Showing posts with label শ্রেয়সী চক্রবর্তী. Show all posts
Showing posts with label শ্রেয়সী চক্রবর্তী. Show all posts

গল্প রেল:: গল্পের অডিও:: এপ্রিল ২০১৭

গল্প রেল
গল্প পাঠের অডিও
শুনতে হলে ক্লিক করো নিচের ভিডিওতে

গল্পঃ ঋজুদার সঙ্গে জঙ্গলে
রচনাঃ বুদ্ধদেব গুহ  ::  পাঠঃ শ্রেয়সী চক্রবর্তী

_____

একটু ভাবি:: ‘গডলিনেস’! - শ্রেয়সী চক্রবর্তী


একটু ভাবি
‘গডলিনেস’!
শ্রেয়সী চক্রবর্তী

স্বচ্ছতা শব্দের পর অভিযান শব্দটুকু বসলেই চারদিকে কী এক ঢেউ খেলানো তাড়াহুড়ো, মৃদু ফিসফাস বা তীক্ষ্ণ বাঁকা হাসির চাপা আওয়াজ শুনছি সর্বত্র। অথচ স্বচ্ছতা যে একান্ত জরুরি বেঁচে থাকার একটি অন্যতম ভাবনা... এ বিষয়ে কথা কম মানুষই বলছেন। সমস্ত রকম সরকারি এবং রাজনৈতিক প্রয়াসের বাইরে গিয়ে যদি সব স্তরের মানুষই স্বচ্ছতা নিয়ে একটু অন্তত ভাবতেন তাতে আমাদের চেনা পরিচিত সমাজটার কিম্বা রোজকার প্রতিবেশের খুব ক্ষতি হত না, বরং আজকের দিনের অমলকান্তিরা রোদ্দুর হওয়ার স্বপ্ন আরও একটু সুস্থ ভাবে দেখতে পারত, আরও একটু নির্ভয়ে শান্তিতে। রোদ্দুর অর্থাৎ আলো বড় প্রয়োজন। দেশ, সমাজ, মানব সভ্যতা এইসব বড় কথাকে দূরে ঠেলে অন্তত নিজের মনের উপর আলো ফেলা আজ হয়ে উঠছে একান্ত জরুরি; কেননা যেখানে আলো সেখানেই মালিন্যের স্পর্শ থাকে না। স্বচ্ছ ও শুদ্ধ হয়ে ওঠে চারপাশ। তাই স্বচ্ছতা কেবল বাইরে নয়, সবার প্রথমে আনতে হবে মনে। স্বচ্ছ সুন্দর মন নইলে বাইরের পরিবেশ, বলা কথার মাত্রা, চরিত্রের খাঁজ ও ভাঁজ স্বচ্ছ হবে কী করে? যেখানেই বেড়াতে যাও না কেন আজকাল চোখে পড়বেই নানা রঙের প্লাস্টিকের পাহাড়... বনপথ, সমুদ্র উপকূল, পাহাড়ি ঝোরা, গাঢ় গভীর খাদ... প্রতিটা জায়গায় নিশান ওড়াচ্ছে সদর্প চিপসের প্যাকেট, চকোলেটের মোড়ক কিম্বা প্লাস্টিকের ঠাণ্ডা পানীয় বোতল এবং নীল গোলাপী সাদা হরেক রকম পলিব্যাগ।


না না আমি প্রায়শই খবরের কাগজে দেখতে পাওয়া যায় যে সমস্ত তথ্য এই পলিমার ও পলিথিন সংক্রান্ত - সেই জটিল রাসায়নিক যৌগ, যাদের কোনোমতেই ধ্বংস নেই - সেই পলিথিন কিভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলছে মানুষের ‘সভ্যতা’র ধারক বাহক অভিগত গোলক পৃথিবীকে, যেখানে বায়ু, শব্দ, জল-মাটি-পরিবেশ সব দূষিত বিষাক্ত হয়ে উঠছে - সেইসব দ্বিতীয়বার বলে তোমাদের বোর করব না! শুধু এটুকুই এখানে ম্যাজিক ল্যাম্পের আলোর নিচে বসে বলব, এসো তোমরা পাঠকের দল, সত্যিকারের আলো পড়ুক তোমাদের মনের উপর, তোমরাও তারপর আলো জ্বালো নিজের চেতনায়।


তারপর দলে দলে কিম্বা একা যে পথেই যাও না কেন ঘুরতে, কিম্বা পাড়া প্রতিবেশে, চোখ মেলে দেখো কিভাবে প্রতিদিন নোংরা করছি আমরাই সকলে মিলে আমাদের পৃথিবী, আমাদের বাসস্থান আর একই সঙ্গে আমাদের মনকে। এই আলো মনে একবার জ্বললে চলন্ত গাড়ি থেকে চিপসের প্যাকেট পাহাড়ি জংলী পথে আরও একবার ছুঁড়ে দেওয়ার সময় তুমি বা তোমরা অন্তত একবার ভাববে! পাশে যে অজ্ঞান অন্ধকার মনের সহযাত্রী ছুঁড়ে ফেলতে যাচ্ছেন, চলার পথ নোংরা করতে যাচ্ছেন, তাকে তুমি একবার অন্তত থামাবে। আর এই এক এক করে অনেক পথে অনেক দিকে আলো জ্বলবে অনেক! সেই পাওয়ার আনন্দে পৃথিবী হয়ে উঠবে আরও ঘন নীল এবং পান্না সবুজ, তোমাদের, আমাদের — সকলের চেতনার রঙে। আর আমরা তো বইয়ের পাতায় পড়েছি, ক্লিনলিনেস ইজ নেক্সট টু গডলিনেস! নাহ এই ২০১৭ সালে নতুন করে ধর্ম কিম্বা ঈশ্বরের পায়ে মাথা নোয়াবার দরকার নেই। আসলে ঈশ্বর কি জানো? ঈশ্বর আমাদের মনের সুস্থ আনন্দ। আমার উল্টোদিকে থাকা মানুষ পশুপাখি বা পরিবেশের সঙ্গে অন্যায় না করার শুভবুদ্ধিই ঈশ্বর। অন্যের ভালো সহজে না করতে পারলেও খারাপকে আরো খারাপ না করতে চাওয়াই আমাদের মধ্যে ঈশ্বরের প্রকাশ। তাই নিজের চারপাশে সব দিকে আলো ছড়ানোর মধ্য দিয়েই আমরা পৌঁছতে পারি গডলিনেসের কাছে, যা লেক্সিকনের একটা সারবাঁধা শব্দ মাত্র নয়, আমাদের নিজেদের পার্সোনাল ম্যাজিক ল্যাম্প!!


বলার কথাঃ এখানে ভারতবর্ষের যে ডাকটিকিটের ছবিগুলি দেওয়া হয়েছে, তা তোমাদেরই মত আমাদের দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছোটদেরই আঁকা। দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়, কী বলো?!
_____

একটু ভাবি:: বইমেলার আগেই - শ্রেয়সী চক্রবর্তী

একটু ভাবি
বইমেলার আগেই
শ্রেয়সী চক্রবর্তী

বই পড়ুয়া বইয়ের পোকা
একটা বড় আর-টা খোকা
কুচমুচিয়ে দাঁতে দাঁত
পাতায় পাতায় কুপোকাত!!


আর তো কদিন বাদেই জমজম করে শুরু হতে চলল ৩৫তম কলকাতা বইমেলা। সেখানে হাজার হাজার বইয়ের স্টল, বইয়ের রাস্তা, বইয়ের ঘরবাড়ি। তাছাড়াও সঙ্গে সঙ্গে বাগান আলো করে থাকে কত শত ছোট বড় মাঝারি পত্র-পত্রিকার রকমারি আকর্ষণ। আজকাল আবার বিভিন্ন বায়বীয় অর্থাৎ অনলাইন বই সংক্রান্ত ওয়েবসাইট বা ই-ম্যাগাজিনের স্টলও বইমেলায় দেদার দেখা যায়। (তেমনি একটা ই-ম্যাগাজিনে এই লেখাটা বেরোচ্ছে যদিও!) তাছাড়া নানান টেলিভিশন চ্যানেল, বিভিন্ন বৈদ্যুতিন মাধ্যমের হুড়োহুড়ি আড্ডা, ঝালমুড়ি, কাগজের ভেঁপু, মমার্ত, জিভে জল আনা একশো রকম সুস্বাদু খাবার, টিভিতে মুখ দেখানোর সহস্র উপায়, অদ্ভুত সব চালের উপর নাম লেখা, ধানের শিষের মাথায় মুখ আঁকানো, রণপা চড়া মানুষ আর জনস্রোতের উত্তাল ঢেউ – এই হল বইমেলার অশেষ ঝলমলানি, যা কিনা পাঠক এবং হুজুগে অপাঠকের কাছে রোজনতুন।


বাহ! একদম ঠিক ধরেছ। আমি আসলে ‘পাঠক’ এই শব্দটার কাছে পৌঁছতে চাইছি। পাঠক কাকে বলব? বই কিনলেই বা বচ্ছরকার দিনে বইমেলায় নিত্যি হানা দিলেই কি পাঠক বলা যায় মানুষকে?! আমরা ছোটবেলায় জানতাম পাঠক হওয়ার জন্য অফুরান ভালবাসা লাগে আর লাগে ধৈর্য। আর ফুচকার সঙ্গে তেঁতুল জলের মতো লাগে কয়েক ছটাক পাগলামি। প্রথমে আসি ভালবাসায়। এই ভালবাসা খুব উত্তেজিত, বই হাতে পেলেই তাকে গিলে নিয়ে ছুঁয়ে-ছেনে, চটকে ঠিক কোলের কাছে পুষি বেড়ালটাকে আদর করার মত তপতপে উদগ্রীব সোনালী ভালবাসা। যাতে একটুও তর সয় না নতুন বইয়ের গন্ধ বুকের ভিতর টেনে নিতে। আর শুধু বুঝি নতুন বই? বইমেলায় তো হরেক কিসিমের পুরোনো ধুলিমলিন বা ধুলোঝাড়া ন্যাপথলিনের গন্ধ লাগা লালচে পাতা বইও পাওয়া যায়। আআহহহ তার যা সুস্বাদ!


তা যা বলছিলাম, এখুনি অধৈর্যের কথা বলতে বলতে এইবারে আসি বইপাঠক হওয়ার ধৈর্যের কথায়। বইগুলো তো ঠিক একেকটা মানুষেরই মতো। কেউ দেখতে খুব সুন্দর, কেউ ততটা নয়। কারুর রস কথায় কথায় প্রথম পাতায় ফোটে তো কেউ তার রসভান্ড উপুড় করে এক এক পৃষ্ঠা সরিয়ে আলতো হাতে কম্পিত মনে বইয়ের হৃদয়ে প্রবেশ করার পর। কেউ আবার মনে ঝিলমিল লাগিয়েই রেখেছে। কিনতে, খুলতে আর পড়তে শুধু বাকি ! আর রইল বাকি পাগলামি। তার শুরুও নেই শেষও নেই। সীমা সরহদ্দ ছাড়িয়ে সে একেবারে বুভুক্ষু পাঠককে বইমাতাল করে ছাড়ে। কিন্তু আজকাল যে শুনি চতুর্দিকে রব উঠেছে, এই পড়া কাজটাই আর নাকি হয়ে ওঠে না। কেউ আজকাল বই পড়ে না। পুরোনো সব মানুষ, অভিজ্ঞ মানুষ যারা বই পড়ে পড়ে ঘুণ হয়ে গেছে তাদের কথা ছেড়ে দিলাম; নতুন যে সব শিশু কিশোর তরুণ যুবা... তারা কি সত্যিই বই পড়ে না?! পড়তে ভালোবাসে না?? কেন? অনেকেই তারা শুধুই পিডিএফ পড়ে বুঝি বই হিসেবে?? কিম্বা কিণ্ড্‌ল্‌ যন্ত্রে বই পড়ে (তাও খুব সরু চটি বই?! নাকি তাও না?)! আচ্ছা সত্যি করে বলো কিম্বা ভেবে দেখো তো চোখ আর বইয়ের মধ্যে অন্য কোনও যন্ত্রের নাকগলানো কাঁহাতক সহ্য করা যায়?? তবে অবশ্য বলতেই পারো চশমা পরে যাঁরা বই পড়েন তাদের বেলায়?? আমার উত্তর চশমা তো চোখকে দেখতে আরও বেশি সাহায্য করে, তাই চশমার কাঁচ দুটোকে আরও দুটো চোখই বলা যেতে পারে; খামোকা যন্ত্র বলব কেন?? কিন্তু তবু তো সে একরকমের বই পড়া। আর তোমরা যদি বলে ওঠো বই পড়তে বড্ড বেশি সময় খরচ হয়ে যায়, তবে বলো দেখি ঘুমোতে, খেতে, স্নান সারতে ,মোবাইলে গেম খেলতে, ভিডিও দেখতে এবং আরো যা যা তোমরা করে থাকো, তার কোনটা করতে সময় লাগে না? আজকাল বেশির ভাগ বাবা-মা বলে থাকেন, বই পড়ে সময় নষ্ট হবে। স্কুলে কলেজে পড়াশোনার এতো চাপ, এত কম্পিটিশন যে তার মধ্যে গল্পের বই পড়বে কখন? আর কেনই বা পড়বে? ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে গেলে, জীবনে অর্থ উপার্জন করতে গেলে কাজের বই পড়তে হবে, মানে সাদা বাংলায় যাকে বলে পড়ার বই কিন্তু সিলেবাসের বাইরে পড়া কোনোকালেই খারাপ কাজ নয়, সে তোমরা পরীক্ষার হলে কঠিন কঠিন প্রশ্নের উত্তর লেখার সময়েই বুঝতে পারো। আবার ঠিক তেমনই জরুরি জীবনের সিলেবাসের বাইরে যতরকম বই, সেইসব চেখে দেখা।


আমরা বলব তোমাদের (কারণ তোমাদের বুদ্ধি বাবা মায়েদের চেয়েও ঢের বেশি বলেই আমরা মনে করি) জীবনের অর্থ উপার্জনের দিকেই মন দেওয়া দরকার; আর ছোটোবেলা থেকে পাঠের অর্থাৎ নিজে নিজে বুঝে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হলে তবেই জীবনের শ্রেষ্ঠতম, ‘ওয়াও’তম অর্থগুলো নিজেরাই খুব শিগগির খুঁজে বার করে ফেলতে পারবে, যা শুধু টাকায় কিম্বা ধনে মাপা যায় না। মাপা যায় সম্পদে আর এই পাঠাভ্যাস আসে বইয়ের প্রতি ভালবাসা থেকে। চিরকালই বই বিন্যস্ত হতে (ডিসিপ্লিন) শেখায়বই শেখায় সততা, সরলতা আর খুশির মূল্য। অন্য মানুষকে একটু সময় দিতে শেখায় বই, শেখায় যথোচিত সম্মান দিতে। ভালবাসতে, সবার হাতে হাত রেখে নতুন সাহস বুকে নিয়ে নতুন সমস্ত আইডিয়া মাথায় নিয়ে বিশাল এই পৃথিবীটা পাড়ি দিতে শেখায় বই। আর সেই সব বইয়ের কীসব কথা, কী তার ছবি, কী তার অঙ্গসজ্জা আর কীইবা তার মনের ভেতর আলো ছড়ানোর কায়দা! পাতার পর পাতা শব্দের জ্যান্ত ম্যাজিক।


বইগুলো ঠিক আমাদের দাদু ঠাকুমা পুরোনো দিনের স্নেহময় আত্মীয়দের মতন। এই সাংঘাতিক গতির যুগে তাল মিলিয়ে ছুটে চলতে না পারলে তো তোমরা জানোই কেউ ছেড়ে কথা বলবে না। বরং তোমাদের লক্ষ্যপূরণের ক্লান্তিকর দৌড়টা দৌড়তে সাহায্য করবে এক একটা ভালোবাসার বই, যার পাতায় পাতায় দৌড় নয়, তোমাকে একেবারে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার সংকল্প। তাই এইবারের বইমেলায় তোমরা শুধু ঘুরতেই এসো না, একটা করে পছন্দমতো বই কিনে নিয়ে বাড়ি গিয়ে পড়ে ফেলো তো দেখি!!

_____
ছবি সূত্রঃ ইন্টারনেট

বহুরূপী :: তির্যক এপ্রিল ২০১৬ - শ্রেয়সী চক্রবর্তী

তির্যক
শ্রেয়সী চক্রবর্তী


শুধু মানুষ নয়, পাখিরাও...
______

ভ্রমণ:: ল্যাণ্ডর মধুর দেশ - শ্রেয়সী চক্রবর্তী

চিত্রগল্প (ছবিতে ভ্রমণঃ দেশ):
ল্যাণ্ডর মধুর দেশ
শ্রেয়সী চক্রবর্তী

বাসে ট্রামে নয় এক্কেবারে ট্রেনে কিম্বা প্লেনে সোজা উড়ে যেতে হবে ভারতবর্ষের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের দেরাদুন শহরে। সেখান থেকে গাড়িতে পাহাড়ে মাখামাখি বন্ধুত্ব। পাকদণ্ডী পথে উঠে যেতে হবে সাত মঞ্জিল মুসুরী পাহাড়কে পিছনে ফেলে রেখে ছোট্ট জনপদ ল্যান্ডরে। এখানে এক সময় পথের বাঁকে বাঁকে ছিল বাঙালিদের বসবাস। এখন সবই অতীত। তবু বাঙালির আসা যাওয়ার বিরাম নেই ল্যাণ্ডরে। হাতে গোনা অল্প কয়েকজন বাঙালির দেখা পাওয়াও অসম্ভব নয় পাহাড়ের মাত্র আড়াই ধাপ জুড়ে শুয়ে বসে রোদ পোহানো অলস এই জনবসতিতে। এখান থেকে গাড়ি চড়ে পাহাড়ি পথে পাক খেতে খেতে দেখে নেওয়া যায় ল্যাণ্ডরের সব চাইতে উঁচু বিন্দু লালটিব্বার টেলিস্কোপে চোখ লাগিয়ে চীনের প্রাচীর! তারপর ডাক দিচ্ছে অনন্ত নীল আর সবুজের হাত বাড়িয়ে সতেজ আকাশ, সোনালী রোদ্দুর, ধনৌলটি ইকো পার্কের পথ। এখানে চারদিকে ছড়িয়ে আছে হিমালয় তার “বান্দরপুঞ্ছ” শৃঙ্গ নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবী করেন প্রতি শীত বিকেলে ল্যান্ডর-দিগন্ত আলো করে টুপটুপিয়ে ডুবে যাওয়া সূর্য লম্বা সোনালী উইন্টারলাইনের আভা ছড়িয়ে রাখে সান্দ্র নীল সন্ধ্যাবেলা, আলো জ্বলে ওঠে পাহাড়ি উপত্যকায়; আকাশে ঝিকিমিকি জ্বলে ওঠে তারা। এই উইন্টারলাইন নাকি নিউজিল্যাণ্ড আর ল্যাণ্ডর ছাড়া কোত্থাও দেখা যায় না! এখানে ঘন অরণ্যে মুখ লুকিয়ে সকাল সন্ধ্যায় পাহাড়ের নতুন রূপে মজে থাকা ভারতবর্ষের প্রথম বোর্ডিং স্কুল কম্পাউণ্ড উডস্টক ইন্টারন্যাশনাল (১৮৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত) তোমার আশেপাশে সব সময় মজুত। কেন বলো তো? আসলে এই পাহাড়ের ঘন জঙ্গল রক্ষার দায়িত্ব তো তাদেরই। মুসুরী থেকে ওঠার পথে এক ঝলক দেখে নিও ইন্দো-টিবেট বর্ডার ফোর্স-এর হেড কোয়াটার্স। আর আছে শান্তি বিছানো বহু পুরনো চার্চ থুত্থুরে সেন্ট পল্‌স্‌। তার ভিতরে কী সুন্দর ছবি সব! নীচে নামলে দেখতে পাবে ‘ডোমাজ্‌ ইন’ রেস্তোরাঁর সঙ্গে দেওয়াল শেয়ার করা সাদামাটা বাড়ি; সেখানে থাকেন বিখ্যাত সাহিত্যিক রাস্কিন বণ্ড। তাছাড়াও এদিকে ওদিকে ছড়িয়ে আছে সুরখণ্ডা দেবীর মন্দির, কেম্প্‌টি ঝর্না, হারিয়ে যাওয়া ক্লক টাওয়ার, ল্যান্ডর ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলের হাসিমুখ ছাত্র ছাত্রীর দল আর কেলগ্‌স্‌ চার্চের মোহ। জানো তো ওখানে দেখা সব পাখিই তোমার চোখে নতুন! আর ফুলেরাও বড়ই রঙবাহারি মায়াময়। আর মনের আনন্দে বেড়াতে গিয়ে কেবলি শুকনো মুখে খালি পেটে তোমরা বেড়িয়ে বেড়াবে সে কেমন করে হয়? তাই অবশ্যই ল্যাণ্ডরে চার্চের জংশনে পাহাড়ি পথে চারদুকানের সুস্বাদু লা-জবাব পরোটা খাওয়ার বায়না ধরতে ভুলো না যেন!

১। নাটহ্যাচ
২। মায়াবী ফুলের রাশ
৩। নতুন ভোরের আলো
৪। বান্দরপুঞ্ছ শৃঙ্গ
৫। লালটিব্বার টেলিস্কোপ
৬। যেদিকে তাকাই পাহাড়
৭। বরফচূড়া নাগাধিরাজ
৮। সুরখন্ডা দেবী মন্দিরের পথ
৯। ধনৌলটি ইকো পার্ক
১০। গাঢ় অবসর
১১। উইন্টার লাইন
১২। ইন্দো-টিবেট বর্ডার ফোর্স
১৩। সেণ্ট পল্-স্- চার্চ
১৪। সাহিত্যিক রাস্কিন বণ্ড-এর বাড়ি
১৫। প্রথম ভারতবর্ষীয় বোর্ডিং স্কুল উড্-স্টক
১৬। মুসুরী শহর
_______
ফোটো - লেখক

বহুরূপী :: পাখির ফাইল - শ্রেয়সী চক্রবর্তী

হুপো        
পাখির ফাইল
লেখা ও ছবিঃ শ্রেয়সী চক্রবর্তী

অল্প শীতের গল্প রোদ্দুরে পিঠ সেঁকে নিয়ে বহুরূপী চারিদিকে চোখ চালাচ্ছে আর চেয়ে দেখে নিচ্ছে তার চারপাশের ডানাওলা রঙিন বন্ধুদেরতার মধ্যে কয়েকজনকে তার ভারি পছন্দ। তাই তাদের ছবি গোল্লা চোখ-ক্যামেরার শাটার টিপে মনের ফাইলে তুলে রাখছে সে বহু যত্নে। এতদিন সে ভাবছিল কখন তোমাদের সঙ্গে তার দেখা হবে আর তোমাদের দেখাবে বহুরূপীর ঝুলি থেকে বের করে পাখির ফাইল। দেখো তো বন্ধুরা এই সব রংবেরঙের টি টি-ট্যাঁ ট্যাঁ- রিট্‌টিট্‌-ট্যাঁওওও করে হঠাৎ ডেকে উঠেই উড়ে যাওয়া বন্ধুদের তোমরা চিনতে পারো কিনা !!

এশিয়ান কোয়েল
ওরিয়েন্টাল ম্যাগাপাই রবিন
কমন ইয়োরা
কমন হক কাক্কু
পার্পল সানবার্ড
ব্রাহ্মিনী স্টারলিং
ব্ল্যাক কাইট
রেড ভেন্ডেড বুলবুল
রোজ রিংড প্যারাকীট
স্টর্ক বিল্ড কিংফিশার
স্ট্রিক্টেড বায়া উইভার
হাউস স্প্যারো
জ্যাকোবিন কাক্কু
--------------

বহুরূপী :: বাঙ্ময় - শ্রেয়সী চক্রবর্তী

বাঙ্ময়

শ্রেয়সী চক্রবর্তী

ছোট্ট মংপু রোজ মায়ের কোলে চড়ে ছাদে বেড়াতে আসেসেখানে মায়ের হাত ধরে চিনতে শেখে তার চারপাশের বন্ধু গাছ, ফুল, পোকামাকড় আর পাখিদেরওদেরকে ভালবাসতে শেখেকিন্তু দুদিন ধরে যে খুব বৃষ্টি; ছাদে যাওয়াই তো হচ্ছে না মংপুরসে রাতে শুতে গিয়ে ভাবে কাল ভোরে ঘুম থেকে উঠে চুপিচুপি যাবে ছাদে; আর ঠিক তখনই! …

কিগো আমাকে চিনতে পারছ না? কেমন সোনালি ডানা উড়িয়ে আমি তোমাদের বাগানের আম গাছ কাঁঠাল গাছে বসে ডাকাডাকি করি! তুমি তো রোজই আমার নাম জানতে চাও, কিন্তু ভাবো আমি কথা বলতে পারি না; তাই আর নামও জানা হয়না! আজ দেখলে তো কেমন করে ডাকি আমিকেষ্টগোকুল’! নাম আমার বেনেবৌ পাখি (Black-hooded oriole); বড় হয়ে ভুলে যেও না কিন্তু! আমাকে নিয়ে অনেক গল্প আছে, পড়তে পাবে পাখিদাদু শ্রী অজয় হোমের বইয়ে; মা-বাবাকে বলে বইখানা কিনে নিয়ো কিন্তু!!”

বেনেবৌ বা Black-hooded oriole

মংপু দেখে পাশ থেকে উঁকি দিচ্ছে নীল-কমলা-হলদে-সবুজ ওই ওটা কি??? নাচতে নাচতে সামনে হাজির হয় সূঁচফড়িং, বলেসূঁচের মতন সরু তাই আমার নাম সূঁচফড়িং (Orange-tailed marsh dart)তোমার বাড়ির আশেপাশে আমি একাই নই, আমার আরো সব রংবেরঙের ভাইবোনরা থাকেতুমি কিন্তু তাদের কখনো মেরো না বন্ধুআমরা ঘাসে পাতায় উড়ি, আকাশটাকে সাধ্যমত রঙিন করে তুলি

সূঁচফড়িং বা Orange-tailed marsh dart

এই না বলেই চোখের নিমেষে উড়ে যায় ছাদবাগানের ফুলের উপর নাচ দেখাতে, আর ওমনি ফুলটা বলে ওঠে, “ঝুমকো লতা নামটি আমার, ইংরেজিতে প্যাশন/ আমায় দেখে অন্য ফুলের ফিকে হয়ে যায় ফ্যাশন!” বুঝলে মংপুবাবু?

ঝুমকোলতা বা Passion flower

একগাল হেসে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে বেনেবৌ জুড়ে দিয়েছে বেজায় চিকারহলটা কী?? আরে এ যে গাছের গায়ে শিরশিরানি কালো-বাদামি এক সাপ তার জিভ লকলক করছে, কিন্তু চোখের ভাবটা তো হিংস্র নয়! বন্ধুর মত মংপুর দিকে আসতে চাইছে, কিন্তু বেনেবৌ ওকে উড়ে উড়ে ঠুকরে দিতে চায়! মংপু বলে বুঝেছি, বুঝেছি তোমার নামটা বল দেখি এইবার
আজ্ঞে আমি হলুম গেখড়িচূড়’ (Painted bronzeback) আমার কিন্তু মোটেও বিষ নেই, তবু আমায় পছন্দ করে না এই পাখিদের দল দোষের মধ্যে খিদে পেলে ছোট পাখি, পাখির ডিম, ইঁদুর কিম্বা টিকটিকি গিরগিটি ধরে খেয়ে ফেলি, ঠিক তুমি যেমন লুচি খাও তেমনটি সেটাই যে পরিবেশের নিয়ম শুধু বিনা কারণে, বিনা দোষে মানুষ আমায় ভয় পায়, পিটিয়ে মারে আমার অন্যান্য সাপ ভাইদেরও মানুষ মেরে ফেলে কিন্তু নিজেরা সাবধান হয় না মংপু তুমি বড় হয়ে এমন মানুষ হবে না তো??”

খড়িচূড় বা Painted bronzeback

ছোট্ট মংপু সবটা কথা ভাবার আগেই দেখতে পায় বিশাল পাম গাছের ছোট্ট নীচু ডালের পাতায় বসে আছে সবুজে সবুজ হয়ে ডানায় কেমন চিত্রবিচিত্র নিয়ে নতুন এক বন্ধু! মংপু কাছে যেতেই হেসে ওঠে সেই সবুজ সেনানী যার নাম Oleander–hawk moth বা Army green moth! বিকেল হলেই যার মধু খাওয়ার কর্মব্যস্ততা সবচাইতে বেশি বেড়ে ওঠে!

Oleander–hawk moth বা Army green moth

কোনো কথা না বলে মংপুর মাথার চারপাশে বোঁ করে একচক্কর দিয়ে বুঝিয়ে দেয় মংপু তাদের সব্বার প্রিয় বন্ধু আর উড়ে যায় দূরেঅনেকদূরে।।
_____________

ছবিঃ স্বর্ণ চক্রবর্তী ও শ্রেয়সী চক্রবর্তী

বহুরূপী :: তিতলির খাতা - স্বর্ণ চক্রবর্তী

তিতলির খাতা

স্বর্ণ চক্রবর্তী


ব্লু মরমন, ফটোঃ শ্রেয়সী চক্রবর্তী


উড়ে বেড়ানো রঙিন ফুলের মত পতঙ্গদের নাম প্রজাপতি এ কথা কে না জানে! কিন্তু আমাদের সবার যেমন পরিবার আছে, সেই পরিবারের চক্রবর্তী, সেন, মিত্র এমন সব নিজস্ব পদবী আছে আবার সেই সব পরিবারের আত্মীয়রা আছেন; ঠিক সেইরকম প্রজাপতিদের মধ্যেও নির্দিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠী (Group) আছে, সেই সব গোষ্ঠীর প্রজাপতিদের নির্দিষ্ট কিছু চিহ্ন এবং বৈশিষ্ট্যও আছে, যা দেখে তাদের আইডেন্টিফাই করা যায় তেমনি এক গোষ্ঠী হলপ্যাপিলিওনিডি”; আর এই প্যাপিলিওনিডি পরিবারের প্রজাপতিদের নিয়েই সেজে উঠেছে এইবারের তিতলির খাতা


কমন মাইম, ফটোঃ স্বর্ণ চক্রবর্তী


কমন রোজ, ফটোঃ স্বর্ণ চক্রবর্তী

প্যাপিলিওনিডি গোত্রের প্রজাপতিরা অসম্ভব উজ্জ্বল রং-বহুল, আর আকারেও সবচাইতে বড়। এদের ডানার মাপ কোনো কোনো ক্ষেত্রে ২৫০ মিলিমিটার পর্যন্তও হতে পারে। এদের পিছনের ডানায় সরু লেজের মত একটা বাড়তি অংশ থাকে, ঠিক সোয়ালো পাখির লেজের মত দেখতে, তাই এই প্যাপিলিওনিডি দলের আরেকটা নাম হল ‘সোয়ালো টেল’ সারা পৃথিবীতে এই প্রজাপতির সংখ্যা প্রায় ৭০০ মতো হলেও ভারতবর্ষে পাওয়া যায় এদের ১০৭টির মতো প্রজাতি, আর পশ্চিমবঙ্গে এখনো পর্যন্ত ৩৯টি সোয়ালো টেল প্রজাতির প্রজাপতির সন্ধান মিলেছে। তাদের মধ্যে থেকেই কয়েকজন এসেছে আজ তোমাদের সঙ্গে আলাপ করতে। এইবারে তিতলির খাতা খুলে তাকিয়ে দেখো দেখি সোয়ালো টেল প্রজাপতিদের তোমার পড়ার টেবিলে উড়ে বেড়াতে দেখতে পাও কি না!


লাইম, ফটোঃ স্বর্ণ চক্রবর্তী


টেইলড জে, ফটোঃ স্বর্ণ চক্রবর্তী


বড় করে দেখতে হলে ছবিগুলোর ওপর ক্লিক করো।
___________