
দন্তবিভ্রাট
মধুমিতা ভট্টাচার্য
রতনবাবু প্রভাবশালী জমিদার এই গ্রামে
কত মানুষ ঘিরে থাকে ডাইনে এবং বামে
তাঁরই নাকি বাঁধানো দাঁত হারিয়ে
গেছে আজ
সেই চিন্তায় মেজাজ তুঙ্গে, বন্ধ
সবার কাজ
দিল্লি থেকে উড়ে এল গোয়েন্দা
গজনন্দন
এল গুনিন ভৈরবনাথ দেবে ভীষণ বন্ধন
সবাই সজাগ, চোখ ঘুরিয়ে
দাঁতের খোঁজে থাকে
“পাওয়া
গেলওও?” -
থেকে থেকেই সবাই জোরে হাঁকে
আতসকাঁচ হাতে নিয়ে গজনন্দন ঘোরে
ঘরের আনাচ, ছাদের কানাচ, বাগানেও
খুঁজে মরে
ভৈরবনাথ যজ্ঞে বসে, ধোঁয়ায়
আঁধার চারদিক
মন্ত্র পড়ে দু-চোখ বুজে, অং বং চং ঠিক ঠিক
জলপড়া দেয়, আঙুল গুনে
বলে, “এসব নির্ঘাত
জারিজুরি জিন ভূতেদের, লড়েই
যাব একহাত।”
এমন সময় হীরেনবাবুর নাতি ছুট্টে এসে
“দাদুর দাঁত পেয়ে গেছি,” বলল হেসে হেসে,
“বাঁধানো
দাঁত যায়নি কোথাও, ঘরেই মজুত সুন্দর
বহাল তবিয়তে বসে দিদার মুখের অন্দর,
সকালবেলা ঘুমের চোখে তোমার দাঁতটি
তুলে
পরেছিল নিজের ভেবে দিদা মনের ভুলে
তখন থেকেই ভাবছে দিদা আজকে কেন এমন
অসুবিধে হচ্ছে খেতে, স্বাদ
পায় না তেমন!
এবার থেকে নামটা লিখে রেখো তোমার
দাঁতে
পরতে গিয়ে দিদার আবার ভুল হয় না
যাতে।”
গজনন্দন ভৈরবনাথ বেজায় গেল চটে
এমন আজব ঘটনা কী কোনোখানে ঘটে?
----------
ছবি - আন্তর্জাল
No comments:
Post a Comment