Showing posts with label সুলগ্না ব্যানার্জ্জী. Show all posts
Showing posts with label সুলগ্না ব্যানার্জ্জী. Show all posts

গোলটেবিল:: বই: কাকাবাবু ও শিশুচোরের দল - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় :: আলোচনা: সুলগ্না ব্যানার্জ্জী


বই: কাকাবাবু ও শিশুচোরের দল - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স, মূল্য: ২২৫ টাকা
আলোচনা: সুলগ্না ব্যানার্জ্জী

সাতসকালে খবরের কাগজে ভাংলু আর ছোটগিরি নামক দুজন কয়েদির হাসপাতাল থেকে পালানোর খবর পড়ামাত্রই রাজা রায়চৌধুরীতথা আমাদের সকলের প্রিয় কাকাবাবু'-র মেজাজ সপ্তমে। সন্তুর দিকে কগজটা বাড়িয়ে দিলে সেও খবরটা পড়ে, কিন্তু বুঝতে পারে না কাকাবাবুর এতটা মেজাজ খারাপের কারণ। তাকে দিয়ে কাকাবাবু ডিআইজি রফিকুল আলম’-কে ফোন করান। কাকাবাবু যে কেন রেগে রয়েছেন তা বুঝতে না পেরে বাড়িতে আসার কথা বলেন রফিকুল। কিন্তু তাঁর আসার আগেই কাকাবাবু ন্যাশনাল লাইব্রেরির উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন। বেরোনোর সময়েই তাঁর দেখা হয় সন্তুর বান্ধবী দেবলীনা ও বন্ধু জোজোর সঙ্গে, তবে রাগের বশেই তিনি কাউকে গুরুত্ব দেন না। কিছুক্ষণের মধ্যেই সকলের জন্য লুচি বেগুনভাজা চলে আসে এবং তৎক্ষণাৎ ডিআইজি রফিকুলও চলে আসেন। গল্পে গল্পে আলম জানা তিনি অন্য কেসে ব্যস্ত, পলাতক কয়েদিদের কথা তিনি জানেন বটে তবে বিশেষ কিছু না। সন্ধেবেলা সব খবর নিয়ে এসে কথা বলবেন। ওদিকে দেবলীনা, জোজোও কাকাবাবুর পথ চেয়ে বসে থাকে। তিনি না এলে ওরা ফিরবে না, বিশেষত দেবলীনা।
সন্ধেবেলা কাকাবাবু বাড়ি ফেরেন রফিকুল আলমের সঙ্গেই। ছুটে আসে সন্তু, জোজো ও দেবলীনা। একটু পরে সবাইকে নিয়ে বসেন কাকাবাবু। পলাতক কয়েদিদের বিষয়ে যতটা খবর পাওয়া গেছে সবটাই জানান রফিকুল, কিন্তু কাকাবাবু জানান রফিকুলের কাছে খবরই নেই ওরা সমাজের কত বড়ো শত্রু। কাকাবাবুর থেকে সব জেনে স্তম্ভিত হয়ে যা রফিকুলসহ বাকিরাও। রফিকুল জানান হাসপাতালে যে কনস্টেবল ওদের পাহারায় ছিল তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে গাফিলতির জন্য। এটুকু জানতে পেরেই কাকাবাবু আর অপেক্ষা না করে সেই কনস্টেবলটির বাড়ি যাবার আগ্রহ দেখান এবং সন্তু জোজো আর দেবলীনাও কাকাবাবুর সঙ্গে যাবার বায়না ধরে। সাসপেন্ডেড কনস্টেবল বিমল দুবের বাড়িতে তাকে পাওয়া না গেলেও তার ভগ্নীপতি মাখনলালকে পাওয়া যায়। কাকাবাবু তার সঙ্গে একটু কথা বলেই বোঝেন বিমল দুবে গাফিলতি দেখায়নি, কয়েদি দুজন তার সাহায্যেই পালাতে পেরেছে। শুধু এটুকুই নয়, কাকাবাবুর হাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণও চলে আসে। ধরাও পড়ে বিমল দুবে। ছলে বলে কৌশলে বিমল দুবে তাকে অপরাধীদের আস্তানার কথা জানিয়েও দেয়।
জোজো আর দেবলীনাকে খানিকটা জোর করে বাড়ি ফিরিয়ে সন্তু এবং রফিকুলকে নিয়ে সে রাতেই কাকাবাবু বেরিয়ে পড়েন বারাসতের উদ্দেশে। বিমলের বলা নির্দিষ্ট ভাতের হোটেলে পৌঁছে খুব একটা কিছু চোখে না পড়লেও দোকানের কাউন্টারে থাকা ময়নার প্রতি কাকাবাবুর সন্দেহ জাগে। পরের দিনই সন্তু আর জোজোকে তিনি আবারও সেখানে পাঠান ময়নার খবরাখবর নিতে। এসব ব্যাপারে সর্বদাই সন্তুকে টেক্কা দেয় জোজো। ময়নার সম্পর্কে বেশ বিস্তারিত তথ্য নিয়েই ফিরে আসে ওরা। খেলা শুরু এখান থেকেই। কাকাবাবু তার একজন বিশ্বাসী লোকের সাহায্যে সর্বাগ্রে কিডন্যাপ করান ময়নার একমাত্র শিশুপুত্র কার্তিককে। এরপর তিনি সেই লোকটির মাধ্যমেই ময়নার বাড়িতে পাঠান একটি চিঠি এবং অপেক্ষা করেন তাদের উত্তরের। পরদিন সকালেই রফিকুল জানান বিমল দুবেকে কারা খুন করে রেললাইনে ফেলে দিয়ে গেছে এবং মৃতদেহের ওপর দিয়ে ট্রেন যাওয়ার ফলে তা আর চেনার উপায় নেই। কাকাবাবুর খারাপ লাগল লোকটার লোভের পরিতি দেখে, কিন্তু সারা দেশ জুড়ে সাংঘাতিক সেই অসামাজিক কাজের কোনো খবরাখবর কাগজে নেই। নানা কথা ভাবতে ভাবতে চোখে তন্দ্রা আসে তাঁর। কিন্তু দেবলীনা এসে তন্দ্রা কাটায়, জানতে চায় কাকাবাবু কতদূর এগোলেন। ঠিক এই সময়েই কাকাবাবুর সঙ্গে দেখা করতে সুদূর তুরস্ক থেকে দুজন বিদ্বান ব্যক্তি আসেন। কাকাবাবু তাঁদের কাছেও জানান তাঁর দেশে অপরাধীদের কত বড়ো একটা চক্র নির্দ্বিধায় কাজ করছে। তাঁরা চলে যেতেই একটা ফোন আসে বাড়ির ফোনে। কানে ফোন দিয়েই সত্যিই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন কাকাবাবু। কেউ বা কারা কিডন্যাপ করেছে দেবলীনাকে এবং মুক্তিপণ হিসেবে ফেরত চাইছে ময়নার ছেলে কার্তিককে। দেবলীনার জায়গায় সন্তু হলে এতটা চিন্তা তাঁর হত না। রিভলবারটা সঙ্গে নিয়ে সেই রাতে একাই সন্তুকে ছাড়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান কাকাবাবু।
আন্দাজে ঢিল ছোঁড়ার মতোই সঠিক জায়গায় পৌঁছে যান রাজা রায়চৌধুরী তথা কাকাবাবু, কিন্তু সেই সাংঘাতিক অপরাধীদের ডেরায় পৌঁছে যেতে পারলেও সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেন না কাকাবাবু।
অতঃপর কী হবে? কাকাবাবু কী পারবেন দেবলীনাকে উদ্ধার করতে? কারা কেন মারল বিমল দুবেকে? কাকাবাবুই বা ঠিক কোন উদ্দেশ্যে কিডন্যাপ করেছিলেন ময়নার ছেলেকে? কোন অপরাধেই বা কাকাবাবু ভাংলু আর ছোটগিরিসহ তাদের দলবলকে খুঁজে বের করে সাজা দিতে উদ্যত হয়েছিলেন? সন্তুই বা কীভাবে জানবে কাকাবাবু কোথায়? শেষ পর্যন্ত কি ময়না ফিরে পাবে তার ছেলেকে? সব কিছুর উত্তর রয়েছে সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা পরতে পরতে টানটান রহস্যময় কিশোর অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস কাকাবাবু ও শিশুচোরের দলগ্রন্থে যা আজও জয় করে চলেছে সকল পাঠকদের মন। আজ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু কচিকাঁচার দলে তাঁর সৃষ্ট কাল্পনিক চরিত্র রাজা রায়চৌধুরীতথা কাকাবাবু’-র হাত ধরে আজও রয়ে গেছেন তিনি।
----------
ছবি - আন্তর্জাল

গোলটেবিল:: বই: রূপকথা সংগ্রহ ১ :: আলোচনা: সুলগ্না ব্যানার্জ্জী


বই: রূপকথা সংগ্রহ ১
আলোচনা: সুলগ্না ব্যানার্জ্জী

বইয়ের সম্পাদক: ডঃ সমুদ্র বসু এবং দীপাঞ্জন দাস
প্রকাশক: কচিপাতা প্রকাশনা; মূল্য: ৩৯৯ টাকা (ভারতীয় মুদ্রা)

আমাদের ছোটোবেলায় পড়াশোনার সময়টুকু বাদ দিয়ে খেলা এবং নাচ গান আঁকা ছাড়াও যে বিষয়টি জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ ছিল তা হল ঠাকুমা-দিদিমার মুখে গল্প শোনা। হরেকরকম গল্প, কখনও রাজা রানি কখনও পশুপাখি কখনও ভূতপ্রেত কখনও আরও অন্যরকম গল্প। এখন হয়তো কম্পিটিশনের যুগে গল্প শোনায় ভাটা পড়েছে অনেকটা, কিন্তু আমরা যারা গল্প শুনতে ভালোবাসি তারা সেই পুরোনো দিনের কাহিনিগুলোই বর্তমান প্রজন্মর কাছেও পৌঁছে দিতে আজও আগ্রহী। আজ নির্ভেজাল রূপকথায় মোড়া রূপকথা সংগ্রহ ১গ্রন্থটির বিষয়েই জানাব যা মন কাড়বে যে কোনো বয়সের মানুষের।

তারপর (উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী)
গল্পের কাহিনি এমন এক তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন রাজাকে নিয়ে যিনি ভালোবাসতেন গল্প শুনতে। একবার তিনি রাজ্যে ঢেড়া পিটিয়ে দিলেন, যে তাঁকে গল্প শুনিয়ে সন্তুষ্ট করতে পারবে তাকে অর্ধেক রাজত্ব দেওয়া হবে, না পারলে তার কান কেটে নেওয়া হবে। ওদিকে একটাই গল্প, একসময় তো শেষ হবেই! রাজার তারপর?” -এর উত্তরে যখনই দেশদেশান্তর থেকে আসা গল্প বলিয়ে জানায় গল্প শেষ, রাজা সঙ্গে সঙ্গে তার কান কেটে নেয়। একই রাজ্যে ছিল রাজার মতোই ধুরন্ধর এক গরিব নাপিত। সে ভাবল না হয় একটা কান থাকবে না, তবে যদি ভাগ্যক্রমেও অর্ধেক রাজত্ব পাওয়া যায়, একবার চেষ্টা সে করবেই। তারপর কী হল? অ্যান্ড্রয়েডের যুগে আজকের দিনে ছোটোদের বইমুখী করে তোলার জন্য এমন গল্পের জুড়ি মেলা ভার।

চাঁদনী (অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর)
ছেলেবেলায় রাগ কোরো নে রাগুনিঅথবা আয় আয় চাঁদমামাআমাদের জীবনের অপরিহার্য ছড়া ছিলঠিক তেমনই কাহিনি অবন ঠাকুরের চাঁদনীঅবস্থাপন্ন এক ব্রাহ্মণ পরিবারে ছিল না কোনো সন্তান, অনেক তপস্যার পর শেষে এক সাধুর আশীর্বাদে সেই পরিবারে জন্ম হয় চাঁদনী'-র। ছড়ার মাধ্যমে রূপকথার এই কাহিনি ভালো করে দেয় সকলের মন।

রাজকন্যা (দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদার)
রাজার সাত রানি, রাজা তবুও সন্তানহীন, সুখ নেই রাজ্যে। রানিরা রাজত্বের দক্ষিণে নীল সমুদ্রে ধরনা দিলেন। রানিদের মানসিক কষ্ট বুঝে নীল পাখি উপায় বাতলে দেয়। কেটে যায় বছর মাস দিন। ছোট রানি জন্ম দেয় এক কাঠের রাজকন্যা। কিন্তু নীল পাখি তো মিথ্যে বলে না। তাহলে কীভাবে প্রাণ বাঁচবে রাজকন্যার! অপূর্ব এক কাহিনি যা মন ভালো করে দেয়।

সাত বছরের মেয়ে (সুখলতা রাও)
বুদ্ধি যেথা বল সেথা’ - এই কাহিনি আরও একবার মনে করিয়ে দেয় সেই আদি অকৃত্রিম প্রবাদকে। বিপদে পড়েও যারা দিশাহারা না হয়ে মাথা ঠান্ডা রাখে তারা খুব সহজেই বিপদ থেকে উদ্ধার পায়। সাহিত্যিক সুখলতা রাও’ -এর এই কাহিনি আসলে জীবনের একটি অধ্যায়ও বটে।

রাজপুত্র (বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়)
কাঞ্চীর রাজপুত্র চন্দ্রসেন’ -এর রাজ সিংহাসন আরোহণের সময় আগত। কিন্তু অভিষেকের দিনে তিনি পিতাকে জানান রাজ্য চালানোর জন্য অথবা প্রজা প্রতিপালনের জন্য যে যোগ্যতা প্রয়োজন তিনি বীর হলেও তা তাঁর নেই। অতঃপর দেশভ্রমণের উদ্দেশ্য নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। পারবেন কি রাজপুত্র নিজেকে সিংহাসনে বসার যোগ্য করে তুলতে! বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় -এর লেখা এই কাহিনি স্পর্শ করে পাঠকদের অন্তরাত্মা।

সত্যপ্রিয়ের কাহিনি (তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়)
এই কাহিনি প্রমাণ করে জন্ম নয় কর্মই শ্রেষ্ঠ, তাই তো রাজা যখন তাঁর দুই কন্যার পাত্রের সন্ধানের আগে তাদের পছন্দ জানতে চান তখন জেষ্ঠ্যা কন্যা মুক্তামালা পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর বলীয়ান তেজস্বী স্বামী কামনা করে এবং কনিষ্ঠা কন্যা কামনা করে শুধুমাত্র পৃথিবীর সেই শ্রেষ্ঠ পুরুষকে যিনি কর্মের দ্বারা সকলের মনের রাজাহয়ে সুখে শান্তিতে থাকবেন। রাজা বিরক্ত হলেও মেয়েদের পছন্দের বর খুঁজে আনেন। কী হয় তারপর তা জানতে সাহিত্যিক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় -এর এই কাহিনি অবশ্যপাঠ্য।

রাজা বাপ্পাহুহুর দাড়ি (শৈলেন ঘোষ)
রাজা বাপ্পাহুহুর মনে ভারি কষ্ট, নিজের জন্মদিনের দিন হাতির পিঠে করে রাজ্য ভ্রমণে বেরোনোর সময় হঠাৎ একটা কালো বেড়াল রাস্তা কাটল, তায় ভ্রমণে বেরিয়ে তিনি দেখলেন বিশ্বচরাচরে সকলের দাড়ি আছে তাঁর নেই, দাড়ি গোঁফহীন রাজাকে দেখে রাজা বলে কেই বা মানবে! রাজা আদেশ দিলেন রাজ্যের সকলের দাড়ি গোঁফ কেটে ফেলতে হবে। কাজ চলছিল, কিন্তু বাধা দিল এক ব্যক্তি। সে তার দাড়ি গোঁফ কাটার পরিবর্তে কী করে রাজার দাড়ি গোঁফের ব্যবস্থা করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করতে বসে রাজার সঙ্গে এবং রাজা বাপ্পাহুহুর হাতে তুলে দেয় এক টোটকা। কী হয় তারপর! লেখক শৈলেন ঘোষ -এর এই কাহিনি ছোটো বড়ো সকলের মনে জায়গা করে নেবে নিজগুণে

রাজার মন ভালো নেই (শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়)
রাজ্য জুড়ে শোরগোল রাজার মন খারাপলোকলস্কর বিদূষক সকলে মিলে রাজার মন ভালো করার চেষ্টা করে চলেছে, কিন্তু কিছুতেই রাজার মন খারাপ কাটছে না। মাঝে মাঝে তিনি অদ্ভুত কিছু আবদার ছুড়ে দিয়ে পরক্ষণেই তা অস্বীকার করছেন। সকলের যখন মাথা খারাপ হবার জোগাড় তখন মন্ত্রী বুদ্ধি করে চারজন গুপ্তচর নিযুক্ত করলেন রাজার প্রতিটা পদক্ষেপে নজর রাখার জন্য। কী হল তারপর! কাটল কি রাজার মন খারাপ! অপূর্ব এই গল্পটি অনায়াসে যে কোনো বয়সের পাঠকের মন জয় করবে।

বেড়া ভাঙল বদ্যিবুড়ি (সৈকত মুখোপাধ্যায়)
পাশাপাশি রাজ্য মুচকুন্দপুর ও বিকটধাম। মুচকুন্দপুরের রাজার নাম সরলকুমার, কাজেও তিনি সরল, আর বিকটধামের রাজার নাম যেমন জটিলেশ্বরকাজ এবং মন দুটোই তাঁর জটিল। দুই রাজ্যের একেবারে সীমানা বরাবর রয়েছে লালটিলা, যে বন থেকে উভয় রাজ্যের মানুষই পায় অন্নসংস্থানের উপায় এবং সেখানেই বাস পরিদের, কেবল পরিরাই নয় সেখানে থাকে বদ্যিবুড়িও। রাজা জটিলেশ্বরের জটিলতা দিন দিন বাড়তে থাকলে তাঁর প্রজারা পালিয়ে আসতে থাকে মুচকুন্দপুরে। তাই তিনি সীমানায় বেড়া বসান। কী হয় তারপর? বদ্যিবুড়ি কীভাবে জড়িয়ে রয়েছে এই দুই রাজ্যের সঙ্গে? সেসব জানতে অবশ্যই পড়তে হবে লেখক সৈকত মুখোপাধ্যায় -এর কলমে মায়াময় অথচ শিক্ষনীয় এই রূপকথার কাহিনিটি।

মেঘলাপুর (জয়দীপ চক্রবর্তী)
আঁধারে ঢাকা মেঘলাপুর যেখানে স্বয়ং রাজাও পুরোনো প্রথা মেনে আলোর কথা বলতে ভয় পান। রাজা স্বয়ং অন্ধকারের উপাসক, প্রজারাও নাকি চোখ বুজে পথ চলাচল করে পাছে চোখে আলো লাগে। নেপালদাদুর থেকে গল্প শোনে বটে, কিন্তু বিশ্বাস হয় না ফটিকের। আলো ছাড়া একটা রাজ্য কীভাবে টিকে থাকতে পারে? ওরা কি আলোয় ফিরতে চায় না! একবার নাকি এক ফকির চেষ্টা করেছিল মেঘলাপুরে আলো জ্বালারজ্ঞানের আলো শিক্ষার আলো সুবুদ্ধির আলো, কিন্তু রাজার আদেশে তাকে বন্দি করা হয় সহজেই। তবে আলোয় ফেরার এই লড়াই যে সকলের একথা নেপালদাদুর থেকে শোনার পর ফটিকের ঘোর লেগে যায়। পারবে কি সে মেঘলাপুরে পৌঁছোতে! লেখক জয়দীপ চক্রবর্তী -র মায়াকলমে সৃষ্ট মায়াবী সুখপাঠ্য কাহিনি।

ঠাকুমারানির বর (দীপান্বিতা রায়)
রাজকন্যা মেঘমালার জন্মের সময় এক সন্ন্যাসী তার মাকে জানিয়ে ছিলেন দুধের সঙ্গে তিনটি করে শ্বেত পদ্মের পাপড়ি বেটে খেলে সন্তানের গায়ের রং হবে শ্বেত পদ্মের মতোই সুন্দর। কিন্তু সে উপদেশ পালন করলেও রাজকন্যা মেঘমালার জন্মের পর দেখা গেল তার গায়ের রং গোধূলির মেঘের মতোই ধূসরজেদ ধরে বসলেন রানি, মেয়ের গায়ের রংয়ের পরিবর্তন তিনি করবেনই। বন্ধ হল রাজকন্যার প্রাসাদের বাইরে যাওয়া। দিনরাত খালি রূপচর্চা, কেবলমাত্র রাজকন্যার গায়ের রং নিয়ে খুশি হয়েছিলেন রাজার মা মানে ঠাকুমা রানিরাজকন্যার মনে ভারি দুঃখ ছিলশেষমেশ মিটবে কি তার দুঃখ! এমন কাহিনি অবশ্যই পাঠকের মন ছুঁয়ে যায়।

ঘুমের মাশুল দ্বিগুণ (অনন্যা দাশ)
ঘুমছাড়া পৃথিবীতে আর কিছুই সুমির পছন্দ নয়। এ নিয়ে কম বকুনি খায় না সে কিন্তু সেও নিরুপায়, কখন কোন সময় যে ঘুম তার চোখের পাতায় ভর করবে সে নিজেও জানে না। তা সেদিনও দুপুরে সদ্য ঘুম নেমেছে তার চোখে, হঠাৎ কানে আসে বন্ধু পায়েলের ডাক। ওদের আরেক বন্ধু আরাত্রিকার ছোট্ট ভাইয়ের বড়ো বিপদ। লেখিকা অনন্যা দাশ -এর কলমের মাধ্যমে সবসময় এক বার্তা থাকে সমাজের সবার কাছে যার ধারা বহন করছে এই কাহিনিও।

রংবাহারি সাত বোন (শাশ্বতী চন্দ)
রাজকুমারী সিন্ধুজা’-র বারো বছরের জন্মদিনে কন্যাকে রাজা উপহার দিতে চান এক নতুন প্রাসাদ। সিন্ধুজা ভীষণ ভালোবাসে ছবি আঁকতে। রাজপ্রাসাদের বাইরেই সে ছবি আঁকার রসদ পায়। তাকে আকর্ষণ করে নিকটবর্তী সবুজ বনটি। সেখানেই রাজকন্যার সঙ্গে আলাপ হয় রংবাহারি সাত বোনের। রাজকন্যার আঁকা ছবির ঔজ্জ্বল্য দিনে দিনে বাড়তে থাকে। কিন্তু রাজকন্যার জন্য প্রাসাদ নির্মাণের উদ্দেশ্যে যখন রাজা সেই সবুজে ভরা বনকেই বেছে নেন কী হয় তখন! এই কাহিনির আড়ালে রয়েছে আজকের সমাজের প্রতি একটি বার্তাও।

রাজকুমারী সিসপিয়া ও রাখালরাজা আরফিন (সবিতা রায় বিশ্বাস)
প্রিয় হরিণ ছানা চিম্পু'-র সঙ্গে লুকোচুরি খেলছিল রাজকন্যা সিসপিয়া ও তার সখীরা। হঠাৎই ওরা হারিয়ে ফেলে চিম্পুকে। একমাত্র আদরের মেয়ের চোখের জল রাজা সহ্য করতে পারলেন না। চিম্পুর খোঁজ শুরু হলে বটগাছের কোটরের প্যাঁচা দম্পতিই নাম করে বাপ-মা হারা দুঃখী রাখালরাজা আরফিনের। ছোট্ট রাখালরাজা আরফিনও একদিন সকালবেলা হঠাৎ করেই তার বাবা-মাকে হারিয়ে ফেলে। আজও সে বাবা-মায়ের খোঁজ চালাচ্ছে। পারলে সে পারবে চিম্পুকে খুঁজে আনতে। রাজদরবারে ডাক পড়ে রাখালরাজা আরফিনের। কী হয় তারপর? লেখিকা সবিতা রায় -এর কলমে অত্যন্ত সুখপাঠ্য কাহিনিটি জয় করবে সবার মন।

তিথি তাথৈ (দেবদত্তা ব্যানার্জী)
আজব গাঁয়ের বাসিন্দা দুই যমজ বোন তিথি আর তাথৈ। আজব গ্রামে নেই কোনো পুরুষ। জন্মে থেকেই ওরা শুনে আসছে কীভাবে এক ডাইনি মন্ত্রবলে গ্রামের সমস্ত পুরুষদের ইঁদুর বানিয়ে ধরে নিয়ে গেছে গ্রাম পেরিয়ে মরুভূমির দেশে নিজের বাড়িতে। ওদের বাবা আর তিতাস দাদাও ডাইনির শিকার। মায়ের দুঃখ আর সহ্য করতে না পেরে একদিন ওরা সঙ্গে কিছু খাবার আর জল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ডাইনির খোঁজে। পথে ওদের সঙ্গী হয় একটা হনুমান একটা ঈগল একটা উট এবং এক ময়ূর। পারবে কি ওরা লক্ষ্যে পৌঁছোতে! ঈগল, হনুমান, উট, ময়ূর কেন এই অভিযানে সঙ্গী হয়েছিল ওদের? লেখিকা দেবদত্তা ব্যানার্জী-র সুদক্ষ কলম সর্বদাই ছোটো থেকে বড়ো সকলের মন জয়ে পারদর্শী।

জাদু কঙ্গন (পূর্বাশা মন্ডল)
রূপনগরের রাজা দর্পনারায়ণের ছোটরানি রূপমতীর রূপের মোহজালে আটকা পড়েই প্রথম দর্শনে রাজা তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু রানি রূপমতীকে সাক্ষাৎ রাজ্যের অভিশাপ বলেই জানত প্রজারা। নানারকম শর্ত রেখে রূপমতী বিয়ে করে রাজাকে, রাজার বড়রানি প্রভাবতী এবং একমাত্র পুত্র বীরভদ্রকে রূপমতী প্রাসাদ থেকে বের করে দেয়। সেই রাজারই মালির মেয়ে সোনা ছিল রূপে লক্ষ্মী গুণে সরস্বতী। মালি তাকে ঘরে লুকিয়ে রাখত, কারণ রূপমতী কখনও চাইত না তার থেকে সুন্দরী আর কেউ রাজ্যে থাকুক। কিন্তু একবার রূপমতীর নজরে আসে সোনা। কী হয় তারপর…! কথায় বলে যেমন কর্ম শাস্তি তেমন' - এই বেদবাক্য দুষ্ট রানি রূপমতীকে কীভাবে উচিত শিক্ষা দিয়েছিল তা নিয়ে এই অসাধারণ কাহিনি।

বিনু আর পাতালের লোকটা (দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী)
একেবারেই অনিচ্ছাকৃতভাবে মায়ের দেওয়া পাঁচ টাকার কয়েনটা পাথর ভেবে ছাদের পাইপে ফেলে দেয় বিনু। ছোটো থেকেই বাবাকে দেখেনি সে, মায়ের পরিশ্রমের গুরুত্ব ওর কাছে অপরিসীম। ছোটো হলেও বিনু জানে পাঁচ টাকা নেহাত কম নয়। তাই তো পাঁচ টাকার কয়েনটা খুঁজতে খুঁজতে সে পৌঁছে যায় রাস্তার ধারের বড়ো ড্রেনটার কাছে যেখানে খোঁড়াখুঁড়ি চলছিলতারপর কীভাবে যে ড্রেনে পড়ে গিয়ে বিনু পাতালে পৌঁছে সেই পাঁচ টাকা উদ্ধার করে আনে তা নিয়েই জনপ্রিয় লেখিকা দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী-র জাদু কলমে ছোটো বড়ো সকলের মন ভালো করে দেওয়া এই কাহিনি ভীষণ আকর্ষণীয়।

পুতুল রাজ্যের পাঠশালা (সৌমেন চট্টোপাধ্যায়)
রাজার ছেলে রাজা হবে মন্ত্রীর ছেলে মন্ত্রী - যে কোনো রাজ্যের এটাই নিয়ম। কিন্তু বিজয়গড় রাজ্যের রাজকন্যা রঞ্জাবতীর পুতুল রাজ্যের নিয়ম আলাদা। সেখানে বিজয়গড় রাজ্যের মন্ত্রীর ছেলে সূত্রদীপকে মন্ত্রী না করে রাজপুরোহিত সিন্ধুদেবের পুত্র চন্দ্রচূড়কে মন্ত্রী করেছেন রাজকন্যা এবং পুতুল রাজ্যের সর্বেসর্বা রানি রঞ্জাবতী। কিন্তু অস্ত্রশিক্ষার চেয়ে বেশি বিদ্যাশিক্ষার ওপরেই একনিষ্ঠতা চন্দ্রচূড়ের। রাজকন্যা রঞ্জাবতী ভাবে সে ভুল করল না তো? ওদিকে সূত্রদীপও ছাড়ার পাত্র নয়। বিজয়গড় রাজ্যের সেনাপতি বীরবাহুর ছেলে সুবাহু’, যার বিদ্যাশিক্ষার খুব ইচ্ছে। চন্দ্রচূড় তার বিদ্যাশিক্ষার দায়িত্ব নেয়। ওদিকে বিজয়গড়ের রানি অসুস্থ। রাজবৈদ্য তাঁকে হাওয়া বদলের জন্য পশ্চিমদেশে যাবার পরামর্শ দিয়েছেন। রাজকন্যা রঞ্জাবতীকেও যেতে হবে মা-বাবার সঙ্গে। এমতাবস্থায় পুতুল রাজ্য নিয়ে রঞ্জাবতীও চিন্তিত। সে কি সত্যিই ভুল করেছিল চন্দ্রচূড়কে মন্ত্রী করে, নাকি চন্দ্রচূড়ের কথাই ঠিক - রাজ্য চালানোর জন্য বিদ্যাশিক্ষার প্রয়োজন অস্ত্রশিক্ষার মতোই গুরুত্বপূর্ণ!লেখক সৌমেন চট্টোপাধ্যায় -এর কলমে একটু অন্যরকম রূপকথার গল্পটি অবশ্যই সুখপাঠ্য।

নীল নুড়ি (রিষভ দাস)
নিজেদের বাড়ির বাগানেই নীল পাথরটা খুঁজে পেয়ে বিভা সেটা নিয়ে পুতুলের ব্যাগে রাখবে ভেবেছিল। কিন্তু নুড়ি স্পর্শ করতেই সব যেন কেমন ওলোটপালোট হয়ে গেল। বিভা যে কোথায় চলে এল তার কিছুই সে বুঝল না। কেবল সূর্যমুখী ফুলের সহযোগিতায় জানতে পারল বাড়ি পৌঁছোতে গেলে তিনটে দেশ পেরোতেই হবে। পারবে কি আট বছরের ছোট্ট বিভা সমস্ত বিপদকে জয় করে নিজের বাড়ি পৌঁছোতে? কিছু কিছু কাহিনি মনকে খুব ছুঁয়ে যায়। এই কাহিনিও ব্যতিক্রমী নয়, বরং এই কাহিনির মধ্যে রয়েছে অদ্ভুত ভালো লাগা।

আমাদের সময় শৈশব মানেই ছিল নিয়ম করে ঠাকুমা দিদিমার মুখের রূপকথার কাহিনি শোনা। বর্তমান যুগে নিত্যনতুন প্রযুক্তির জেরে ছোটোরা তাদের শৈশব প্রায় হারাতেই বসেছে। ছোটোদের জন্য তাদের পছন্দের কাজ খুব কম হয়। এমতাবস্থায় কচিপাতা প্রকাশনা থেকে আকর্ষণীয় প্রচ্ছদের ছোটোদের জন্য এমন একটি সংকলন, বিশেষত রূপকথার সংকলন সত্যিই অভাবনীয়। সংকলনের প্রতিটা গল্পে রয়েছে ছোটো বড়ো সকলের জন্য একেকটি শিক্ষনীয় বার্তা।
----------
ছবি - আলোচক

প্রবন্ধ:: আজও রহস্য - সুলগ্না ব্যানার্জ্জী

আজও রহস্য
সুলগ্না ব্যানার্জ্জী

ম্যাজিক ল্যাম্প’-এর ছোট্ট বন্ধুরা, এবারের ছুটি ছুটি সংখ্যায় কোনো নতুন বই নয়, নিয়ে এলাম তোমাদের জন্য এমন কিছু অজানা রহস্যময় ঘটনা যাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্য আজও উন্মোচন করা সম্ভব হয়নি, পাওয়া যায়নি এমন কোনো ব্যক্তিকে যাঁরা সঠিক তথ্য দিয়ে এসব রহস্যের ওপর থেকে পর্দা তুলবেন কথায় বলে, ‘বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর’! কে কতটা বিশ্বাস করবেন বা আদৌ করবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও আমাদের রহস্যসন্ধানী মন কিন্তু এইসব রহস্য নিয়ে বরাবর আগ্রহী তাই আর দেরি না করে শুরু করা যাক


দ্য অ্যানট্রাম (The Antrum)
কুসংস্কারকে দূরে সরিয়ে বিজ্ঞান আজ অনেকটাই এগিয়ে গেছে, কিন্তু কিছু রহস্য যে বিশ্বের বড়ো বড়ো বৈজ্ঞানিকদের কাছেও অজানা তা তাঁরা সহজেই স্বীকার করেছেন
একটা সময় ছিল যখন পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ানক চলচ্চিত্র হিসেবেদ্য এক্সরসিস্ট-কে গণ্য করা হত এবং এই ছবিটির সঙ্গে জড়িয়ে গেছিল দর্শকদের প্রাণ যাওয়ার বা অসুস্থ হয়ে যাবার মতো তথ্যও ফলে একসময় ছবিটি প্রদর্শন বন্ধ হয় এবং পরে তা পুনরায় দেখানো শুরু হলেও কিয়দংশ বাদ যায় কিন্তু আজ এই ছবিটি নয়, আমি তোমাদের এমন এক চলচ্চিত্রের কথা জানাব যা বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ চলচ্চিত্র এবং তদুপরি অভিশপ্ত বলে গণ্য করা হয় ছবিটির নাম অ্যানট্রাম.... কেন এটি অভিশপ্ত? যে কোনো ছবি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগে পাঠানো হয় বেশ কিছু চলচ্চিত্র উৎসবে অ্যানট্রাম-এর ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি তবে অনেক উদ্যোক্তাই এই ছবিটি দেখাতে চাননি আর এর ঠিক পরেই ঘটে হাড় কাঁপানো সেই ঘটনা যাঁরা ছবিটি দেখাননি সেই সব চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্যোক্তাদের আচমকাই রহস্যময় মৃত্যু হতে থাকে শুধু কি তাই….! ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যানট্রাম ১৯৮৮ সালে বুদাপেস্টের এক প্রেক্ষাগৃহে দেখানোর সময় ছবি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহে আগুন লেগে পুড়ে মারা যান প্রায় ৫৬ জন মানুষ
ঘটনার প্রারম্ভে অনেকেই ভেবেছিলেন প্রজেক্টরে যান্ত্রিক গোলযোগ হয়তো ছিল, কিন্তু খুব দ্রুত তাঁরা বোঝেন ছবিটি যেমন না দেখানো উদ্যোক্তাদের মৃত্যুর কারণ হতে পারে তেমন দেখালেও ঘটতে পারে দুর্ঘটনা তাই বেশ কিছু বছর ধরে ছবিটা নিয়ে আলোচনা বন্ধ থাকার প্রায় পাঁচ বছর পর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি প্রেক্ষাগৃহে পুনরায় দেখানো হয় ছবিটি এবং এবারেও শুরু হয় এমন এক ঝামেলা যে প্রেক্ষাগৃহেই পদপিষ্ট হয়ে মারা যান জনা তিরিশেক দর্শক টনক নড়ে সকলের এবং তৎক্ষণাৎ বন্ধ করা হয় ছবিটির প্রদর্শন তারপর থেকে আর কোনো প্রেক্ষাগৃহে ওই ছবি দেখানো হয়নি পরবর্তীতে ২০১৮ সালে নতুনভাবে ওই ছবিটি মুক্তি পেলে নতুন টিমের সদস্যদের দাবি ছিল যে পুরোনো ছবিটি তৈরি করার সময় তাতে এমন কিছু অদ্ভুত চিহ্ন, শব্দ ও সংকেত ব্যবহার করা হয়েছিল যেগুলি নরকের দরজা খুলে দেয় এবং অশুভ শক্তির আবাহন করে নতুন টিম ছবি থেকে তাই অনেক কিছুই বাদ দেয় ফলে বর্তমানে ছবিটির ক্ষেত্রে প্রাণনাশের খবর নেই কিন্তু আসল ছবির ভয়াবহ রহস্য আজও ভেদ হয়নি বলেই আজও চলচ্চিত্র জগতে অভিশপ্ত চলচ্চিত্রের তকমা পায়অ্যানট্রাম


বাসানোর ফুলদানি
বন্ধুরা, পুজোর ছুটি মানেই নিজেদের সাজের পাশাপাশি বাড়িঘরেরও একটু আধটু সাজসজ্জা ছোটোবেলায় দেখতাম এই সময় পুজোর বাজার করতে গিয়ে বেঁচে যাওয়া টাকা থেকে দরদাম করে ছোটোখাটো এটা ওটা সেটা শখ করে কিনে আনা হত বাড়িতে কখনও বা ছোট্ট ফুলদানি তো কখনও ময়ূরের পালকের তৈরি ছোটো হাতপাখা, কখনও হাতে বোনা মাদুর ইত্যাদি আজও হয় তো তোমাদের অনেকের বাড়িতে এ নিয়ম আছে কিন্তু ধরো তোমার শখ করে কিনে আনা ঘর সাজানোর জিনিসটি যদি তোমার রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে ভয় দেখায়, তখন…! হ্যাঁ, এবার এইরকমই একটি অভিশপ্ত অথচ খুব সাধারণ মানেরফুলদানি’-র রহস্য জানাব তোমাদের এই ফুলদানিটির পিছনের কিংবদন্তি - পঞ্চদশ শতকে ইতালির নেপলসে বিয়ের সময় এক অল্পবয়সি বধূকে উপহার হিসেবে এটি দেন তাঁর কোনো আত্মীয় কিন্তু সেই রাতেই বধূটি রহস্যজনকভাবে মারা যায় এবং মৃত্যুর পর তাঁর আশেপাশে কোথাও ফুলদানিটি পাওয়া যায় বধূটির মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের অন্য কেউ ফুলদানিটি সংরক্ষণের চেষ্টা করলে তাঁরও মৃত্যু হয় ফলে ওই পরিবার ফুলদানিটি আর বাড়িতে রাখেনি পরবর্তীকালে ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, উক্ত ফুলদানিটি বেশ কয়েক প্রজন্ম ধরেই অনেক মানুষের রহস্যময় মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছিল অতঃপর ১৯৮৮ সালে ফুলদানিটি নিলামে তোলা হলে বিজয়ী ক্রেতাও ফুলদানিটি কেনার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই অস্বাভাবিকভাবে মারা যায় এবং ফুলদানিটি তাঁর মৃতদেহের পাশ থেকেই উদ্ধার হয় তারপর যতবার ফুলদানিটি নিলামে তোলা হয়েছে ততবার বিজয়ী ক্রেতাদের মৃতদেহ পাওয়া গেছে মাসখানেকের মধ্যে ফলে অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেন কোনো অভিশাপ হয়তো জড়িয়ে আছে ফুলদানিটির সঙ্গে বর্তমানে ওই ফুলদানিটি কোথায় তা কেউ জানে না, বিশ্বের কোনো জাদুঘর ফুলদানিটি সংরক্ষণের দায়িত্ব নেয়নি তবে এই বিশিষ্ট ফুলদানিটি নিয়ে এটুকুই জানা যায়, মানুষের চোখের আড়ালে এমন কোথাও ফুলদানিটি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে যাতে সেটি আর কারোর ক্ষতি সাধন করতে না পারে


বার্নার্ডো ডি গালভেজের প্রতিকৃতি
এবার যে রহস্যের কথা বলব তা একটিপেইন্টিং’-কে ঘিরে কার পেইন্টিং…? একজন স্প্যানিশ সামরিক নেতা যাঁর নাম বার্নার্দো দে গালভেজ যিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আমেরিকান সৈন্যদের পাশাপাশি যুদ্ধ করে আমেরিকাকে স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি নিজের সামরিক অভিযান মিসিসিপি রাজ্য থেকে ফ্লোরিডা পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন, এমনকি বাহামাসে একটি ব্রিটিশ নৌ ঘাঁটি পর্যন্ত নিয়েছিলেন আমেরিকান বিপ্লবের পর, বার্নার্ডো দে গালভেজ স্পেনে ফিরে যান যেখানে তাঁকে মেজর জেনারেল করা হয় দুই বছরেরও কম সময়ের জন্য নিউ স্পেনের ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর ১৭৮৬ সালে তিনি মেক্সিকো সিটিতে মারা যান তবে আসল ঘটনার সূত্রপাত অবশ্যই তাঁর মৃত্যুর পর থেকে টেক্সাসের গ্যালভেস্টনের গ্যালভেজ হোটেলের কোনো একটি ফ্লোরের করিডোরে রয়েছে তাঁর একটি পেইন্টিং অলৌকিক কার্যকলাপের জন্য একটি কুখ্যাত কিংবদন্তি রয়েছে এই হোটেলের বিভিন্ন সূত্রে বলা হয় যে হোটেলটি আজও একদল আত্মার আবাসস্থল এবং প্রায়ই হোটেলে এসে থাকা ব্যক্তিরা নানান অলৌকিক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন একটি করিডোরে রাখা একটি বিশেষ পেইন্টিংয়ের চারপাশে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেস্টরা যখন সেই রহস্যের সন্ধান শুরু করেন তখন প্রতিটি পদক্ষেপ অনুসরণ করে তাঁরা গালভেজের পেইন্টিংয়ের খুব কাছে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের ষষ্ঠেন্দ্রিয়ের সাহায্যে তাঁরা একটি অদ্ভুত শীতল উপস্থিতিও অনুভব করেছিলেন মনে হয়েছিল গালভেজের প্রতিকৃতিই সেসব ঘটনা ঘটিয়েছে তাঁরাও প্রতিকৃতিটি ক্যামেরাবন্দি করার চেষ্টা করেন কিন্তু তাঁরা সফল হতে পারেননি তবে এটুকু বুঝতে পেরে ছিলেন পেইন্টিং-টি কোনো সাধারণ পেইন্টিং নয় পরবর্তীকালে হোটেল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে জানা যায় অনেকেই নাকি ফ্ল্যাশ সহযোগে এই প্রতিকৃতির ছবি তুলতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ছবিটি প্রতিবার ডেভেলপ হয়ে আসার পর সেখানে একটি নরকরোটি ফুটে ওঠে বলে অনেকের দাবি স্থানীয় কিংবদন্তি, কেউ যদি প্রয়াত সেনাধ্যক্ষের কাছে বিনীত অনুরোধ করেন একটি ছবি তোলার জন্য, তাহলেই নাকি তিনি সফল হন এবং কোনো গণ্ডগোল ঘটে না এই ছবি কেবলমাত্র টেক্সাসের গ্যালভেস্টনের গ্যালভেজ হোটেলেই বিদ্যমান কেউ এই পেইন্টিং-এর ছবি নিজের বাড়িতে লাগালে তা প্রাণঘাতী বলেও আশঙ্কা করা হয়

বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে এমন অনেক রহস্যই আছে যাদের ওপর থেকে আজও সরানো যায়নি সমাধানের পর্দা দীর্ঘসময় ধরে রহস্যের আড়ালে থাকতে থাকতে তারাও সাধারণ জনশ্রুতির গণ্ডি পেরিয়ে পৌঁছে গেছে কিংবদন্তিতে কবির কথায় - ‘বিপুলা এ পৃথিবীর কতটুকু জানিযেন বেদবাক্য বিপুলা পৃথিবীর বিপুলসংখ্যক রহস্যের কিয়দংশ আজ এই নিবন্ধের মাধ্যমে তোমাদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম কেমন লাগল জানাতে ভুলো না বন্ধুরা আগামী দিন সকলের খুব ভালো কাটুক

তথ্যসূত্র:



----------
ছবি - আন্তর্জাল

গোলটেবিল:: সত্যি রাজপুত্র: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় :: আলোচনা: সুলগ্না ব্যানার্জ্জী


সত্যি রাজপুত্র - সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
আলোচনা - সুলগ্না ব্যানার্জী

বই: সত্যি রাজপুত্র ।। লেখক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স; মূল্য: ৫০ টাকা

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সত্যি রাজপুত্র’ উপন্যাসটি সম্প্রতি আমার হাতে এল গ্রন্থাগারের সৌজন্যে বর্তমানে উক্ত উপন্যাসটি ‘আনন্দ পাবলিশার্স’ থেকে প্রকাশিত সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা ‘দশটি কিশোর উপন্যাস’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত
গল্পের মুখ্য চরিত্র ‘মলয়’-এর পূর্বপুরুষরা সোনাপুরা নামক এক জায়গায় রাজা ছিলেন কিন্তু বর্তমানে সেই রাজ্যপাট না থাকলেও কলকাতায় ঝাঁ চকচকে বাড়ির ছোটোবাবু মলয়কে সরকারবাবু এবং দাসদাসীদের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয় বেশিরভাগ সময় এমনকি ছেলেমানুষ বলে তার হাত খরচের জন্য একটা টাকাও দেন না বাড়ির বড়োরা
তার বাবা সেবার কাজের সূত্রে বিলেতে আর মলয়ের মা প্রতি বছর গরমকালে দার্জিলিং-এ চলে যান স্কুলের ছুটি পড়লে মলয় চলে যায় মায়ের কাছে এছাড়াও বাড়িতে আছেন তার দাদা-বৌদি তবে সেবার দাদা বৌদিও বেড়াতে গেছেন সিমলায় মা-বাবা না থাকলে পিসিমণি প্রায়ই চলে আসেন মলয়ের কাছে তার ইচ্ছে পূরণ করতে
সেবার স্কুল বন্ধ হতে আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি, ওদিকে বাড়িতে গুরুদেব আসায় পিসিমণিও ব্যস্ত এহেন অবস্থায় একদিন স্কুলে ক্লাস চলাকালীন ক্লাস-টিচার ফাদার ডেভিড ডেকে পাঠিয়ে মলয়কে জানালেন তার পিসিমণি তাকে গুরুদেবের সঙ্গে আলাপ করাতে জরুরি তলব করেছেন গাড়ি পাঠিয়ে সরল বিশ্বাসে মলয় গিয়ে ওঠে গাড়িতে তবে খানিক পরেই গাড়ির ড্রাইভার ও পাহারাদারের আচরণে প্রবল সন্দেহ জাগে মলয়ের মনে সে কিছু জিজ্ঞাসা করতে যাবার আগেই পাহারাদার তার নাকে একটা রুমাল চেপে ধরলে সে অজ্ঞান হয়ে যায়
জ্ঞান ফিরলে কিছুক্ষণ থিতু হয়ে মলয় বোঝে তার আশঙ্কা কিছুমাত্র ভুল নয় তাকে অপহরণ করা হয়েছে কিন্তু কেন? কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তর পায় সে ‘গুরুদেব’ বলেই একজন কারও নির্দেশে সে অপহৃত, কিন্তু সে গুরুদেব কোনো ডাকাতদলের সর্দার, পিসিমণির গুরুদেব নন কিশোরমনে ফুটে উঠতে থাকে নানান চিন্তা কিন্তু একদল ডাকাতের মাঝে পাঁচদিন হাতে পায়ে শেকল বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে থাকতে বাড়ির লোকজনদের ওপর তীব্র অভিমান হয় তার অবশেষে সম্বিত ফিরে পায় সে বোঝে আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজন বুদ্ধির উপায় খুঁজে বের করে প্রথমবার পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় মলয়, এমনকি মারও খেতে হয় তাকে তবুও সে দমে না, দ্বিতীয়বারের চেষ্টা বিফলে যায় না তার ডাকাতদলের ঘাঁটি থেকে অনতিদূরেই ‘হরিচরণ’-দের গ্রামে এসে ওঠে সে অতিথিবৎসল গরিব চাষি হরিচরণ মলয়কে নিজের সন্তানস্নেহ দেয়

সত্যিই কি মলয়ের বাড়ির লোকজনের কোনো দায়িত্ব নেই মলয়ের প্রতি? মলয় কি হরিচরণের সহযোগিতায় ফিরতে পারবে নিজের বাড়িতে নাকি ধরা পড়বে ডাকাতদলের হাতে? শেষ পর্যন্ত কী হয় তা জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কলমে ‘সত্যি রাজপুত্র’ উপন্যাসটি এখানে নেই কোনো গোয়েন্দা চরিত্রের কথা, তবুও কী যেন এক অমোঘ আকর্ষণে এই উপন্যাসের প্রতি আকর্ষিত হবে আট থেকে আশির পাঠকবৃন্দ
----------