Showing posts with label মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস. Show all posts
Showing posts with label মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস. Show all posts

ছড়া-কবিতা:: ছবির মতো বিকেলটা সেই - মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস


ছবির মতো বিকেলটা সেই
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস

ছবির মতো একটা বিকেল
খয়েরি টিলার পাশে,
ঝর ঝরানো ঝোরার ঝিলিক
যাচ্ছে ছুঁয়ে ঘাসে
ফল ঝরছে টুপুস টাপুস
উল গাছের তলায়,
নেই তো কোনো তাড়াহুড়ো
ছাগল ছানা চলায়
ঘাপটি মেরে লুকিয়ে আছে
জাপটে ধরার তালে
ভাইটা দেখি ঢিবির পিছে,
দুলছে দিদি ডালে,
নেই কি ওদের বাড়ির পড়া?
কার্টুন দেখার নেশা?
হাওয়ার সাথে, পাখির সাথে
ওদের মেলামেশা
কুড়াচ্ছে ফল, উড়াচ্ছে ফুল,
পাড়াচ্ছে লাল নুড়ি,
ওরাই বুঝি চাঁদের আলো,
অথবা রোদ্দুর
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: একটা সন্ধে গুবলুর - মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস


একটা সন্ধে গুবলুর
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস

সন্ধের দীপ জ্বলছে একলা
তুলসী তলায়,
প্রার্থনা গান গাইছে জেঠুন
দরাজ গলায়
খোল কত্তাল নেই তো কিছুই,
ঝিঁঝির তানে
ঠামির কাছে প্রাণের আরাম
সে গান আনে
‘মহিমা তব উদ্ভাসিত’
শব্দ ছড়ায়,
আরও মন বসে ছোটো গুবলুর
অঙ্ক করায়
বুনিও মুগ্ধ, তাই বুঝি তার
কান্নাও নেই,
খসে পড়া তারা আকাশে মেলায়
এক পলকেই
বাবা মাকে বলে মৃদুস্বরে, ‘জানো
বেচব না বাড়ি,
প্রোমোটার চাপ দিলেও এখানে
বাঁধা আছে নাড়ি
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: এবার পুজোয় ছুটির আগে - মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস


এবার পুজোয় ছুটির আগে
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস

চল যাই আজ বন্ধ রেখে
বই খাতা পেন ব্যাগের ভেতর,
ছুঃ মন্তর মন্ত্র পড়ে
হালকা করে মনটা যে তোর
তোর, তোর আর তোর মনটাও
খুব যেন হয় হালকা তুলো,
রাখ সরিয়ে পাশের পড়ার
ফর্মুলা আর তারিখগুলো
শিউলি পাতার শিশির এনে
ব্ল্যাকবোর্ডে দি যেই না ষে
সংস্কৃতের ম্যাডামকে দেখ,
ঢুলছে কেমন মুদ্রাদোষে!
টুক করে চল লাফিয়ে পড়ি
দেওয়াল জোড়া ব্ল্যাকবোর্ডেতে,
লাগবে না শোন একটি ফোঁটাও,
ঘাস রেখেছে ফরাস পেতে
সবুজ শুধু বীজ বুনেছে
গল্প হাসি দেদার খেলার,
ইচ্ছেমতো কিনতে পাবি
পাখনা জোড়া শূন্যে মেলার
হাত মিলাবার মূল্য দিয়ে
পাখনা কিনে আকাশ ছুঁয়ে
দেখব সবাই অবাক হয়ে
পাহাড় কেমন পড়ছে নুয়ে,
ঢেউরা কেমন ছলাৎ করে
দূষণ দূষণ ফেলছে গিলে,
গাছ-গাছালি ভর্তি আছে
পাতায় পাতায় অন্ত্যমিলে
পুথির পাতায় এমন দেশের
নাম লেখা নেই হয়তো আজও,
কিন্তু জানি মনের মাঝে
এমনি কিছুর ফন্দি ভাঁজো
লাগ ভেলকি, চল না পালাই
এই পুজোতে ছুটির আগে,
নতুন দেশের নতুন পড়া
চল দেখি সব কেমন লাগে
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: বল দেখি - মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস


বল দেখি
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস

বল দেখি কেন যাব বেড়াতে?

গেলে তবে চেনা যায় অচেনার রাজ্য,
জানা যায় কী কারণে কোন্ দেশ ভাজ্য।
কোন্ স্হানে কী কী ভাষা বোঝে, বলে লোকেরা,
কোথায় আরাম পায় কেজো গেজো চোখেরা,
অতীতের স্মৃতিকথা জানা যায় পাথরে,
কত শ্রম গাঁথা আছে সৌধের গা ভ’রে।
কেমন হাতের কাজে কোন্ দেশ দক্ষ,
সব যায় জানা শোনা, কর যদি লক্ষ।
নদীতে পাহাড়ে দ্বীপে সাগরের নীলেতে
সবুজের সামিয়ানা বকে গাঙচিলেতে
পশুদের স্বস্হানে ফুলেদের ভিটেতে
দেখে শুনে বেঁধে রাখো সব গিঁটে গিঁটেতে।
মনকে উদার করে, মাথা করে পোক্ত,
জানি জানি, ধরলই বেড়ানোর রোখ তো!

চল তবে, কাছে দূরে যেখানে সুযোগ পাই
একাই বা দল বেঁধে পা বাড়িয়ে, চল যাই।

বুঝলে তো, কেন যাবে বেড়াতে?
মনের গভীর ক্ষত এড়াতে।
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: গল্প শোনো - মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস


গল্প শোনো
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস

পাল তুলেছি পাল তুলেছি,
সহজ কথার জাল খুলেছি৷
যাক না ভেসে নৌকা এবার,
সময় এল গড়িয়ে নেবার
ছই-এর নিচে ছলাৎ ছলে,
ভাসছে কথা নদীর জলে,
গাঁথব তাদের গল্প করে
চোখ বুজে আজ এই আসরে৷
শুনবে যারা শুনুক না,
নইলে নিজেই বুনুক না,
সোনার কাঠি রুপোর কাঠি
রাজকন্যার ঘুম,
বদ্যি এল, বদ্যি গেল,
রাজপুরী নিঝ্ঝুম৷
সোনার কাঠি রুপোর কাঠি,
হিরের কাঠি কই?
হিরের কাঠির গল্প জানে
সুয়োরানির সই?
গল্প গড়ায় জলের মতো,
পাড়ায় পাড়ায় দস্যি যত
চুপ করে শোন রূপকথাটা,
সেই পুরোনো দুধের মাঠা৷
এই রসে সব মজবি আয়,
জল মাখা ভাত কাকে খায়৷
ছাইপাঁশ সব চোখ ভোলানো
বন্ধ রেখে, মন দোলানো
কান ভোলানো গল্প শোনো,
না হয় নিজেই কল্প বোনো৷
----------
ছবি - আন্তর্জাল
ম্যাজিক ল্যাম্প 

ছড়া-কবিতা:: মহালয়ার ভোরে - মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস


মহালয়ার ভোরে
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস

একটা ছেলে ডিঙির কোণে একলা যে বায় দাঁড়,
শাপলা তোলে, পদ্ম তোলে, একলা গাঁথে হার৷
পালক ছেঁড়া মেঘ আকাশে, বক ভাসানো হাওয়া,
শিরশিরানি শিশির ঝরে শিউলিতলা ছাওয়া৷
সোনার রোদে রূপালি কাশ কতই ছবি আঁকে,
একলা থাকা সেই ছেলেটার পড়ছে মনে মা’কে৷
মহালয়ার ভোর না হতেই বেয়েই ডিঙিখানা
দুগ্গাতলায় দুঃখি ছেলে চুপ করে দেয় হানা৷
একচালাতে মাটির দেবী ফিক করে তাই হাসে,
কোঁকড়া চুলের গোছ সরিয়ে ছেলের কাছে আসে৷
মায়ের গায়ের গন্ধ আসে, ঠিক যে শিশুবেলা,
মহালয়ার এই ভোরে আজ বসল মিলন মেলা৷
_____
ছবিঃ সম্বিতা

ছড়া-কবিতা:: সুখ থই থই আজ হই সই - মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস


সুখ থই থই আজ হই সই
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস

মেঘরা যেন টুকরো হয়ে
আটকে আছে কাশের ঝোপে,
ছলাৎ ছলাৎ বৈঠাধ্বনির
ছন্দেতে কান দিলাম সঁপে৷
শাপলা রঙে মৌটুসিটা
ঠোঁট ডুবিয়ে খুব খুশিতে
ভোমরাকে কি বলছে “শোনো,
আজ হয়ে যাও আমার মিতে”?
আশ্বিনে আজ আকাশ যেন
উদার অপার, নেই কাঁটাতার,
সংক্রান্তির ঘুড়ির সুতোয়
যাক কেটে যাক দুঃখ-আঁধার৷
কাঁই না না কাঁই বাজছে কানে,
দেখছি চোখে স্বপ্ন-আবেশ,
দুগ্গাতলায় সুখ থই থই
নেই তো কোথাও দুঃখের রেশ৷
_____
ছবিঃ আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: কমিকসরা থাক চিরকাল - মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস


কমিকসরা থাক চিরকাল
মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় দাস

আমাদের ছোটোবেলা নেই টিভি, ফোন,
সবুজ খেলার মাঠ টেনে রাখে মন৷
সন্ধের পড়া শেষ, কাঠফাটা বেলা,
মা’র মানা, “চলবে না এখন আর খেলা।”
ক্ষতি নেই তাতে কোনও, হাতে আছে বই,
হাঁদা, ভোঁদা, বাঁটুলদা নয় এরা সই?
কেল্টোর বজ্জাতি, নন্টের বদলায়
জমে যেত আসরটা, ছবি কি বদলায়?
আরও ছিল বেড়ালটা, নাম বাহাদুর,
আজব কাণ্ডে তার মন ভরপুর৷
বিলিটার বুট ছিল কী যে জাদুমাখা!
গল্পের রসে মজা ছবিগুলো আঁকা৷
কী ভীষণ টেনশন, মাঝ মাঠে রয়,
রোভার্সে ফুটবল এখনও কি হয়?
ঢাকে ঢাকে অরণ্য-প্রবাদ ছড়ায়,
টিনটিন আজও যেন মনটা ভরায়৷
শৈশব কৈশোর করে ছিল বুঁদ;
আসলের থেকে বেশি লাগে ভালো সুদ,
যখন দেখতে পাই আজও পাতা খুলে
একা খায় গড়াগড়ি ছেলে সব ভুলে৷
শিশুতোষ কমিকসরা থাক চিরকাল,
অনাবিল আনন্দে মেলে মন-পাল৷
_____
ছবিঃ নারায়ণ দেবনাথ