Showing posts with label শ্যামাচরণ কর্মকার. Show all posts
Showing posts with label শ্যামাচরণ কর্মকার. Show all posts

ছড়া-কবিতা:: সরি - শ‍্যামাচরণ কর্মকার


সরি
শ‍্যামাচরণ কর্মকার

এই যে দাদা, চা খাচ্ছেন চুমুক দিয়ে চায়ে
চা-টা কেন পড়ল এসে আমার দুটো পায়ে?
উহ্ কী গরম! যাচ্ছে জ্বলে, ব‍্যাপার মশাই এ কী?
মরছি আমি যন্ত্রণাতে আক্কেল নেই দেখি!

‘সরিদাদা, ইচ্ছে করে করিনি এই ভুল
যাচ্ছি ট্রেনে চায়ের ভাঁড়টা দুলছে দোদুলদুল।
ট্রেন দুলছে, দুলছি আমি, দুলছে চায়ের ভাঁড়
আপনি বলুন এমন হলে ব‍্যালান্স থাকে কার?

রাখুন মশাই সাফাই গাওয়া নিচ্ছি না তা মেনে
জেনেবুঝেও কেন চা খান ছুটতে থাকা ট্রেনে?
দু-কান খুলে শুনুন দাদা বলছি কথা পষ্ট -
‘সরিবলে ছাড় পেয়ে যান অন‍্যের হয় কষ্ট।

‘সরিকি আর মলম নাকি? ব‍্যথা কমায় তা কি?
তবু এটার রমরমাতে সাবধানতা ঢাকি।
কারও চা-টা পড়ছে পায়ে, কেউ দিচ্ছে গুঁতো
পা দেয় কেউ কারোর পায়ে যাচ্ছে ছিঁড়ে জুতো।

লাগছে মাথায় কারও কনুই যাচ্ছে কোথাও ফুলে
হাতের গুঁতোয় চশমা ওড়াই ‘সরি’-র ছুতো তুলে।
‘সরি’-র দোহাই, পাচ্ছি রেহাই হচ্ছে লোকের ক্ষতি
তবু কেন দিচ্ছি না ধ‍্যান সাবধানতার প্রতি?

‘সরিযেন বলতে না হয় সেটাই দেখুন আগে
বেয়াক্কেলে কাণ্ড দেখে গা জ্বলে যায় রাগে।
শুনব না আর ‘সরি’-র দোহাই করছি হুঁশিয়ার -
দোষ করে কেউ বললে ‘সরিমটকে দেব ঘাড়!
----------
ছবি - মেটা এআই

ছড়া-কবিতা:: বায়না - শ‍্যামাচরণ কর্মকার


বায়না
শ‍্যামাচরণ কর্মকার

দাও না কিনে হারমোনিয়াম শিখব আমি গান
ছোট্টবেলা থেকেই আমার গানের দিকেই টান।
বাবা তবু হারমোনিয়াম দেয়নি আমায় কিনে
বলত শুনে, গান শিখবি? গলা তো দেখছি নে?

অনেক কেঁদেকেটেও আমার হয়নি তো গান শেখা
গান হবে না আছে এটাই কপালেতে লেখা?
গাইতে গাইতে গাইয়ে হব, হবে অনেক নাম
দাও না বাবা হারমোনিয়াম কতই বা আর দাম।

বলা-ই বৃথা দেয়নি কিনে দিলাম ছেড়ে হাল
ভাবলাম, ঠিক আসবে সুযোগ আজ নয়তো কাল।
সুযোগ এল বিয়ের পরে, বায়না ধরি আমি
স্কেলচেঞ্জার হারমোনিয়াম আনল কিনে স্বামী।

স্বামী আমার মস্ত গায়ক বসায় আমায় গানে
গান শোনে আর পালাতে চায়, আঙুল গোঁজে কানে।
বলে, এ কী? থামো থামো, হচ্ছে না তো সুর
কান-ফাটানো চিৎকারে কি গান-টান হয়, ধুর?

যেমনি গলা তেমনি আওয়াজ শাঁকচুন্নি যেন
এখন বুঝি, বাবা তোমায় গান শেখাননি কেন?
কান কড়কড়, বুক ধড়ফড়, উঠছে কেঁপে বাড়ি
রাগ কোরো না শোনো গিন্নি, গানেতে দাও দাঁড়ি।

বলছটা কী! গাইব না গান? গান ছাড়া যায় চলা?
এতই খারাপ আর বেসুরো আমার গানের গলা?
শুনলে বুঝি বাঘ পালাবে? আসবে না সেও কাছে?
আমার মতো গাইয়ে হলে বাঘের থেকে বাঁচে?

ঠিক বলছ? তাহলে যার বাঘের দেশে বাড়ি
আমার কাছে এলে তাদের গান শেখাতে পারি।
নিয়ম করে গান শেখাব, সুর শেখাব খেটে
গান শিখে যাও কেউ যাবে না আর তো বাঘের পেটে।

গায়ক স্বামী শুনে অবাক, চোখ কপালে তার
গান শোনে আর কান চাপা দেয় রাগে বারংবার!
----------
ছবি - শ্রেয়া সেন

ছড়া-কবিতা:: মোরগের ব‍্যথা - শ‍্যামাচরণ কর্মকার


মোরগের ব‍্যথা
শ‍্যামাচরণ কর্মকার

সকালবেলায় একটা মোরগ কী এক ভেবে মনে
শুকনো মুখে আছে বসে একলা ঘরের কোণে।
মোরগটা খুব হাসিখুশি ছটফটে সে খুব
সকাল হলেই কঁকর-কঁকর ডাকেতে দেয় ডুব।

আজ দেখি সে অন‍্যরকম, ডাক নেই তার গলায়
ঝিমিয়ে আছে, ছটফটানি নেই তো চলায়বলায়।
হঠাৎ একটা মুরগি তাকে বলল, ‘ব‍্যাপার কী তোর?
বুঝতে পারছি একটা কিছু ঘটছে মনের ভিতর।

ভাবিসটা কী? মনটা খারাপ? কিন্তু কেন সই?
আজকে এমন মনমরা তুই? নেই কোনো হইচই?
মোরগ বলে, ‘মন ভালো নেই, হয় না রাতে ঘুম
চতুর্দিকে চলছে এখন পিকনিকেরই ধুম।

কবে আছি, কবে যে নেই অস্থির তাই ভেবে
জবাই হলে ছানাগুলোর দায়িত্ব কে নেবে?
মুরগি বলে, ‘তাই তো বটে, বিষয়টা তো ভাবার
হয়তো এখন বেঁচে আছি কালই হব সাবাড়

মুরগি-মোরগ দু'টির মনেই মনখারাপের সুর
ওদের ব‍্যথা কেউ বোঝে না বুকজুড়ে ভাঙচুর!
----------
ছবি - আন্তর্জাল
ম্যাজিক ল্যাম্প 

ছড়া-কবিতা:: ছড়ার ডাক - শ‍্যামাচরণ কর্মকার


ছড়ার ডাক
শ‍্যামাচরণ কর্মকার

এই খোকা, তুই ছড়া পড়িস? পড়িস ছড়ার বই?
খোকা শুনে বলল, ওসব পড়ার সময় কই?
স্কুলের পড়া, বাড়ির পড়া, পড়া কি আর কম?
সকাল-বিকেল টিউশানে যাই বই পড়ি হরদম।
কিন্তু ছড়া ভালোবাসি ছড়া যখন ডাকে
বই রেখে দিই, ডাকলে ছড়া মন কি পড়ায় থাকে?
কিছু ছড়ার গন্ধ মাখি পাঠ‍্য বইয়ের পড়ায়
মন ভরে কি একটা-দুটোয়? ছড়ার খুশি ছড়ায়?
ছড়ার মজা, ছড়ার খুশি, ছড়ার ছন্দ ভুলি
এত্ত ছড়ার বই আছে তাও কজন হাতে তুলি?
আদ‍্যিকালের ছড়ায় ভরে আজও বইয়ের পাতা
সেকাল-একাল ছড়ার ফুলে এক সুতোতে গাঁথা।
পাতায় পাতায় মুক্তো-মানিক, পান্না-চুনি-হিরে
শিশুর মনে দোলা দিতে পড়া আসুক ফিরে।
ছড়া অযুত, ছড়া নিযুত, ছড়া হাজার-লাখ
ছড়া সবার বন্ধু হয়ে বুকটা জুড়ে থাক।
কত্ত ছড়া ছড়িয়ে আছে গাঁয়ের পথে-ঘাটে
আম-জাম-বট-কাঁঠাল-লিচু, সবুজ ধানের মাঠে।
ছড়া আছে শিশিরফোঁটায়, ঘাসে, লতায়-পাতায়
ছড়া আছে চাঁদের আলোয় বাঁশবাগানের মাথায়।
ছড়া আছে ঝরনা-পাহাড়-সাগর-নদীর কূলে
ছড়া আছে আগান-বাগান, রঙবেরঙের ফুলে।
ছড়া ভাসে সোনা রোদে, ভোরের সূর্য ওঠায়
ছড়া আছে মেঘের গায়ে এবং বৃষ্টিফোঁটায়।
ছড়া আছে হাতের কাছেই, কাছেই ছড়াপুর
তবু তাকে যায় না ছোঁয়া, আলোকবর্ষ দূর।
শুনেই ছড়া বলল, খোকা, ঠিক বলেছিস ঠিক
আমরাও চাই সবাই এসে ছড়ার গন্ধ নিক।
তোদের দেখে ডাক দিয়ে যাই অপেক্ষাতে থাকি
পড়বি বলে কত্ত ছড়া রোজ সাজিয়ে রাখি
বইয়ের পড়ার পাশাপাশি বাসিস আমায় ভালো
আসবি তো সব? ডাকব তবে, আসব কিন্তু কালও।
বলল খোকা, এসো বন্ধু, পড়ব পড়ার ফাঁকে
ছড়ার ছন্দে দুলিয়ে দিও আমায়, আমার মাকে!
----------
ছবি - দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী

ছড়া-কবিতা:: হরিহর - শ্যামাচরণ কর্মকার


হরিহর
শ্যামাচরণ কর্মকার

হরিহর লোক ভালো সাতেপাঁচে থাকে না
কেউ কিছু বললেও গায়ে-টায়ে মাখে না।
বেঁটেখাটো, গোলগাল, রঙ আলকাতরা
বাড়ি তার কালনায়, পদবিটা সাঁতরা।

হরিহর খুব খায় খেতে ভালোবাসে সে
খায় আর গান গায়, খিক খিক হাসে সে।
ভুঁড়িখানা জব্বর কাজ সেটা দোলানো
মাঝে মাঝে চাই তার তাতে হাত বোলানো।

চুল নয়, টাক তার মাথা দেয় পাহারা
লোকে বলে টাক নয় মরুভূমি সাহারা।
টাক পেয়ে খুব খুশি নেই বেশ চুল তো
চুল সব পেকে গেলে কে যে বসে তুলত?

ভাগ্যিস চুল নেই! নেই তাই ঝক্কি
কাটবার হ্যাপা নেই, টাকটাই লক্ষ্মী।
জোছনায় ঝকমক, আলো দেয় আঁধারে
রাতে তাই বেরোলেও লাগে না তো ধাঁধা রে!

পুজো-টুজো এলে মোটে চাঁদা দিতে চায় না
বলে, কোনও দেবদেবী ফলমূল খায় না।
তবে কেন চাঁদা দেব? চাঁদা নিয়ে হবে কী?
তার মতো কেপ্পন আছে কেউ ভবে কি?

তাকে নিয়ে মশকরা কেউ মোটে করে না
কাটলেও টিপ্পনি তার মনে ধরে না।
সাতে নেই, পাঁচে নেই আছে বেশ একাটি
কালনায় যাও যদি পাবে তার দেখাটি!
_____
ছবিঃ সপ্তর্ষি চ্যাটার্জী

ছড়া-কবিতা:: বৃষ্টির গান - শ্যামাচরণ কর্মকার


বৃষ্টির গান
শ্যামাচরণ কর্মকার

বর্ষা আছে, বৃষ্টি তো নেই!
কোথায় বাদলধারা?
গাছগাছালির জৌলুস নেই,
শুকিয়ে গেছে পাড়া।

বৃষ্টি খোঁজে পুকুর, ডোবা
দূর আকাশে দৃষ্টি
মেঘকে বলে - ও মেঘবন্ধু,
দাও ঝরিয়ে বৃষ্টি।

মেঘ বলল, বৃষ্টি নিবি?
বর্ষা এল বুঝি?
পুকুর-ডোবা বলল, হ্যাঁ ভাই,
তাই না বৃষ্টি খুঁজি।

যেমনি বলা অমনি মেঘের
পালটে গেল রূপ
মেঘের গায়ে কালির আঁচড়
নামল আঁধার ঝুপ।

অমনি শুরু মেঘ গুড় গুড়
সঙ্গে অঝোর জল
পথ-ঘাট-মাঠ-পুকুর-ডোবার
বুকে খুশির ঢল।

টাপুর টুপুর, ঝম ঝম ঝম
ছন্দ তোলে প্রাণে
ব্যাঙ বলল - ও ব্যাঙানি,
আয় ডুবে যাই গানে।

গাছের পাতায় বৃষ্টি নাচে,
ভিজছে বাড়িঘর
চাষির টোকায় বৃষ্টিফোঁটা
টুপ টাপ, চড় বড়।

এদিক খুশি, সেদিক খুশি
বৃষ্টির ফুলঝরি
বৃষ্টি পেয়ে বর্ষা উদাস
গাইছে আশাবরি!
_____
ছবিঃ আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: ভূত - শ্যামাচরণ কর্মকার


ভূত
শ্যামাচরণ কর্মকার

ভূত বলে কিছু হয় কি জানি না
তবু ভয় পাই ভূতে
নির্জন ঘরে ভয়ে ভয়ে ঢুকি,
ভয় করে একা শুতে।

রাতটাত হলে ভয় বেড়ে যায়
থমথম করে পাড়া
ঝিঁঝিদের ডাকে, বাদুড়ের ডাকে
ভয়ে হয়ে যাই সারা।

দেখলে এড়াই রেলের লাইন,
শ্মশান, মশান, কবর
ভূতরা সেখানে সংসার পাতে
লোকমুখে পাই খবর।

অমাবস্যায় যাই না কোথাও
যেতে করে ভয় ভয়
ঘুটঘুটে রাতে ভূত ঘোরে, হাঁটে
ভূতছায়া পাড়াময়।

ভূতকে দেখিনি কোত্থাও আমি
দেখিনি তাদের মুখ
ভূত খুব নাকি ভয়ানক হয়
দেখলে শুকোয় বুক?

তবু কেন সব ভূত-ভূত করে?
কী সাহস বলিহারি!
‘ভূত আছে’ এই কথা শুনলেই
ছড়াতেও দিই দাঁড়ি।
_____
ছবিঃ সুতীর্থ দাশ

ছড়া-কবিতা:: শীতের দিন - শ্যামাচরণ কর্মকার

শীতের দিন
শ্যামাচরণ কর্মকার

শীত ফিরেছে দেশে
শিরশিরিনি ছড়ায় গায়ে
হিমেল বাতাস এসে
পড়ছে ঝরে হিম
পাতায়-ঘাসে মুক্তো হাসে
শীত পেড়ে যায় ডিম
মুচকি হাসে শিশির
হলুদ পাতার খসখসানি
শব্দ ফিসির ফিসির
সবুজ সবুজ মাঠ
পালং-কপি-বেগুন-মুলোয়
সাজানো তল্লাট
ভাসছে শীতের সুর
হিম-কুয়াশায় রোদ খুঁজে যায়
নিকট এবং দূর
গোলাপ-গাঁদার ঢল
সরষেখেতে গুন গুন সুর
মৌমাছি চঞ্চল
খুব মিঠে দিনগুলি
ভুরভুরিয়ে গন্ধ বিলোয়
পায়েস-পিঠেপুলি
বড়োদিনের সুর
মন উদাসী যীশুর হাসি
খুশির সমুদ্দুর
যেই আসে শীতবেলা
মন ফুরফুর, যাই ছুটে দূর
পাই খুঁজে বইমেলা
_____
ছবিঃ নচিকেতা মাহাত

ছড়া-কবিতা:: ভূতের কাণ্ড - শ্যামাচরণ কর্মকার


ভূতের কাণ্ড
শ্যামাচরণ কর্মকার

চণ্ডীখুড়ো হাটের থেকে
ফিরছে সেদিন রাতে
ভাবেইনি সে পড়তে পারে
ভূত-পেরেতের হাতে
পথ নির্জন, অমাবস্যা
মিশকালো চারপাশ
পথ ধরেই আসা-যাওয়া
নিত্যি, বারো মাস
চণ্ডীখুড়োর শাড়ির দোকান
ভূতোডাঙার মোড়ে
ফিরছে তখন মেঠো পথে
সাইকেলেতে চড়ে
হঠাৎ দেখে ছায়ামূর্তি
থমকে দাঁড়ায় খুড়ো
চাদর ঢাকা ভূতের শরীর
দিব্যি আগামুড়ো
ভূত বলল ভীষণ কেঁদে,
বাঁচাও আমায় চাচা
তোমার ওপর দাঁড়িয়ে আছে
আমার মরা-বাঁচা
পরশু আমার মেয়ের বিয়ে
হয়নি কেনা শাড়ি
সব মিলিয়ে গোটা দশেক
কেমন করে পারি?
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়
কূল পাই না ভেবে
গরিব আমি চাইছি দয়া
দশটা শাড়ি দেবে?
চন্ডীখুড়োর দয়ার শরীর 
বলল, এসো কাল
দেব শাড়ি, বেনারসী
এবং বরের শাল
ভূতের তখন সে কী খুশি
জানাল পেন্নাম
ভূত-সমাজেও ছড়িয়ে গেল
চণ্ডীখুড়োর নাম!
_____