Showing posts with label অমিতাভ সাহা. Show all posts
Showing posts with label অমিতাভ সাহা. Show all posts

গল্পের ম্যাজিক:: হুঁশ - অমিতাভ সাহা


হুঁশ
অমিতাভ সাহা

(১)

চুল কাটানো নিয়ে মহা জ্বালায় পড়েছি। রোববার ছাড়া ফুরসত পাই না। অন্যদিন অফিস থাকে। আর রোববার করে সেলুনে যা ভিড়! বাড়ির আশেপাশে কাছাকাছির মধ্যে তিন-চারটে সেলুন আছে। সকাল দুপুর যখনই যাই, চার-পাঁচ জনের লাইন। একটা সেলুন ছেড়ে আরেকটায় যাই। সেখানেও একই অবস্থা। ত্রিশ-চল্লিশ মিনিট অপেক্ষা করা অত্যন্ত বিরক্তিকর। বিকেলের দিকে অবশ্য ফাঁকা থাকে। কিন্তু তখন যেতে ইচ্ছে হয় না। আসলে ছোটোবেলা থেকে অভ্যেস সকাল সকাল চুল কাটিয়ে এসে চান করে নেওয়া। তিন হপ্তা ধরে ঘুরছি। মাথা ভর্তি চুল, গালভরা দাড়ি নিয়ে পুরো উশকোখুশকো অবস্থা।

(২)

এখন আবার ইয়ার এন্ডিংয়ের সময়। অফিসে ভীষণ কাজের চাপ। সমস্ত পেন্ডিং কাজগুলো দ্রুত কমপ্লিট করতে হবে। ডিপার্টমেন্টের সেক্রেটারি সাহেব প্রায়শই তাগাদা দিচ্ছেন সব জেলার আধিকারিকদের নিয়ে মিটিং করছেন, কাজের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং কাজ শেষ করার ডেডলাইন ফিক্স করে দিচ্ছেন এর আগে দু’বার ডেডলাইন মিস করেছি এবং তার জন্য গালমন্দ শুনতে হয়েছে। এবার ডেডলাইনের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে আর মুখ দেখানো যাবে না। অ্যাকচুয়ালি আমার কাজ হল ফিল্ডে কনট্রাক্টরদের কাজ তত্ত্বাবধান করা কৃষিকাজের সেচের জন্য গভীর নলকূপ, কুয়ো ইত্যাদি খনন, পাম্প হাউজ বানানো ইত্যাদি সিভিল ওয়ার্কসের কাজ সুপারভিশন করা এবং কাজ শেষে মেজারমেন্ট নিয়ে কনট্রাক্টরদের পেমেন্টের জন্য বিল করে পাঠানোই আমার ডিউটিকিন্তু সাইটে কনট্রাক্টররা কাজ না করলে আমার হাত-পা বাঁধা। ওদের তো আঠারো মাসে বছর। ওদের অনেকবার বলেছি কাজগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করতে। ওরা গায়েই লাগায়নি আগে থেকে কিছু করেনি। এখন শেষ মুহূর্তে এসে পড়িমরি করে কাজ আরম্ভ করেছে। আমিও প্রতিনিয়ত সাইট সুপারভিশন করে যাচ্ছি এবং কাজের বিল রেডি করছি। কিন্তু এত বিল জমে গেছে, যে এখন প্রতিদিন সাইট সুপারভিশন করে আট ঘন্টা অফিস করে বিলের কাজ শেষ করা যাচ্ছে নামাঝখান থেকে কনট্রাক্টরদের গাফিলতির জন্য আমাকে গাল খেতে হচ্ছে। আমার দিক থেকে চেষ্টার কোনো মতি নেই। ভীষণ দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। এখনও কাজ শেষ হয়নি। সেক্রেটারি সাহেব কাজের অগ্রগতি নিয়ে জিজ্ঞেস করলে কী উত্তর দেব তাই ভাবছি

(৩)

সকাল সকাল সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম বাজার করতেপাড়ার মোড়ে পৌঁছোতেই সেলুনটার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলাম। একদম ফাঁকা। একটা লোকও নেই। সেলুনের ছেলেটা বাইরে বেঞ্চে বসে পেপার পড়ছিলআমি তাড়াহুড়ো করে সেলুনের সামনে সাইকেলটা স্ট্যান্ড করে সেলুনে গিয়ে ঢুকলাম। পাছে অন্য কেউ এসে পড়ে। গিয়ে সরাসরি রিভলভিং চেয়ারে বসে পড়লাম। ছেলেটা পেপার পড়া ছেড়ে আমার কাছে এসে সাদা চাদরটা বার করে ঝাড়া দিয়ে আমার গা ঢেকে দিয়ে চাদরের কোনাটা পেছনে বেঁধে দিল। তারপর মাথায় জল স্প্রে করে দিয়ে বলল, “মুখ থেকে মাস্কটা সরাও
আমি বললাম, “কেন? মাস্ক পরা থাকলে তোর সমস্যা কোথায়?”
“মাস্ক পরা থাকলে চুল কাটতে কাটতে তোমার মাস্কের ফিতেটাই কেটে যেতে পারে এত ভয় পাচ্ছ কেন? আমি তো মাস্ক পরে আছি। হাতও স্যানিটাইজ করেছি
“করোনা হবে না তো?”
“আরে, কিচ্ছু হবে না। এত ঘাবড়াচ্ছ কেন?”
আমি মাস্ক খুলে সামনের ডেস্কের উপর রাখলাম। ও চুল কাটতে আরম্ভ করল। ওয়াল হ্যাঙ্গিং ফ্যানটা চালিয়ে দিয়েছিল। ভেজা চুলে ফ্যানের ঠাণ্ডা হাওয়া লেগে খুব আরাম লাগছিল। আমি চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়েছিলাম। ও কাঁচি দিয়ে চুল কেটে যাচ্ছিল। কাটার ফাঁকে ফাঁকে চুলগুলো টেনে টেনে মাথা মালিশ করে দিচ্ছিল। আহ! কী আরাম লাগছিল। এতদিন পর মনে হয় মাথা পাতলা হল। ক্যাসেট প্লেয়ারে গান ভেসে আসছিল, “হাওয়া মে উড়তা যায়ে, তেরা লাল দুপাট্টা মলমল কি...।” আমি ছেলেটাকে বললাম, “এসব পুরোনো গান সরা! ঝিনচ্যাক গান লাগা” ও ক্যাসেটটা বদলে একটা নতুন হিন্দি সিনেমার গান চালিয়ে দিল।
ছোটো করে চুল কাটার পর খুর দিয়ে ঘাড়টা চেঁছে দিচ্ছিল। সুড়সুড়ি লাগছিল আর সেই সঙ্গে আরামে রোমাঞ্চিত হয়ে উঠছিলাম। মাঝখানে একবার পকেটে রাখা ফোনটা বেজে উঠল। বার করে দেখি, বাড়ি থেকে ফোন। ছেলেটাকে বললাম, “এই! গানের ভলিউমটা একটু কমা তো!”
ফোন রিসিভ করতেই বাড়ি থেকে বলল, “কচি লাউ পেলে নিয়ে আসিস তো, আর কুচো চিংড়ি দেখিস, আর একটা গোটা মুরগি কাটিয়ে নিয়ে আসিস
“আচ্ছা, আচ্ছা, রাখো তো
একটু বিরক্ত হলাম। মনে মনে বললাম, এদের আর ফাইফরমাশের শেষ নেই। চুল কাটা শেষে ফোম দিয়ে দাড়িও শেভ করে দিলদাড়ি কাটা শেষে গালে যখন ফিটকিরি ঘষছিল, তখন যে কী জ্বলছিল না! যাই হোক, চুল কাটিয়ে দাড়ি কামিয়ে যখন সেলুন থেকে বেরোলাম, মাথাটা একদম ঝরঝরে লাগছিল।
বেরিয়ে সাইকেল নিয়ে গেলাম সবজি-বাজারে। গিয়ে আগে কুচো চিংড়ি খুঁজতে আরম্ভ করলাম, কারণ চিংড়ি ভালো না পেলে আগে লাউ নিয়ে লাভ নেই। দু-এক জায়গায় চিংড়ি পেলাম, কিন্তু চিংড়িগুলো একটু বড়ো সাইজের। গলদা চিংড়ি দিয়ে লাউ মনে হয় ভালো লাগবে না।
এক মাছওয়ালা আমাকে দেখেই ডাকাডাকি শুরু করে দিল।
“আরে, শোনো নাএদিকে আসো। কী মাছ খুঁজছ? ভালো শোল মাছ আছে। নিয়ে যাও। এক কেজির শোল। লাউ দিয়ে রান্না করবে। দারুণ লাগবে
এ ব্যাটা তো দারুণ ওস্তাদ! আমাকে লাউয়ের বিকল্প রেসিপি দিয়ে দিলজ্যান্ত শোল মাছ, নড়ছিল। ভালোই হবেআমি নেব কিনা দোনামনা করছিলাম।
মাছওয়ালা বলল, “আরে দাম কম রাখব। তুমি নিয়ে যাও তো
আমি রাজি হয়ে গেলাম মাছওয়ালা মাছের আঁশ ছিলে কেটেকুটে রেডি করে দিল আমি মাছ নিয়ে সবজি-বাজারে গিয়ে কচি লাউ খুঁজতে লাগলাম এ দোকান ও দোকান ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ পাশেই দেখি সেলুনের ছেলেটা বাজার করছে। হাতে সবজি ভর্তি বাজারের ব্যাগ। অবাক হয়ে গেলামএ কী! ও আবার এর মধ্যে কখন এল! দোকান বন্ধ করে চলে এল নাকি! আমি তো সেলুন থেকে বেরিয়ে সরাসরি বাজারেই এসে ঢুকেছি। ও এর মধ্যে এত কিছু বাজারও করে ফেলল। আশ্চর্য ব্যাপার! ওকে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম, “কী রে? তুই আবার দোকান ফেলে কখন চলে এলি?”
“দোকান! আজ আবার দোকান কীসের আজ তো বন্ধ!”
“কী বলিস! আমাকে না একটু আগেই তোর দোকানে চুল কেটে দিলি?”
“মাথা-টাথা খারাপ হয়েছে নাকি তোমার? আজ তো দোকানই খুলিনি। বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাজারেই তো এলাম
“অ্যাঁ! কী বলছিস! আজ দোকান খুলিসনি? আমি তাহলে এতক্ষণ কোথায় ছিলাম?
“আজ মঙ্গলবার যে
“আজ মঙ্গলবার নাকি? রোববার না?”
“মাথাটা গেছে তোমার
আমি মাথায় হাত বোলাতে লাগলাম। এ কী! মাথার চুলগুলো আগের মতো বড়ো বড়োই লাগছে। গালে হাত বুলিয়ে দেখি দাড়িগুলো খোঁচা খোঁচাএ কী করে সম্ভব? আজ কি মঙ্গলবার? আজ তো সেক্রেটারি সাহেব আমাকে কাজের প্রোগ্রেস নিয়ে ধরবেন।

(৪)

কানে লাগানো হেডফোনে আমার নাম ধরে ডাকাডাকি শুনে হুঁশ ফিরল।
“অমিতাভ! এই অমিতাভ! আরে কোন দিকে তাকিয়ে আছ? ওদিকে তাকিয়ে আপনমনে কী ভাবছ?”
সামনে তাকিয়ে কম্পিউটার স্ক্রিনে দেখি অন্যান্য জেলার আধিকারিকদের সঙ্গে সেক্রেটারি সাহেবও উপস্থিতনিজেকে সামলে নিয়ে বললাম, “ওহ! সরি স্যার
সেক্রেটারি সাহেব বললেন, “গালে মাথায় হাত বোলালে কি কাজ উদ্ধার হবে? যেটা জিজ্ঞেস করছি তার উত্তর দাও। তোমার কাজের প্রোগ্রেস কী বলো। কবে শেষ করবে?”
মুখ কাঁচুমাচু করে বললাম, “কাজ এখনও শেষ হয়নি স্যার। আরও তিন-চার দিন লাগবে
আমি এখন ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে।
----------

বিজ্ঞান:: জলে চলে গাড়ি! - অমিতাভ সাহা

জলে চলে গাড়ি!
অমিতাভ সাহা

ডিজেল-পেট্রোলের মতো প্রাকৃতিক ইন্ধনের উৎস অপরিমিত নয়। দিনের পর দিন মানুষের লাইফস্টাইল যত উন্নত হচ্ছে, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করার প্রবণতা তত বাড়ছে। গাড়ির সংখ্যা যত বাড়ছে, ডিজেল-পেট্রোলের ব্যবহার তত বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বায়ু দূষণ এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের সমস্যা। অদূর ভবিষ্যতে এসব প্রাকৃতিক ইন্ধনের ভাঁড়ার তলানিতে গিয়ে ঠেকবে, সন্দেহ নেই। তাই বিভিন্ন বিকল্প জ্বালানি দিয়ে গাড়ি চালানোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে। ইলেকট্রিক কার এখন ভারতে চালু রয়েছে এবং ভবিষ্যতে ব্যাপক হারে ইলেকট্রিক কার তৈরি করে পরিবহণের ক্ষেত্রে ডিজেল–পেট্রোলের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা ভারত সরকারের আছে
বিকল্প এনার্জি তৈরি করার একটি উপায় হল ফুয়েল সেল। এটি কোন নতুন টেকনোলজি নয়। গত কয়েক দশক ধরে ফুয়েল সেল টেকনোলজি ব্যবহার করে এনার্জি তৈরি করার প্রচেষ্টা হয়েছে। ফুয়েল সেলে সাধারণত ইনপুট হিসেবে ব্যবহার করা হয় হাইড্রোজেন গ্যাস। হাইড্রোজেন একটি অতিমাত্রায় দাহ্য পদার্থ এবং ফুয়েল হিসেবে ব্যবহার করে এনার্জি তৈরি করা যেতে পারে
ফুয়েল সেল অনেকটা ব্যাটারির মতোই; এতে একটি পজিটিভ ও একটি নেগেটিভ টার্মিনাল থাকে আর মাঝখানে থাকে ইলেকট্রোলাইট বা তড়িৎ-বিশ্লেষ্য পদার্থ (চিত্র ১)পজিটিভ টার্মিনালে সাপ্লাই করা হয় হাইড্রোজেন। টার্মিনাল প্ল্যাটিনামের তৈরি হয়, যা ক্যাটালিস্টের কাজ করেযখনই হাইড্রোজেন গ্যাস পজিটিভ টার্মিনালে পৌঁছায়, তখনই অক্সিডেশন ঘটে এবং হাইড্রোজেন ইলেকট্রন রিলিজ করে পজিটিভ চার্জড H+ আয়নে রূপান্তরিত হয়
এখন, H+ আয়ন স্বাভাবিকভাবেই নেগেটিভ টার্মিনালের বা ক্যাথোডের দিকে আকৃষ্ট হয় এবং ইলেক্ট্রোলাইটের মধ্য দিয়ে চলাচল করে ক্যাথোডে পৌঁছায়। কিন্তু ইলেকট্রন ইলেক্ট্রোলাইটের মধ্য দিয়ে যেতে পারে না। ফ্রি ইলেকট্রনগুলি একটি তারের মধ্য দিয়ে পাস করে কারেন্ট তৈরি করে তারের অপরপ্রান্তে যুক্ত ক্যাথোডে পৌঁছায়। দুটি টার্মিনালের মাঝে লোড (ধরা যাক মোটর) দেওয়া থাকে, যা এই কারেন্ট ব্যবহার করে চালানো যেতে পারেইলেকট্রনগুলি যখন ক্যাথোডে পৌঁছায়, তখন আগে থেকে উপস্থিত H+ আয়নগুলির সঙ্গে  অক্সিজেনের উপস্থিতিতে যুক্ত হয়ে জলে পরিণত হয় (চিত্র ২)
একটি সিঙ্গেল ফুয়েল সেল খুব সামান্য পরিমাণ এনার্জি তৈরি করে, কিন্তু যদি একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ফুয়েল সেল স্ট্যাক করা যায়, তাহলে তার থেকে বিপুল পরিমাণ এনার্জি তৈরি হতে পারে, যা দিয়ে গাড়ি বা ট্রাক চালানো যেতে পারে।
চিত্র ১ ।। ফুয়েল সেলের ব্লক ডায়াগ্রাম


চিত্র ২
।। ফুয়েল সেলের কার্যপ্রণালী

এখন সমস্যা হল, এই বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেন আমরা পাব কোথা থেকে? সহজ উত্তর হল, জলের মধ্যে কারেন্ট ফ্লো করে তড়িৎ-বিশ্লেষণ ঘটিয়ে জলকে (H2O) হাইড্রোজেন (H2) এবং অক্সিজেনে (O2) ভেঙে দেওয়া। এটা আমরা ক্লাস সেভেন-এইটে বিজ্ঞান বইতে পড়েছি। তবু একটু বলি। যেহেতু জল তড়িতের কুপরিবাহী, তাই জলে সামান্য অ্যাসিড মেশালে জল তড়িতের সুপরিবাহী হয় অ্যাসিড মিশ্রিত জলের মধ্যে দুইটি ইলেকট্রোরেখে কারেন্ট ফ্লো করলে জলের অণুগুলির বেশির ভাগ H+ এবং OH- আয়নে ভেঙে যায় H+ আয়নগুলি ক্যাথোডে যায় এবং সেখানে প্রয়োজন মতো ইলেকট্রন গ্রহণ করে তড়িৎনিরপেক্ষ H পরমাণুতে পরিণত হয়পরমাণুগুলি আবার পরস্পর যুক্ত হয়ে H2 অণুতে পরিণত হয়  OH- আয়নগুলি অ্যানোডে যায় এবং ওদের বাড়তি ইলেকট্রন বর্জন করে তড়িৎনিরপেক্ষ OH  মূলকে পরিণত হয় OH মূলকগুলি পরস্পরের সঙ্গে বিক্রিয়া করে জল এবং অক্সিজেন উৎপন্ন করে (চিত্র ৩)
ক্যাথোডে:  H+ + e = H,     H + H = H2
অ্যানোডে: OH- - e = OH,    4OH = 2H2O + O2

চিত্র ৩ ।। জলের সাধারণ তড়িৎ-বিশ্লেষণ প্রক্রিয়া

এভাবে আমরা ইলেট্রোলিসিসের মাধ্যমে হাইড্রোজেন তৈরি করতে পারি কিন্তু এতে প্রচুর পরিমাণ এনার্জি প্রয়োজন হবেশুধু তাই নয়, এই হাইড্রোজেন স্টোর করা এবং ট্রান্সপোর্ট করা খুব মুশকিল ব্যাপার। যেহেতু অত্যন্ত দাহ্য, তাই হাইড্রোজেন স্টোর করার জন্য ভীষণ মজবুত ট্যাঙ্ক ব্যবহার করতে হবে, তা সত্ত্বেও লিকেজ হবার সম্ভবনা থেকেই যায়। এবার যদি ফুয়েল এফিসিয়েন্সি’র কথা বলি, তাহলে, হাইড্রোজেন ডিজেল-পেট্রোলের তুলনায় মাত্র ২০% এফিসিয়েন্ট।
ধরে নিই, আমরা গাড়িতে সোলার প্যানেল লাগিয়ে দিলাম এবং সোলার এনার্জি দিয়ে ইলেট্রোলাইজারে জলকে ভেঙে হাইড্রোজেন তৈরি করে ফুয়েল সেলে পাঠিয়ে কারেন্ট তৈরি করে মোটর চালালাম। এটি একটি কমপ্লিকেটেড প্রসেস এবং প্রত্যেকটি কম্পনেন্টে যে পরিমাণ এনার্জি কনজিউম হয়, তাতে সামগ্রিকভাবে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেলের এফিসিয়েন্সি অনেক কমে যায়। যদিও এটি পলিউশন ফ্রি, তবু ব্যাপক হারে এর ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

কিন্তু যদি জল দিয়ে গাড়ি চলে!
নিশ্চয়ই বলবেন, এ তো হাস্যকর ব্যাপার। জল কোন দাহ্য পদার্থ নয়। জলের কোন ফুয়েল প্রপার্টি বা ক্যালোরিফিক ভ্যালু নেই।
বিশ্বাস না হলেও এই অবিশ্বাস্য কাজটি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে আই আই টি রুরকি’র কয়েকজন পড়ুয়া। তারা মোটামুটি দু’বছর রিসার্চ করে ২০১৮ সালে এমন একটি ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরি করেছে, যেটি চালানোর জন্য কোন ডিজেল, পেট্রোল বা ইলেকট্রিক লাগে না, জল দিয়ে চলে। শুধু জল বললে ভুল হবে, গাড়ি চালানোর জন্য প্রয়োজন হয় জল, বায়ু ও অ্যালুমিনিয়াম। অ্যালুমিনিয়াম ব্যবহার করার কারণ হল, ভারত অ্যালুমিনিয়াম প্রডাকশনে পৃথিবীর মধ্যে তৃতীয়। তাই ভারতে এর জোগান যথেষ্ট রয়েছে। গাড়ি থেকে কোন কার্বন এমিশন হয় না, তাই দূষণমুক্ত এবং এটির দামও স্ট্যান্ডার্ড গাড়ির যা দাম, তার আশেপাশেই পড়বে বলে জানিয়েছে তাঁরা। পড়ুয়ারা মিলে ইতিমধ্যেই ব্যাঙ্গালুরুতে “লগ ৯ ম্যাটেরিয়াল” নামে একটি কোম্পানি খুলেছে এবং তাঁদের এই নতুন টেকনোলজি ব্যবহার করে তৈরি গাড়িটির নাম দিয়েছে “রেঞ্জার”। গাড়ির মাস প্রোডাকশনের জন্য তাঁরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন নামী অটোমোবাইল কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
প্রথম যখন আই আই টি রুরকি’র কয়েকজন পড়ুয়া মিলে রিসার্চ শুরু করেন, তখন তাঁদের পরিকল্পনা ছিল বর্তমানে যে ইলেকট্রিক কার চালু আছে, তার প্রযুক্তিগত ডেভলপমেন্ট করা। কিন্তু, তাঁরা উপলব্ধি করেন, এতে বিশেষ কিছু লাভ হবে না এবং ইলেকট্রিক কার দিয়ে ভারতের সমস্যা সমাধান হবে না।
তাঁরা যে গাড়িটি তৈরি করেছেন, সেখানেও ফুয়েল সেল টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছেএটি বেসিক্যালি একটি ব্যাটারি, যার মাঝখানে একটি অ্যালুমিনিয়াম প্লেট রাখা হয় এবং প্লেটের দু’দিকে জল থাকে। জলের দুই দিকে “গ্রাফীন” নামক কার্বনের জালি লাগানো থাকে। গ্রাফীন এক ধরনের কার্বন, যা ক্যাটালিস্টের কাজ করে। এর জোগান আমাদের দেশে যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। তাই তাঁরা “গ্রাফিন” ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন।
গ্রাফীনের জালিদুটি বায়ুর সংস্পর্শে থাকে। বায়ু যখন গ্রাফীন তারজালির মধ্য দিয়ে জলের সংস্পর্শে আসে, তখন একটি কেমিক্যাল রিএকশন হয় যার ফলে অ্যালুমিনিয়াম প্লেট অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইডে কনভার্ট হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে, যার দ্বারা গাড়ি চালানো যায় (চিত্র ৪)

 
চিত্র ৪ ।। অ্যালুমিনিয়াম বেসড ফুয়েল সেল টেকনোলজি (আইআইটি রুরকি’র আবিষ্কার)

একবার অ্যালুমিনিয়াম এবং জল ভরলে গাড়িটি ১০০০ কিলোমিটার যেতে পারে। এর পর নতুন অ্যালুমিনিয়াম প্লেট লাগাতে হবে। আর ১ লিটার জলে গাড়িটি ৩০০ কিলোমিটার চলবে। এই গাড়িটির মাস প্রোডাকশন চালু হলে জায়গায় জায়গায় অ্যালুমিনিয়াম স্টেশন বানাতে হবে। যেরকম আমরা গাড়িতে ডিজেল-পেট্রোল ভরার জন্য পেট্রোল পাম্পে গিয়ে থাকি, ভবিষ্যতে সেরকম অ্যালুমিনিয়াম স্টেশন বানানোর প্রয়োজন হবে। একবার অ্যালুমিনিয়াম প্লেট লাগানোর খরচ পড়বে ৩০০০/- টাকা।
এই গাড়ির সুবিধা হল, বর্তমানে বাজারে যে ইলেকট্রিক কার চালু আছে, তা একবার চার্জ করলে মোটামুটি ২০০ থেকে ২৫০ কিলোমিটার যেতে পারে আর ব্যাটারি ডিসচার্জ হয়ে গেলে চার্জ করতে মিনিমাম আধ ঘন্টা সময় লাগে। আর এই গাড়িতে আমাদের শুধু অ্যালুমিনিয়াম প্লেট চেঞ্জ করতে হবে, যা মাত্র দশ মিনিটের ব্যাপার এবং নতুন প্লেট লাগানোর পর গাড়ি আবার ১০০০ কিলোমিটার চলবে। এর দাম ইলেকট্রিক গাড়ির থেকে সস্তা হতে পারে
তবে, এই গাড়ির অসুবিধা হল, ব্যাটারিটি অনেকটা স্পেস নেয়, যেমনটা ছবিতে দেখানো হয়েছে (চিত্র ৫)। গাড়ির পেছনের সিটে ব্যাটারিটি বসানো হয়েছে। কিন্তু আইআইটি’র ছাত্ররা দাবি করেছেন, খুব শিগগির এই ব্যাটারিটি গাড়ির ডিকিতে চলে যাবে এবং পেছনের সিটের পুরো স্পেস পাওয়া যাবে। আর গাড়ির বর্তমান ম্যাক্সিমাম স্পিড ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টাকিন্তু পড়ুয়ারা দাবি করেছেন, ভবিষ্যতে এই টেকনোলজি’র উৎকর্ষসাধন ঘটিয়ে আরও বড় গাড়ি বানানোর পরিকল্পনা তাঁদের রয়েছে, যা ১৫০-১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা স্পীড দেবে।

চিত্র ৫ ।। গাড়ির পেছনের সিটে বসানো অ্যালুমিনিয়াম বেসড ফুয়েল সেল

বর্তমান বছরের (২০১৯) শেষের দিকে এই গাড়িটি ভারতের মার্কেটে লঞ্চ করার কথা আছে দেখা যাক, এই গাড়ির ভবিষ্যৎ ক হয়। এটি নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার এবং এই ধরনের আবিষ্কার আরও অজস্র তরুণ যুবকদের দেশের কাজে লাগে এমন কিছু নতুন আবিষ্কারের প্রেরণা জোগাবে, সন্দেহ নেই।

তথ্যসূত্রঃ
1.    ইউটিউব ভিডিও https://www.youtube.com/watch?v=gcvs1QzrxrE
2.    ইউটিউব ভিডিও https://www.youtube.com/watch?v=f8zktGU2ci8&t=83s
3.    ইউটিউব ভিডিও https://www.youtube.com/watch?v=iWhFeuyX99k

_____

বিজ্ঞান:: টাইম ট্র্যাভেলের আশ্চর্য গল্প - অমিতাভ সাহা

টাইম ট্র্যাভেলের আশ্চর্য গল্প
অমিতাভ সাহা

টাইম ট্র্যাভেল কথাটার সঙ্গে আমরা অনেকেই পরিচিত এবং এটা খুব ইন্টারেস্টিং ব্যাপারহলিউডে এই কনসেপ্ট নিয়ে অনেক মুভি তৈরি হয়েছে। কার না মন চায় অতীতে ফিরে গিয়ে ছোটোবেলার সুন্দর দিনগুলি আবার উপভোগ করতে অথবা ভবিষ্যতে কী ঘটবে তা আগে থেকেই জেনে নিতে। কিন্তু এটা কি বাস্তবে সম্ভব?
বিজ্ঞানীরা বলেন, টাইম ট্র্যাভেল সম্ভব। একটা সময় পর্যন্ত মানুষের ধারণা ছিল, সময়ের উপর আমাদের কারও নিয়ন্ত্রণ নেই এবং গোটা ইউনিভার্সে সময় সবার জন্য সমান, পৃথিবীতে ১ সেকেন্ড আর মঙ্গল গ্রহে ১ সেকেন্ড সমান। সময় একটি ধ্রুবক (Constant) গতিতে নিরন্তর ৬০ সেকেন্ডে ১ মিনিট, ৬০ মিনিটে ১ ঘন্টা আবার ২৪ ঘণ্টায় ১ দিন এভাবে অতিক্রান্ত হয়ে চলেছে।
কিন্তু ১৯০৫ সালে আইনস্টাইনের “থিওরি অফ রিলেটিভিটি” প্রকাশিত হবার পর এই ধারণা পালটে যায়। এই থিওরি অনুযায়ী মহাকাশ এবং সময় একে অপরের সঙ্গে যুক্ত, যাকে স্পেস-টাইম (Space-Time) বলা হয়। সময় হচ্ছে ফোর্থ ডাইমেনশন (দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতার পরে) এবং এর গতি বাড়ানো বা কমানো যেতে পারে। সময় এই ইউনিভার্সে একটি নদীর মতো বয়ে চলেছে। নদীতে যেমন কোনও স্থানে জলের গতি কম, আবার কোথাও বেশি, তেমনিভাবে এই ইউনিভার্সের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে সময় ভিন্ন গতিতে চলে
আইনস্টাইনের থিওরি অনুযায়ী যদি কোনও বস্তু বেশি গতিতে চলে, তাহলে তার সাপেক্ষে সময় ধীর গতিতে চলবে। যখন আমরা উচ্চ গতিসম্পন্ন বিমানে ট্র্যাভেল করি, তখন পারিপার্শ্বিক জগতের সাপেক্ষে সময় আমাদের কাছে ধীর গতিতে চলে। কিন্তু সময়ের এই পার্থক্য এত নগণ্য, যে তা অনুধাবন করা মুশকিল। সময়ের এই পার্থক্য বুঝতে হলে আমাদের গতিবেগ আলোর গতিবেগের সমান বা তার ৯৫% হতে হবে।
স্টিফেন হকিং এই থিওরি’কে এগিয়ে নিয়ে যান। তিনি কল্পনা করেন, গোটা পৃথিবীকে বেষ্টন করে একটি রেলওয়ে ট্র্যাক বানানো হল এবং আলোর গতিতে সেই ট্র্যাক বরাবর ট্রেন চালানো হল। যদি ট্রেনটিকে আলোর গতিতে চালানো হয়, তাহলে ট্রেনের যাত্রীদের কাছে সময় ভীষণ মন্থর গতিতে চলবে। কিন্তু ট্রেনের ভেতরের সাপেক্ষে বাইরের পৃথিবীতে সময় অনেক দ্রুত গতিতে অতিক্রান্ত হবে। এক সপ্তাহকাল ট্রেন যাত্রা করার পর ট্রেনটি যখন থামবে এবং যাত্রীরা পৃথিবীতে নামবেন, তখন দেখতে পাবেন পৃথিবীর ৬৫ বছর সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। তারা নিজেদেরকে ভবিষ্যতের দুনিয়ায় পাবেন। কিন্তু একটি ট্রেনকে আলোর গতিতে চালানোর জন্য  E = mC2 সূত্র অনুযায়ী অসীম শক্তির প্রয়োজন হবে, যা আমাদের পুরো ইউনিভার্সেও নেই। কেননা কোনও বস্তুকে আলোর গতিতে চালাতে হলে তাকে ভরহীন হতে হবে। সুতরাং, এই থিওরি’র বাস্তব প্রয়োগ সম্ভব নয়। তবে এটা ঠিক যে, টাইম ট্র্যাভেল সম্ভব। পরীক্ষামূলকভাবে টাইম ট্রাভেল করে দেখানো হয়েছে, তাতে সামান্য ন্যানো সেকেন্ড পেছনে ফিরে যাওয়া সম্ভব হয়েছে, যা একেবারেই নগণ্য তাই টাইম ট্রাভেল করার যন্ত্র বা টাইম মেশিন আজও সায়েন্স ফিকশন হয়েই রয়ে গেছে, যা বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয়নি বা হবে বলে মনে হয় না।
কিন্তু এই রহস্যময় পৃথিবীতে প্রাকৃতিকভাবেই অনেক টাইম ট্র্যাভেলের ঘটনা ঘটেছে, যার কোনও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেইকিছু মানুষ বিভিন্ন সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবেই টাইম ট্রাভেল অনুভব করেছেন। দু’একটা ঘটনা এখন বলব।

ঘটনা ১
১৯৫৪ সালে একটি প্লেন জাপানের এয়ারপোর্টে ল্যান্ড করেছিল। প্লেন থেকে এক যাত্রী নেমে এয়ারপোর্ট থেকে বাইরে বেরোচ্ছিলেন। বেরোনোর সময় এক জায়গায় পাসপোর্ট চেকিং হচ্ছিল। ওনাকে দেখে মনে হচ্ছিল, উনি কোনও বিজনেস ট্রিপে এসেছিলেন। যখন উনি অফিসিয়ালদের পাসপোর্ট দেখালেন, তখন তাঁরা দেখলেন, ঐ ব্যক্তির পাসপোর্ট “টরেড” নামক একটি ইউরোপিয়ান দেশের। বাস্তবে “টরেড” নামের কোনও দেশের অস্তিত্বই নেই। লোকটির পাসপোর্টে সমস্ত এন্ট্রি এবং স্ট্যাম্প চেক করে দেখা গেল সেগুলি একেবারে সঠিক এবং ঐ ব্যক্তি বলেছিলেন, তিনি গত পাঁচ বছর ধরে জাপানে ব্যাবসার কাজে যাওয়াআসা করছেন। তখন অফিসিয়ালরা ওনাকে একটি ম্যাপ দিয়ে বললেন, “তোমার দেশটি কোথায় আছে দেখাও উনি ম্যাপে ফ্রান্স এবং স্পেনের মাঝামাঝি একটা জায়গা দেখিয়ে বললেন, “এখানেই আমার দেশ ‘টরেড’ ওনার কাছে একটি লাইসেন্সও ছিল, যাতে দেশের নাম লেখা ছিল টরেড।

চিত্র ১ ।। যাত্রী দ্বারা ম্যাপে চিহ্নিত টরেড দেশের অবস্থান

এরপর অফিসিয়ালরা ওনাকে একটি হাই সিকিউরিটি হোটেল রুমে পাঠিয়ে দিলেন এবং পরদিন সকালে আরেকবার ইন্সপেকশনের পর ওনাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বললেনপরদিন সকালে যখন অফিসিয়ালরা হোটেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এলেন, তখন ঐ ব্যক্তিকে হোটেল রুমে আর খুঁজে পাওয়া গেল না। সারারাত সিকিউরিটি গার্ডরা ঐ ব্যক্তির উপর নজরদারি করছিলতা সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তি উধাও হয়ে গেলেন এবং আশ্চর্যের ব্যাপার হল, ওনার যে ডকুমেন্টগুলো পুলিস অফিসারদের কাছে রাখা ছিল, সেগুলিও উধাও হয়ে যায়। এই ঘটনাটি একটি রহস্য হয়েই রয়ে গেছে। ধারণা করা হয়, ঐ ব্যক্তি হয়তো ভবিষ্যৎ থেকে এসেছিলেন। ভবিষ্যতে কয়েকশো বছর পরে হয়তো “টরেড” নামক কোনও দেশ হবে, যেখান থেকে ঐ ব্যক্তি টাইম ট্র্যাভেল করে এসেছিলেন শুধু দেখার জন্য যে অতীত কেমন ছিল।

ঘটনা ২
২০০৬ সালে সীন নামের একটি চোর ইংল্যান্ডের লিভারপুলের একটি দোকান থেকে কিছু জিনিস চুরি করে পালাচ্ছিল এবং সিকিউরিটি গার্ড ওকে তাড়া করছিল। দৌড়োতে দৌড়োতে হঠাৎ সীনের বুকে ব্যথা শুরু হয়। ওর মনে হচ্ছিল বেহুঁশ হয়ে যাবে এবং ও মাটিতে বসে পড়েছিলকিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে ও যখন আবার দৌড়োতে যাচ্ছিল, তখন দেখল, ওখানকার ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট সব বদলে গেছে। সিকিউরিটি গার্ডও নেই। আর রাস্তায় লোকজন পুরোনো আমলের পোশাক পরে ঘুরছিলেন। ও দৌড়ে গিয়ে একটি নিউজপেপারের দোকানে গিয়ে দেখল, ১৯৬৭ সালের পেপারযে সিকিউরিটি গার্ড ওকে তাড়া করেছিল, তাঁকে পরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বলেছিল দৌড়োতে দৌড়োতে হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে চোরটি গায়েব হয়ে যায়। এই ঘটনার পেছনে ব্যাখ্যাটি হল, ভুল করে টাইম ট্র্যাভেল করে চোরটি ৩৯ বছর পেছনে চলে গেছিল। কিন্তু সৌভাগ্যবশত ও ১৯৬৭ সালে বেহুঁশ হয়ে গেছিল। সৌভাগ্যবশত এই কারণে বললাম যে, ওর যখন হুঁশ এল, তখন ও নিজেকে আবার ২০০৬ সালেই দেখতে পেল। চোর এবং সিকিউরিটি গার্ড দু’জনেই কনফিউজড ছিল, আসলে ওদের সঙ্গে কী ঘটেছিল।

চিত্র ২ ।। সিকিউরিটি গার্ড চোরটিকে তাড়া করার সময় চোরটি হঠাৎ উধাও হয়ে যায়

ঘটনা ৩
১৯৭৯ সালে ইংল্যান্ডের দুই দম্পতি ফ্রান্সে ছুটি কাটাতে গেছিলেন। ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে যখন ওরা ক্লান্ত হয়ে পড়লেন, তখন থাকার জন্য হোটেল খুঁজতে শুরু করে দিলেনখুঁজতে খুঁজতে তারা একটি পুরোনো আমলের হোটেলের সামনে উপস্থিত হলেন। যখন ওরা হোটেলের ভেতর ঢুকলেন, তখন দেখলেন হোটেলের স্টাফ বহু বছর আগে মানুষ যেরকম পোশাক পরতেন, সেরকম পোশাক পরে ছিলেনওরা জিজ্ঞেস করলেন, হোটেলে কোনও রুম খালি আছে কিনা। হোটেল স্টাফ বললেন, কোনও রুম খালি নেই এবং ওদের অন্য হোটেল দেখতে। ঐ হোটেল থেকে বেরিয়ে ওরা যখন পাশে আরেকটি হোটেলে গেলেন, তখন ঐ হোটেলটিও অনেক পুরোনো দিনের হোটেল বলে মনে হচ্ছিল। ভেতরে ঢুকে দেখলেন প্রায় সব কিছুই ভারি কাঠের তৈরি। আধুনিকতার কোনও চিহ্নই সেখানে ছিল না। লাকিলি ওনারা ওখানে রুম পেয়ে গেলেন এবং সারা রাত ঐ হোটেলেই কাটালেন। ওদের ফটোগ্রাফির শখ ছিল। ওরা হোটেলটির অনেকগুলি ছবি তুলেছিলেন এবং অন্যান্য রুমের লোকজন যারা পুরোনো দিনের পোশাকে চলাফেরা করছিলেন, তাঁদের ছবিও তুলেছিলেন।

চিত্র ৩ ।। ফ্রেঞ্চ দম্পতি দ্বারা বর্ণিত হোটেলের ভেতরকার চিত্র

পরদিন ওরা আবার ঘুরতে বেরিয়ে গেলেন, কিন্তু ফেরার সময় দেখলেন, ঐ স্থানে দুটি হোটেলের একটিও নেই। স্থানীয় লোকদের জিজ্ঞেস করে ওরা জানতে পারলেন, ঐ স্থানটি বহু বছর থেকেই খালি পড়ে আছে। অনেক বছর আগে ওখানে একটি হোটেল ছিল, যা অনেকদিন আগেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। আশ্চর্য হয়ে ওরা ভাবলেন, হোটেলের ভেতরে যে ছবি তুলেছেন, সেগুলো দেখলে কেমন হয়। কিন্তু ফটো ওয়াশ করার পর ওরা ব্ল্যাঙ্ক ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেলেন না। এই ঘটনাটি আজও রহস্যময় হয়ে আছে এবং মনে করা হয় টাইম ট্র্যাভেল করেই ওরা ভুল করে অতীতে পৌঁছে গেছিলেন।

এরকম আরও অনেক ঘটনা আছে। সেগুলি পরে আরেকদিন বলব।

তথ্যসূত্রঃ
1.    ইউটিউব ভিডিও (https://www.youtube.com/watch?v=JHyK0GnAlIk)
2.    ইউটিউব ভিডিও (https://www.youtube.com/watch?v=5PTOn72VTNU&t=629s)
3.    ইউটিউব ভিডিও (https://www.youtube.com/watch?v=DKHxmaBwH1o&t=812s)

_____