ দেখা যায়। পেটের দিক সাদাটে, রুফাস দাগ টানা তার ওপর ছোটো ত্রিকোনা কালো এবং সাদা দাগ লক্ষণীয়। পায়ের আঙুল অবধি ম্লান মাংসল খয়েরি বা সাদাটে পালক থাকে।
দৈর্ঘ্য ১৮ - ২০ সেমি। ডানার দৈর্ঘ্য প্রায় ১২৯ মিমি। লেজের দৈর্ঘ্য ৬৫ - ৮৯ মিমি। ওজন ৫৩ - ১১২ গ্রাম।
নিশাচর এই পাখি গভীর বন এবং ছায়াময় এলাকায় বিচরণ করে।
হুই হুই বা প্লিউ প্লিউ শব্দের অপেক্ষাকৃত উচ্চমাত্রার ডবল হুইসেলমতো এদের ডাক। মেয়ে পাখি ডাকে খুব কম। পুরুষ পাখির আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায় একটি একক হালকা শব্দ করে সাড়া দেয়।
মথ জাতীয় পোকামাকড় প্রধান খাদ্য। উড়ন্ত অবস্থায় শিকার ধরতে সক্ষম।
মার্চ-এপ্রিল থেকে জুন প্রজনন কাল। বাসা বানায় প্রাকৃতিক গর্ত বা কখনও কখনও কাঠঠোকরা বা বারবেটের পরিত্যক্ত বাসায়। মাটি থেকে ১.৫ - ৭.৫ মিটার উচ্চতায় এদের বাসা দেখতে পাওয়া যায়।


৭। ইন্ডিয়ান স্কপ্স আউল
একটি ছোটোমাপের প্যাঁচা যাদের বড়ো সুস্পষ্ট কানের পালক লক্ষ্যনীয়। পূর্বে এদের কলারড স্কপ্স আউল (Otus lettia)-এর একটি উপজাতি হিসেবে বিবেচনা করা হত
মুখের সামনের বৃত্ত ফ্যাকাশে ধূসরাভ-বাদামি, সঙ্গে স্বতন্ত্র কালচে বর্ডার থাকে। কপাল ও ভ্রূ পার্শ্ববর্তী পালকের চেয়ে ফ্যাকাশে হয় চোখ লালচে-বাদামি বা গাঢ় বাদামি এবং খুব কমই হলদেটে বাদামি দেখা যায়। ঠোঁট সবুজাভ বাদামি ডগার অংশ গাঢ় মাথার ওপরদিক গাঢ় কালচে এবং আঙরাখার মতো বাকি অংশ তুলনায় ফ্যাকাশে হয়
দেহের ওপরের অংশ চিত্রবিচিত্র হয়ে থাকে দীর্ঘ কালো দাগ, সাদাটে-বাদামি, ধূসরাভ-বাদামি, মলিন ক্রিম রঙ ইত্যাদির সমন্বয়ে। ডানা এবং লেজ সারিবদ্ধ দাগে সাজানো। নিচের দিক গৈরিক-বাদামি পেটের নিচের দিকে হালকা হয়ে যায়। সঙ্গে লম্বা দাগ এবং তরঙ্গায়িত দাগে ভর্তি। পা ফ্যাকাশে ধূসরাভ-বাদামি পালকে ঢাকা, নিচের দিকে সাদা। পায়ের আঙুল সবুজাভ-হলুদ ফ্যাকাশে বাদামি নখ ও থাবা।
দৈর্ঘ্য ২০ - ২২ সেমি। ডানার দৈর্ঘ্য ১৪৩ - ১৮৩ মিমি। ওজন ১২৫ - ১৫২ গ্রাম। মেয়েরা পুরুষদের চেয়ে মাপে ও ভারে বড়ো হয়।
নিশাচর পাখি, খুব কমই দিনের বেলায় দেখা যায়
পুরুষের গান ব্যাঙের মতো নিয়মিত ব্যবধানযুক্ত প্রশ্নসূচক wuatt শব্দের সিরিজ এছাড়াও অনিয়মিত ধারাবাহিক ackackackack... শব্দ করতেও শোনা যায় যা প্রায় পাঁচ সেকেন্ডের জন্য স্থায়ী হয়।
বিটল এবং ফড়িংসহ বিভিন্ন পোকামাকড় প্রধাত খায়। মাঝে মাঝে টিকটিকি, ইঁদুর ও ছোটো পাখি শিকার করে।
এদের প্রজনন বিষয়ে খুব বেশি তথ্য জানা নেই। তবে মধ্য উচ্চতার গাছের কোটরে এরা বাসা করে থাকে। ৪টি সাদা গোল ডিম পাড়ে
দক্ষিণ পাকিস্তান, হিমালয়ের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে, ভারতে পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায়, পূর্ব কাশ্মীর থেকে মধ্য নেপাল, শ্রীলঙ্কাতে এদের দেখা মেলে।
(চলবে)
ছবিঃ প্রতিম দাস

No comments:

Post a comment