বিজ্ঞান:: অধরা নীলাকাশ - সৌম্যকান্তি জানা


অধরা নীলাকাশ
সৌম্যকান্তি জানা

“খোকা ঘুমাল পাড়া জুড়াল বর্গী এল দেশে
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কীসে”

এ ছড়া মায়ের মুখ থেকে শুনে ঘুমোয়নি এমন বাঙালি সন্তান আছে কিনা সন্দেহ। বুলবুলি পাখির নামটা সেই ছোটো থেকেই সব বাঙালির মনে গেঁথে গিয়েছে। আমিও তার ব্যতিক্রম নই। বুলবুলি কীভাবে চিনলাম তা আর আজ মনে নেই। নিশ্চয়ই বাবা, মা কিংবা ঠাকুমার কাছ থেকে খুব শৈশবে বুলবুলি পাখিকে চিনেছি। রোগাটে গড়নের ৭/৮ ইঞ্চি লম্বা পাখিটার মাথা আর গলা কুচকুচে কালো। পিঠ আর ডানার রঙ কালচে-বাদামি। লেজ বাদামি হলেও ক্রমশঃ গাঢ় বাদামি হয়ে গিয়ে শেষ প্রান্ত সাদা। ডানায় আর বুকের প্রত্যেকটা পালকের প্রান্তে সাদা দাগ থাকায় যেন আঁশ বলে মনে হয়। ডানা দুটো মেললে দেখা যায় পিঠের শেষ ও লেজের শুরুর কাছে ইংরেজি “V”আকৃতির সাদা দাগ। পেট ও লেজের তলার রঙ ফিকে সাদা। এদের ঠোঁট দূর থেকে কালো বলে মনে হলেও কাছ থেকে ভালোভাবে দেখলে বোঝা যাবে রঙ নীল। তবে বুলবুলির সৌন্দর্য তার শরীরের দুটো জায়গায় – মাথায় আর লেজ ও পেটের সংযোগস্থলে। স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে এদের কালো মাথার ওপর একটা সুন্দর ঝুঁটি আছে। আর লেজের নিচে পেটের সাথে সংযোগস্থলটা অর্থাৎ অবসারণির চারপাশটা টুকটুকে লাল। এজন্যই এদের ইংরেজিতে বলে Red vented bulbul

ছোটোবেলা থেকেই দেখে আসছি, খুব ছটফটে পাখি এই বুলবুল। আর ভয়ডরও খুব কম। আমাদের গ্রামের বাড়িতে পুকুরঘাটের পাশে আম ও নিম গাছে প্রায়শই তীক্ষ্ণ ‘টিউ-টু- টুল’ ডাক শুনে জানালা দিয়ে দৃষ্টি গলিয়ে দেখেছি একজোড়া বুলবুলি এ-ডালে ও-ডালে লাফাচ্ছে। বাড়ির সামনে আমাদের একটা ফুলের বাগান ছিল। সেখানে জবা, টগর, শিউলি, কল্কে ফুলের গাছের ডালে লাফিয়ে লাফিয়ে মনে হয় ফুলের মধু বা পোকা খেত।

সেই সময় বাড়িতে প্রায়ই রবীন্দ্রসঙ্গীত ও নজরুলগীতির চর্চা হত। ওই দৃশ্য দেখে আমি নজরুলের গান মনে মনে গুনগুনিয়ে উঠতাম – ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে দিসনে আজি দোল’ মাঝে মাঝে একটা বুলবুলি আমাদের দোতলায় আমার পড়ার ঘরের জানালার শিকে বসে ভেতরে উঁকি দিয়ে যেত। তখন মনে মনে বলতাম, “পড়ায় ফাঁকি দিচ্ছি কিনা খবরদারি করতে এসেছিস?” তবে মনে হয় বাড়ির ভেতর বাসা বানানোর উপযুক্ত জায়গা আছে কিনা তা দেখতেই আসত। আমি বেশ বুঝতাম বুলবুলি জোড়ার একটা পুরুষ ও একটা স্ত্রী। কিন্তু কোনটা পুরুষ আর কোনটা স্ত্রী তা দেখে চিনতে পারতাম না। দুটোকেই একই রকম দেখতে।

আমার মনে হয়, চেনা-জানা পাখিদের মধ্যে বুলবুলি খুব সাহসী। কিংবা হয়তো ওরা মানুষের সঙ্গ পছন্দ করে। অনেকবার দেখেছি, মা যখন দড়িতে জামাকাপড় মেলত তখন দড়ির একধারে দিব্যি বসে থাকত। আর আমি ঘরে যখন বসে থাকতাম দিব্যি জানালায় এসে বসে থাকত। শুনেছি, বুলবুলি নাকি পোষ মানে। আগেকার দিনে নাকি খাঁচায় বন্দি করে বুলবুলি পোষা ছিল অভিজাত সম্প্রদায়ের শখ। কলকাতার বাবু সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘুড়ি ওড়ানো আর বুলবুলির লড়াই ছিল দুই জনপ্রিয় বাবুয়ানি। দক্ষিণ ভারতে বুলবুলির লড়াই প্রাচীনকাল থেকে একটা সাংস্কৃতিক প্রথা। একসময় হায়দরাবাদ ও লখনৌতে ধনী সম্প্রদায়ের মধ্যে মোটা অঙ্কের বাজি ধরা হত বুলবুলির লড়াইতে। প্রচুর লোকসমাগম হত এই লড়াই দেখতে। এখনও কোথাও কোথাও বাজি ধরে বুলবুলির লড়াই হয়। তবে তা শখে নয়, রোজগারের জন্য। ইরাক, ইরান ও আফগানিস্তানে নাকি এখনও বুলবুলির লড়াই চালু আছে। শুনেছি একটা স্ত্রী বুলবুলির দখল নিতে দুটো পুরুষ বুলবুলি লড়াই করে। তাই লড়াই ওদের রক্তে। আবার পুরুষ বুলবুলি স্ত্রী বুলবুলির মন জয় করতে তার সামনে দু’ডানা তুলে ধরে লেজটাকে খাড়া করে ধরে। মোগল সম্রাটদেরও নাকি বুলবুলি পোষার ও বুলবুলির লড়াইয়ের শখ ছিল। যখন লড়াই হয়, একটা বুলবুলি চেষ্টা করে অন্যটার অবসারণীর কাছের লাল রঙের পালক ছিঁড়ে নিতে। যে বুলবুলিটা পারে সেই হয় জয়ী।

যাই হোক, বুলবুলিদের দেখেছি ভারি চঞ্চল পাখি। এক জায়গায় বেশিক্ষণ স্থির হয়ে বসতে পারে না। গাছে গাছে ঘুরে পোকামাকড় আর ফুলের মধু খেতেই বেশি পছন্দ। শীতকালে আমাদের খেজুর গাছে রস দেওয়া হত। সকালে গাছ থেকে রসের ভাঁড় নামিয়ে নেওয়ার পর নলি দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা রস নীচে গড়িয়ে পড়ত। আর বুলবুলিদের দেখতাম ওরা নলির উপরে বা পাশে বসে রস খাচ্ছে। মাঝে মাঝে দেখেছি কচুরিপানা ভর্তি ডোবার উপর বসে পোকা ধরে খেতে। বেশ মজা লাগত তখন। কচুরিপানার পাতার উপর যতই বসার চেষ্টা করত পাতা নুয়ে পড়ত। একটা বুলবুলির ভার বহনের ক্ষমতা কচুরিপানার পাতার নেই। ফলে বসার উপক্রম করেই বেচারাকে ফের উড়ে যেতে হত। চৈত্র-বৈশাখ মাসে মাঝে মাঝে ঝড়-বৃষ্টির পরদিন সন্ধ্যার ঠিক আগে বাদল পোকাদের খুব উড়তে দেখা যায়। এই সময় বুলবুলিদের মনের সুখে বাদল পোকাদের ধরে খেতে দেখেছি। কাপড় শুকানোর দড়িতে বসে থাকতে থাকতে হঠাৎ করে উড়ে গিয়ে পোকা ধরে এনে ফের দড়িতে এসে বসত। তারপর ঠোঁট দিয়ে পোকাটাকে একটু ঝাঁকিয়ে মেরে দিয়ে টপ করে গিলে নিত। তারপর আবার একটা পোকার জন্য ঝাঁপ। তবে কোনও বুলবুলিকে কখনও ধান খেতে দেখিনি। এমনও হতে পারে আমার নজরে পড়েনি। আর ওদের কখনও মাটিতে হেঁটে বেড়াতেও দেখিনি। আসলে ওদের পা খুব ছোটো আর বেশ সরু। ফলে নিশ্চিতভাবেই বুলবুলির পা মাটিতে হাঁটার উপযুক্ত নয়।

বুলবুলি কিন্তু মূলতঃ ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া মহাদেশের পাখি। যদিও পরবর্তীকালে ওদের এখান থেকেই নানা দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে পোষার জন্য। তারপর সেখানে ওরা বংশবিস্তারও করেছে। বুলবুলির বিজ্ঞানসম্মত নামকরণ করেন শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যার জনক ক্যারোলাস লিনিয়াস ১৭৬৬ সালে। তিনি নাম দেন Turdus cafercafer কথার অর্থ ‘উত্তমাশা অন্তরীপ’ যা আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণতম প্রান্ত। লিনিয়াস ভেবেছিলেন তাঁর কাছে বুলবুলির যে নমুনাটি এসেছে তা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সংগৃহীত। আর তাই প্রজাতির নাম দেন cafer আসলে নমুনাটি সরবরাহ করা হয়েছিল পন্ডিচেরি থেকে। যাইহোক, পরবর্তীকালে এই বিজ্ঞানসম্মত নাম একটু সংশোধন করে হয়েছে Pycnonotus caferবুলবুলি নিয়ে আরও একটা মজাদার খবর শুনেছি। এরা ভিটামিন-সি হজম করতে পারে না। মলের সাথে ভিটামিন-সি বেরিয়ে যায়। আর বিজ্ঞানীরা যে পাখির মধ্যে এই বৈশিষ্ট্য প্রথম আবিষ্কার করেন তা কিন্তু এই বুলবুলি।

হ্যাঁ, যে গল্প করছিলাম। আমাদের পুকুর পাড়ের পুরানো আমগাছটায় একটা কোটর ছিল। আমি তখন বোধহয় ক্লাস এইটে পড়ি। একদিন হঠাৎ নজরে এল, দুটো বুলবুলি ঠোঁটে করে ঘাস বয়ে এনে ওই কোটরে ঢুকছে। বুঝতে বাকি রইল না, বাসা বানানোর কাজ চলছে। স্ত্রী-পুরুষ বুলবুলি দুজনে মিলেই বাসা বানাচ্ছে। আমাদের সংসারে প্রায়শই আমরা অলিখিতভাবে মেয়েদের কাজ আর ছেলেদের কাজ পৃথকভাবে নির্ধারণ করে দিই, কিন্তু বুলবুলিদের মধ্যে কোনও কর্ম-বিভাজন নেই। কী সুন্দর সহযোগিতা ও সহমর্মিতা। শুধু কি তাই? ডিম ও বাচ্চা পাহারা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখেছি মা ও বাবা বুলবুলি দুজনেই সমান দায়িত্ব পালন করে। যাই হোক, আমগাছের কোটরটা বেশ বড়ো হওয়ায় ওদের বাসা এবং বাসা বানানোর কৌশল দেখা যাচ্ছিল না। তারপর কিছুদিনের জন্য ওদের কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। ক’দিন পর হঠাৎ একদিন সকালে নজরে এল তিনটে ছোটো পাখি আমগাছের কোটরের পাশে একটা ডালে টিউ-টিউ করে ডাকছে। চড়ুই পাখির মতো সাইজ, আর ছাতারে পাখির মতো ফ্যাকাশে রঙ। এরা আবার কী পাখি? ভাবতে ভাবতেই দেখি ওদের পাশে উড়ে এসে বসল একটা বুলবুলি। বুঝলাম, এগুলো বুলবুলির ছানা-পোনা। বড়োটা বাবা না মা কে জানে? সে ওদের কিছু কি বলল?
পরক্ষণেই চারজন আগে-পরে উড়ে গিয়ে বসল নিচের একটা ডালে। তারপর সদলে উড়ে গিয়ে পাশের নিমগাছে।
বুঝতে পারলাম, ওড়ার প্রশিক্ষণ পর্ব শুরু হয়েছে। আমরা দুই ভাই আর এক বোন। ওরাও তিনজন। তাহলে ওরাও নিশ্চয়ই তেমনই হবে। কী নাম দেওয়া যায়? দু’ভাইয়ের নাম দিলাম বিল্লু আর বিচ্ছু। বোনের নাম দিলাম বিন্তি। বুলবুলির বাচ্চাদের ‘ব’ দিয়েই নামের শুরু হওয়া উচিত!

পঁয়ত্রিশটা বছর কেটে গেছে। গ্রামের ছায়া-সুনিবিড় শান্তির নীড় ছেড়ে এসেছি কংক্রিটের জঙ্গলে। যদিও এই কাকদ্বীপ শহর থেকে সবুজের আভা পুরোপুরি মুছে যায়নি। সময়ের সাথে সাথে মানসপটে বিস্মৃতির ধুলিকণা কবে যে ঢেকে দিয়েছে সেই বিল্লু-বিচ্ছু-বিন্তিকে তা টের পাইনি। বুলবুলি কতদিন বাঁচে আমি জানি না। কিন্তু পঁয়ত্রিশ বছর নিশ্চয়ই নয়। সেই আমগাছের কোটরে যদি আজও কোনও বুলবুলি বাসা বাঁধে তবে তারা হয়তো বিল্লু-বিচ্ছু- বিন্তিদেরই উত্তরাধিকারী হবে।

সেদিন ছিল ২০১৫-র ৮ জুন। আমার নির্মীয়মান বাড়ির দেয়ালে তখন পুট্টি লাগানো ও রঙ করার কাজ পুনরায় শুরু হয়েছে। রঙের শ্রমিকরা তিন দিন ছুটি নিয়েছিল বলে সাময়িক কাজ বন্ধ ছিল। আমি সকাল সকাল চলে এসেছি কাজের তদারকিতে। সোজা দোতলায় উঠে করিডোরের কাছে আসতেই নজরে এল করিডোরের জানালার পাল্লায় একটা ছোট্টো বাসা। জানালায় তখনও কাচ লাগানো হয়নি, কেবল লোহার ফ্রেম লাগানো হয়েছে। খোলা অবস্থায় থাকায় চার পাল্লার জানালার মাঝের দুটো পাল্লার ফ্রেম বাইরের দিকে পাশাপাশি লেগেছিল। সেই সংযোগস্থলেই রয়েছে বাসাখানি। কোন পাখির বাসা? এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখলাম। কোনও পাখিই নজরে এল না। ছ’জন লোক কাজ করছে। তারা মোবাইলে বেশ উচ্চগ্রামে গান চালিয়েছে। কথাবার্তা-হাসাহাসি চলছে নিজেদের মধ্যে। এই অবস্থায় কোনও পাখি কি ধারেকাছে আসতে সাহস পাবে? আমার চোখ মাঝে মাঝেই আশেপাশের বাড়ির কার্নিশ, গাছের ডাল আর ইলেক্ট্রিক ও টিভি কেবলের তারে ঘোরাফেরা করতে থাকল বাসার মালিক ও মালকিনের সন্ধানে। আধঘন্টা খানেক পর দেখি এক জোড়া দোয়েল বসে আমার বাড়ির পাশে শিরীশ গাছে। মনে হল ওরা এদিকেই দেখছে। ওদের বাসা নয়তো? হতেই পারে।
রঙের শ্রমিকদের বলে এলাম, “তোমরা এই বাসায় কেউ হাত লাগাবে না।”
একজন বলল, “ঐ জানালায় রঙের কী হবে?”
আমি বললাম, “ওখানটায় বাকি থাক। পরে দেখা যাবে।”
আরও ঘন্টাখানেক পর ফিরে এলাম বাড়িতে।

বাড়িতে ফিরে এলেও মন কিন্তু পড়ে রইল সেই বাসায়। বাসা দেখে পাখি চেনার মত জ্ঞান আমার নেই। দোয়েল কি সত্যি এভাবে বাড়িতে খোলামেলা জায়গায় বাসা বানায়? দুপুরে ভাত খেয়ে রোদে রোদে আবার গেলাম। আশে পাশে কোনও পাখি নেই। তখনও কোনও শ্রমিক দ্বিপ্রাহরিক বিশ্রামের পর কাজ শুরু করেনি। লুকোলাম দেয়ালের আড়ালে। আজ যতক্ষণ লাগে নজর রাখব বাসার উপর। দু-তিন মিনিটের বেশি অপেক্ষা করতে হল না। দেখি একটা বুলবুলি মুখে কয়েকটা সরু কাঠি নিয়ে বাসার পাশে এসে বসল। আমার কৌতূহলের কিছুটা নিরসন হল। আমার মনে পড়ল পঁয়ত্রিশ বছর আগেকার সেই বিল্লু, বিচ্ছু আর বিন্তির কথা। না, পাখিটাকে ডিস্টার্ব করা ঠিক হবে না। যদি আমাকে দেখে এখানে বাসা বানানো নিরাপদ নয় ভেবে বসে!

নিচে নেমে এলাম। একটু পরে রঙের লোকেরা ঘুম থেকে উঠলে বলে দিলাম কোনওভাবেই যেন ওদের ডিস্টার্ব না করা হয়। আমি নিচে থেকে লক্ষ্য করলাম, পাঁচ-দশ মিনিট পর পর বুলবুলিটা মুখে কাঠি নিয়ে আসছে আর বাসা বানাচ্ছে। আমি বুঝে উঠতে পারলাম না, একটি না দুটি বুলবুলি মিলে এই বাসা বানাচ্ছে। আগেই বলেছি, বুলবুলির স্ত্রী ও পুরুষ একই দেখতে। আমি একসাথে দুটো বুলবুলিকে একবারের জন্যও দেখতে না পাওয়ায় আমার পক্ষে বোঝা সম্ভব হয়ে উঠল না। রঙের লোকেরা কাজ শেষে চলে যাওয়ার পর সন্ধ্যেবেলা আমি আবার খুব সন্তর্পণে নতুন বাড়িতে গেলাম। একটাই উদ্দেশ্য বুলবুলির কান্ডকারখানা দেখা। গেট খুলে পা টিপে টিপে ওপরে উঠে উঁকি দিয়ে দেখি বাসার উপর বুলবুলিটা বসে। ডিম পাড়ছে? হতে পারে। এটা নিশ্চিত স্ত্রী। পুরুষটাকে আশেপাশে দেখতে পেলাম না।

পরের দিন আবার সকালবেলা সাইকেল নিয়ে দৌড়লাম। গিয়ে দেখি স্ত্রী বুলবুলিটা বাসার উপর বসে। মাঝে মাঝে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। আমি দেয়ালের আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে দেখছিলাম। হঠাৎই চোখাচোখি হয়ে গেল! সাথে সাথেই ফুরুৎওকে ডিস্টার্ব করার জন্য নিজের উপর রাগ হচ্ছিল। লোভ সামলাতে পারলাম না। এগিয়ে গেলাম বাসার কাছে। ও মা! কী সুন্দর একটা ডিম! হালকা গোলাপি রঙের উপর মেরুন-খয়েরি ছিট ছিট দাগ। আমার মনটা আনন্দে ভরে গেল।

কিন্তু আনন্দের পর পরই যে ভয়ানক টেনশন আসবে কে জানত! সেদিন রাতেই উঠল কালবৈশাখি ঝড়। আমার মন ব্যাকুল হয়ে উঠল ওই ডিমসহ বাসাটার জন্য। কত কষ্টে, কী মমতায় আর সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর কী উদগ্র বাসনায় পাখিরা বাসা বানায়, ডিম পাড়ে তা আমি সেদিন অনুভব করতে পারছিলাম, কারণ আমিও তো ঘাম-রক্ত ঝরানো অর্থে অসীম মমতায় নির্মাণ করছি নিজগৃহ। আমিও তো এক সন্তানের পিতা! বাড়িতে প্রবেশের আগেই যদি সে ধুলিসাৎ হয়? অঙ্কুরেই যদি বিনষ্ট হয় ভ্রূণ? এ ভাবনাকে মনে প্রশ্রয় দিতে সাহসে কুলোয় না, শিউরে উঠি।

সকাল হতে না হতেই ছুটলাম। গেটের তালা খুলে দৌড়ে উঠে এলাম দোতলায়। দেখি আমার যাবতীয় আশঙ্কা মিথ্যে প্রমাণ করে দিব্যি রয়েছে বাসাখানি। আর তাতে আরও একটা ডিম। আহ! উৎকন্ঠার শেষ। মনে মনে সেলাম জানালাম বুলবুলিটাকে। সামান্য দেখতে বাসাটা কী অসামান্য কৌশলে বানিয়েছে যে এত তীব্র ঝড়েও কোনও ক্ষতি হল না! আর সেই ঝড়ের রাতেই দ্বিতীয় ডিমটা পাড়ল মা বুলবুলিটা। আমি মা বুলবুলিটাকে দেখতে পেলাম না। হয়তো কোনও কাজে বেরিয়েছে। চিরকাল শুনেছি, দেখেওছি বুলবুলিরা জোড়ায় থাকে। কিন্তু অদ্ভুতভাবে এখানে দুটো বুলবুলিকে একসাথে দেখতে পেলাম না। স্বল্প সময়ের মধ্যে বাসাটাকে খুঁটিয়ে দেখলাম।

তেমন কোনও বিশেষত্ব নেই। শুকনো ঘাস আর কাঠি দিয়েই বানানো। মাকড়সার জাল দিয়ে ঘাস ও কাঠিগুলোকে জুড়ে তৈরি করেছে একটা ছোটো বাটির মতো বাসা। বাসাটা যে জানালার সাথে জুড়ে আছে তেমনও নয়। আসলে বুদ্ধি ব্যবহার করেছে বুলবুলিটা। জানালার দুটো পাল্লার চারটে শিকের মাঝে বাসাটাকে তৈরি করায় যে কোনও দিক থেকে ঝড় হলে তা সহজে উড়ে যাবার নয়। তারিফ করতেই হয় বুদ্ধির!

১২ জুন। যথারীতি সূর্যের আলো দেখা যেতেই সাইকেলে চেপে দে ছুট নতুন বাড়িতে। গিয়ে দেখি বাসার উপর মা পাখিটা বসে। ডিস্টার্ব না করে নিচে নেমে এলাম। তারপর রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থেকে লক্ষ্য রাখলাম কখন সে বাসা ছেড়ে বেরোয়। নাহ! বেরোনোর কোনও লক্ষণ নেই। ইতোমধ্যে রঙের শ্রমিকরা এসে পড়েছে। তাদের হৈ-হল্লায় দেখি বুলবুলিটা উড়ে গিয়ে পাশের শিরীষ গাছে বসল। আর আমিও সটান দেখতে গেলাম বাসার অবস্থা। দেখি আরও একটা ডিম। কী সুন্দর তার রূপ। ঝটপট মোবাইলের ক্যামেরায় ডিমগুলোর ছবি তুলে রাখলাম। তারপর শ্রমিকদের আর একবার সতর্ক করে ফিরে এলাম নিজের ভাড়ার আস্তানায়।

পরের দিন আমার যেতে একটু দেরি হল। গিয়ে দেখি রঙের শ্রমিকরা কাজে লেগে গেছে। আমার এ ক’দিনের প্রথম কাজই ছিল বাসাটাকে দেখা। সেদিন দোতলায় উঠেই দেখি বাসাটা ড্রয়িং রুমের জানালায় পাথরের প্লেটের উপর রাখা। বাসায় মাত্র একটা ডিম! আর পাখিটাও নেই! এ কী সব্বোনেশে কান্ড? কে এই অপকর্ম করেছে?

দৌড়ে গেলাম শ্রমিকগুলোর কাছে। রাগে ফেটে পড়লাম। একজন বলল, আজ করিডোরে রঙ করতে হবে, তাই বাসাটাকে বাধ্য হয়ে সরাতে হয়েছে। কিন্তু দুটো ডিম কোথায় গেল? নিশ্চয়ই তোমরা চুরি করেছ। ভালোয় ভালোয় ডিম দিয়ে দাও, নইলে কিন্তু ভালো হবে না! আমি রীতিমতো হুমকি দিলাম। রাগে-দুঃখে আমার সর্বাঙ্গ রি-রি করছিল। একজন বলল, “আমরা এসে একটাই ডিম দেখেছি।” বাকিরা তার বক্তব্যকে সমর্থন জানাল।
চোরের সাক্ষী গাঁটকাটা! আমার আদৌ বিশ্বাস হল না। ফের একবার সাবধান করে আমি চলে এলাম। ভীষণ রাগ হচ্ছিল লোকগুলোর উপর।

বিকেলে গিয়ে দেখি বাসাটা যেখানে রাখা ছিল সেখানেই আছে, আর তাতে তিনটে ডিম! যাক! হুমকি আর বকুনিতে কাজ হয়েছে তাহলে! ডিম ফিরিয়ে দিয়েছে, এতেই আমি খুশি। তাই কে নিয়েছিল সে তদন্তে আর গেলাম না। কিন্তু মানুষ বাসায় ও ডিমে হাত দিয়েছে। তার উপর বাসার স্থান পরিবর্তন করা হয়েছে! ডিম ফিরলেও মা বুলবুলিটা কি ফিরবে? দুশ্চিন্তাটা ক্রমশঃ মনের মধ্যে চেপে বসতে লাগল।

আমার সমস্ত দুশ্চিন্তা যে অমূলক তা প্রমাণিত হল পরের দিন সকালে। দেখি দিব্যি ডিমের ওপর বসে তা দিচ্ছে মা বুলবুলিটা। আমি ঘরে ঢুকতেই সে উড়ে পালাল। পালাক। আমি তখন নিশ্চিত যে বুলবুলিটা আর ডিম বা বাসা ছেড়ে যাবে না। ঝড় হলে যদি বাসাটা উড়ে পড়ে যায় তো ডিমগুলো সব নষ্ট হয়ে যাবে। কী করা যায়! ভেবে ভেবে একটা উপায় বের করলাম। একটা সুতো জোগাড় করে বাসাটাকে জানালার ফ্রেমের সাথে বাঁধলাম।

এক এক করে দিন পেরিয়ে চলেছে। বুলবুলিটা ইতিমধ্যে বেশ সাহসী হয়ে উঠেছে। নাগাড়ে তা দিয়ে চলেছে ডিমে। তিন-চার হাত দূরে দাঁড়ালেও সে আর আমাকে ভয় পায় না। ঘাড় বাঁকিয়ে শুধু দেখে। মনে মনে আমাকে ধন্যবাদ দেয় কিনা জানি না, তবে তার ডিম উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ আমার প্রাপ্য!

রঙের শ্রমিকরাও ওকে আর কিছু বলে নাতাই পাশ দিয়ে তারা চলে গেলেও ভ্রূক্ষেপ করে না। আমি প্রতিদিন সকাল-বিকেল দু’বেলা দেখে আসি। জানতাম, বুলবুলির ডিম ফুটে বাচ্চা বেরোতে ১৩/১৪ দিন লাগে। আর তাই অধীর আগ্রহে বুলবুলি ছানাদের দেখার জন্য কাউন্ট ডাউন শুরু করে দিলাম।

সেদিন ২২ জুন। রুটিনমাফিক সকালে পৌঁছে গেলাম নতুন বাড়িতে। বাসায় মা বুলবুলিটা নেই। এগিয়ে গিয়ে বাসার দিকে তাকাতেই আমার চোখ ছানাবড়া! সেই বিল্লু, বিচ্ছু আর বিন্তি! তিন তিনটে বাচ্চা জড়াজড়ি করে ঘুমোচ্ছে! এ কী করে সম্ভব? তিনটে ডিম পর পর তিন দিনে পেড়েছে। বিজ্ঞানের নিয়ম বলে পর পর তিন দিন তিনটে বাচ্চার জন্ম হওয়া উচিত। কিন্তু তা তো হল না! আবার ১৩/১৪ দিন পরেও নয়, প্রথম ডিম পাড়ার ১২ দিন পর, আর শেষ ডিম পাড়ার ১০ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চারা বেরিয়েছে। ব্যতিক্রম? না কি পরিবেশের কোনও প্রভাব?

আমি বাসার কাছে এগোতেই বাচ্চাদের ঘুম যেন ভেঙে গেল। তিনটে বাচ্চা উপরের দিকে মুখ করে ডানা কাঁপাতে লাগল। আমার উপস্থিতিতে ওরা বিভ্রান্ত হয়েছে। ওরা ভেবেছে ওদের মা এসেছে খাবার নিয়ে। হায় রে! আমার কাছে তো কোনও খাবার নেই। আর থাকলেও কি আর তোরা খাবি? খুব মায়া হচ্ছিল চর্মসার তিনটে বাচ্চার জন্য। আর ওদের কাছে থাকা উচিত নয় ভেবে সরে এলাম দেয়ালের আড়ালে। কয়েক মিনিট পরেই উড়ে এলো মা। মুখে কিছু খাবার। তিনটে বাচ্চা হাঁ করে খাবার চাইল। ঠিক বুঝতে পারলাম না, মনে হল একটা বাচ্চাকেই খাওয়াল। পরক্ষণেই উড়ে গেল। ফিরে এল মিনিট দুই-তিন পর।
আবার তিনটে বাচ্চা হাঁ করল। কিন্তু মনে হয় অন্য একটাকে খাওয়াল। এভাবে চলতে লাগল। বেশ কিছুক্ষণ পর আমি সরে গেলাম আড়াল থেকে। কী পরম মমতায় মা বুলবুলিটা খাইয়ে দিল তার বাচ্চাদের, ঠিক যেমন আমাদের মা-ও আমাদের ছেলেবেলায় খাইয়ে দেয়। আকারে-আচারে প্রজাতিরা আলাদা হলে কী হবে, সন্তানের প্রতি স্নেহের ক্ষেত্রে সব মা-ই তুলনাহীন।

চার দিন দেখতে দেখতে কেটে গেল। মাঝে মাঝে লুকিয়ে-চুরিয়ে বাচ্চাগুলোকে দেখে আসছি। মোবাইলে ছবিও তুলছি তার মায়ের নজর এড়িয়ে। বাচ্চাদের গায়ে কালো পালকের রেখা দেখা দিচ্ছে। ডানার পালকগুলো একটু বেশি কালো আর বড়ো। ওরা বেশিরভাগ সময় জড়াজড়ি করে ঘুমোয়। আর মা এলেই জেগে উঠে হাঁ করে ডানা কাঁপায় খাবার খাওয়ার জন্য। এভাবেই চলছিল বেশ। ২৬ জুন সকালে যথারীতি দিয়ে দেখি বাসার উপর মা বুলবুলিটা বসে। বাচ্চার উপর মা বসে - এমন সিচুয়েশন গত চারদিনে একবারও পাইনি। তাই দেয়ালের আড়াল থেকে কয়েকটা ছবি তুললাম। তারপর অপেক্ষা করতে থাকলাম, কখন মা-টা খাবারের জন্য উড়ে যায়। বাচ্চাদের প্রতিদিন দেখতে না পেলে মনটা ভীষণ খুঁতখুঁত করবে সারাদিন। মিনিট পনেরো পর মা বুলবুলিটা উড়ে গেল। সাথে সাথে আমি এগিয়ে গেলাম বাসার কাছে। এ কী! বাসায় মাত্র একটা বাচ্চা?
গতদিন বিকেল পাঁচটার সময় দেখে গিয়েছি তিনটে বাচ্চাই ঠিক আছে। মাঝে একটা রাত। তার মধ্যেই দুটো বাচ্চা গায়েব! ইতোমধ্যে রঙের কাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় বাইরের লোকের আনাগোনাও ছিল না। তাহলে? আশেপাশে প্রচুর কাক দেখেছি। ওরা খেয়ে নেয়নি তো? নাকি প্যাঁচা কিংবা বাজ? সাপও হতে পারে।
কয়েকদিন আগে বাড়ির পেছনে একটা বিরাট দাঁড়াশ সাপ দেখেছিলাম। দাঁড়াশ সাপ পাখির ডিম ও বাচ্চা খেতে খুব পছন্দ করে। এদেরই কারোর কাজ। দুঃখে আমার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। ওদের মায়ের তাহলে কতখানি কষ্ট হচ্ছে! কত যত্নে, কত আশায় ওদের বড় করে তুলছিল মা বুলবুলিটা। পাখিদের চোখে অশ্রুগ্রন্থি নেই, তাই সন্তানহারা পাখি-মায়ের অশ্রু দেখা যায় না। কিন্তু কষ্টও কি হয় না? খাদ্য-খাদকের নিরন্তর সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই ওরা পরিবেশে বাঁচে। কিংবা মরে। এটাই প্রকৃতির নিয়ম। এ নিয়মের কোনও নড়চড় হয় না। প্রকৃতির এই নিয়মের কাছে মানুষ যে কতখানি অসহায় তা আমি উপলব্ধি করলাম।

খুব টেনশনে কাটল রাতটা। হারাধনের সাতটি ছেলের মধ্যে শেষে একটাও থাকেনি, বুলবুলিটার তিন সন্তানের একটাও থাকবে তো? ভোর হতেই ছুটলাম। দেখি মা-টা বসে আছে বাসার উপর। আশ্বস্ত হলাম, ছানা আছেই। নইলে মা থাকত না। তবুও চোখের দেখা দেখতেই হবে। অপেক্ষায় রইলাম। প্রায় মিনিট কুড়ি পর মা-টা উড়ে যেতেই ছানাটাকে দেখে নয়ন সার্থক করলাম। আজ যেন তাকে একটু বেশি বড়ো লাগছে! তিনজনের খাবার একা খেয়েছে বলে কি? নাকি আমার মনের ভুল? চটপট মোবাইলে বাচ্চাটার ছবি তুলে বাড়ি ফিরে এলাম।
তারপর স্কুল থেকে ফিরে ফের সন্ধ্যা হবার আগে গিয়ে দেখে এলাম। যাক, এখনও বিপদ আসেনি। কিন্তু রাতের আঁধার নামতেই আবার দুশ্চিন্তার মেঘে ঢেকে গেল আমার সমস্ত ভাবনা।

পরদিন, ২৮ জুন। পুবাকাশ রাঙা হতেই হাত-মুখ না ধুয়ে বেরিয়ে পড়লাম সাইকেল নিয়ে। রাতে বৃষ্টি হয়েছিল। পথ-ঘাট তাই তখনও ভেজা। সেদিনের সূর্যটা কি একটু ফিকে লাল? একটু মেঘে ঢাকা? কালো বাদল মেঘ উড়ে চলেছে দক্ষিণ থেকে উত্তরে মাথার উপর দিয়ে। দুশ্চিন্তার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছিল আমার মনেও। গিয়ে কী দেখব? গতদিনের দৃশ্য? নাকি শূন্য বাসা? ভাবতে ভাবতেই নতুন বাড়ির গেটে। তালা খুলে তরতর করে উঠে গেলাম দোতলায়! সর্বনাশ! সত্যিই শূন্য বাসা! একদলা কান্না আমার গলার কাছে যেন আটকে গেল।

আমার পা দুটো যেন আটকে গেল ঘরের মেঝেয়। স্বপ্ন দেখেছিলাম বিল্লু, বিচ্ছু আর বিন্তি - তিন বুলবুলির বাচ্চাকে আমার নতুন বাড়ি থেকে নীলাকাশ দেখানোর। স্বপ্ন দেখেছিলাম নীলাকাশে ওড়ানোর। পারলাম না।

নিজেকে এতটা অসহায় কখনও লাগেনি। খাদ্য-খাদকের অসম লড়াইয়ে এ যাত্রা খাদকই হল জয়ী। মা বুলবুলিটা নিশ্চয়ই অন্য কোনও স্থানে নতুন কোনও বাসা গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন করে সন্তান প্রতিপালনের। ওদের তো হতাশ হয়ে ভেঙে পড়লে চলে না। মনুষ্যেতর প্রাণীদের জীবনে হতাশার স্থান নেই।

একটা ব্যর্থতায় ওদের স্বপ্ন ভেঙে পড়ে না। ওরা নতুন করে বাঁচে। প্রকৃতিকেও বাঁচায়।

জানালায় তৈরি হওয়া বাসা

একটা ডিম পেড়েছে

দুটো ডিম পেড়েছে

তিনটে ডিম পেড়েছে

জড়াজড়ি করে ঘুমোচ্ছে তিনটে ছানা

বেঁচে আছে সবেধন নীলমণি
_____
শীর্ষচিত্রঃ আন্তর্জাল, বাকি ছবিঃ লেখক

2 comments: