Showing posts with label অমিত চট্টোপাধ্যায়. Show all posts
Showing posts with label অমিত চট্টোপাধ্যায়. Show all posts

ছড়া-কবিতা:: রাজার সাধ - অমিত চট্টোপাধ্যায়


রাজার সাধ
অমিত চট্টোপাধ্যায়

রাজা বলেন, মন্ত্রী আনো
হাজার মিস্ত্রি ধরে,
রাজবাড়িটা এবার আমি
গড়ব নতুন করে
আশেপাশের জমি যত
করতে হবে খালি,
বাড়ির পাশে থাকবে বাগান
ডেকে পাঠাও মালি
প্রাসাদ থেকে শান বাঁধানো
রাস্তা হবে টানা,
নদীর ঘাটে থাকবে বাঁধা
নতুন জাহাজখানা
হাতিশালে থাকবে হাতি,
ঘোড়াশালে ঘোড়া,
রাজপ্রাসাদের চুড়ো হবে
খাঁটি সোনায় মোড়া
মন্ত্রী বলেন, বেহিসেবি
খরচ করার দোষে,
একটুও আর কানাকড়ি
নেই পড়ে রাজকোষে!
নানান মিথ্যে বলে ওদের
দিচ্ছি রোজই ফাঁকি
মন্ত্রী সান্ত্রী সেনাপতির
ছ-মাস মাইনে বাকি!
     ----------
  ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: হয়েছেটা কী - অমিত চট্টোপাধ্যায়


হয়েছেটা কী
অমিত চট্টোপাধ্যায়

মা একটাও বলছে না কথা,
বাবার মুখেও চাবি!
দিদা মনমরা সকাল থেকেই
কী হল কী হল ভাবি?
ভোর না হতেই দাদু প্রতিদিন
ঠাকুরের নাম সাধে।
বেলা গড়িয়েছে একবারও তবু
বলছে না রাধে রাধে!
কেউ কি বলবে, হয়েছেটা কী,
কথা নেই কেন কারও?
ক্লাস ফোর এখন, সবকিছু বুঝি।
আমাকে বলতে পারো।
জলভরা চোখে মা শেষে জানায়,
মেলায় সেবার কেনা,
খাঁচা খোলা ছিল, পোষা ময়নাটা
খুঁজে আর পাচ্ছি না!
আমি বলি, মাগো কত কী পড়াই
তবু যায় সবই ভুলে!
খাঁচা খুলে তাই পাঠিয়েছি ওকে
আমাদের ইস্কুলে।
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: তারা গোনা - অমিত চট্টোপাধ্যায়


তারা গোনা
অমিত চট্টোপাধ্যায়

আমার যে ছোটো কাকা
এক্কেবারে বাজে।
আমায় কী না লাগিয়ে দিল
তারা গোনার কাজে!
তোমরা বল এমন কথা
বলতে পারে কেউ!
যদি বলি, গোনো দেখি
নদীর কটা ঢেউ!
বললে কাকা, গুনে রাখিস
এখন অফিস যাই।
রাতে বাড়ি ফিরে যেন
তারার হিসেব পাই।
কাকার হুকুম কাকাই বুঝি
ঠিক গিয়েছে ভুলে।
নয় তো রাতে হিসেব চেয়ে
কানটা দিত মুলে।
সাতসকালে সুয্যি যখন
ফেলছে আলো গাছে,
তারার হিসাব দিতে গেলাম
ছোটো কাকার কাছে।
বলি কাকা, হিসেব আমার
হয়ে গেছে সারা।
খাতার সঙ্গে নাও মিলিয়ে
আকাশ ভরা তারা।

----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: বরেনবাবুর ভুল - অমিত চট্টোপাধ্যায়


বরেনবাবুর ভুল

অমিত চট্টোপাধ্যায়

 

বরেনবাবুর ছোট্ট জমি

তাতেই বারোমাস,

উচ্ছে বেগুন ফলান, করেন

শাক-সবজির চাষ।

একদিন সেই সাতসকালে

ঘরের দরজা খুলে,

দেখেন তিনি বেগুন গাছে

লঙ্কা আছে ঝুলে!

কুমড়ো গাছে লাউ ধরেছে,

ঢ‍্যাঁড়শ গাছে শসা,

বরেনবাবুর চোখ কপালে

দেখে গাছের দশা।

কাণ্ড দেখে বরেনবাবু

তাজ্জব বিলকুল!

ভাবেন বুঝি চাষ করাতেই

ছিল বেজায় ভুল

ভুলের কারণ খুঁজতে থাকেন

মুখখানি ভার করে,

হঠাৎ বোঝেন, আছেন চোখে

ছেলের চশমা পরে।

----------

ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: রাজার মেজাজ - অমিত চট্টোপাধ্যায়


রাজার মেজাজ
অমিত চট্টোপাধ্যায়
 
এক ছিল রাজা তার নেই জ্ঞানগম্মি
আছে শুধু হাঁকডাক, হম্বি-তম্বি
রাজকোষ ফাঁকা প্রায়, আমদানি অল্প
সম্বল গালভরা খানদানি গল্প
হাতিশালে হাতি নেই, ঘোড়াশাল ফাঁকা তার
কামান গিয়েছে চুরি তরোয়ালে নেই ধার
সেনাদল ঠেকে এসে গুটিকয় চাকরে
তারা রোজ বাছে চাল, থলে ভরা কাঁকরে
রাজবাড়ি পোড়ো আজ গৌরব খুইয়ে
বর্ষায় জল পড়ে ছাদ থেকে চুঁইয়ে
কালিয়া পোলাও খাওয়া সেই কোন কালেতে
ঝোল ভাতই রাঁধা রোজ রাজ-পাকশালেতে
নিয়ে যাও এইসব, অখাদ্য খায় কে?
মন্ডা মিঠাই লাও,” বলে রাজা, লায় কে?
মন্ত্রী বলেন, “রাজা চেঁচামেচি থামিয়ে
থাকুন না চুপ করে মেজাজটা নামিয়ে।”
রাজা বলে, “চোপ রাও পুরে দেব ফাটকে
দেখনি কি রাজা-গজা যাত্রা বা নাটকে?
হাঁক ডাক বাদ দিয়ে থাকি যদি শান্ত
আমাকে কি কেউ তবে রাজা বলে মানত!
----------
ছবি - আন্তর্জাল