Showing posts with label ঋজু পাল. Show all posts
Showing posts with label ঋজু পাল. Show all posts

গোলটেবিল:: ২৫ দেশের রূপকথা লোককাহিনি :: আলোচনাঃ ঋজু পাল


বইঃ ২৫ দেশের রূপকথা লোককাহিনি
সঙ্কলন এবং সম্পাদনাঃ ডঃ মোহাম্মদ হান্নান
প্রকাশনাঃ ঢাকা বইবাজার (ফেব্রুয়ারী ২০০৯)
আলোচনাঃ ঋজু পাল

এই তো সেদিনের কথা। স্কুলে যখন পড়তাম, রাতে ঠাকুমার কাছে শুতাম মফস্বলে বাড়ি হওয়ায় রাত দশটা মানেই চারদিকে কেমন একটা নিস্তব্ধতা নেমে আসতঠাকুমা ভালো গল্প-বলিয়ে ছিলেন শুরু করতেন একদিক থেকে আর সুতো ছাড়তে ছাড়তে শেষ করতেন আর একদিকে, ততক্ষণে অবশ্য আমি ঘুমিয়ে পড়তাম কী না ছিল তার গল্পের ভাণ্ডারে – ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমী, লালকমল নীলকমল, পক্ষীরাজ ঘোড়া, প্রাপ্তবয়স্ক মনও মজে যেত সেইসব গল্পেকলেজে পড়াকালীন ঠাকুমাকে হারাই, হারাই আমার একমাত্র গল্প-বলিয়েকেরূপকথার গল্প বহুদিন আর শোনাও হয় না, পড়াও হয় না বাস্তব জগতে নিজেকে সঁপে দিতে দিতে ক্রমশ মনটা যান্ত্রিকতায় ভরে উঠছে, তা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই
রূপকথা সাধারণত আরম্ভ হয় ‘এক যে ছিল রাজা’ অথবা ‘অনেক অনেকদিন আগের কথা’ দিয়েজল-স্থল, আকাশ–পাতাল, মাটি-সমুদ্র এসব নিয়েই গড়ে ওঠে রূপকথার নানা রঙের গল্পগুলো। সব রূপকথার মধ্যে একটি দেশের অথবা কোনও জাতির প্রাচীন কোনও ইতিহাস থাকে। কালের চক্রে হারিয়ে যাওয়া কোনও মূল্যবোধ থাকেরূপকের আশ্রয়ে সেগুলো ধরা দেয় আমাদের সামনে, মনকে সতেজ সজীব করতে অনুপ্রেরণা দেয়।
ব্যাঙ্গালোরে আসার পর একদিন একটি বই হাতে পাই এক বাংলাদেশি বন্ধুর সৌজন্যে পঁচিশটা দেশের প্রচলিত রূপকথা স্থান পেয়েছে এই বইটির মলাটের মধ্যেসেই ছেলেবেলায় পড়া সাত ভাই চম্পার কাহিনি প্রথম পাতায় দেখে ভীষণরকম খুশি হয়েছিলামপুরনো স্মৃতি জাগিয়ে তোলার জন্য গ্রামবাংলার এই প্রচলিত গল্পগাথা যথেষ্ট একটি ব্যাঙের গল্পতে যেমন খুঁজে পাই তিব্বতের চেনা পরিবেশ, ঠিক তেমনই গোন ও কোমার বন্ধুত্বতে জাপানের মূল্যবোধের সূক্ষ্ম পরিচয়, পেরুর ইনকাভূমির রাজপুত্রের সাহসিকতা, সুদূর আফ্রিকার জঙ্গলময় হাতির গল্প, কার্টুন চ্যানেলে দেখা সেই সিনডারেলার মিষ্টি ছবি, ইগলুর দেশের এস্কিমোদের শিকারের গল্প... আরও অনেককিছু নিয়ে বইটা প্রকাশিত হয়েছে
বর্তমান প্রজন্ম ভাগ করে নিক আমাদের ছেলেবেলার সেই আনন্দঘন মুহূর্তগুলোকে স্বয়ং প্রকাশকও তাই চান। কম্পিউটার আর ভিডিও গেমসের বাইরে গিয়ে খানিকটা সময় তাদের দেওয়া উচিৎ এইরকম বইয়ের জন্যহ্যারি পটারের চাপে হারিয়ে যাচ্ছে ঠাকুমার ঝুলি - এই বিতর্কে না ঢুকেও বলি বইটা পড়ুন, ভালো লাগবেশৈশবের হাতছানিতে সাড়া দেওয়ার আরও একবার সুযোগ পাবেন। হাতছাড়া করবেন কি?
উত্তর আপনার নিজের কাছে।
_____

গোলটেবিল:: নিজেই করো গোয়েন্দা গিরিঃ স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় :: আলোচনাঃ ঋজু পাল

বইঃ নিজেই করো গোয়েন্দা গিরি
সম্পাদকঃ স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়
প্রকাশনাঃ উজ্জ্বল সাহিত্য মন্দির, কলকাতা
আলোচনাঃ ঋজু পাল

এক বৃদ্ধ প্রকৃতিবিজ্ঞানীর অস্বাভাবিক মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা কলকাতার প্রশাসনকে। মাথার চুল ছিঁড়তে বাকি রেখেছিলেন গোয়েন্দারা, কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি

এরকম খবর আমরা প্রায়ই খবরের কাগজে পড়ে থাকি। উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া অপরাধ সমাজে এনে দিয়েছে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ। উপযুক্ত প্রমাণের অভাবে বহু কেস আদালতে বন্ধও হয়ে যায় ... তার সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। আমরা যারা ছোট থেকে বইকে বন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছি, তাদের চিন্তাভাবনা বা বলা ভালো সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যে অন্য পাঁচজনের চেয়ে বেশি, একথা সবাই জানে তাই অনেক সময় চায়ের কাপে তুফান তোলা বাঙালির গণ্ডি থেকে বেরিয়ে কিছু ঘটনা আমাদের ভাবায়। আমি নিজে হলে কি করতাম ওই পরিস্থিতিতে... এই প্রশ্নটা জীবনের পথে এগিয়ে চলতে গেলে যেমন বিশেষ ভাবে প্রয়োজন... ঠিক তেমনই প্রয়োজন গোয়েন্দাগিরি করতে!!!

কি? অবাক হচ্ছ? এতদিন তো ব্যোমকেশ, ফেলুদা, হোমস অনেক পড়লে, তা গ্রে ম্যাটার-টা কতটা জবরদস্ত হল সেটার পরীক্ষা নেবে না নিজে? ইচ্ছে তো সবারই করে চোখের পলকে আপাতদৃষ্টিতে লুকিয়ে থাকা সূত্রগুলো জোড়া লাগাতে... তাই না?

ধরো তোমার সামনে কতকগুলো ঘটনা স্ক্রিপ্ট আকারে দিয়ে দেওয়া হল, তুমি হলে গোয়েন্দা X, ফেলুদার তোপসের মত তোমার সহযোগী Y, আর আছেন তোমাদের সাহায্য করার জন্য ইনস্পেক্টর Z
যেমন ধরো, এক বিখ্যাত গয়নার দোকান। দিনের বেলায় একটা বহুমূল্য হীরের আংটি পাচার হচ্ছিল, ঘটনাপ্রবাহে তুমিও সেই সময় সেই দোকানে। তোমার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি কী দেখতে পাবে সেটা?
বা, ধরো এক সুচতুর মূর্তি চোর, হাজার লোকের ভিড়ে মন্দির থেকে আসল প্রাচীন মূর্তি নিয়ে চম্পট দিচ্ছিল। পারবে তাকে কব্জা করতে? ভিড়ের মধ্যে তাকে চিনতে?
এক ভদ্রমহিলা এলেন তোমার কাছে, উদ্বিগ্ন হয়ে... প্রবাসে থাকা ছেলের সাথে ফোনে কথা বলতে গিয়ে তিনি শুনতে পান গুলির শব্দ, দরজা ভাঙ্গার আওয়াজ। সত্যিই কি ভদ্রমহিলার ছেলে কোন বিপদে পড়েছে? নাকি অন্য কিছু... !
রাজাবাজারে দুটি খুন হয়েছেতদন্তে খুনি ধরাও পড়ল! কিন্তু সে যে খুন হওয়ার পনেরো দিন আগেই মারা গেছেএ কী করে সম্ভব? তুমিও কি এটাই বলবে বাকিদের মত যে মৃত মানুষ খুন করেছে... না আসল রহস্য সমাধান করবে?

এমনই সব মাথা খাটানো বাস্তবসম্মত কুড়িটি ঘটনা এই বইতে দেওয়া আছে। প্রতিটি ঘটনার শেষে আছে একটি প্রশ্ন, যা তোমাকে মাথা খাটিয়ে সমাধান করতে হবে গোয়েন্দা X হয়েসাথে পাবে বিচক্ষণ গোয়েন্দা হতে গেলে কিভাবে চোখ কান খোলা রাখতে হয়, তার কিছু নির্ভেজাল টিপস ভুলেও সেগুলো অন্য কাউকে বলবে না, নয়তো সবাইকে তাক লাগাবে কী করে?

বইয়ের শেষে আছে সমাধানও। তবে কিনা বন্ধুরা যদি সত্যিই গোয়েন্দা হতে চাও, ভুলেও আগেভাগে উত্তর দেখো না, নিজে সমাধান করার চেষ্টা করো। তবেই না ফেলুদা, ব্যোমকেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখতে, সেটা বাস্তবে রূপ পাবে

ঠিক বললাম তো? তাই আর দেরি নয়, চটপট বইটা পড়ে নিজেকে সবার সামনে গোয়েন্দা হিসাবে তুলে ধরোAll The Best.
______

গোলটেবিল:: ভূত নিয়ে অদ্ভুত:: আলোচনাঃ ঋজু পাল


বইঃ সঙ্কলনঃ ভূত নিয়ে অদ্ভুত
সম্পাদনাঃ অজয় দাগুপ্ত
প্রকাশনীঃ অন্নপূর্ণা প্রকাশনী (কলেজ স্ট্রিট, কলকাতা)
আলোচনাঃ ঋজু পাল

বর্ষণমুখর সন্ধ্যেবেলা অফিস থেকে ফিরে চা তেলেভাজার সাথে যে জিনিসটা সবথেকে বেশি জমে তা হল ঘরোয়া আড্ডা, কখন বন্ধুদের সাথে তো কখন বাড়ির লোকজনদের সাথে। মেদিনীপুরের ছেলে আমি, তাই আড্ডা আর মুড়িমাখা, এই দুটো জিনিস ওতপ্রোত ভাবে জড়িত বর্তমান শহুরে জীবনযাত্রার সাথে। আর সেই আড্ডার সময়ে দুম করে লোডশেডিং হয়ে গেলে ... আহা, সোনায় সোহাগা। মোমবাতি বা হ্যারিকেনে কম্পমান আলো আজ দেখা যায়ই বা কোথায়? ফলত মধ্যবিত্ত বাঙালির চিরাচরিত ভূতের গল্প বা গুল্প যাই বলি না কেন, পরিবেশের অভাবে খেই হারিয়ে ফেলে। যেহেতু বই পড়তে ভালোবাসি, তাই খুব ছোটবেলা থেকেই শুকতারার ভৌতিক সংখ্যাগুলো পড়ে শিহরিত হতাম, প্রচুর গল্প সঙ্কলনও কিনতাম স্থানীয় বইমেলা থেকে। এখনকার প্রজন্মর মতো কনজুরিং জাতীয় বিদেশী ভূতের সিনেমা দেখে অন্তত ভয় পাওয়া জিনিসটা শিখতে হয়নি।

আজ যে বইটির সাথে সবার পরিচয় করাবো, এটি ছোটবেলায় পাওয়া জন্মদিনের উপহার, ঠাকুমা দিয়েছিলেন, আজ উনি নেই, শুধু বইটা সাক্ষী হয়ে রয়েছে অনেক ভয়ে ঘুম না আসা রাতের। খ্যাতনামা লেখক, লেখিকাদের কলমের গুণে গল্প সঙ্কলনটিতে স্থান পেয়েছে মোট ২৮টি ছোট গল্প।

ভূতের মুখেই ভূতের গল্প শুনেছেন কখন? তাও আবার কাছের মানুষ যদি তিনি হন? পড়ে দেখুন শিবরাম চক্রবর্তীর লেখা না ভূতের গল্প নয়, খানিকটা লেখকের চিরপরিচিত হাস্যরসের মাধ্যমে। ধরুন রাতের ট্রেন লেট করল, স্টেশন থেকে অন্ধকার ফাঁকা রাস্তা দিয়ে ফিরছেন, কাঁধে ব্যাগ, আর পেছন থেকে সেই ব্যাগ ধরেই কেউ টান মারে? না না, অজ্ঞান হওয়ার আগে পড়ে ফেলুন আশাপূর্ণা দেবীর শনিবার রাত দুপুরে। আমাজন উপত্যকায় একটা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে প্রতি বুধবার একজন করে মানুষ উধাও হয়ে যাচ্ছেন! কোন অপদেবতার কারসাজি নাকি অন্য কিছু? পড়ে ফেলুন নলিনী দাশ-এর লেখা কাটুকিরা রহস্য। আমার অনেকদিন ধরেই চোখের সমস্যা, চশমা নিতে হয়েছে, আপনারও হয়েছে? শিগগিরি ভালো ডাক্তার দেখান, তবে সাবধান, ভুলেও কোন গলির মোড়ের চীনা দোকান থেকে চশমা বানাবেন না, বলা তো যায় না কী থেকে কী হয়! যেমনটা সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ-এর ভুতুড়ে চশমা’-তে দেখা যায়। জঙ্গলঘেরা রাস্তা দিয়ে নেমন্তন্ন বাড়ি যাচ্ছেন, ফিরতে দেরি হয়ে গেল, রাস্তা হারিয়ে ফেলার ভয় গ্রাস করলো! কী হবে তখন? পড়ুন অজয় দাগুপ্ত-র লেখা অলৌকিক মানুষ। বিমল করের তিন শূন্যের বাস, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ে পানিমুড়ার কবলে, বুদ্ধদেব গুহর মউলির সেই রাত’ এই চিরন্তন টানটান উত্তেজনা মাখা গল্পগুলো ভয় পেতে বাধ্য করাবেই, একথা বলাই বাহুল্য।

এরকমই নানা স্বাদের, নানা আঙ্গিকের ভূতের গল্প ধরা পড়েছে আবুল বাশার, আনন্দ বাগচি, জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী, অরবিন্দ গুহ, শিশির মজুমদার প্রমুখ বহুল পরিচিত লেখকদের লেখায়। একই সঙ্গে অমিতাভ বসু, অরুন আইন, সুব্রত সাহা, ইন্দ্রাণী গুহরায় এনাদের লেখাতেও ধরা পড়েছে সেই একই মুনশিয়ানা।

বইটির প্রচ্ছদ-এর তারিফ না করে পারছি নাসম্পাদকের নিখুঁত হাতে এতোগুলো রোমহর্ষক গল্প একত্রিত হয়েছে, এটা কিশোর পাঠকদের কাছে এক বড় পাওনা, আর কিশোরই বা বলি কেন, যৌবনে পা দিয়েও দিব্যি উপভোগ করি ছেলেবেলার স্মৃতিবিজড়িত এই রকম বইগুলো।

বন্ধুদের অনুরোধ করব অবশ্যই পড়ে দেখো, নিরাশ হবে না।

এই একবিংশ শতাব্দীর হাইটেক যুগে একটু সময় না হয় বারই করলে ভূতদের জন্য ......।।
_______

গোলটেবিল:: সুন্দরবনেঃ তাপস গঙ্গোপাধ্যায়:: আলোচনাঃ ঋজু পাল


বইঃ সুন্দরবনে
লেখকঃ তাপস গঙ্গোপাধ্যায়
আলোচনাঃ ঋজু পাল

কর্মব্যস্ত জীবনের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা সবসময় করে থাকি, অফিস থেকে বাড়ি আর বাড়ি থেকে অফিস, জীবনটা কলেজের পর এই ছকেই আটকে পড়েছে, বেরনোর আর উপায় দেখি না। মাঝেমধ্যে বড্ড ক্লান্ত লাগে, ফিরে যেতে ইচ্ছে করে সেই ছোটবেলায়, যখন পড়ার ফাঁকে গল্পের বই নিয়ে বসে থাকতে থাকতে হারিয়ে যেতাম কল্পনার রাজ্যে, গড়ে নিতাম নিজের মত করে সাজানো নন্দনকানন। দিনগুলো কোথায় যে হারিয়ে গেলো ...

গত সপ্তাহে দেশের বাড়ি গেছিলাম, ঠাকুমার ঘরের আলমারি থেকে এই বইটা পেলাম। ঠাকুমা না থাকলেও রয়ে গেছে তাঁর স্মৃতিগুলো। আমার জন্মের আগেকার বই, হলুদ পাতার ভাঁজে ভাঁজে নিমপাতা রাখা, একটা মন কেমন করা গন্ধ পেলাম খেয়েদেয়ে দুপুর বেলা ঠাকুমার পালঙ্কতে শুয়ে বইটা পড়তে শুরু করলাম।

গল্পের নায়ক নিতাই এর সাথে নিজের মিল প্রথমে কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলাম না, কোথায় আমি প্রত্যেক ক্লাসে ফার্স্ট হয়ে সবার মুখ উজ্জ্বল করতাম, আর কোথায় নিতাই, বারবার ফেল করা, বাড়িতে সবার চক্ষুশূল, ক্লাসে স্যারদের হাতে মার খাওয়া, ক্লাস বাঙ্ক করে সিনেমা দেখতে যাওয়া...... নাহ, এক্কেবারে আমার বিপরীত। মনে পড়ে গেল ছাত্রজীবনে আমার বন্ধুর সংখ্যা ছিল হাতে গোনা, সবার সাথে মিশতাম না, আর নিতাই এর মত ছেলের সাথে??? কদাপি নয়।

এত বৈপরীত্য থাকা সত্ত্বেও কী করে নিতাই আর ঋজু এক হয়ে গেল? আদৌ সেটা সম্ভব? যদি বইটি না পড়তাম তাহলে বলতাম সম্ভব নয়, এখন বলছি সব সম্ভব, সব... পুরুষ মানুষের চোখ ছলছল করাও

নিতাই-এর জীবনে সুযোগ আসে সুন্দরবন ভ্রমণের, গরমের ছুটিতে সে যায় তার ফরেস্ট রেঞ্জার মামার কাছে ঘুরতেআর সেখানেই ঘটে তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। কী ঘটে সেখানে বলব না, বলতে ইচ্ছেও করছে না একান্তই ব্যক্তিগত অনুভূতিগুলো ব্যক্ত করতে
শুধু এটুকুই বলতে পারি, আমরা সফলতার দরজার খুব কাছে থেকেও অনেক সময় হাল ছেড়ে দি, হারিয়ে ফেলি আত্মবিশ্বাস, আর এখানেই করে ফেলি সবচেয়ে বড় ভুল

লেখকের নিপুণ দক্ষতায় সুন্দরবনের পরিচয়ের সাথে সাথে উঠে এসেছে এই চরম সত্যখানি। শিক্ষণীয় বিষয়গুলি যেন ছাপিয়ে গেছে সমস্ত চরিত্র, নদী, প্রকৃতি, বন্যপশু এমনকি সর্বোপরি সুন্দরবনের চেয়েও

আর ঠিক শেষ পাতাতেই আমি খুঁজে পাই, নিজেকে, নিজের চোখ দিয়ে দেখতে পারি নিতাই-এর ভবিষ্যৎ-কে, আর .........
পুরুষমানুষের চোখ দিয়ে জল পড়তে থাকে।।

বইয়ের নামঃ সুন্দরবনে
লেখকঃ তাপস গঙ্গোপাধ্যায়
প্রকাশনাঃ দেব সাহিত্য কুটীর
মুল্যঃ ৮ টাকা (১৯৮০ সালের বইয়ের হিসেবে)
__________