ভ্রমণ:: ঝুমু্র মেলা দেখা - অনন্যা সাহা


ঝুমু্র মেলা দেখা
অনন্যা সাহা

শীত পড়েছে জাঁকিয়ে এমনি এক শীতে মেলা বসেছিল ঝুমুদের মফস্বল শহরে গান্ধী পার্কের মাঠে, ‘আনন্দ মেলা’ মেলা বসার খবরটা স্কুলের বন্ধুদের কাছেই পেয়েছিল বাড়ি ফিরেই উৎপাত শুরু বাবা বলে সামনের রোববার নিয়ে যাবে সেদিন মঙ্গলবার, রোববার আসতে ঢের দেরি, তাই ‘প্ল্যান বি’ বাড়িতে না বলে একলা একলা যাবে মেলায় যেমন ভাবা তেমন কাজ! ওর তখন ক্লাস ফাইভ পাড়ার এক দিদির কাছে রোজ বিকেল চারটে থেকে সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত পড়তে যায় সঙ্গে পড়ে অপু আর টুকি দু’জনেই পাড়ার বন্ধুটুকি মামাবাড়িতে থাকে সেই ছোট্টবেলা থেকে, অপুর বাবার মস্ত বড়ো হোটেল পড়তে গিয়ে কথাটা পাড়ল ঝুমু এক কথায় বাকিরা রাজি
পরদিন চারটে বাজার বেশ কিছুক্ষণ আগেই সোয়েটার টুপি পরে তিনজন হাজির অন্যদিনের মতো গল্প নেই, বসার জায়গা নিয়ে ঝামেলা নেই, পেনসিল ছোলা নেই, হাসাহাসি নেই, চটপট পড়া তৈরি... দিদিমণি অবাক! বকার কোনো সুযোগ না দিয়ে পৌনে পাঁচটায় পিঠে ব্যাগ নিয়ে হাত ধরাধরি করে বড়ো রাস্তা পেরিয়ে সোজা মেলার মাঠ
দু’জনের পেনসিল বক্সে আট আনা আর একজনের ষোলো আনা মেলার গেটে টিকিট লাগে না এক ছুটে মেলার ভেতর, স্বপ্নের দুনিয়ায়! চারদিকটা দেখে নেওয়ার পালা গোল মাঠটায় সার সার দিয়ে দোকান! হরেক মাল সাড়ে ছ’টাকা, চিনামাটির বাসন, কাঠের খেলনা, লোহার খুন্তি-কড়াই, মাটির সবজি ফল, হাতের চুড়ি, গলার হার, কানের দুল! লম্বা লাঠিতে রংবেরং-এর বেলুন, বাঁশি, ভেঁপু, চরকি! হারুন কাকা লাঠিতে ভর দিয়ে বাঁশিতে সুর তোলে! ছেলেমেয়েরা ছুটে ছুটে যায়! মাটির উপর বস্তা পেতে রংবেরং-এর টুপি! ঝুমু মন দিয়ে সব দ্যাখে আর মনে মনে ঠিক করে বাবার সঙ্গে এসে সবুজ পাথর দেওয়া টিনের আংটিটা, চরকি, মাটির পেয়ারা আর একটা পুতুল কিনবে মাটির পেয়ারাটা একদম আসল যেন! ‘জিনা মরনা ইস কে নাম... কর দিয়া জিন্দেগি কুরবান...’ – বড়ো করে ঘেরা ‘মউত কা কুয়া’-র অস্থায়ী পাঁচিলের উপর বসে হাতে চোঙা নিয়ে একজন ছোকরা খুব চেঁচায়! বাইরে থেকেই মোটর সাইকেলের গোঁ গোঁ শব্দ শোনা যায় বাবার সঙ্গে এসে ঢুকে দেখতে হবে ‘ইয়ে হ্যায় ঈশ্বর কা লীলা, কুদরত কা খেল... আইয়ে দেখিয়ে অউর মজা লিজিয়ে... এক শরীর অউর দো দো চ্যহরে... গঙ্গা-যমুনা... খাতে হ্যায়, পিতে হ্যায়, বোলতি ভি হ্যায়... টিকেট সির্ফ পাঁচ রূপেয়া।’ ঝুমু এদের গতবছর দেখেছিল বড়ো সাইনবোর্ড চোখে পড়ে - ছবি তুলুন, মেলা দেখুন/ খাওয়াদাওয়া শেষ হলে, ছবি নিয়ে যান চলে খুব ইচ্ছে হয় তিনজনে মিলে একখানা ছবি তুলতে ইচ্ছে থাকলেও উপায় নেই চোখ চলে যায় নাগরদোলার দিকে আকাশছোঁয়া ইলেকট্রিক নাগরদোলা, ঘুরছে আর ঘুরছে! ঝুমু ভয় পায় ইলেকট্রিক নাগরদোলায় উপর থেকে নামার সময় পেটটা যেন খালি হয়ে যায় হাতে ঘোরানো কাঠের ছোটো নাগরদোলায় ভয় করে না ওগুলো নিচু, আস্তে আস্তে ঘোরে, বসার জায়গাগুলোও ভালো মাঠের মাঝে গোল নাগরদোলা, ওতে ছোটোরা চড়ে রঙিন ঘোড়া, সাজানো বসার জায়গা দেখে চড়তে মন করে ঝুমু ছোটো নয়, একা একা মেলা এসেছে ছেলেগুলো বন্দুক কাঁধে বেলুন ফাটায়কতরকমের খাবার! গুড়ঝুড়ি, পাঁপড়, জিলিপি! স্টোভের অল্প আঁচে বসানো অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়িতে গরম ঘুগনি, লাল শুকনো ডিমের কারি। চেয়ার টেবিল পাতা বড়ো দোকানে টাঙানো কাগজে ঘুগনি, ভেজ চপ, ডিমের চপ, মাংসের চপ, এগ রোল, মোগলাই! ওরা বড়ো দোকানে ঘুগনি খাবে আট আনাতে ঘুগনি ছাড়া কিছুই হয় না! কুপন দিয়ে কর্মচারী ভিতরে চলে যায়দোকানের ভিতরে চোখ পড়তেই বুক ধড়ফড় করে ওঠে অপুর বাবা বসে! বাবা যে মেলায় দোকান করেছে, সে খবর পৌঁছোয়নি অপুর কাছে পয়সা দেওয়া, কুপন নেওয়া দুইই সারা... অগত্যা টেবিলের তলায় কর্মচারী ঘুগনি আর জল নিয়ে আসে টেবিলের তলা থেকেই তিনজন পাজামা ধরে টানাটানি করে অবাক হয়ে টেবিলের তলাতেই ঘুগনি দেয় নতুন কর্মচারী ঠোঁট পুড়ে যাওয়া ঘুগনি অর্ধেক খেয়ে অর্ধেক জামায় ফেলে মেলার বাইরে চারদিকটা বেশ অন্ধকার, সন্ধে নেমেছে! মেলার আলোয় টের পাওয়া যায়নি! হনহন করে হেঁটে বাড়ি
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ভ্রমণ:: বাঙালির রাজস্থান ভ্রমণ - স্নেহা অধিকারী কর


বাঙালির রাজস্থান ভ্রমণ
স্নেহা অধিকারী কর

ভ্রমণ কথাটির সঙ্গে জুড়ে আছে অনেক অভিজ্ঞতা। ভ্রমণ মানে কিন্তু শুধুই ঘুরে বেড়ানো নয়, সঙ্গে নিয়ে চলা অনেক স্মৃতি আর গল্প। আমরা ভ্রমণ করি ঠিকই, কিন্তু তার সঙ্গে জুড়ে থাকা ইমোশনগুলোকে উপলব্ধি করি না। এমনই এক ভ্রমণের গল্প আজ বলব যেটা আমাকে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে অনেক কিছু। অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে জানেন। সে সব ঘটনা যেন এক একটা জ্যান্ত জীবনী। জায়গাটার সঙ্গেই মিলেমিশে আছে গল্পগুলি।

ঘুরতে বেড়াতে কে না ভালোবাসে। আমরাও খুবই ভালোবাসি। তবে ইন্টারনেটের দুনিয়ায় ভ্রমণ কিন্তু আজ ব্যস্ত প্রফেসন বলা চলে। বহু জায়গায় আমি আর সৌম্য, মানে আমার হাসব্যান্ড ঘুরেছি, কারণ এটা আমাদের কাজের একটা পার্ট। তবে আমাদের ঘোরাঘুরি একটু অন্যরকম। সবাই যেখানে হোটেল বুকিং করে, আমরা সেখানে হোস্টেল বুকিং করি। গাড়ি ভাড়া না করে পায়ে হেঁটে জায়গাগুলো চিনি। আর গল্প করি মানুষের সঙ্গে।
এমনই আগের বছর গেছিলাম রাজস্থান। আসলে রাজস্থান কিন্তু লোকে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমেই যায় বেশি। সঙ্গে খাওয়াদাওয়া, থাকা সবকিছুর ব্যবস্থা নিয়েই যায় এরা। আর ঐদিকের লোকেরা সেরকম আমিষভোজী নয়। মাছ মাংস তো পাওয়া যায় না ঠিকই, ভাতও পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। রুটি পাওয়া যায়, কিন্তু একটু শক্ত। আর বেশিরভাগই ঘি দিয়ে ভাজা। এত কিছু তো জানতাম না আমরা। শুধু ঘোরার নেশায় বেরিয়ে পড়েছিলাম।
যাওয়ার সময় সেরকম খাওয়াদাওয়ার অসুবিধে না হলেও, ওখানে পৌঁছে ভালোই টের পাচ্ছিলাম আমরা ভেতো বাঙালি। হোটেলের খাবার খাচ্ছি, কিন্তু মন ভরছে না। খিদে খিদে ভাবটা কিন্তু রয়েই গেছে আমাদের।
যোধপুর, জয়সালমের আর বিকানের এই তিনটি জায়গায় প্রচুর মিষ্টি খেয়েছিলাম। ঘটুয়া কি লাড্ডু, ক্ষীর, ঘেওয়ার আরও অনেক কিছুই চেখেছিলাম, কিন্তু বাঙালির মন তো। ভাতের কথা মনে হতেই মনটা আমার কেমন কেমন করে উঠছিল।
যোধপুরে আমরা একদিন বিরিয়ানি অর্ডার করলাম। সেই বিরিয়ানি মুখে রোচে না। একটুও ভালো খেতে তো নয়ই, উলটে শরীর খারাপ করে গেল একটু। মনটা কী যে খারাপ ছিল বলে বোঝানো যাবে না। জয়সালমেরে একটা দিনের কথা ভুলব না। সোনার কেল্লার পাস দিয়ে রাস্তাটা একটা বাজারের ভেতরে ঢুকে গেছে। রকমারি রাজস্থানি জিনিস বিক্রি হয় সেখানে। আমরা হাঁটতে হাঁটতে একদিন অনেকটাই ভেতরে চলে গেছিলাম। গিয়ে দেখি একটা বাঙালি খাবারের দোকান। হাতে চাঁদ পাওয়ার মতন ভেতরে ঢুকে দেখি একজন বাঙালি ভদ্রলোক মালিক। উনি আমাদের সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়ে পেটপুরে ভাত আর ডিমের কারি খাইয়েছিলেন সেইবার।
এবারে আসি আসল ঘটনায়। সেদিন আমাদের মরুভূমি যাওয়ার প্ল্যান করা হয়েছে। যথারীতি গাড়ি নিয়ে আমরা থর মরুভূমির উদ্দেশে যাত্রা করলাম। বিশাল মরুভূমির প্রান্তে শুধুই বালি আর বালি। গাড়ি এক জায়গায় আমাদের নামিয়ে দিলে দেখলাম উট অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। উটে চড়ে যাওয়ার সময় কিন্তু একটু একটু ভয় করছিলতবে ভালোই লাগছিল নতুন একটা অভিজ্ঞতা অর্জন করে। দুলে দুলে উট বাবাজি আমাদের নিয়ে গেল গন্তব্যে। দেখলাম খাটিয়া পাতা রয়েছে আমাদের জন্যে। ক্যাম্পিং হবে।
আমাদের যারা নিয়ে যাচ্ছিল তারা হল সেলিম আর রহিম। সর্বদা হাসিমুখ দু’ভাই আমাদের কত যে গল্প বলছিল তার ঠিক নেই। বাড়ির গল্প, ছেলেমেয়েদের গল্প। শুনছিলাম বিভোর হয়ে।
অপরূপ সুন্দর সূর্যাস্তের পরে উটের দুধের চা খেলাম প্রাণ ভরে। তারপর হাঁটু গেড়ে গল্প করতে বসলাম ওদের সঙ্গে। ওরা তো অবাক। বলে এরকম নাকি কাউকে দেখেনি তারা, যারা ওদের সঙ্গে এত সহজে মিশে যেতে পারে। লোকে তো আসে, মজা করে, ঘুরে বেড়ায় আর ফিরে যায়। কেউ তো ওদের কথা জানতে চায় না।
আসলে সব শহরেই মানুষের ভিন্ন গল্প জুড়ে আছে। মানুষের মনের কথা শহরগুলোর আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ায়। ওরাও প্রথমে বলতে চাইছিল না। তারপর ভাতের জল ফুটতে ফুটতেই তারা বলতে থাকে তাদের গল্প।
মাছ খাওয়া নাকি তাদের স্বপ্ন। মাছ ঠিক কেমন দেখতে হয় ওরা জানে না। মাঝেসাঝে বাচ্চাগুলোর মুখে শক্ত একটা বাজরার রুটি তুলে দেয়। না, কোনো তরকারি করার সাধ্য তাদের নেই। সবজি কেনার টাকাই নেই যে। যখন কোনো কিছুই জোটে না, তখন আদ্দেক রুটি লাল লঙ্কা গুঁড়োর জলে গুলে তাই খায়! ওটাই সারাদিনের খাওয়া।
চুপ করে গেছিলাম এমন মর্মান্তিক সত্য জানার পর। মানুষ এভাবেও বাঁচে! আর আমরা ক’দিন ভাত না পেয়ে থাকতেই পারছিলাম না, কত নালিশ করছিলাম। এদের তো কাউকেই বলার নেই, কোথাও বলার নেই।
আমাদের সঙ্গে লাড্ডুর একটা বাক্স ছিল। সৌম্য বলল পুরো বাক্সটাই ওদের দিয়ে দিতে, বাড়ি ফিরে যাতে ছেলেমেয়েদের দিতে পারে।
দিয়ে দিয়েছিলাম ওটা। প্রথমে নিতে না চাইলেও জোর করে দিয়ে দিয়েছিলাম। ওদের ছেলেমেয়েগুলো খেয়ে বাঁচুক। চোখ ভর্তি জল নিয়ে সেলিম ওদের ভাষায় কী বলেছিল জানি না। তবে আশীর্বাদ করেছিল এটুকু বুঝতে পেরেছিলাম।
এখানেই সমাপ্তি হতে পারত গল্পটার, কিন্তু এর পরেও অবাক করা ঘটনা আছে যেটা কর্মফল বলব কি অন্য কিছু, জানি না।
আরও দু-তিনদিন কাটিয়ে, বিকানের ঘুরে সেদিন আমাদের ফেরার ট্রেন। ওয়েটিং রুমে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে অবশেষে কলকাতা যাওয়ার ট্রেন প্লাটফর্মে ঢুকতেই এমন আনন্দ হয়েছিল - কী বলি! নিজের বাড়ি, নিজের জায়গা একটা ভালোবাসাই হয়তোরাত্রে কী খাব কী খাব যখন ভাবছি, দেখি একজন ভদ্রলোক ট্রেন থেকে নেমে এদিক ওদিক ঘুরছেন। ট্রেনের স্টাফ হবেন, পোশাক দেখে তাই ভেবেছিলাম। ট্রেন তখনও ধোয়া মোছা চলছে। আরও দশ মিনিট পর দরজাগুলো খুলবে।
এতই আমাদের কলকাতা যাওয়ার ইচ্ছে যে ট্রেনের দরজার কাছে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম, খুলে দিলেই ঢুকে নিশ্চিন্ত হয়ে বসবমার্চ মাস, ভালোই গরম লাগছিল আমাদের।
ভদ্রলোক আমাদের দেখে এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন বাঙালি কিনা। মুখ দেখেই নাকি বুঝেছিলেন। উনিও বাঙালি, নাম বাপি চক্রবর্তী, ট্রেনের ইঞ্জিনিয়র। আমাদের সঙ্গে গল্পে মশগুল হয়ে কত কথা যে বললেন। তারপর যখন খাওয়ার অসুবিধের কথা জানলেন তখন হাসতে হাসতে বললেন, “আরে হাম হ্যায় তো ক্যায়া গম হ্যায়।”
কী অদ্ভুত জানেন, সঙ্গে সঙ্গে সৌম্যকে সঙ্গে করে ওনার একটা চেনা দোকানে নিয়ে গেলেন। রুটি আর একটু ডিমের কারি পাওয়া গেলপরের দিন ভাতের ব্যবস্থাও ট্রেনে করে দিলেন। তবে একটি পয়সা নিলেন না। পেট ভরে ট্রেনে আমরা ভাত, ডাল তরকারি খেয়েছিলাম। সে কী তৃপ্তি! কী করে উনি ব্যবস্থা করেছিলেন আজও আমার জানা নেই। তবে সেই খিদের মুখে উনিই আমাদের ভগবান।
কলকাতা নেমে হাত ধরে মন ভরে ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম ওনাকে। লজ্জা পেয়ে হেসে বলেছিলেন, “মানুষ তো মানুষেরই জন্য, তাই না?”
একে কর্মফল বলব না কপাল, না নিছকই coincidence, আমি জানি না।
এই অভিজ্ঞতা ভুলব না আমরা মনে দাগ কেটে আছে যেমন সেলিম ও রহিম, সেরকম মন জুড়ে রয়েছেন বাপি বাবু। মানুষের এ হেন রূপ দেখে উপলব্ধি করেছিলাম ভ্রমণের মানে। ভ্রমণ মানে মানুষের গল্প, জীবনের গল্প যা জুড়ে থাকে একটি জায়গার আনাচে কানাচে। এমন পাগল ভ্রমণ প্রেমিক মানুষের প্রেমে পড়তে চায় যেনপ্রাণ ফিরে পেতে চায় গল্পগুলো, মানুষগুলো।
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ভ্রমণ:: দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া - সুদীপ ঘোষাল


দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া
সুদীপ ঘোষাল

আমি দূর দূরান্তে না গিয়ে কাছাকাছি না-দেখা গ্রাম দেখতে ভালোবাসি। এবার গেলাম বেলুন ইকো ভিলেজ পরিদর্শনে। হাওড়া-আজিমগঞ্জ লোকাল ধরে শিবলুন হল্টে নামলাম। সেখান থেকে অম্বলগ্রাম পাশে রেখে দু’কিলোমিটার টোটো রিকশায় বেলুন গ্রাম। একদম অজ পাড়াগাঁ। মাটির রাস্তা ধরে বাবলার বন পেরিয়ে তন্ময়বাবুর স্বপ্নের জগতে প্রবেশ করলাম। তন্ময়বাবু ঘুরিয়ে দেখালেন। তাঁর জগৎ। প্রায় একশো প্রজাতির গাছ। পশু, প্রাণীদের উন্মুক্ত অঞ্চল। বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ঘুরে বেড়াচ্ছে এখানে সেখানে। তার নিজের হাতে বানানো মা কালীর মূর্তি দেখলাম। কাচের ঘরে ইকো সিস্টেমের জগৎ। কেউটে সাপ, ব্যাঙ থেকে শুরু করে নানারকমের পতঙ্গ যা একটা গ্রামের জমিতে থাকে। বিরাট এক ক্যামেরায় ছবি তুলছেন তন্ময় হয়ে। আমি ঘুরে দেখলাম প্রায় দু’কোটি টাকা খরচ করে বানানো রিসর্ট। ওপেন টয়লেট কাম বাথরুম। পাশেই ঈশানী  নদী। এই নদীপথে একান্ন সতীপীঠের অন্যতম সতীপীঠ অট্টহাসে যাওয়া যায় নৌকায়। তন্ময়বাবু হাতে সাপ ধরে দেখালেন। শিয়াল, বেজি, সাপ, ভাম আছে। তাছাড়া পাখির প্রজাতি শ’খানেক। একটা পুকুর আছে। তার তলায় তৈরি হচ্ছে গ্রন্থাগার। শীতকালে বহু বিদেশী পর্যটক এখানে বেড়াতে আসেনতন্ময়বাবু বললেন, স্নেক বাইটের কথা ভেবে সমস্ত ব্যবস্থা এখানে করা আছে। ঔষধপত্র সবসময় মজুত থাকে।
তারপর বেলুন গ্রামটা ঘুরে দেখলাম। এখানকার চাষিরা সার, কীটনাশক ব্যবহার করেন না। তারপর বিকেলে নৌকাপথে চলে গেলাম অট্টহাস সতীপীঠ। এখানে মা মহামায়ার ওষ্ঠ পতিত হয়েছিল সোন মহারাজ এই সতীপীঠের প্রধান। তারপর দেখলাম পঞ্চমুণ্ডির আসন। ঘন বনের মধ্যে দিয়ে রাস্তা। মন্দিরে মা কালীর মূর্তি। রাতে ওখানেই থাকলাম।

তার পরের দিন সকালে হাঁটাপথে চলে এলাম কেতুগ্রাম বাহুলক্ষীতলা। কথিত আছে এখানে মায়ের বাহু পতিত হয়েছিলএটিও একান্ন সতীপীঠের এক পীঠ। তীর্থস্থান। সুন্দর মানুষের সুন্দর ব্যবহারে মন ভালো হয়ে যায়। এর পাশেই আছে মরাঘাট। সেখান থেকে বাসে চেপে চলে এলাম উদ্ধারণপুর। এখানে লেখক অবধূতের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। গঙ্গার ঘাটে তৈরি হয়েছে গেট, বাথরুম সমস্ত কিছু। শ্মশানে পুড়ছে মৃতদেহ। উদ্ধারণপুর থেকে নৌকায় গঙ্গা পেরিয়ে চলে এলাম কাটোয়া। এখানে শ্রীচৈতন্যদেব সন্ন্যাস নেবার পরে মাথা মুণ্ডন করেছিলেন। মাধাইতলা গেলাম। বহুবছর ব্যাপি এখানে দিনরাত হরিনাম সংকীর্তন হয় বিরামহীনভাবে। বহু মন্দির, মসজিদ বেষ্টিত কাটোয়া শহর ভালো লাগল

----------
ফোটো - লেখক

কমিকস:: বিলি এবং বাডি: সিন্ধুতটে সিন্দুক - জ রবা এবং মরিস হোসি, ভাষান্তর: কল্লোল দাশগুপ্ত

----------

কমিকস:: বিলি এবং বাডি: দূরদৃষ্টি - জ রবা এবং মরিস হোসি, ভাষান্তর: কল্লোল দাশগুপ্ত

----------

কমিকস:: কুট্টু দ্য বীরপুরুষ: ভোরের স্বপ্ন - ফ্র্যাঙ্ক কিং, অনুবাদ: তাপস মৌলিক

----------

ম্যাজিক পেনসিল: ছোটোদের নিজস্ব বিভাগ: আগস্ট ২০২২


ম্যাজিক পেনসিল
ছোটোদের নিজস্ব বিভাগ

এবারের ম্যাজিক পেনসিল বিভাগে ছবি এঁকে পাঠিয়েছে ছ'জন ছোট্ট শিল্পী। চলো একে একে দেখে নেওয়া যাক সে সব।

।। ১ ।। ছবি - কেয়ান কুণ্ডু
বয়স - সাড়ে ছয় বছর, স্কুল - সেন্ট্রাল মডার্ন স্কুল, ক্লাস টু


।। ১ ।। ছবি - জয়িতা মণ্ডল
বয়স - দশ বছর, স্কুল - বানরহাট গার্লস হাই স্কুল



।। ১ ।। ছবি - নূপুর শা
বয়স - দশ বছর, স্কুল - বানরহাট গার্লস হাই স্কুল

।। ১ ।। ছবি - প্রেয়সী পাল
বয়স - তেরো বছর, স্কুল - বানরহাট গার্লস হাই স্কুল


।। ১ ।। ছবি - কৃষ্ণা বিশ্বাস
বয়স - চোদ্দ বছর, স্কুল - বানরহাট গার্লস হাই স্কুল


----------