Showing posts with label সৌমী গুপ্ত. Show all posts
Showing posts with label সৌমী গুপ্ত. Show all posts

ছড়া-কবিতা:: নৃপেনদাদুর গল্প - সৌমী গুপ্ত


নৃপেনদাদুর গল্প
সৌমী গুপ্ত

নৃপেনদাদুর ঝোলায় আছে হরেক রকম গল্প
সুযোগ পেলেই বাঁশবাগানে শোনায় অল্পস্বল্প
এক যে ছিল মেছো ভূতের লম্বা মতো হাত
বাড়িয়ে দিলেই বেনো দিঘির মাছগুলো কুপোকাত
আর যে আছে ঝগড়ুটে এক শাকচুন্নি বুড়ি
চোখ দুখানা ভাঁটা যেন দাঁতগুলো সব নুড়ি
খিলখিলিয়ে দুহাত তুলে নাচ করে সে যখন
আত্মারামটি ঠকঠকিয়ে কাঁপতে থাকে তখন
বেম্মদত্যি কড়মড়িয়ে লাফ দিয়ে ঠিক মাঠে
একখানা পা গাছের ডালে আর একটা তার ঘাটে
রাতদুপুরে একলা যদি পরান হাতে যায়
স্কন্ধকাটা ভূতবাবাজি ঘাড় মটকে খায়
একশো একটা ভূতের আত্মা ঝোলায় নিয়ে ভরে
নৃপেনদাদু গান গেয়ে যায় দিব্যি নাকি সুরে
দাদুর বেশে চশমা পরে কাউকে যদি ডাকে
ঝোলায় সে জন ঢুকবে জেনো গল্প বলার ফাঁকে
যতই কর ঝুটঝামেলা লাভ নেইকো মোটে
আসলে তো ভূতের রাজা নৃপেনদাদুই বটে!
----------
ছবি - সুমিত রায়

ছড়া-কবিতা:: কোলাজ - সৌমী গুপ্ত


কোলাজ
সৌমী গুপ্ত

শিরশিরে হাওয়া আর পাতাঝরা দিন
জবুথবু শীতে, ফুলে পাহাড় রঙীন
খরবেগে তিরতিরে বয়ে চলে তিস্তা
পাহাড়ের কোলে এঁকেবেঁকে ধরে রাস্তা

পাইন বনের মাঝে কুয়াশার চাদরে
শিশিরে মেখেছে পাতা টুপটাপ আদরে
ওইখানে আছে কিছু লাল রডোডেনড্রন
টুকটুকে কনে বউ, দেখে ভরে যায় মন

যেদিকে দুচোখ যায় শুধু মাথা পাহাড়ের
কোনোটা বরফে ঢাকা, কোনোটা বা সবুজের
ওই দূরে রবিমামা উঁকি মারে যেখানে
কাঞ্চনজঙ্ঘা লুকিয়ে যে সেখানে

একমুঠো সোনা রং ঠিক যেন গায়েতে
নিমেষে মিশিয়ে দিল বরফের চূড়াতে
আহা কী আনন্দ! চোখ যায় জুড়িয়ে
প্রকৃতি নিজেকে যেন দিয়েছে বিকিয়ে।।
----------
ফোটো - তাপস মৌলিক
ম্যাজিক ল্যাম্প 

ছড়া-কবিতা:: আসছে যখন দুগ্যিমাতা - সৌমী গুপ্ত

আসছে যখন দুগ্যিমাতা
সৌমী গুপ্ত

নীল আকাশে পেঁজা তুলো মেঘের রাশি হাসে
ভোরের বেলা নরম বাতাস লাগল সাদা কাশে
ঢ্যাং কুড়কুড় বাদ্যি বাজে দুগ্যি মায়ের ঘরে
শিউলি ফুল মুচকি হাসে কমলা নোলক পরে
গনেশ ঠাকুর শুঁড়টি ঝোলায় পেটটি দোলায় সুখে
লক্ষ্মী মেয়ে চোখ তুলে চায় মিষ্টি হাসি মুখে
সরস্বতীর স্লেট, পেনসিল, রঙ-তুলি আর বই,
দিন এসব ছুটির ঘরে, সারাদিন হইচই
ময়ূর নাচে পেখম মেলে, পেঁচা গাছের ফাঁকে
ইঁদুর তখন খিদের চোটে কুচুর কাচুর ডাকে
সিংহ কিন্তু বেজায় চটে মুখখানা তার হাঁড়ি
সকাল থেকে কচকচানি, লাগছে কানে ভারী
দুগ্যি আসেন ঝমঝমিয়ে আলতা পায়ে হেঁটে,
বলেন,ওরে বাক্স-প্যাঁটরা সব দিয়েছিস ঘেঁটে?
কাতু বুঝি সাতসকালেই খেলছে ধনুক নিয়ে?
থাক তোরা সব, বাবার কানে নালিশ ঠুকছি গিয়ে!”
ভীষণ ভয়ে আর সকলে মুখে কুলুপ আঁটে,
এমন সময় প্যাঁকপ্যাঁকিয়ে হাঁসটি এল বাটে
অভয় দিয়ে দুগ্যি বলেন, “ভয় পাস না ওরে!
মামারবাড়ি যাব এবার ঘোড়ার পিঠে চড়ে!”
----------
ছবি - নচিকেতা মাহাত