Showing posts with label মৌ দাশগুপ্ত. Show all posts
Showing posts with label মৌ দাশগুপ্ত. Show all posts

গল্প রেল:: গল্পের অডিও:: ঠাঁই-ঠঙাস - মৌ দাশগুপ্ত

গল্প রেল
গল্প পাঠের অডিও
শুনতে হলে ক্লিক করো নিচের ভিডিওতে

(১)
  
গল্পঃ ঠাঁই-ঠঙাস
রচনা ও পাঠঃ মৌ দাশগুপ্ত

________

গল্প রেল:: গল্পের অডিও:: জুলাই ২০২১

গল্প রেল
গল্প পাঠের অডিও
শুনতে হলে ক্লিক করো নিচের ভিডিওতে

(১)
গল্পঃ মেঘপরিদের ছোটো মেয়ে মেঘনা
রচনা ও পাঠঃ মৌ দাশগুপ্ত

________

গল্পের ম্যাজিক:: সম্পত্তির ধাঁধা; অনুবাদঃ মৌ দাশগুপ্ত


সম্পত্তির ধাঁধা
[দ্বাত্রিংশৎপুত্তলিকা নামে সংস্কৃত গল্প-সংকলনের থেকে নেওয়া এটি চব্বিশ নম্বর গল্প]
অনুবাদঃ মৌ দাশগুপ্ত

বিক্রমাদিত্যের রাজ্যে পুরন্দরপুরী নামে এক নগরী ছিল। সেখানে এক মহাধনী বণিক থাকতেন। সেই মানুষটি তাঁর চার ছেলেকে ডেকে বললেন, “দ্যাখো বাবারা! আমি মারা গেলে পরে তোমরা চার ভাই একসঙ্গে থাকতেও পারো আবার না-ও পারো, কারণ পরে তোমাদের মধ্যে বনিবনা না-ও থাকতে পারে। তাই বেঁচে থাকতেই আমি তোমাদের মধ্যে ‘এটা বড়ো ছেলের, এটা মেজো ছেলের –’ ইত্যাদিক্রমে আমার সব সম্পত্তি ভাগ করে দিয়ে যাচ্ছি। সব কিছুই চার ভাগ করে ওই খাটের নিচে আমি পুঁতে রেখে যাব। তোমরা বড়ো, মেজ, সেজো, ছোটো – এই অনুযায়ী সেই ভাগগুলি নেবে।” তাঁর এই কথায় ছেলেরা সবাই রাজি হল।
তারপরে একদিন তিনি মারা গেলেন। তাঁর মারা যাওয়ার পর তাঁর চার ছেলে মাত্র এক মাস একসঙ্গে থাকতে পারল। তারপরেই তাদের বউদের মধ্যে ঝগড়া লাগল। এই অশান্তিতে জেরবার হয়ে চার ভাই ঠিক করল, এখানে খামোখা গোলমাল করে লাভ কী? বাবা তো বেঁচে থাকতেই আমাদের চারজনের জন্যে সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা করে গেছেন। তাহলে তাঁর ওই খাটের নিচের মাটি খুঁড়ে যেমন ভাগ করেছেন সেই মতো প্রত্যেকে নিজের ভাগ বুঝে নিয়ে আলাদা হয়ে গেলেই ঝামেলা মিটে যায়, আমরা বেশ শান্তিতে যে যার মতো থাকতে পারব। সেই খাটের নিচের মাটি একটু খুঁড়তেই চারটি পাত্র পাওয়া গেল, প্রত্যেকটি পাত্রে একটি করে পুঁটুলি, সেই পুঁটুলিগুলোর মধ্যে একটাতে ছিল মাটি, একটাতে ছাই, আরেকটিতে হাড় আর একটিতে ছিল কিছু আমপাতা। এই চার পুঁটুলি দেখে তো চার ছেলে তাজ্জব। তারা হতভম্ব হয়ে বলাবলি করতে লাগল, “এ বাবা! আমাদের বাবা যেভাবে ধন ভাগ করে দিয়েছেন তা বুঝবে এমন সাধ্যি কার থাকতে পারে?” এই সব ভেবে তারা তো রাজার সভায় চলল। রাজার সামনে সব বৃত্তান্ত খুলে বলল। রাজার সভাসদরা এই ধন ভাগের মাথা মুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারলেন না। তারপর চার ভাই যেখানেই কোনো পণ্ডিতের খোঁজ পায়, সেখানেই ছুটে গিয়ে তাঁদেরকে সেই সম্পত্তি বাঁটোয়ারার অর্থ জিজ্ঞেস করে। কিন্তু কেউই এর মানে কী তা বলতে পারেন না।
এমন সময়ে রাজা শালিবাহন এক কুমোরের বাড়িতে লুকিয়ে বাস করছিলেন। তিনি এই বৃত্তান্ত শুনতে পেয়ে বললেন, “এতে না বোঝারই বা কী আছে, আর আশ্চর্য হবারই বা কী আছে?” তারপর তাঁর কথা শুনে সবাই যখন তাঁকেই এই অদ্ভুত ভাগ-বাঁটোয়ারার অর্থ জিজ্ঞেস করল, তখন তিনি বললেন, “এই চারজনই হচ্ছে একজন বণিকের পুত্র। বেঁচে থাকতেই এদের বাবা বড়ো, মেজো, সেজো ইত্যাদিক্রমে নিজের সম্পত্তি ভাগ করে দিয়েছেন। তাই এখানে যেহেতু বড়ো ছেলের জন্যে সবার ওপরে রাখা পাত্রে মাটি পাওয়া গেল, তার মানে তিনি তাঁর সম্পত্তির মধ্যে সমস্ত জমিগুলি তাকে দিয়ে গেছেন। দ্বিতীয় ছেলের হাঁড়িতে আমপাতার গুচ্ছ, এর মানে তাকে তাঁর সমস্ত শস্যের মালিকানা দিয়েছেন। তৃতীয়জনের পাত্রে রয়েছে হাড়, তার মানে তাকে তার বাবা নিজের যাবতীয় গবাদি পশুগুলি দিয়ে গেছেন আর চতুর্থ পুত্রের পাত্রের ছাই বোঝাচ্ছে তাকে তিনি তাঁর সঞ্চিত সোনাদানা দিয়ে গেছেন।” এইভাবে শালিবাহন এই সম্পত্তির বাঁটোয়ারার মানে বুঝিয়ে দিতে চার ভাই খুশি হয়ে নিজেদের নগরে ফিরে গেল।
--------
ছবিঃ সুকান্ত মণ্ডল

শব্দের ম্যাজিক:: শব্দ-খোঁড়ার মজা - মৌ দাশগুপ্ত


শব্দ-খোঁড়ার মজা
মৌ দাশগুপ্ত

আমাদের রোজকার ব্যবহার করা শব্দের মধ্যেই কত যে মজা লুকিয়ে আছে তা খুঁড়তে বসলে এমন নেশা ধরে যায় যে দেখতে পাওয়া যায় কত না-দেখা আলো, শুনতে পাওয়া যায় কত না-শোনা গল্প। ‘মজা পাওয়া’-র কথা বলতে গিয়ে আজ আমার ‘বিনোদন’ শব্দটা নিয়ে ভাবতে ইচ্ছে করছে। আমরা যাকে ইংরেজিতে বলি ‘entertainment বা ‘recreation; সেটিকেই প্রধান ভারতীয় ভাষাগুলিতে ‘বিনোদন’ বলা হয়। এটা একটা বিশুদ্ধ সংস্কৃত শব্দ, এইটা একটু খুঁড়ে দেখি তো এই অর্থটা সে কীভাবে জোটাল!

বিনোদন শব্দ তিনটি প্রধান উপকরণ দিয়ে তৈরি; তারা হল ‘বি’ উপসর্গ (prefix), নুদ্ ধাতু (verbal root) আর অন প্রত্যয় (suffix)শব্দের মূল অর্থটা সাধারণত তার মধ্যেকার ধাতুটির অর্থে লুকিয়ে থাকে। সেখানেও আবার ঠেলাঠেলি কম নয়, কারণ একই ধাতুর অনেক অর্থ থাকতে পারে। যাই হোক, নুদ্ ধাতুর মূল অর্থ হল ‘ঠেলা মারা’, ‘ধাক্কা দেওয়া’‘বি’ উপসর্গের মানেও অনেক রকম হয়, তবে সাধারণত সেটি ‘বিশেষভাবে’ - এই মানে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। আর ‘অন’ প্রত্যয় ধাতুটিকে ভাব বা ক্রিয়া-বাচক বিশেষ্যে বদলে দেয়। তাহলে বিনোদন শব্দটির সাধারণভাবে মানে দাঁড়াল ‘বিশেষভাবে ঠেলা মারা বা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া’আমাদের সারাদিনের খাটাখাটনির ক্লান্তি অথবা নানা দুশ্চিন্তার ভার যার বিশেষ রকমের ধাক্কা খেয়ে দূরে সরে যায়, আমরা আবার শরীরে আর মনে চনমনে হয়ে উঠি, সেইটিই তো ‘বিনোদন’ - তা সে গান শোনা হোক, সিনেমা বা সিরিয়াল দেখা হোক বা মনের মতো বই পড়া হোক - এই সব কাজগুলোই বিনোদন, যদি তারা শরীরের বা মনের ক্লান্তিকে একেবারে ঠেলে দূরে সরিয়ে দিতে পারে। কাজেই দেখছ এই পুরোনো শব্দটাকে খুঁড়ে আমরা সেই মানেটাই পেলাম, যে মানে বোঝাতে আজও এই শব্দটাকে অজান্তেই আমরা ব্যবহার করে চলেছি। কেমন মজার না!

_____

গল্প রেল:: গল্পের অডিও:: জুলাই ২০২০

গল্প রেল
গল্প পাঠের অডিও
শুনতে হলে ক্লিক করো নিচের ভিডিওতে

(১)
গল্পঃ রাজহাঁস আর আশ্চর্য দেশ
রচনা ও পাঠঃ মৌ দাশগুপ্ত



_____

প্রবন্ধ:: ছড়ার ছন্দ আর ছন্দের ছড়া - মৌ দাশগুপ্ত


ছড়া পড়ে আনন্দ পায় না কে! কিন্তু কেন এই ছড়া আমাদের মনকে মাতিয়ে তোলে, অবোধ শিশু অবধি ছড়ার তালে তালে হাততালি দিয়ে দুলতে থাকে, তা নিয়ে আমরা পারতপক্ষে ভেবে দেখি কি? এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যায় ‘আম খাচ্ছ খাও, কষ্ট করে আঁটি গোনার কী দরকার?’ কিন্তু এটা নিয়ে একটু ভেবে দেখলে ক্ষতি কী আর যদি তাতে আনন্দও পাওয়া যায়, সঙ্গে সঙ্গে নতুন কিছু শেখাও যায়!
পণ্ডিতেরা এই ছড়ার ছন্দ নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন, সে-সব বলে আমি তোমাদের মোটেই এখানে ঘাবড়ে দিতে চাই না। শুধু সহজ করে বলি, এই ছন্দ আমাদের বাংলাভাষার সঙ্গী সেই আদ্যিকাল থেকে – সে-ই সাধারণ দিশি মানুষেরা এই ছন্দে গান গাইত, তাল দিত, এই ছন্দেই মিশে আছে লোকসংগীতের বাদ্যি আর নাচের বোল। তাই তখনকার পড়াশুনো করা মানুষেরা এই ছন্দকে অত সমীহের চোখে দেখতেন না, তাঁরা পদ্য লিখতেন প্রধানত পয়ার ছন্দে, যে ছন্দ তোমরা আজও শোন লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়া-তে। ছড়ার ছন্দকে সবার প্রথমে সম্মানের আসনে তুলে আনলেন রবীন্দ্রনাথ, তিনি দেখালেন শুধু হালকা চালের ছেলেভোলানো কবিতা বা লোকসংগীতই নয়, এ-ছন্দে লেখা যায় চমৎকার উঁচুদরের কবিতা। তাঁর ‘পলাতকা’ নামের কবিতার বইতে এই ছন্দে অপূর্ব ভাবের কবিতা লিখে তখনকার পাঠকদের অবাক করে দিলেন তিনি।
এই ছড়ার ছন্দ নিয়ে খুব তলিয়ে আলোচনা করেছেন কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, যাঁকে বলা হত ছন্দের জাদুকর। তাঁর ‘ছন্দ সরস্বতী’ নামে বইতে এই ছন্দ সম্বন্ধে ভারি চমৎকারভাবে তিনি বলেছেন, “ওকে অত সহজে আয়ত্ত করতে পারবে না, ও হল বাংলা ভাষার প্রাণপাখি। ওকে যে বশ করতে পারবে বঙ্গবাণীর স্বরূপ মূর্তি সে প্রত্যক্ষ করবে, ...দেখতে ছোটো বটে, কিন্তু সহজে ওকে হাত করতে পারবে না।” এই ছন্দের আরেকটি গালভরা নাম আছে, সেটি হল ‘স্বরবৃত্ত’। বাংলা পদ্য কবিতায় সাধারণভাবে তিন রকমের ছন্দের দেখা পাওয়া যায়, তার মধ্যে একটি হল ছড়ার ছন্দ। পণ্ডিতেরা বলেছেন এই ছন্দে মুক্ত বা স্বরবর্ণান্ত অক্ষর (সিলেব্‌ল) সবসময়েই একমাত্রা আর রুদ্ধ বা ব্যঞ্জনান্ত অক্ষরও সাধারণত একমাত্রার মূল্য পায় এবং প্রতি পর্বে মাত্রার সংখ্যা থাকে চার। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ বলেন, “এটা তিন মাত্রার ছন্দ... এর প্রত্যেক পা-ফেলার লয় হচ্ছে তিনের।” রবীন্দ্রনাথের বক্তব্যের উদাহরণ হিসেবে দেখা যেতে পারে এই চিরচেনা ছড়াটিকে –
বৃষ্‌ টি / পড়ে- / টাপুর / টুপুর / নদেয় / এল- / বা-ন।
শিবঠা / কুরের / বিয়ে- / হবে- / তিন্‌ ক / ন্‌নে- / দা-ন।
আসল কথা হল, ছড়ার ছন্দের একটা বিশেষ সুবিধে এই যে, এখানে ইচ্ছেমতো স্বরকে টেনে লম্বা করা যায়, ছোটোও করা যায়, ফলে এর একটা ফ্লেক্সিবিলিটি বা নমনীয়তা আছে, কবিতার বিষয় ও ভাব অনুসারে একে চমৎকারভাবে ব্যবহার করা যায়, এবং রবিঠাকুর আর তাঁর পরবর্তী কবিরা তা করেওছিলেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সেকালের বিখ্যাত কবি ও লেখকেরা
[বসে ডানদিক থেকেঃ সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, যতীন্দ্রমোহন বাগচি, করুণানিধান বন্দ্যোপাধ্যায়;
দাঁড়িয়ে ডানদিক থেকেঃ প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায়, মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়,
দ্বিজেন্দ্র নারায়ণ বাগচি এবং চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়]

এবার বলি একজন প্রায় বিস্মৃত ছোটোদের ছড়াকারের কথা। যে-সময়ে বাংলাতেও ছোটোদের জন্যে পয়ার বা অক্ষরবৃত্তে (প্রতি চরণে ১৪টি করে অক্ষর) কবিতা লেখা হত, যেমন –
“পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল
কাননে কুসুমকলি সকলই ফুটিল”
সে-সময় পূর্ববঙ্গের ঢাকা জেলার সোনারং গ্রামে হরিপ্রসন্ন দাশগুপ্ত বিদ্যাবিনোদ নামে এক কবি ছিলেন, দরিদ্র কিন্তু পড়াশুনো-অনুরাগী। বিদ্যালয়ের উঁচু ডিগ্রি তাঁর ছিল না কিন্তু মানুষটি ছিলেন স্বশিক্ষিত। নানা বিষয়ে ছিল তাঁর আগ্রহ, উদ্ভিদবিদ্যা, সাহিত্য, সর্বোপরি ছন্দশাস্ত্র। তিনি প্রবাসী, ভারতী প্রভৃতি তৎকালীন বিখ্যাত পত্র-পত্রিকায় প্রায় নিয়মিতই কবিতা লিখতেন। পঞ্চস্বরের মিল দিয়ে কবিতা লিখে এক প্রতিযোগিতায় হরিপ্রসন্ন রবীন্দ্রনাথের প্রশংসাপত্র পেয়েছিলেন।
অক্ষরবৃত্ত অর্থাৎ পয়ার ছন্দে কবিতা পাঠে অভ্যস্ত গ্রামের শিক্ষিত ভদ্রলোকেরা রবীন্দ্রনাথের মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা কবিতা অক্ষরবৃত্তের চালে পড়তে পারছেন না, অপেক্ষা হরিপ্রসন্নের জন্য, এবার সে জব্দ হবে, এই কবিকে সে এত বড়ো বলে, অথচ দেখ ছন্দেই ভুল! হরিপ্রসন্ন এলেন এবং নির্ভুলভাবে পড়ে শোনালেন সাত মাত্রার ছন্দে লেখা কবিতাটি। গ্রামের লোকেরা জানলেন ছন্দ এরকমও হতে পারে।
হরিপ্রসন্ন আদতে ছিলেন কবি, প্রধানত লিখতেন ছোটোদের জন্য কবিতা। তাঁর এরকম কতগুলি কবিতার বইও বেরিয়েছিল – ‘রঙ্গিলা’, ‘বেদানা’, ঈশপের গল্পের চমৎকার কাব্যরূপ ‘আঙুর’। এখন বইগুলি আর পাওয়া যায় না, কিন্তু বেশ কয়েক বছর আগেও তাঁর নাতি দেখতে পান কোনও এক পত্রিকায় ‘কবি অজ্ঞাত’ পরিচয় দিয়ে তাঁর দাদুর একটি কবিতা কেউ উদ্ধৃত করেছেন। এভাবেই অপরিচয়ে হারিয়ে যান দরিদ্র হরিপ্রসন্নরা, কিন্তু তবু টিঁকে থাকেন। এখানে দিলাম সেই ‘অজ্ঞাত-পরিচয়’ কবির সেই উদ্ধৃত কবিতাটি, যেটি ঈশপের গল্পের কাব্যরূপ, নীতিবাক্য সমেত, প্রায় একশো বছর আগে লেখা হরিপ্রসন্ন দাশগুপ্তর এই কবিতাটিতে ধরা আছে ছোটোদের শিক্ষার জন্যে ছড়ার ছন্দ ব্যবহারের এক চমৎকার নমুনা -

ব্যাং ও ষাঁড়
কেউটেকুড়ির বিল,
তাতে ছুড়লে পরে ঢিল;
দেখ্‌তে পারো ব্যাং এর নাচন্‌ -
কিল্‌ বিল্‌ কিল্‌ বিল্‌!

তাতে একটা ছিল ব্যাং,
তার লম্বা সরু ঠ্যাং,
বাদ্‌লা দিনে গাল ফুলিয়ে
ডাক্‌ত ঘ্যাঙর ঘ্যাং!

তার বড্ড ছিল জাঁক,
কথায় লাগিয়ে দিত তাক্‌,
বল্‌ত সদা – ‘এক্‌লা আমি
মার্‌তে পারি লাখ্‌ !’

সেদিন নান্নু মিঞার ষাঁড়
এলো চর্‌তে বিলের ধার;
ব্যাংটা বলে – ‘তফাত রহো
ছোট্ট জানোয়ার’!

রাগে ফুলিয়ে দেহ খান্‌,
তিনি ষাঁড়টি হ’তে চান্‌;
শেষ কালেতে পেটটি ফেটে
হ’লেন লবেজান।

নীতি – ছোটো যদি আপনারে বড়ো ব’লে ভাবে।
     একদিন তার ফল হাতে হাতে পাবে।।
_____
ছবিঃ আন্তর্জাল

গল্প রেল:: গল্পের অডিও:: এপ্রিল ২০২০

গল্প রেল
গল্প পাঠের অডিও
শুনতে হলে ক্লিক করো নিচের ভিডিওগুলিতে

(১)
গল্পঃ সুরুল গ্রামের নুরুল
রচনা ও পাঠঃ চুমকি চট্টোপাধ্যায়


(২)
গল্পঃ অতিথি
রচনাঃ অভিজ্ঞান রায়চৌধুরী :: পাঠঃ সমুদ্র বসু


(৩)
গল্পঃ কানু আর সুয্যিঠাকুর
রচনা ও পাঠঃ মৌ দাশগুপ্ত


(৪)
গল্পঃ বনের নিয়ম
রচনাঃ শেলী (অন্তহীনা) :: পাঠঃ সিলভিয়া ঘোষ

_____