Showing posts with label মধুমিতা ভট্টাচার্য. Show all posts
Showing posts with label মধুমিতা ভট্টাচার্য. Show all posts

ছড়া-কবিতা:: দন্তবিভ্রাট - মধুমিতা ভট্টাচার্য


দন্তবিভ্রাট
মধুমিতা ভট্টাচার্য

রতনবাবু প্রভাবশালী জমিদার এই গ্রামে
কত মানুষ ঘিরে থাকে ডাইনে এবং বামে

তাঁরই নাকি বাঁধানো দাঁত হারিয়ে গেছে আজ
সেই চিন্তায় মেজাজ তুঙ্গে, বন্ধ সবার কাজ

দিল্লি থেকে উড়ে এল গোয়েন্দা গজনন্দন
এল গুনিন ভৈরবনাথ দেবে ভীষণ বন্ধন

সবাই সজাগ, চোখ ঘুরিয়ে দাঁতের খোঁজে থাকে
পাওয়া গেলওও?” - থেকে থেকেই সবাই জোরে হাঁকে

আতসকাঁচ হাতে নিয়ে গজনন্দন ঘোরে
ঘরের আনাচ, ছাদের কানাচ, বাগানেও খুঁজে মরে

ভৈরবনাথ যজ্ঞে বসে, ধোঁয়ায় আঁধার চারদিক
মন্ত্র পড়ে দু-চোখ বুজে, অং বং চং ঠিক ঠিক

জলপড়া দেয়, আঙুল গুনে বলে, “এসব নির্ঘাত
জারিজুরি জিন ভূতেদের, লড়েই যাব একহাত

এমন সময় হীরেনবাবুর নাতি ছুট্টে এসে
দাদুর দাঁত পেয়ে গেছি,” বলল হেসে হেসে,

বাঁধানো দাঁত যায়নি কোথাও, ঘরেই মজুত সুন্দর
বহাল তবিয়তে বসে দিদার মুখের অন্দর,

সকালবেলা ঘুমের চোখে তোমার দাঁতটি তুলে
পরেছিল নিজের ভেবে দিদা মনের ভুলে

তখন থেকেই ভাবছে দিদা আজকে কেন এমন
অসুবিধে হচ্ছে খেতে, স্বাদ পায় না তেমন!

এবার থেকে নামটা লিখে রেখো তোমার দাঁতে
পরতে গিয়ে দিদার আবার ভুল হয় না যাতে

গজনন্দন ভৈরবনাথ বেজায় গেল চটে
এমন আজব ঘটনা কী কোনোখানে ঘটে?
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: ঘড়ির কথা - মধুমিতা ভট্টাচার্য


ঘড়ির কথা
মধুমিতা ভট্টাচার্য

ঘড়ির কথা নানারকম
নয়কো মোটে অল্প
কাঁটায় কাঁটায় লেখা আছে
রকমারি গল্প
ঘড়ির এক ঘড়ির দুই
ঘড়ির কত শত
কিনবে সময় সস্তা দরে
সে কী সোজা অত?
শোনো তবে নানান ঘড়ির
হরেক রকম কিসসা
দিনরাত্তির এই জীবনের
ছকেই বাঁধা হিসসা

ট্যাঁকঘড়িটা ট্যাঁকেই ঝুলে
সময় হিসেব করে
দেয়ালে বসে দেয়াল ঘড়ি
বাজে ঢংঢং জোরে
কব্জিটাকে রিস্টওয়াচের
আঁকড়ে থাকা স্বভাব
কাঁটা ধরে সময়টাকে
বেঁধে সওয়াল জবাব
বালি ঘড়ি, সুয্যি ঘড়ি,
ঠাকুরদাদার ঘড়ি
ডিজিটালের যুগে মোবাইল
সময় মুঠোয় ধরি
ঘড়ি ছাড়াই পৃথিবীটা
ঘুরছে বিনা ভুলে
চাঁদ সূর্যের উদয় অস্ত
শেখায় কি ইস্কুলে?
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: হরির গোয়েন্দাগিরি - মধুমিতা ভট্টাচার্য


হরির গোয়েন্দাগিরি
মধুমিতা ভট্টাচার্য

বায়োলজির ল্যাবরেটরিতে হরেক রকম বোতল শিশি
আছে নানান যন্ত্রপাতি, মেড ইন ফরেন, কিংবা দিশি
পড়ুয়া সব ল্যাবে বসে মাইক্রোস্কোপে স্লাইড দেখে
ছুরি কাঁচি স্ক্যালপেল আর বায়োলজি-বক্স পাশেই থাকে।

হঠাৎ করে, এই কিছুদিন ধরেই যেটা যাচ্ছে দেখা
চিনির জলের বোতলগুলো আপনমনেই হচ্ছে ফাঁকা
ল্যাবের দাদা রেগে বলেন, ‘ব্যাপারটা তো অতি বাজে
সল্যুশনের বোতল ফাঁকা হচ্ছে কেন বিনা কাজে!

‘বেছে বেছে চিনির জলের বোতলগুলোই হচ্ছে ফাঁকা!
অবাক কাণ্ড, চোর ধরতে গোয়েন্দাকেই হোক না ডাকা!
শুনে ক্লাসের দুষ্টু ছেলে হরি বললে, ‘আরে তাই তো
কে খেয়ে যায় চিনির জলটা, ধরার কোনো উপায় চাই তো

হিসেব কষে দেখা গেল চুরি হচ্ছে সাঁঝের পরে
সারাদিনের ক্লাসের শেষে সবাই যখন যে যার ঘরে
আতসকাচে ফিঙ্গারপ্রিন্ট খুঁজল হরি হন্যে হয়ে
ওমা! এ কী! আজব এমন কীসের চিহ্ন শিশির গায়ে!

দেখল হরি চোখ পাকিয়ে, নাক ঠেকিয়ে গন্ধ শুঁকে
টেবিল, চেয়ার ঝেড়ে এবং আলমারিটার তলায় ঝুঁকে
ল্যাবরেটরির চোর না পেয়ে, হতাশ যখন হরি বেজায়
ভাবলে জেগে দেখবে নিজেই, চিনির জল কে খেয়ে যায়?

রাতের কালো অন্ধকারে ভীষণরকম গোয়েন্দাগিরি
হুল ফোটানো মশার জ্বালা, সঙ্গে গরম, ঘামও ফিরি।
এমন সময় খুটুর খুটুর শব্দ যেন শুনল হরি
কানটি খাড়া, ভাবল মনে, ঠিক এসেছে এবার চোরই!

ফটাস করে লাইট জ্বেলে দেখল ওমা, সামনে কী এ
ছোট্ট পানা নেংটি ইঁদুর জুলজুলিয়ে দেখছে চেয়ে!
‘এই নাকি চোর, হায় রে কপাল, বায়োলজি ল্যাবরেটরির?
নেংটি পালায় এক দৌড়ে, হেসে গড়ায় গোয়েন্দা হরি।
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: চলো যাই... - মধুমিতা ভট্টাচার্য


চলো যাই...
মধুমিতা ভট্টাচার্য

টমটম ঘোড়াগাড়ি, ঝমঝম রেল
ক্রিং ক্রিং দু-চাকায় চলে সাইকেল

চার চাকা বাস আর মোটরের গাড়ি,
আকাশে উড়োজাহাজ দেয় দেশ পাড়ি

নদীতে নৌকো ভাসে, জাহাজ সাগরে
গরুর গাড়িটি চলে মেঠো পথ ধরে

চলো তবে ঘুরে আসি পাহাড়ের দেশে
যেখানে মেঘের দল যায় ভেসে ভেসে

তার চেয়ে যাই চলো আরেকটু দূরে
ঢেউয়ের দোলায় চেপে সমুদ্দুরে

রঙিন মাছের সাথে সাঁতারের পরে
মুক্তো আনব তুলে দুই হাত ভ’রে

মরুভূমি যেতে পারি উটের সওয়ার
যে দেশ আগুনে রোদ গরম হাওয়ার

বালিয়াড়ি পার হয়ে উঁচুনিচু পথ
চারদিকে বালি আর বালির জগৎ

তবে যাই উড়ে উড়ে আকাশের নীলে
পাখিদের মতো পালকের ডানা মেলে

মেঘের এপার থেকে ওইপারে গিয়ে
বৃষ্টি আনব ডেকে জলঝারি নিয়ে

নানা দেশ ঘুরেফিরে রাত্তির হলে
ফিরব নিজের ঘরে মামণির কোলে।
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: সামান্য আয়োজন - মধুমিতা ভট্টাচার্য


সামান্য আয়োজন
মধুমিতা ভট্টাচার্য

এই নাও এক ঝুড়ি আম
তার সাথে তিনটে কাঁঠাল
একবাটি আমড়া দিলাম
কামরাঙা, করমচা, তাল

জাম আছে জামবাটি ভরা
জামরুল আছে গোটা কুড়ি
পাকা কলা, আতা মিঠে কড়া
সাথে খেও দুধ আর মুড়ি

আছে বেল, পানা হবে কাল
লিচুর জোগান আছে সাথে
মাগুর আর শিং এক হাঁড়ি
ঝোল আর ঝাল দেব পাতে

ইলিশ না হলে চলে নাকি!
বোয়ালের রসা, তেল কই,
চিংড়িটা কেন থাকে বাকি
পানতুয়া, চিনিপাতা দই!

চিঁড়ে আছে, গুড় আছে ঝোলা
রাজভোগ, লেডিকেনি, কেক
পুঁটুলিতে আছে চাল ডাল
বিস্কুটও দিয়েছি অনেক

সবজিতে ভরা চার থলি
মুরগির ডিম দু-ডজন
মিঠাপাতি পান দশ খিলি
সামান্য এই আয়োজন।
----------
ছবি - আন্তর্জাল

ছড়া-কবিতা:: জলের দাগ, রঙিন মাছ - মধুমিতা ভট্টাচার্য


জলের দাগ, রঙিন মাছ
মধুমিতা ভট্টাচার্য
 
জলের তলায় গাছের বাগান
তারই মাঝে মাছ ছিল
দিব্যি সাঁতার কাটছিল
হেলতে দুলতে খেলছিল
জলের ভেতর মাছ ছিল
 
এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে
শামুকদানা খাচ্ছিল
সঙ্গীসাথি ডাকছিল
বন্ধুরা সব গাছ ছিল
ছায়ার মতো মাছ ছিল
 
মাছের গায়ে চিকির মিকির
আলোর পাখি নাচছিল
রুপোর কুচি আঁশ ছিল
পাখনা মেলে ভাসছিল
ঢেউয়ের নিচে মাছ ছিল
 
খাতার পাতায় মাছের ছবি
ছোট্ট মেয়ে আঁকছিল
বাক্স ভরা রঙ ছিল
রামধনু তার মন ছিল
সাতরঙা এক মাছ ছিল
 
ছোট্ট মনের ভেতর ঘরে
খুব সুরিলি গান ছিল
সুগন্ধি তার তান ছিল
সবুজ এক বাগান ছিল
রঙিন তুলির টান ছিল
 
জলের ভেতর মাছ ছিল
খাতায় জলের দাগ ছিল।
----------
ছবি - শ্রীময়ী

ছড়া-কবিতা:: বাক্স - মধুমিতা ভট্টাচার্য


বাক্স
        মধুমিতা ভট্টাচার্য

আমার একটা বাক্স ছিল ছোটোবেলায়
অ্যালুমিনিয়াম, চকচকে বেশ, কবজা দেওয়া
বই ঢুকিয়ে তারই ভেতর, ছিল আমার আসা যাওয়া
ইশকুলে রোজ, সকালে আর বিকেল বেলায়
ভূগোল ইতিহাসের সাথে ইংরিজি আর বাংলা, হিন্দি
বিজ্ঞান আর সমাজবিদ্যা, ড্রইংখাতা, পেনসিল বক্স
সেলাই শেখার টুকিটাকি, চকের টুকরো, ব্লটিং কাগজ
ঝরনাকলম একটা দুটো, শুকনো পাতা বইয়ের ফাঁকে,
ক্লাস টেস্ট-এর ছেঁড়া পাতায় লুকিয়ে রাখা কম নম্বর
রঙিন রুমাল, এক কোণে যার মায়ের হাতের কাশ্মীরি স্টিচ,
সবই ছিল বাক্সবন্দি, যক্ষ আমি তখন যেমন, এখনও আছি
আমার একটা বাক্স ছিল, এক বাক্স স্বপ্ন ছিল
উড়ন ছু আর চু কিতকিত, পুতুল খেলার গল্প ছিল
এখন কোথায় সেই বাক্স হারিয়ে গেছে মনের ঘরে
যক্ষের ধন পাহারা দেয় রাক্ষস এক চুপটি করে।
                    _____
                  ছবিঃ শ্রীময়ী

ছড়া-কবিতা:: এক ঝুড়ি বিল্লি - মধুমিতা ভট্টাচার্য


এক ঝুড়ি বিল্লি
মধুমিতা ভট্টাচার্য

এক ঝুড়ি বিল্লি
যাচ্ছিল দিল্লি
গায়ে দিয়ে পশমিনা শালটা
আহ্লাদে ম্যাও সুরে
গান গেয়ে ঘুরে ঘুরে
টেবিলেতে ঠুকে নিল তালটা।
দাদরা না ঝাঁপতাল
তেওড়া কি তিনতাল
তেরেকেটে মেরেকেটে ধিন তা
দিল্লিতে গরমে
হাঁসফাঁস চরমে
শাল নিয়ে কি ভীষণ চিন্তা
দাদী বলে সুইটি
ডার্লিং কিউটি
ডোন্ট ওরি, ইট ইস তো নরমাল
ইয়ুআ মা' বিউটি
বেবি মিউমিউটি
ঝুড়ি তো ডিজাইনার ফরমাল।
মিউ বলে দুচ্ছাই
চলে যাই মুম্বাই
তার আগে নাক ডাকি জমিয়ে
আরামের ঝুড়িতে
গুটিসুটি ভুঁড়িতে
ইচ্ছেখুশিতে থাকি ঘুমিয়ে।
_____
ছবিঃ লিয়ন হুবার (আন্তর্জাল)

ছড়া-কবিতা:: ভিনগ্রহের লোক - মধুমিতা ভট্টাচার্য


ভিনগ্রহের লোক
মধুমিতা ভট্টাচার্য

ভোর সকালে কাঁপছি হি হি শীতে
লেপ কম্বল কিচ্ছুটি নেই দেখছি কাছেভিতে
চারদিকেতে কেমন যেন ঝাপুস ঝুপুস হিম
আমি তখন দাঁতকপাটি ঠান্ডায় ঝিমঝিম
জানলা দিয়ে যেই মেরেছি উঁকি
ইতি উতি ঘুরছে কে ও! দেখছি কাকে, এ কী!
সুয্যি তখন নয়তো তেমন ফরসা
রোদ ঢুকবে জানলা গলে, তেমনও নেই ভরসা
বুক ঢিপ ঢিপ করছে আমার কাণ্ড দেখে ভাই রে
অচিনগ্রহের প্রাণী কি এক ডাকছে আমায় বাইরে!
মাগো বলে ডাকতে গিয়ে শব্দ হল হেঁড়ে
গলার আওয়াজ হঠাৎ কেন গেল আমায় ছেড়ে!
ঘুরছে যেন দুলকি চালে ঢুলকি নিয়ে পিঠে
মাউথপিসে গাইছে কে গান ঘ্যানঘ্যানে সুর মিঠে
আবার কেমন আড়চোখেতে দেখছে আমায় হেসে
কাঁপা গলায় খুকখুকিয়ে আমিও দু’বার কেশে
বললাম, “হাই... কোথায় থাকো? কোন গ্রহে ভাই বাস?
জানো না কি এই দেশেতে এখন শীতের মাস
সাত সকালে ঠান্ডা লেগে ধরলে নিমুনিয়া
লাগবে না হে তেমন দেরি ছাড়তে এই দুনিয়া
তার চেয়ে যাও নিজের বাড়ি রকেট গাড়ি চেপে,
আরে আরে হলটা কী? উঠলে কেন খেপে?
খারাপ কিছু বলেছি কি? গ্রহান্তরের প্রাণী!
ওয়ান ক্লাশে পড়ি আমি, অনেক কিছুই জানি

ভীষণ রেগে দাঁত খিঁচিয়ে লাল করে চোখ-নাক
ভীনগ্রহী সে বললে আমায়, “তোর এত দেমাক!
পুঁচকে ছেলে এই দু’দিনের, ক্লাশ ওয়ানে পড়া
ধরাকে জ্ঞান করিস যে তুই এক্কেবারে সরা
আমাকে তুই কী আক্কেলে ভিন্নগ্রহের প্রাণী
বসলি ভেবে? মাথায় ঘিলু নেই কি ছটাকখানি?
আজকেই তোর একদিন, কি একদিন আমারই
আয় বেরিয়ে, বুঝিয়ে দিচ্ছি স্টোরি অ্যান্ড সামারি
চটকে যাওয়া বুদ্ধিটা তোর ঝাড়াই বাছাই করে
মাথার ভেতর দেব আবার দিব্যি ফিটিং করে
বুঝবি তখন কে আমি আর কে-ই বা ভিন্ন গ্রহের
তোদের মতন পাজি ছেলে দেখেছি রে ঢের ঢের

আমার তখন চোখ কপালে বলছি না বাড়িয়ে
 
গ্রহান্তরের প্রাণী তো নয়, হেডস্যার দাঁড়িয়ে
মাঙ্কি টুপি, আলোয়ান আর বুটজুতো হাতমোজা
কে পরেছে বুঝতে পারা নয়কো মোটেও সোজা
পিঠেতে ব্যাগ, হাতে লাঠি প্রাতঃভ্রমণ চলেন

“বাবাকে ডাক,” ভীষণ হেঁকে আমাকে স্যার বলেন,
“নালিশ করব কীর্তি-কলাপ তোর আমি এক্ষুনি
দেখিয়ে দিচ্ছি কাকে বলে ভিন্নগ্রহের প্রাণী
আমায় নিয়ে ঠাট্টা করিস সাহস তো নয় কম তোর
কান ধরে কাল দাঁড়াবি তুই বেঞ্চের ওপর দিনভর


শাস্তি শুনে কাল কী হবে ভেবেই হলাম ভীত
কোথায় লুকাই ভাই রে আমার পালিয়ে গেল শীতও।
_____

ছবিঃ নচিকেতা মাহাত

ছড়া-কবিতা:: ছোট্টবেলার খোঁজে - মধুমিতা ভট্টাচার্য


ছোট্টবেলার খোঁজে
মধুমিতা ভট্টাচার্য

আহ্লাদী রোদ্দুরে মাঠ ঝলোমলো
ইস্কুল ছুটি আজ, মন খুব ভালো
চল তবে ছুটে যাই সবুজের পাশে
রাত্রির কুয়াশায় ভিজে ভিজে ঘাসে
গড়াগড়ি খেয়ে মাখি মাটির সুবাস
হিম লাগা সকালের ঝিম সুবাতাস
ডাক দেয়, বলে, ‘আয় রূপকথা বলি
ঠাকুমার ঝুলি, দাদা-মশাইয়ের থলি’!
ঝুলির ভেতরে সব রয়েছে সাজানো
রাজা, রানি, রাক্ষস, খোক্কস, দানো
তেপান্তরের মাঠ পার হয়ে যাব
লালকমলের দেশ সেখানেই পাব
নীলকমলের সাথে দুই ভাই থাকে
দুষ্টু দৈত্য যত ভয় পায় যাকে
হাট্টিমাটিমদের নাচ টিমটিম
খাড়া দুটো শিং আর পাড়ে যারা ডিম
ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমি খুঁজব ওখানে
ছোট্টবেলার কথা ওরাই তো জানে।
_____
ছবিঃ দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী

ছড়া-কবিতা:: ছড়ামিক্স - মধুমিতা ভট্টাচার্য


ছড়ামিক্স
মধুমিতা ভট্টাচার্য

কমিকসে নেশা খুব ছোটো বড়ো সব্বার
কেটে যায় টিভি দেখে সোম থেকে রোব্বার
মন দুখি হলে এর চেয়ে ভাল দাওয়া নেই
কার্টুনে মজে গেলে কোত্থাও যাওয়া নেই

ঘরে বসে দিনভর রিমোটের চাবিতে
খুটখাট ছবি দেখা ছোটোদের দাবিতে
বড়োরাও উঁকি মেরে হাসে জেনো খিকখিক
কমিকসে মজা পায় সকলেই, ঠিকঠিক

এই দেখো বলে দিই কত আছে গল্প
বইভরা ছবি আছে মোটে নয় অল্প
লাল নীল হলুদ আর সবুজ বা কালচে
আলাদিন নিয়ে আসে জাদুকরী গালচে

হাঁদা-ভোঁদা, টিনটিন, হ্যাডক আর ম্যানড্রেক
স্নোই (মানে কুট্টুস) তুফান, ডেভিল, রেক্স
নন্টে ফন্টে, হে - চলমান অশরীরী
কমিকস-এর হিরো মিকি মাউস, টম-জেরি

ফ্ল্যাশ গর্ডন আছে, আছে তো গুরান ভাই
ছোটা ভীম? সেও আছে, লুথারকে সাথে চাই?
বাঁটুলের মার খেলে বেরিয়ে যাবে হে দম
গোয়েন্দা কার্বিও চোর-ডাকাতের যম

প্রফেসর কাথবার্ট সেই যে ক্যালকুলাস
বিজ্ঞানী উঁচুদর, কানে খাটো, বিন্দাস
প্লুটো, গুফি, ড্রুপি আর ডোনাল্ডও কম নয়
রংচঙে ছবি জুড়ে জোরদার মজা হয়

আরও কত আছে সব কমিকস-কার্টুনে
সোজা নয় বলে ফেলা দু’হাতে কর গুনে
'
ম্যাজিক ল্যাম্প'-টা যদি জোটে কারও ভাগ্যে
জিনি এসে বলে দেবে, "হুকুম হো, আজ্ঞে!"
_____
ছবিঃ আন্তর্জাল