Showing posts with label সোনাল দাস. Show all posts
Showing posts with label সোনাল দাস. Show all posts

বায়োস্কোপ:: সিনেমা: Tangled (2010) - রিভিউ: সোনাল দাস

সিনেমাঃ Tangled (2010)
সোনাল দাস

অভিনয়ে (কণ্ঠ) - Mandy Moore (রাপুনজেল), Zachary Levi (ফ্লিন রাইডার), Donna Murphy (মাদার গোথেল)
পরিবেশনায় - ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স


কেমন আছ ম্যাজিক ল্যাম্পের বন্ধুরা? আশা করি সবাই খুব ভালো আছদেখতে দেখতেই এসে গেল নতুন বছর ২০১৭, আর এই নতুন বছরে ম্যাজিক ল্যাম্প তোমাদের জন্য নিয়ে এসেছে ‘রূপকথা স্পেশাল সংখ্যা’ তাই আজকে তোমাদের শোনাব ‘Tangled’ নামের একটা দুর্দান্ত রূপকথার ছবির গল্প।

ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্সের ৫০তম অ্যানিমেটেড ছবি হিসাবে ২০১০ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় Tangled জার্মান রূপকথার এক বিখ্যাত চরিত্র ‘রাপুনজেল’-এর কাহিনি অবলম্বনে ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্স তৈরি করেছে এই ফ্যান্টাসি-অ্যাডভেঞ্চার মুভিটি। মূল কাহিনিটি নেওয়া হয়েছে ‘The Brothers Grimm’ বা গ্রিমভাইদের সংগৃহীত লোককথা (folk tales) থেকে। এই গ্রিমভাইদের সাথে তোমাদের পরিচয় করিয়ে দেব গল্পের শেষে। তাহলে চল শুরু করা যাক এবারের সিনেমার গল্প -

অনেক অনেক বছর আগে সূর্যের আলোর এক কণা এসে পড়েছিল পৃথিবীর মাটির বুকে যার থেকে সৃষ্টি হয়েছিল এক সুন্দর সোনালি ফুলের। এই ফুলের এক আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল। আর সেটা হল যে কোনও রোগ; চোট-আঘাত, এমনকি ক্ষয় বা বার্ধক্যও প্রতিরোধ করা সম্ভবপর হত এই ফুলের সঠিক ব্যবহারে। মাদার গোথেল নামের এক স্বার্থপর দুষ্টু বুড়ি এই সোনালি ফুলের আশ্চর্য ক্ষমতার কথা জানত। আর এই ফুল ব্যবহার করে সে প্রায় ১০০ বছর ধরে নিজের জীবন এবং যৌবন ধরে রেখেছিল।

দুষ্টু বুড়ি সোনালি ফুল ব্যবহারের আগে এবং পরে

কিন্তু একদিন এই রাজ্যের সেনারা এই জাদু-ফুলের সন্ধান পেয়ে যায় আর তারা সেটিকে শিকড়সুদ্ধ উপড়ে নিয়ে যায় তাদের রাজার কাছে। এই রাজার রানির শারীরিক অবস্থা তখন খুব খারাপ ছিল এবং সে সন্তানসম্ভবাও ছিল তাই রাজা তার সৈন্যদের এই ফুল খুঁজে আনার আদেশ দিয়েছিলেন রানি এবং তার সন্তানকে বাঁচানোর উদ্যেশ্যে। এই ফুলের রস পান করে রানি খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং জন্ম দেন ‘রাপুনজেল’ নামের এক ফুটফুটে সুন্দর রাজকন্যার।

ফুলের রস পান করার মুহূর্ত

রাজকন্যা জন্মানোর সাথে সাথে সারা রাজ্যে উৎসবের ধুম পড়ে যায়। রাজ্যের সকল প্রজারা প্রায় সাতদিন ধরে এই আনন্দ উদযাপন করল। রাজামশাই রাজকুমারী জন্মানোর আনন্দে একটি আলোক-প্রজ্বলিত ফানুস আকাশে উড়িয়ে দিলেন। নতুন রাজকন্যাকে নিয়ে খুব সুখেই তাদের দিন কাটতে লাগল। কিন্তু এই সুখ খুব বেশিদিন তাদের কপালে সইল না। মাদার গোথেল নামের সেই দুষ্টু বুড়িটা ঠিক খুঁজে বার করল শিশু রাপুনজেলকে। আর তাকে দেখেই সে বুঝতে পারল ওই ফুলের জাদু ক্ষমতা নিহিত রয়েছে রাপুনজেলের সোনালি চুলের মধ্যে। ব্যস, তাকে আর পায় কে। সেই রাতেই শিশু রাপুনজেলকে দোলনা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সে তাকে লুকিয়ে ফেলল অত্যন্ত দুর্গম স্থানে অবস্থিত এক মিনারের (Tower) মধ্যে, যার খোঁজ সে ছাড়া আর কেউ জানত না।

রহস্যময় মিনার - যেখানে রাপুনজেলকে বন্দি রাখা হয়

রাজামশাই অনেক খুঁজেও রাজকন্যার সন্ধান পেলেন না আর সেই থেকে প্রতিবছর রাজকন্যার জন্মদিনের দিন একটি করে আলোক-প্রজ্বলিত ফানুস আকাশে ছাড়তে থাকেন এই আশা নিয়ে যদি কখনও সেটি দেখে তাদের রাজকুমারী ফিরে আসেন। রাজামশাইয়ের দেখাদেখি রাজ্যের প্রজারাও রাজকন্যার জন্মদিনের দিন একটি করে আলোক-প্রজ্বলিত ফানুস আকাশে ছাড়তে লাগল

রাপুনজেলের প্রথম জন্মদিনে ফানুস ছাড়ার মুহূর্তে

এদিকে মাদার গোথেল নামের সেই দুষ্টু বুড়িটা রাপুনজেলের জাদু-চুলের ব্যবহার করে আবার নিজের যৌবন ফিরে পায়, আর রাপুনজেলকে নিজের মেয়ের মতন মানুষ করতে থাকে। সে তাকে কখনও ওই মিনারের বাইরে বেরোতে দেয় না। রাপুনজেলকে বাইরে যেতে না দিলেও মাদার গোথেল নিজে বাইরে যেত খাবার সংগ্রহ করতে। আর মিনার থেকে নামার জন্য সে রাপুনজেলের লম্বা সোনালি চুলকে ব্যবহার করত। রাপুনজেল বাইরে যাবার জন্য খুব জেদ করলে তাকে বোঝাত বাইরের দুনিয়ার সব লোক খুব খারাপ, প্রচন্ড স্বার্থপর এবং হিংস্র। রাপুনজেলও সরল মনে তার পালিত মাকে বিশ্বাস করত আর ভাবত বাইরের দুনিয়াটা সত্যিই কেমন দেখতে

মাদার গোথেল আর রাপুনজেল

মিনারে বন্দি থাকা অবস্হায় রাপুনজেল লক্ষ করত প্রতিবছর তার জন্মদিনের দিন সারা আকাশ ভরে যেত আলোকময় ফানুসে। তার খুব জানতে ইচ্ছে করত এই ফানুসগুলি কোথা থেকে আসে কিন্তু মাদার গোথেল তাকে মিনারের বাইরে বেরোতে দিলে তো। তাই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কীই বা করার থাকে তার পক্ষে। এমনি করে রাপুনজেল যখন ১৮ বছরের হয়ে গেল তখন সে ঠিক করল যেভাবেই হোক সে এই আলোকময় ফানুসের উৎস জেনেই ছাড়বে। কিন্তু মাদার গোথেলকে এড়িয়ে সে কীভাবে মিনার ছেড়ে বেরোবে?

এই ফানুসগুলি আসে কোথা থেকে?

সুযোগটা একদিন এসে গেল একদম আকস্মিকভাবে। হয়েছে কী, ফ্লিন রাইডার নামের এক দাগী চোর রাজপ্রাসাদ থেকে রাজকন্যার হীরকখচিত মুকুট (crown) চুরি করে পালাতে গিয়ে ঘটনাচক্রে এসে পড়ে সেই দুর্গম স্থানে অবস্থিত মিনারের একদম সামনে। মিনারে প্রবেশ করার সাথেই সে বন্দি হয়ে যায় রাপুনজেলের হাতে - থুড়ি তার চুলের বাঁধনে। রাপুনজেল মুকুটটি হাতে পেলেও বুঝতে পারে না জিনিসটি ঠিক কী? শুধু এটুকু বুঝতে পারে যে ওই জিনিসটা হাতে পেলেই ফ্লিন রাইডার তাকে ছেড়ে চলে যাবে। রাপুনজেল মিনার ছেড়ে বেরোনোর একটা প্ল্যান বানায়। সে মাদার গোথেলকে এক জিনিস আনার বাহানায় তিনদিনের জন্য মিনার থেকে দূরে পাঠিয়ে দেয় আর ফ্লিন রাইডারকে বলে যদি সে তাকে ওই আলোকময় ফানুসের উৎসের কাছে নিয়ে যেতে পারে তাহলে ফেরার সময় তাকে তার মুকুট ফেরত দেবে। বেচারা ফ্লিনের মুকুট ফেরত পাবার জন্য এই শর্তে রাজি হওয়া ছাড়া আর কোনও দ্বিতীয় পথ খোলা ছিল না

রাপুনজেলের চুলের বাঁধনে বন্দি ফ্লিন রাইডার

ফ্লিনকে সঙ্গী করে মিনার থেকে বেরিয়েই রাপুনজেল আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠে। জীবনে প্রথমবার সে বন্দিজীবন থেকে মুক্ত হয়ে বাইরের জগতে পা রেখেছে। ফলে কী করবে আর কী করবে না সেই আনন্দেই মশগুল হয়ে ওঠে। এরপর ফ্লিন তাকে নিয়ে এসে হাজির করে এক অদ্ভুত সরাইখানায়। সেখানে কিছুক্ষণ পরেই ফ্লিন রাইডারের সন্ধানে এসে হাজির হয় একদল সেনাবাহিনী; যাদের নেতৃত্ব দিচ্ছিল ম্যাক্সিমাস (Maximus) নামের এক রাজকীয় ঘোড়া। রাপুনজেল ও ফ্লিন রাইডার সরাইখানা থেকে কৌশলে পালাতে সক্ষম হলেও সেনাবাহিনী, ম্যাক্সিমাস এবং দুজন মুকুট ছিনতাইকারী গুন্ডা তাদের পিছু নেয়। এরপর ঘটে এক ধুন্ধুমার কান্ড! এদের সকলের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কীভাবে তারা শেষমেশ পালাল সেটা মূল ছবিতে দেখে নিওসিনেমা দেখার সময় তোমরা এই অংশটা দারুন উপভোগ করবে। এই পালাতে গিয়েই ফ্লিন রাইডার রাপুনজেলের চুলের যাদু ক্ষমতা সম্বন্ধে জানতে পারে। আর প্রথমবার রাপুনজেলের প্রতি দুর্বলতা অনুভব করে।

রাপুনজেলের চুলের জাদু

সেদিন বিকেলে তারা এসে হাজির হয় সেই রাজ্যে যেখানে প্রতিবছর রাজকন্যার জন্মদিন উপলক্ষে রাজা-রানি এবং দেশের সকল প্রজারা আলোকময় ফানুস ছাড়ে। রাপুনজেল প্রথমবার এই ফানুসছাড়ার উৎসস্থল দেখতে পেল এবং রাজ্যের সকলের সাথে কথা বলে এর কারণও জানতে পারল। পূর্ব-চুক্তি অনুসারে রাপুনজেল ফ্লিন রাইডারকে সেই হীরকখচিত মুকুট ফেরত দেয় কিন্তু তারপরই ঘটনাচক্রে ফ্লিন রাইডার তাকে ছেড়ে নৌকা করে চলে যায়। সাথে নিয়ে যায় সেই মুকুটটিও রাপুনজেলের অনেক ডাকাডাকিতেও সে সাড়া দেয় না, এমনকি ফিরেও তাকায় না তার দিকে। এসময় মাদার গোথেল এসে হাজির হয় রাপুনজেলের সামনে এবং তাকে বোঝায় কেন সে এতদিন এসব বাইরের জগতের মানুষের থেকে তাকে দূরে রাখত। রাপুনজেল সরল মনে মাদার গোথেলের কথা বিশ্বাস করে এবং তার সাথে আবার ফিরে আসে সেই মিনারে।

ফ্লিন রাইডারের সাথে রাপুনজেল - ফানুস উৎসবের দিন

মিনারে ফিরে এসে রাপুনজেল আবিষ্কার করে সেই এই রাজ্যের হারিয়ে যাওয়া সেই রাজকন্যা এবং বুঝতে পারে মাদার গোথেল শুধুমাত্র তার চুলের জাদু-ক্ষমতা ভোগ করার জন্যেই তাকে এতদিন বন্দি করে রেখেছিল। ফ্লিন রাইডারকেও যে সে মনেপ্রাণে ভালোবাসে তাও সে অনুভব করে। কিন্তু এখন কীভাবে সে ফিরে পাবে ফ্লিন রাইডারকে, কীভাবে ফিরে পাবে তার আসল মা-বাবাকে? কীভাবে পালাবে এই মিনার ছেড়ে, মাদার গোথেলের হাত থেকে?

বাকিটা জানতে হলে অবশ্যই দেখে নিও অ্যানিমেটেড ছবি Tangled ইংরেজি মুভি চ্যানেলগুলোতে প্রায়ই দেখায় এই ছবিটিতাই একটু খেয়াল রাখলেই দেখে নিতে পারবে। এছাড়া নেটফ্লিক্স কিংবা যেকোনও মুভি (সিডি-ডিভিডি) বিক্রয়কেন্দ্রেই এই ছবিটি সহজেই পেয়ে যাবে।
আর দেখে তোমাদের কেমন লাগল তা জানিও আমাদের ম্যাজিক ল্যাম্পের পাতায়। নতুন বছরে সবাই খুব ভালো থেকো, সুস্থ থেকো।

The Brothers Grimm বা গ্রিমভাইদের কথা
জেকব লুডগার্ড কার্ল গ্রিম এবং উইলহেম কার্ল গ্রিম নামের এই দুই ভাইকেই বিশ্বসাহিত্যের জগৎ একনামে চেনে The Brothers Grimm বা গ্রিমভাই বলে। এদের দুজনেরই জন্ম হয় জার্মানির হানাউ শহরে। জেকব জন্মেছিলেন ৪ঠা জানুয়ারি, ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে এবং উইলহেম জন্মেছিলেন ২৪শে ফেব্রুয়ারি ১৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে। এই দুই ভাই ছিলেন রূপকথার গল্প বানাবার রাজা। বিভিন্ন জায়গা থেকে রূপকথা, লোককথা, নীতিকথা, উপকথার গল্প সংগ্রহ করে সেগুলিকে নিজেদের মতন করে লিখে রাখতেন, নতুনভাবে সাজাতেন। এদের লেখা সর্বকালের সেরা কিছু কাহিনির নাম হল - সিন্ডেরেলা (Cinderella), ব্যাঙ রাজকুমার (The Frog Prince), হ্যান্সেল এবং গ্রেটেল (Hansel and Gretel), রাপুনজেল (Rapunzel), রাম্পেলস্টিনকিন (Rumpelstiltskin), ঘুমন্ত রাজকুমারী (Sleeping Beauty) এবং স্নো-হোয়াইট (Snow White)
গ্রিমভাইদের রূপকথাগুলি বেশিরভাগই লেখা হয়েছিল ছোটদের কথা মাথায় রেখে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেগুলি সববয়সী মানুষদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। বর্তমানে ১০০-র অধিক ভাষাতে গ্রিমভাইদের এই অমর রূপকথাগুলির অনুবাদ পাওয়া যায়। যদি কখনও হাতে পেয়ে যাও রূপকথার গল্পের এই আশ্চর্য গ্রন্থটি তাহলে অবশ্যই পড়ে নিও। বাংলাতে এর খুব সুন্দর একটি অনুবাদ তোমরা পাবে ‘এশিয়া পাবলিশিং কোম্পানি’ নামক প্রকাশনা থেকে। বইটির নাম ‘গ্রিমভাইদের রচনাবলি’ এবং বইটির অনুবাদ করেছেন কামাক্ষীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়।

এই ছবির কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা

১) এই ছবিটির নাম প্রথমে ‘রাপুনজেল’ রাখা হবে বলে স্থির করা হলেও ঘটনাচক্রে তা বদল হয়ে নাম হয় ‘Tangled কী কারণে ‘রাপুনজেল’ নাম বদল হয়ে ‘Tangled’ হয় সে রহস্য আজও অজানা।
২) Mandy Moore এবং Zachary Levi-র গাওয়া ‘I See the Light’ গানটি ৫৪তম Grammy Award-এ ভিসুয়াল মিডিয়ার জন্য লেখা সেরা গানের সম্মান পায়।
৩) Kristen Bell এবং Idina Menzel দুজনেই রাপুনজেল চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছিলেন। তিনবছর বাদে এদের দুজনকেই নির্বাচন করা হয় ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্সের ছবি Frozen (2013)-এর জন্য। যেখানে এদের নাম ছিল যথাক্রমে Anna এবং Elsa
৪) ওয়াল্ট ডিজনি পিকচার্সের ৫০তম অ্যানিমেটেড ছবি ‘Tangled
৫) ‘রাপুনজেল’ একমাত্র ডিজনি রাজকন্যা (Disney princess), যার চোখের রং সবুজ।
_____
ছবিঃ আন্তর্জাল

বায়োস্কোপ:: সিনেমা: CJ7 - রিভিউ: সোনাল দাস


সিনেমাঃ CJ7 (2008)
Director: Stephen Chow
Stars: Stephen Chow, Yuqi Zhang, Jiao Xu
আলোচনাঃ সোনাল দাস

হলিউডের কল্পবিজ্ঞানের ছবিতে যে সকল ভিন-গ্রহের জীবেরা পৃথিবীর বুকে এসেছে তারা অধিকাংশই পৃথিবীর নানারকম ক্ষতিসাধন করেছে। হয় তারা গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রথম বিশ্বের নানান কীর্তিমান স্তম্ভ, সৌধ, মূর্তি। নয় তছনছ করেছে শহরের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ব্রিজ এবং যানবাহন। এককথায় এদেরকে মোটেই ভালো এলিয়েন্ বলা চলে না। তবে ব্যতিক্রম আছে বৈকি! 1982 সালে বিখ্যাত পরিচালক Steven Spielberg আমাদের উপহার দিয়েছিলেন E.T. নামক এক বন্ধুসুলভ গ্রহান্তরের প্রাণীকে। তারপর কেটে গেছে বেশ অনেকগুলো বছর। কিন্তু E.T-র মতন এমন বন্ধুসুলভ ভিন-গ্রহের প্রাণীর সন্ধান খুব একটা পায়নি সিনেমাবিশ্ব। 2008 সালে হংকং-এর পরিচালক Stephen Chow-এর হাত ধরে তারা ফের পেল CJ7 নামের এক বন্ধুসুলভ গ্রহান্তরের জীবকে। আজ এই CJ7-এর গল্পই তোমাদের বলব ম্যাজিক ল্যাম্পের পাতায়।

এই ছবির মূল কেন্দ্রীয় চরিত্র চাও তি (Stephen Chow) এবং তার নয় বছরের ছেলে ডিকি (Xu Jiao)চাও তি এক দরিদ্র নির্মাণ শ্রমিক (construction worker) এবং তার স্বপ্ন তার ছেলে যেন স্কুলে ভালোভাবে পড়তে পারে। তাই সে যা উপার্জন করে তার বেশির ভাগটাই সে সঞ্চয় করে রাখে ছেলের পড়াশুনার জন্য। কিন্তু স্কুলে ডিকিকে তার স্কুলের বন্ধুরা মোটেই ভালো চোখে দেখে না, সুযোগ পেলেই  তারা তাকে নানারকম ভাবে অপদস্থ করে থাকে। একমাত্র তার ক্লাসের এক ম্যাডাম খুব স্নেহ করে, এই যা। এরকম ভাবেই চলছিল ডিকি আর তার বাবার জীবন।


একদিন স্কুলে তার এক বন্ধু CJ One নামের একটি খেলনা রোবট নিয়ে আসে। সবাই সেই খেলনাটার খুব তারিফ করে এবং সেটি ডিকিরও খুব মনে ধরে। একদিন সে তার বাবার সাথে একটি ডিপার্মেন্টাল স্টোরে যায় এবং সেখানে সে দেখতে পায় CJ One নামের ওই খেলনা রোবটটিকে। সঙ্গে সঙ্গে সে বায়না জুড়ে দেয় তাকে ওই খেলনাটা কিনে দিতেই হবে, কিন্তু এত দামি খেলনা কেনা চাও তির পক্ষে সম্ভবপর ছিল না। অনেক বুঝিয়েও যখন ডিকি নাছোড় বায়না করে যাচ্ছিল তখন অবস্থা আয়ত্তে আনতে তার বাবা সকলের সামনে তাকে মারতে বাধ্য হয়। কিন্তু মনে মনে সে খুব কষ্ট পায় ছেলের সাথে এমন আচরণ করার জন্য।
সেদিন রাতে কাজ সেরে ফেরার পথে চাও তি ঢুঁ মারে বাড়ির কাছের একটা আস্তাকুঁড়ে। এখানে সে মাঝে মাঝেই আসে এবং সংগ্রহ করে তার প্রয়োজনীয় নানারকম জিনিসপত্র; যা অনেকেই বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছে। যেমন এর আগে সে নিজের জন্য জোগাড় করেছে নানান টুকিটাকি সামগ্রী, ঘরোয়া যন্ত্রপাতি এবং ডিকির জন্য বাতিল হয়ে যাওয়া জামাকাপড়। অর্থাভাবের জন্যই সে এইসকল জিনিসপত্র জোগাড় করে, আর তাকে সারিয়ে বা ঠিক করে কাজের উপযোগী করে নেয়।
আজকেও সে মগ্ন হয়ে খুঁজছিল সেরকমই কোনো বাতিল জিনিস ওই আস্তাকুঁড়ে, আর সেই সময় তার চোখ চলে গেল একটা সবুজ রঙের গোলাকার বলের দিকে। বলটা অনেকটা জলভরা ডাবের মতন দেখতে কিন্তু সম্পূর্ণ গোলাকার ও খুব মসৃণ। আর বলটার মাথার দিকে অনেকটা চাবির মতন দেখতে একটা অংশ আছে। চাও তি সেটিকে বাড়ি নিয়ে আসে আর তার ছেলের হাতে তুলে দেয়। ডিকি এই সবুজ বলটা দেখে খুব একটা খুশি না হলেও সেটিকে গ্রহণ করে। আর সেদিন সন্ধেতে তাদের বাড়িতে ঘটে এক অদ্ভুত ঘটনা। সবুজ বলটা হঠাৎ করে রূপ পরিবর্তন করতে করতে একটা অদ্ভুত ছোট্ট জীবের আকার ধারণ করে। ডিকির জীবটিকে খুব পছন্দ হয়ে যায় আর খুশি হয়ে তার নাম রাখে CJ7


এরপর ডিকি বেশ কিছুক্ষন CJ7-এর সাথে খেলা করে ঘুমোতে যায় আর একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে। সে দেখে এই এলিয়েন জীবটি তাকে স্কুলে খুব পপুলার করে তুলছে আর পরীক্ষাতে দারুন মার্কস আনতে ভীষণ ভাবে সাহায্য করছে। ছবির এই স্বপ্নের অংশটা ভীষণ মজাদার এবং স্বপ্নের কিছু কিছু দৃশ্য "ম্যাট্রিক্স" এবং "মিশন ইম্পসিবল ২" নামের জনপ্রিয় দুটি ছবির অ্যাকশন দৃশ্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নেওয়া হয়েছে। ছবির এই অংশে স্পেশাল এফেক্টসকে এতো সুন্দরভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যে দেখতে ভীষণ ভালো লাগবে।


কিন্তু বাস্তব আর কবে স্বপ্নের মতন হয়েছে। ডিকির এই ধারণা খুব তাড়াতাড়ি ভেঙে যায় যখন সে দেখে এই এলিয়েন জীবটি মোটেই সেরকম কোনও স্পেশাল ক্ষমতা-সম্পন্ন নয়। ফলে তার সব রাগ গিয়ে পরে CJ7 এর ওপর। CJ7 তো সেইসময় ভয়ে পালাতে পারলে বাঁচে ডিকির হাত থেকে। চাও তি এসে পড়ায় সেই যাত্রায় কোনোরকমে সে রক্ষা পায়। কিন্তু ডিকির এই নতুন খেলনাটির দিকে নজর পড়ে যায় তার স্কুলের কিছু দুষ্টু বন্ধুদের। তারা যেভাবেই হোক কব্জা করতে চায় CJ7 কে ডিকির স্কুল ব্যাগ থেকে। সেই চেষ্টায় তারা দ্রুত সফলতা লাভ করলেও ম্যাগি নামের এক বিশালাকৃতির স্কুল সহপাঠীর সহায়তায় ডিকি ফিরে পায় তার প্রিয় CJ7 কে।


এদিকে স্কুলের পরীক্ষাতে ভালো নম্বর না পাওয়া সত্ত্বেও ডিকি তার বাবাকে বলে পরীক্ষাতে সে ১০০ তে ১০০ পেয়েছে। চাও তি আনন্দে সেই খবর তার কর্মক্ষেত্রের সকল শ্রমিকদের জানাতে থাকে। কিন্তু তার বস কিছুতেই মানতে চায় না যে ডিকি পরীক্ষাতে ফুল মার্কস পেয়েছে, এই নিয়ে বসের সাথে চাও তির বিবাদ বাধে এবং রেগেমেগে সে চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। আর ডিকির কাছ থেকে জানতে চায় সে সত্যিই পরীক্ষাতে ১০০ তে ১০০ পেয়েছে কিনা? ডিকি তখন তাকে সত্যি কথাটা বললে চাও তি ভীষণ রেগে যায় এবং CJ7 কে তার কাছ থেকে কেড়ে নেয়। আর বলে সে আর কোনোদিন CJ7-এর সাথে খেলতে পারবে না যদি না সে নিজের চেষ্টায় পরীক্ষাতে ৬০-এর ওপর স্কোর করতে পারে।
পরের দিন চাও তি ডিকির টিফিন বাক্সটা দিতে এসে উপস্থিত হয় তার স্কুলে এবং সেটি তুলে দেয় মিসেস ইয়েন নামের এক স্কুল টিচারের হাতে। তারপর তার নিজের কর্মক্ষেত্রে ফিরে পুনরায় যোগ দিতে চায় কাজে, আর ক্ষমা প্রার্থনা করে তার বসের কাছে। তার বসও সব কিছু ভুলে চাও তি কে কাজে বহাল করে নেয়। সেদিন স্কুলের পরীক্ষাতে ডিকি ৬৫ স্কোর করে আর সেই আনন্দ সংবাদটি মিসেস ইয়েন যখন চাও তিকে ফোন করে জানাতে যান তখনই জানতে পারেন দুঃসংবাদটি। চাও তি কর্মক্ষেত্রে এক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
চাও তির নিথর দেহটিকে যখন ধরাধরি করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয় তখন তার ব্যাগের পিছন থেকে উঁকি মারে CJ7এইসময় ডিকি ভীষণ ভাবে ভেঙে পড়ে, আর অনুশোচনা করতে থাকে বাবাকে মিথ্যা কথা বলার জন্য। CJ7কে সে বার বার বলতে থাকে সে আর কখনও এমন কাজ করবে না যদি CJ7 কোনোভাবে তার বাবাকে বাঁচিয়ে দেয়। এরপর ঘটে সেই চমকপ্রদ ঘটনাটি, CJ7 নিজের শরীরের সমস্ত শক্তি ট্রান্সফার করে দেয় চাও তির শরীরে। সমস্ত শক্তি ক্ষয় করে CJ7 ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে আর অন্যদিকে প্রাণ ফিরে পায় ডিকির বাবা।
ডিকি তার বাবাকে ফিরে পেলেও CJ7-কে হারানোর দুঃখ ভুলতে পারে না। তাই সে CJ7-এর দেহটিকে কাপড়ে মুড়ে নিজের গলার পেনডেনট করে নেয়। আর স্বপ্ন দেখে CJ7 চিরনিদ্রা কাটিয়ে আবার ফিরে আসছে তার কাছে।


এতটা পড়ে নিশ্চয়ই খুব মন খারাপ হয়ে গেল তোমাদের CJ7-এর কথা ভেবে। হ্যাঁ, এই জায়গাটা দেখতে গিয়ে চোখে জল চলে আসে বৈ কি, কিন্তু ছবির শেষটা মোটেই দুঃখজনক নয়। গল্পের শেষে দেখা যায় একটা স্পেস-শিপ থেকে নেমে হাজার হাজার বিভিন্ন রঙের CJ7-এর মতন ছোট ছোট প্রাণী হাসি মুখে ছুটে আসছে ডিকির দিকে।
সেটা কীভাবে সম্ভব হল তা জানার জন্য অবশ্যই দেখে নিও Stephen Chow পরিচালিত এই মজাদার কল্পবিজ্ঞানের ছবিটি। youtube-এ গিয়ে অনলাইনেও দেখতে পারো এই ছবিটি। টাইপ কোরো "CJ7 Movie". আর দেখে তোমাদের কেমন লাগল তা জানিও আমাদের ম্যাজিক ল্যাম্পের পাতায়। পুজোতে সবাই খুব ভালো থেকো আর চুটিয়ে আনন্দ কোরো।

এই ছবির কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা  -

১)  Shaolin Soccer (2001) এবং Kung Fu Hustle (2004) নামক জনপ্রিয় ছবির পরিচালক Stephen Chow ছিলেন বিখ্যাত পরিচালক Steven Spielberg-এর অন্ধ ভক্ত। ওনার বিখ্যাত ছবি E.T. the Extra-Terrestrial (1982) থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে Stephen Chow বানিয়েছেন এই CJ7 (2008) নামক ছবিটি। এই ছবিটিকে Steven Spielberg এর প্রতি Stephen Chow-এর শ্রদ্ধার্ঘও বলা যেতে পারে। কোরিয়ানরা গর্ব করে এই ছবিটিকে বলে থাকেন "কোরিয়ানদের E.T."

২) চাও তির নয় বছরের ছেলে ডিকি (Xu Jiao) চরিত্রে যে অভিনয় করেছে সে ছেলে নয়, আসলে একটি মেয়ে!

৩) এই ছবিতে পরিচালক Stephen Chow তার Shaolin Soccer (2001) মুভির কিছু জনপ্রিয় দৃশ্যের মজাদার অনুকরণ করেছেন যা ছবিতে দেখে বেশ মজা লাগবে।

৪) এই ছবিটি BAFTA Awards ২০০৬তে সেরা ছবির তালিকাতে মনোনীত হয়েছিল। Best Foreign Language ছবি হিসাবে জিতে নিয়েছে Blue Ribbon Awards; Chunyan Awards; Neuchâtel International Fantastic Film Festival সহ নানা পুরস্কার।
______

বায়োস্কোপ:: সিনেমা: ক্যাসপার - রিভিউ: সোনাল দাস


সিনেমাঃ ক্যাসপার
রিভিউঃ সোনাল দাস

ভূতের সিনেমা বললেই তোমাদের চোখের সামনে যে হাড়হিম করা ছবিগুলো ফুটে ওঠে তার থেকে একদম আলাদা একটা ছবির কথা তোমাদের বলব। এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রটি হল বারো বছর বয়সী একটি ছেলে, যে অপঘাতে মারা গিয়ে এখন পাকেচক্রে ভূত হয়ে গেছে। সে থাকে বিরাট একটা কাসেলে, কিন্তু ভূত হয়ে এখানে একা একা থাকা তার একদম পছন্দ নয়। সেও চায় তার কিছু বন্ধু হোক। তাই তার সম-বয়সী কাউকে কাসেলে ঢুকতে দেখলেই সে এসে হাজির হয় তাদের সামনে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে। তাদেরকে বলে - "সে ক্যাসপার নামের একটি ভূত এবং সে এখানেই থাকে।" কিন্তু ভুতের বন্ধু কে হবে! তার মুখ থেকে এই কথা শুনে হয় তারা অজ্ঞান হয়ে যায়, নয়তো যে যেদিকে পারে দৌড় দেয়। ফলে কাসেলে বেচারাকে একেবারে একলাই থেকে যেতে হয়।

এদিকে এই কাসেলটির যিনি মালিক ছিলেন তিনিও মারা যান এবং উত্তরাধিকার সুত্রে বিরাট এই কাসেলটি পেয়ে যায় তার নির্দয় এবং বখে যাওয়া মেয়ে ক্যারিগান। ক্যারিগান প্রথমে এই সম্পত্তির প্রতি উদাসীন থাকলেও তার ছায়াসঙ্গী পল ডিবস যখন তাকে বলে এই কাসেলে লুকোনো রয়েছে এক বিশাল ধনসম্পত্তি তখন তারও মন পাল্টে যায়। সেও উত্সাহিত হয়ে পরে এই লুকোনো ধন-সম্পত্তি খুঁজে বের করতে। কিন্তু ততদিনে এই কাসেলটি ভূতুড়ে বলে সারা শহরে দুর্নাম ছড়িয়ে পড়েছে। অতএব এখান থেকে ভূত তাড়াতে না পারলে কিছুতেই এই সম্পত্তি হস্তগত করা যাবে না বুঝে ক্যারিগান একে একে নিযুক্ত করে একজন ধর্ম-যাজক ও ভূত তাড়ানোর ওঝাকে।

কিন্তু তারা দুজনেই ব্যর্থ হয়ে ফিরে গেলে তারা ঠিক করে কাসেলটিকে ভেঙ্গে ফেলে হবে। কিন্তু তাদের সে পরিকল্পনাটিও সফল হয় না এবং কাসেলটি ভূতুড়ে বলে ছড়িয়ে থাকা গুজবটি একেবারে পাকাপোক্তভাবে শহরবাসীর মনে বাসা বাঁধে।

এত কিছু ঘটে যাওয়া সত্ত্বেও ক্যারিগানের মন থেকে লুকোনো ধন-সম্পত্তি পাবার আশা মোছে না এবং সে অপেক্ষায় থাকে। একদিন তার চোখে পড়ে টিভিতে চলা একটি অনুষ্ঠানের।  যেখান থেকে সে সন্ধান পায় ডক্টর জেমস হার্ভি নামক এক "ভূত-বিশেষজ্ঞর" যার মূল বিষয় হল পরলোক-চর্চা। তার মতে ভূতেদের কিছু অপূর্ণ ইচ্ছা থাকার ফলেই তারা এই জগতের মায়া ত্যাগ করতে পারে না এবং যদি সেই ইচ্ছা পূরণ হয়ে যায় তাহলে তারা মুক্তি পেয়ে যায়। ব্যাস, ক্যারিগানকে আর পায় কে, সে শীঘ্রই তলব পাঠায় ডক্টর জেমস হার্ভিকে এবং কাসেলের ব্যাপারে সব কিছু বুঝিয়ে দেবার সাথে এটাও জানিয়ে দেয় এই কাজটি তাকে সারতে হবে আগামী দুসপ্তাহের মধ্যে।

ক্যারিগান এবং পল ডিবস

ডক্টর জেমস হার্ভি ভূত-বিশেষজ্ঞ হলেও আজ পর্যন্ত কোনো ভুতের দেখা পাননি, ফলে ভূতেদের যে ঠিক কি রকম দেখতে হয় তাই তার জানা নেই। কিন্তু এই কাসেলে এসে তার মনে হয় এখানে নিশ্চয়ই ভূত থেকে থাকবে, অতএব এবার তার ভূত দেখার ইচ্ছে মিটবে। ঠিক এই কথাটাই সে জানায় তার সাথে আসা বারো বছর বয়সী মেয়ে ক্যাথলিনকে। ক্যাথলিন তার বাবাকে খুব ভালো করে চেনে, ফলে তার কথাকে খুব একটা পাত্তা দেয় না এবং পাক্কা প্রমিস করিয়ে নেয় যে এখানেও যদি ভূত দেখা না যায় তাহলে তারা আর ভূতের সন্ধানে চারপাশে ঘুরে বেড়াবে না।

ডক্টর জেমস হার্ভি ও তার মেয়ে ক্যাথলিনকে কাসেলে ঢুকতে দেখে ক্যাসপার আনন্দে আটখানা হয়ে ওঠে। সে মনে মনে ঠিক করে নেয় এবার আর কোনও ভুল করা চলবে না, যে ভাবে হোক এদের সাথে বন্ধুত্ব পাতিয়ে ফেলতেই হবে। কিন্তু যতই সে ভালো সাজার চেষ্টা করুক না কেন, সে তো আসলে ভূত! ফলে তাকে সামনে দেখতে পেয়ে ক্যাথলিন ভয়ে মূর্ছা যায়। এদিকে ডক্টর হার্ভিও সন্ধান পায় এই কাসেলে লুকিয়ে থাকা আরও তিনটি ভূতের এবং তাদের দেখে তারও আত্মা খাঁচাছাড়া হবার অবস্থা হয়। প্রথম ভূত দর্শন বলে কথা!!! এই তিনটে ভূত ভীষণ পাজি, তারা ক্যাসপারকে দিয়ে সারাদিন নানারকম ফাই-ফরমাস খাটিয়ে নেয়, আর নিজেরা গায়ে হওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়।

ডক্টর জেমস হার্ভি ও তিনটে পাজি ভূত

আস্তে আস্তে ক্যাসপার এবং অন্যান্য ভূতেদের সাথে ক্যাথলিন ও ডক্টর জেমস হার্ভির আলাপ পরিচয় হয়ে যায় এবং ক্যাথলিন জানতে পারে ক্যাসপারের আগের জীবনের সব ঘটনার কথা। সে কী ভাবে ভূত হলো সেই ঘটনার কথাও ক্যাসপার জানায় এবং সাথে জানায় এমন এক "জাদু সিরাপের" কথা যা শুনে ক্যাথলিন অবাক হয়ে যায়। এই জাদু সিরাপ নাকি ভূতেদের ফের মানুষ করে তুলতে পারে, আর সাথে এটাও জানাতে ভোলে না যে এই কাসেলে খুব দামী একটা জিনিস লুকোনো আছে। এই সব কথা ক্যারিগানও জেনে ফেলে ক্যাথলিন এর সাথে, কারণ সেই সময় সে আর পল ডিবস আড়ি পেতে ক্যাসপার-এর সব কথা শুনছিল।

ক্যাথলিন ও ক্যাসপার মুখোমুখি

সব কিছু জানার পরে ক্যারিগান কি কাসেলে লুকোনো সেই দামী সম্পত্তিটির হদিস পায়? ক্যাসপারও কি সেই জাদু সিরাপের দৌলতে ভূত থেকে মানুষ হয়ে উঠতে পারে? এসব কিছু জানতে হলে তোমাদের দেখে ফেলতেই হবে "Casper" নামক এই মজাদার ভূতের সিনেমাটা। কারণ এরপর ছবিতে ঘটতে থাকে একের পর এক চমকপ্রদ ঘটনা, যা বলে দিলে তোমাদের ছবি দেখার মজাটা নষ্ট হবে। তাই ঘটনাগুলোর মজা পুরোদমে পেতে দেখে নিও Casper (১৯৯৫) নামক ছবিটি এবং ভূতেদের নিয়ে এরকম মজাদার ছবি যে তোমরা এর আগে কখনও দেখনি এই কথাও জোর গলায় বলে রাখলাম। তোমাদের ছবিটা কেমন লেগেছে তা জানিও আমাদের ম্যাজিক ল্যাম্পের পাতায়।

পুনশ্চ, কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা  -

২৮শে জুলাই ১৯৯৫ সালে আমেরিকাতে মুক্তি পায় এই কমেডি-ফ্যান্টাসি-হরর ছবিটি এবং ছবিতে কম্পিউটার গ্রাফিক্স/ স্পেশাল এফেক্টস (VFX) এর কাজ সেই সময়তেই অনবদ্য ছিল। ছবিতে ডক্টর জেমস হার্ভি ও ক্যাথলিনের চরিত্রে যথাক্রমে বিল পোলম্যান এবং ক্রিস্টিনা রিচির অভিনয় দর্শক মহলে উচ্চপ্রশংসিত হয়। ক্যাসপার নামক ভূতের চরিত্রটি নেওয়া হয় "Casper the Friendly Ghost" নামক একটি কমিক্স বই থেকে যা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৯ সালে "হার্ভি কমিক্স" নামক প্রকাশনী থেকে।

এই ছবিটির জনপ্রিয়তা এতটাই হয় যে পরে এর থেকে একটি কার্টুন টিভি সিরিজ চালু হয় "The Spooktacular New Adventures of Casper" (১৯৯৬) নামে। সেই সময় বহু নামী ভিডিওগেম কোম্পানিও (সুপার; NES; Game Boy; Playstation) বাজারে নানা রকম ভিডিওগেম নিয়ে আসে "ক্যাসপার" চরিত্রটিকে কেন্দ্র করে।
_______